পক্ষিছেলে / সাইফ আলি

পক্ষিছেলে পাখনা মেলে ছুটলো তেপান্তর
ওটাই নাকি ঠিকানা তার ওটাই নাকি ঘর
বললো সবাই আরে রে রে যাসনে ছেলে শোন
ভয়ের বাতাস মাতিয়ে রাখে তেপান্তরের বন।
পক্ষিছেলে বাধ মানে না, মানবে কেমন করে
ভয়কে নাকি জয় করা যায় বিশ্বাসে বুক ভরে;
দুরন্ত তার পাখনা দুটো ঝাপটা মারে যেই
বাধার পাহাড় গুড়িয়ে যায় তখন মুহূর্তেই।

19.05.19

শহুরে খাঁচায় / সাইফ আলি

আধখানা চাঁদ দূর আকাশের গায় 
সারারাত জেগে জেগে স্বপ্ন বিলায়
খুকু তুমি দেখেছো সে স্বপ্নের ঢল
ভাসিয়েছে মেঘেদের রূপোলী আচল?

খুকু তুমি শুনেছো কি বাতাসের গান
যেই গানে দোল খায় শাদা শাদা কাশ,
দেখেছো কি বুনো ফুল সবুজের প্রাণ 
রঙিন পাপড়ি মেলে করে উল্লাস?

হয়তো বা খুকু তুমি শুনবে এসব
দাদুভাই গল্পের ঝাপি খুলতেই,
রূপকথা মনে হবে শহুরে খাঁচায় 
বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই।

22.01.19

ফড়িং / সাইফ আলি

ফড়ফড়িয়ে ফড়িং ওড়ে
ফড়িং ফড়িং মন
দুইটা ফড়িং বুকের ভিতর 
উড়ছে সারাক্ষণ।

হঠাৎ 
লাল ফড়িঙের লাল পাখাটা 
আটকে গেলো কিসে;
নীল ফড়িঙের নীল দিলো কে
পায়ের তলায় পিষে?

ফড়িং পাখার স্বপ্নগুলো
ছড়িয়ে দিলাম ঘাসে
এবং কিছু উড়িয়ে দিলাম
শূন্যে নীল আকাশে।

20.01.19
কিশোর পাতা জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত

সোনামনির দাগ / সাইফ আলি

শাদা পাতায় সোনামনি যেই দিয়েছে দাগ
ফুল ফুটেছে নানান রঙের; করছো কেনো রাগ?
ডাকছে পাখি শুনছো না তা
দেখছো কেবল নতুন খাতা?
হয়নি কিছু! বলছো যা তা;
সব হয়েছে সব,
বাগান হলো, ডাকলো পাখি, ছড়ালো সৌরভ!

সোনামনি সূর্য আঁকে
বন্ধু বানায় চাঁদ-তারাকে
মেঘ ধরে ঠিক দুপুর রোদে
বসিয়ে রাখে নদীর বাঁকে
পারবে তুমি তা?
করো তো খুব ফটর ফটর, কিচ্ছু পারো না।

সোনামনি শিল্পী হবে
এই কথা সে বললো কবে?
তোমরা তাকে শিল্পী বানাও দেখাও সীমানা
অসীমে সে স্বপ্ন আঁকে তোমরা বোঝো না,
শাদা পাতায় কি সব খোঁজো স্বপ্ন খোঁজো না।

খোকা দেখে বিস্ময়ে / সাইফ আলি

টুন টুন টুনাটুনি
ডাকে বসে ডালটায়,
রোদ্দুর ঝিকিমিকি
দারূণ সকালটায়

কচি পাতা, ফুলখুকি
রোদ মেখে দুলছে,
জাল বুনে তার সাথে
মাকড়টা ঝুলছে।

খোকা দেখে বিস্ময়ে
বড়ো বড়ো করে চোখ,
লেগে থাক তার চোখে
সর্বদা এ আলোক।

সিলেবাস / সাইফ আলি

নীল দাগে তার আকাশ ছিলো চেনা
সবুজ দাগে বন,
লাল দাগে সে চিনতো গোলাপ কুঁড়ি
শাদাতে কাশবন।

হলুদ রঙে আঁকতো মায়ের শাড়ি
খোপায় দিতো বকুল ফুলের মালা
প্রজাপতি আঁকতে গেলেই
নানান রঙের পালা।

রঙের উপর রঙ চড়িয়ে খোকা
আঁকতো পাহাড়, সাগর, নদী, ফুল;
হঠাৎ কে যে ভুলিয়ে দিলো সব
কেউ বলে সে ধরেছে স্কুল!

এখন খোকা সে সব ছবিই আঁকে
যে সব ছবি সিলেবাসে থাকে।

কিশোর পাতা,  কার্তিক ১৪২৫, অক্টোবর ২০১৮ এ প্রকাশিত

চিলের ছায়া / সাইফ আলি

উড়ন্ত এক চিলের ছায়া
মাটির উপর পড়ছিলো,
তা দেখে এক ছোট্ট শিশু
দু’হাত মেলে ধরছিলো।

সবাই তাকে বললো, বোকা
মানুষ কি আর উড়তে পারে!
সেই থেকে সেই না’য়ের বোঝা
সকাল বিকাল দাবায় তারে।

কিন্তু যদি মনের ডানা
সাহস কোরে মেলতো সে,
এই পৃথিবী আকাশ বাতাস
মুঠোই পুরে খেলতো সে।

আমার প্রিয় খাদ্য-খাবার / সাইফ আলি

আমার প্রিয় খাদ্য-খাবার
রাত বারোটার তারার পোলাও,
একটুখানি আঁধার নিয়ে
জোছনা এবং জোনাক গোলাও।

তোমরা কি সব খাচ্ছ টাকা
এবং দামি গয়না-গাটি,
আমি না হয় শিশির পায়ে
নদীর সাথে একটু হাঁটি।

আমার এখন গাছের সাথে
পাতার সাাথ চলছে আলাপ-
মানুষ নাকি বদলে গেছে
আগের মতো খাচ্ছেনা খাপ।

জাদুর শহর / সাইফ আলি

শহরটা ঠিক জাদুর শহর
দালানকোঠা কিচ্ছু নেই
কলের চাপায় ভাপসা গরম
সাপ-পোকা বা বিচ্ছু নেই।

গাড়ির চাকা থমকায় না
থমকাবে কি গাড়িই নেই
চোর ডাকাতের খোঁজ মেলে না
তাইতো পুলিশ ফাড়িই নেই।

কর্পোরেশন কেউ চেনে না
তাবেদারির বালাই নেই,
কোর্ট-কাচারি বেকার বসে
যার যেটা নিজ চালায় সেই।

পকেট কাটার মন্ত্র পড়ে
কেউ এখানে বাস করে না,
ভালোবাসার বিদ্যাপিঠে
হিংসাদ্বেষের চাষ করে না।

শহরটা ঠিক জাদুর শহর
হয়তো খোকার কল্পনা,
কিন্তু তাকে গড়তে খোকা
পণ করেছে, গল্প না।

ইচ্ছে মতো / সাইফ আলি

ইচ্ছে মতো খেলতে পারো এখানে
মনের মতো মন আছে
ছোট্ট ঝাউয়ের বন আছে
ঘাসে ঘাসে ফুলের মেলা যেখানে।

খেলতে তোমার ইচ্ছে করে যে খেলা
খেলতে পারো লুকোচুরি
আকাশ পানে রঙিন ঘুড়ি
উড়িয়ে দিয়ে নাটাই ধরে একেলা।

গাইতে যদি ইচ্ছে করে গানগুলি,
কণ্ঠ ছেড়ে গান ধরো
মিষ্টি সুরে তান ধরো
পাতার ফাঁকে লুকিয়ে যেমন বুলবুলি।

মজার মজার গল্প গানের বই ভরা
ইচ্ছে হলে বই পড়ো
রং তুলিতে রং করো
ইচ্ছে হলে সব এখানে যায় করা।