ঘুমাতে যাওয়ার আগেই / সাইফ আলি

ঘুমাতে যাওয়ার আগেই আমরা স্বপ্ন দেখা শেষ করি,
দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকার মধ্যে কোনো প্রশান্তি নেই;
আমাদের যখন ঘুম ভাঙে তখন মধ্যরাত
জানালা দিয়ে দেখলে সমস্ত শহর অন্ধকার
পাশেই ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নগুলোকে জাগিয়ে তুলি;
আমরা জেগে থাকা অবস্থায় তারা ঘুমাতে পারে না।

১৫.০৪.২২

আমরা এবং তোমরা / সাইফ আলি

আমরা যারা জন্মছিলাম ঘাসের উপর
তাদের দেখে বলতো হীরা লোকে
তোমরা যারা জন্ম নিলে তাশের উপর
তাদের দিকে সব জুয়াড়ি ঝোকে।

আমরা ছিলাম অল্প সময়, একটু পরেই হাওয়া;
‘এই পৃথিবী হাতের মুঠোয় থাক’ তোমাদের চাওয়া।

০৪.০৪.২২

বনের পাখি / সাইফ আলি

বনের পাখি বনেই থাকি
চাইনে মনে ঠাঁই,
শিকল দিয়ে রাখো তোমার
মনের দরজায়।

ঝড়-বাদলে ভিজি পুড়ি
ভাঙে সাধের ঘর,
তবু আমার আকাশ দুধে
চাঁদ তারাদের সর।

পরিপাটি দালান-বাটি
নাই বা হোলো কিছু,
মনের সুখে চলছি ছুটে
মেঘের পিছু পিছু।

০১.০৩.২২

আমরা আগুন হাতে এখানেই আছি / সাইফ আলি

সুতোহীন মাকড়ের পেটে
মধু খোঁজো আহা প্রিয়তম;
মৌচাকে ঢিল ছুড়ে একবার মরেছিলে তাই!
আমরা আগুন হাতে এখানেই আছি,
যদি চাও বান্ধব হবো।

আমাদের সোজা পথ, সরল জীবন
স্বার্থের বাড়াবাড়ি নেই;
একটাই আকাশের নিচে
সাদামাটা ঘর, বৃষ্টিতে ভিজি,
জোছনায় পিপাসা মিটাই।

হাতের মশাল আর মিছিলের ভয়ে
তুমি যদি আঁধারেই থাকো,
জেনে রাখো মধু নয়, সুতোহীন মাকড়ের পেটে
বিষ থাকে বিষ।

২৮.০২.২২

ঘুম / সাইফ আলি

১.
ভোর হলো তবু ক্যানো ফুটলে না ফুল
বলো বলো তুমি কার প্রেমে মশগুল?
তুমি কি অন্ধকারে মেলবে দু’চোখ
রাত জাগা পাখিরা কি তোমাতে ব্যকুল?

২.
কংক্রিটে গড়া এই শহরে আমার
দারুণ অস্বস্তিতে ভেঙে যায় ঘুম,
চাঁদের পিরিচে নামে তরল আঁধার
সে আঁধার পান করে রাতের কুশুম।

২৪.০২.২২

আমার শহর তোমার কোলে / সাইফ আলি

আমার শহর তোমার কোলে
হাওয়ায় দোলে, গল্পে ভোলে;
আর না হলে তোমার আচল
তোমার চুলের ফিতেই ঝোলে।

আমার শহর তোমার সাথে
আস্তে ধীরে হচ্ছে বড়ো,
তোমার রেখায় আমার যত
বিন্দুরা সব হচ্ছে জড়ো।

তুমি বলতে তোমরা সবাই
যাদের নিয়ে আমার শহর,
যাদের নিয়ে অলিগলি,
অলিগলির প্রতিটা ঘর।

১৭.০৭.২১

চাঁদ / সাইফ আলি

প্রতিদিন আমাদের কোলজুড়ে নামে এক চাঁদ
সে চাঁদের সারা মুখে জ্বলে থাকে ভয়াল বিস্বাদ
জোছনায় হাতড়াই ঘন এক আঁধারের বুক
আর ভাবি এক্ষণই ক্লান্তিরা ঘুমিয়ে পড়ুক!
আমরা হতাশ হই বার বার বহুবার, ফের
রঙিন স্বপ্ন আর সাধ নিয়ে বাঁচা আমাদের।

১০.০৩.২১

যদি চাও / সাইফ আলি

পাতাগুলো ঝরে যেতেই বাকলের চিরগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠলো,
তুমি বললে শীত আমার ভালো লাগে না
অথচ শীতকে অতিক্রম করেই বসন্তে প্রবেশ করতে হবে।
নতুন সবুজের প্রসববেদনায় জর্জরিত শীত আমাকে ডাকছে-
আমি একটা আগুনের স্তুপ তৈরি করছি
যদি চাও, পাশাপাশি বসে শীতকে উপভোগ করতে পারি।
২৯.১০.২০

তুই ক্যান এতো কথা কস / সাইফ আলি

ছোটো পাখি, তুই ক্যান এতো কথা কস
তুই ক্যান একরোখা, ঘাড় ত্যাড়া, হুটহাট প্রতিবাদী হস?
তোর কথা কতদূর যায়?
দেয়ালের ঐপাশে যারা থাকে তাদের কি কানে পৌছায়?
ছোট পাখি চুপ কর, শিকারীর আনাগোনা বনে
যদি তোর ডাকাডাকি শোনে
তাক করে বন্দুকের নল
সময় দেবে না এতটুকু
তারপর কথাও ফুরোবে, মিটে যাবে সব চাওয়া পাওয়া।
ছোটো পাখি, তুই ক্যান শিখিস না দেখে-
ওরা সব কালিঝুলি মেখে
সঙ সেজে মিষ্টি কথা কয়,
আজকাল ওদেরই তো জয়।
তোর এতো জ্বলে ক্যান
বনে যদি দাবানল লাগে
উড়ে যাস অন্য কোনো বনে;
তবু তুই চুপ কর
তোর কথা শোনে কয় জনে!
২২.১০.২০

একটুখানি পড়বো বলে / সাইফ আলি

একটা মানুষ কাঁদছে একা কেউ দেখেনি
একটা পাখির ভাঙা বাসার মূল্য কতো কেউ বোঝেনি
একটা ফুলের খুব নিরবে চুপশে যাওয়া।

হয়তো কোথাও একটা ভাঙা পাতিল হঠাৎ
তৃষ্ণা মেটায় এমন কারো কেউ চেনে না
কেউ শোনেনা তার আকুতি, পথের ফকির
কিংবা রাজা রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও।

হয়তো এমন নষ্ট চোখের খবর শুনে
অবাক হয়ে বলবে তুমি- কেমন করে
দেখলো এমন আকাশটাকে!!?

বাস্তবে যা দেখছো তুমি তার আড়ালে
এমন হাজার গল্প থাকে কেউ জানে না,
আমি কেবল সেই জানালায় দৃষ্টি রেখে
একটুখানি পড়বো বলে পণ করেছি।

০১.০৫.২০