আমার প্রিয় খাদ্য-খাবার / সাইফ আলি

আমার প্রিয় খাদ্য-খাবার
রাত বারোটার তারার পোলাও,
একটুখানি আঁধার নিয়ে
জোছনা এবং জোনাক গোলাও।

তোমরা কি সব খাচ্ছ টাকা
এবং দামি গয়না-গাটি,
আমি না হয় শিশির পায়ে
নদীর সাথে একটু হাঁটি।

আমার এখন গাছের সাথে
পাতার সাাথ চলছে আলাপ-
মানুষ নাকি বদলে গেছে
আগের মতো খাচ্ছেনা খাপ।

Advertisements

জাদুর শহর / সাইফ আলি

শহরটা ঠিক জাদুর শহর
দালানকোঠা কিচ্ছু নেই
কলের চাপায় ভাপসা গরম
সাপ-পোকা বা বিচ্ছু নেই।

গাড়ির চাকা থমকায় না
থমকাবে কি গাড়িই নেই
চোর ডাকাতের খোঁজ মেলে না
তাইতো পুলিশ ফাড়িই নেই।

কর্পোরেশন কেউ চেনে না
তাবেদারির বালাই নেই,
কোর্ট-কাচারি বেকার বসে
যার যেটা নিজ চালায় সেই।

পকেট কাটার মন্ত্র পড়ে
কেউ এখানে বাস করে না,
ভালোবাসার বিদ্যাপিঠে
হিংসাদ্বেষের চাষ করে না।

শহরটা ঠিক জাদুর শহর
হয়তো খোকার কল্পনা,
কিন্তু তাকে গড়তে খোকা
পণ করেছে, গল্প না।

পাখির মতো ওইখানে কি যায় হারানো??

হাটতে গিয়ে হোচট খেলে বলতে কি মা- পারিস না তুই,
ডাকতে যখন শিখছি কেবল আব্বুকে কি বা’ বলিনি?
তখন কি আর ওসব শুনে বলতে
শিখবো না পথ চলতে…
তখন তো ঠিক হাত ধরেছো শক্ত করে
অল্প কথায় ঠিক বুঝেছো মনের ভাষা,
এখন কেনো মুখের কথাও বুঝবে না
আমার মনের রাস্তাটাকে খুঁজবে না?
সিলেবাসের আকাশটা খুব ছোট্ট জানো
পাখির মতো ওইখানে কি যায় হারানো??
মুক্ত আমার পাঠশালা হোক বিশ্বপাড়া
মনের ঘোড়া ছুটতে থাকুক লাগামছাড়া…

ডানপিটে

উনপাজুড়ে হাড় পাজরে কয়খানা তোর
একটুও কি ভয় করে না বুকের ভিতর,

তিড়িং-বিড়িং ফড়িং যেনো ইচ্ছে হলেই
হারিয়ে যাবি বাধার সকল প্রাচীর গলেই।

তোর ঘাড়ে কি রাত-বিরাতে ভয় চাপে না;
ছুটলে বুলেট ফুটলে বোমা বুক কাঁপে না?

“তোমার ছেলে ভয় পেলে মা হও কি খুশি,
তোমার কোলে রাখতে মাথা
একটু না হয় হলাম দুষি…”