যদি চাও / সাইফ আলি

পাতাগুলো ঝরে যেতেই বাকলের চিরগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠলো,
তুমি বললে শীত আমার ভালো লাগে না
অথচ শীতকে অতিক্রম করেই বসন্তে প্রবেশ করতে হবে।
নতুন সবুজের প্রসববেদনায় জর্জরিত শীত আমাকে ডাকছে-
আমি একটা আগুনের স্তুপ তৈরি করছি
যদি চাও, পাশাপাশি বসে শীতকে উপভোগ করতে পারি।
২৯.১০.২০

তুই ক্যান এতো কথা কস / সাইফ আলি

ছোটো পাখি, তুই ক্যান এতো কথা কস
তুই ক্যান একরোখা, ঘাড় ত্যাড়া, হুটহাট প্রতিবাদী হস?
তোর কথা কতদূর যায়?
দেয়ালের ঐপাশে যারা থাকে তাদের কি কানে পৌছায়?
ছোট পাখি চুপ কর, শিকারীর আনাগোনা বনে
যদি তোর ডাকাডাকি শোনে
তাক করে বন্দুকের নল
সময় দেবে না এতটুকু
তারপর কথাও ফুরোবে, মিটে যাবে সব চাওয়া পাওয়া।
ছোটো পাখি, তুই ক্যান শিখিস না দেখে-
ওরা সব কালিঝুলি মেখে
সঙ সেজে মিষ্টি কথা কয়,
আজকাল ওদেরই তো জয়।
তোর এতো জ্বলে ক্যান
বনে যদি দাবানল লাগে
উড়ে যাস অন্য কোনো বনে;
তবু তুই চুপ কর
তোর কথা শোনে কয় জনে!
২২.১০.২০

একটুখানি পড়বো বলে / সাইফ আলি

একটা মানুষ কাঁদছে একা কেউ দেখেনি
একটা পাখির ভাঙা বাসার মূল্য কতো কেউ বোঝেনি
একটা ফুলের খুব নিরবে চুপশে যাওয়া।

হয়তো কোথাও একটা ভাঙা পাতিল হঠাৎ
তৃষ্ণা মেটায় এমন কারো কেউ চেনে না
কেউ শোনেনা তার আকুতি, পথের ফকির
কিংবা রাজা রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও।

হয়তো এমন নষ্ট চোখের খবর শুনে
অবাক হয়ে বলবে তুমি- কেমন করে
দেখলো এমন আকাশটাকে!!?

বাস্তবে যা দেখছো তুমি তার আড়ালে
এমন হাজার গল্প থাকে কেউ জানে না,
আমি কেবল সেই জানালায় দৃষ্টি রেখে
একটুখানি পড়বো বলে পণ করেছি।

০১.০৫.২০

আলো আছে নিশ্চয় / সাইফ আলি

আলোগুলো নিভে যাচ্ছে
কতগুলো চাপ চাপ অন্ধকার ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে
কতগুলো হাত এলোমেলো বিচ্ছিন্ন
হাতগুলো রুক্ষ, অমসৃণ।
চোখে আলো নিয়ে কে যেনো বললো,
‘আমাদের ভয় নেই, আমরা তো অন্ধকারেই চলি;
রাস্তা ভুল হবে না, ঠিক পৌছে যাবো দেখো!!,
পাশে পড়ে আছে অসুস্থ সমাজের ছায়া,
ছায়া!? তবে তো কোথাও আলো আছে নিশ্চয়!

১৫.০৪.২০

আমাদের একটা মঞ্জিল ছিলো / সাইফ আলি

মনে পড়ে? যখন হাত ধরাধরি করে হেঁটেছিলাম
তখন আমাদের একটা মঞ্জিল ছিলো
তারপর একদিন আমাদের পথ বেঁকে গেলো
আমি বললাম, এই পথ সঠিক-
তুমি বললে, ঐটা; মঞ্জিল কিন্ত তখনও একটাই।
তারপর আমরা ভিন্ন ভিন্ন পথে এগিয়ে যেতে থাকলাম,
হতে পারে আমাদের মধ্যে একজন ভুল
তবু আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি।
হতে পারে দুটো পথই আমাদেরকে মঞ্জিলে পৌছে দেবে
তখনও আমরা পরস্পরকে ভালোবাসবো।
আর যদি আমরা উভয়ই পথ হারায়?
অথচ আমরা একটা সরল পথের জন্য মালিকের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম!
আবার এমনও তো হতে পারে আমরা কেউই পথ বদলাইনি
হাত ছেড়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছি মাত্র!
তোমারও কি আমার মতো হাত ধরে হাঁটতে ইচ্ছে হয়?

১৭.০৯.১৯

আমরা যারা চুপ থাকার জন্য ঘুমিয়ে পড়লাম / সাইফ আলি

আমরা যারা চুপ থাকার জন্য ঘুমিয়ে পড়লাম
তারা জেগে উঠে আর কাউকেই পেলাম না
ডান কিংবা বামপক্ষের কেউই সেখানে ছিলো না
আমরা ভাবলাম, তারা হইতো লড়াই করতে করতে নিঃশেষ হয়ে গেছে
তাদের জন্য আফসোস করতে করতে গর্ত থেকে বের হলাম
তারপর যখন নিজেদেরকে বুদ্ধিমান বলে ভাবতে শুরু করলাম তখনই খেয়াল হলো, আমাদের পায়ের কাছে কোনো সবুজ নেই, আমাদের মাথার উপরে কোনো নীল নেই, আমাদের তৃষ্ণা মিটানোর জন্য কোনো নদী নেই!
আমরা আসলে এমন এক বিরাণ ভূমিতে উপস্থিত হয়েছি যেখানে কোনো জীবন নেই। এখানে জেগে থাকা অর্থহীন। আমরা কি আবারো গর্তে প্রবেশ করবো?
আমরা জেগে থাকবো না ঘুমিয়ে পড়বো এই প্রশ্নে আবারো বিভক্ত হয়ে পড়লাম। অতঃপর আমাদের মধ্য থেকে একদল গর্তে প্রবেশ করলো এবং আমাদের জন্য আফসোস করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো। আমরা জানি তারা চোখ মেলে আবারো ডান এবং বামে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

১৬.০৯.১৯

তোমার কিসে বাঁধা / সাইফ আলি

একটা ভীষণ সম্ভাবনার হাওয়া
মেঘ উড়িয়ে নিচ্ছে ডানে বামে,
তবুও তুমি একলা কাটাও বেলা
ঘুমিয়ে পড়ো স্বপ্ন দেখার নামে।

হলুদ পাতার নৌকা সারি সারি
যাচ্ছে ভেসে সাগর অভিমুখে
বলতে পারো তোমার কিসে বাঁধা
কোন সে মরণ তোমায় দিলো রুখে?

২০.০৮.১৯

মুঠ খোলো / সাইফ আলি

একটা অন্ধকার তোমাকে গিলে ফেলবে
একটা অজগরের মতো অন্ধকার তোমাকে তাড়া করছে
তোমার ডান হাতের তালুতে একটা আলোর উৎস আছে
মুঠ খোলো, আমার দিকে তাকাও; ভয় নেই
তোমার হাতের মুঠোয় একটা আলোর উৎস আছে।

তুমি যদি ভয়ে চোখ বন্ধ করে কাঁপতে থাকো
তবে তোমার চারপাশে শত সহস্র প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলেও দেখতে পাবে না
অথচ তোমার মুঠোভরা সূর্য
মুঠ খুললেই আলো আর আলো!
তুমি কি মুঠ খুলবে না বলে কসম কেটেছো?
যারা বলে তোমার হাতের তালুতে কালসাপের মতো রেখা
যারা তোমাকে চোখ বন্ধ করে থাকতে উৎসাহ দেয়, বলে-
বাইরে অন্ধকার।
তারা তোমার শত্রু…
যদিও তুমি তাদের আপন ভাবছো।

০১.০৮.১৯

নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নও / সাইফ আলি

নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নও
তোমার শরীর বেঁচে রাতের শরাব কেনে পুজিপতি শেয়ালের দল
শিল্পীরা চড়া দামে তোমাকে বেঁচেই খায়
কবি হয় নন্দিত তোমার শরীর এঁকে নানা উপমায়।
নারী তুমি জরায়ুর মালিকানা নিয়ে
শামুকের মতো কেনো নিজেকে গুটাও?
কখনো প্রেমিকা তুমি কখনো বা মা!
চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় তুমি বোঝো না?

০৩.১০.১৯

বললো রাজা হেসে / সাইফ আলি

বললো রাজা হেসে-
‘ভিন্নমতের চিহ্ন যেনো না থাকে এই দেশে-’
ঝাপিয়ে পড়ে রাজসেনারা ভিন্নমতের খোঁজে
তাই দেখে কেউ ঠোস পরে কেউ সাবধানে ঘাড় গোঁজে,
কিন্তু কিছু আগ্নেগীরির বেরিয়ে আসা লাভায়
ভয় ঢুকে যায় রাজার বুকে, ভীষণ করম ভাবায়।
ভাবনা শেষে চেঁচিয়ে বলে- ‘বন্ধ করো মুখ-’
বন্ধ হলেই শান্তি রাজার, বন্ধ হলেই সুখ।

08.10.19