মাতাল যুবক

পৃথিবীর মানচিত্র ধরে, ঝটিকার মতো এক মাতাল যুবক
বলে, সব ভেঙেচুরে দেবো, শেষ করে দেবো…

কাচের গ্লাসের মতো, মুঠের ভেতর পুরে আর্তনাদ হাহাকার সর্বনাশ শোক
শুভেচ্ছা সাফল্য স্বাগতম ভালোবাসা করতালি সুখশয্যা কাম
হতাশা ও আশা-
অবিরাম
বলে তার একমাত্র ভাষা:
ভেঙেচুরে দেবো, শেষ করে দেবো…

সুখদুঃখ জন্মমৃত্যু শোকসভা হরতাল রক্তপাত খুন-
এইসব পুরোনো ‘নতুন’
চা-এর কাপের মতো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় প্রতিদিন
স্টলে স্টলে, অসংখ্য হাত আর অসংখ্য ঠোঁট;
আর তাই মাতাল যুবক ধ্বংসাত্বক হাত নেড়ে নেড়ে ঝটিকার মতো দ্বিধাহীন
বলে, সব ভেঙেচুরে দেবো, শেষ করে দেবো সব কিছু উলট পালট…

মূলত যুবক আজ আমাদের সুগভীর সত্তার ভেতরে
যুদ্ধ করে, ভূমিকম্প করে, আটলান্টিসমুছে ফেলে অতলান্ত জলাশয় করে।

নক্ষত্রের গল্প

জীবনের সিঁড়ি ভেঙে জনৈক নক্ষত্র এসেছিল নেমে
ঘূর্ণ্যমান কালের খেলায়, আর নীল পাপপোড়া পৃথিবরি প্রেমে।
আকণ্ঠ নশ্বরতার বিষ করে পান যদিও এলেন তিনি মৃত্তিকার মনজিলে, তবু
নক্ষত্র তো নক্ষত্রই থাকে, যেমন সাপেরা থাকে সাপ,
গোলাপ গোলাপ।

মহান নক্ষত্র তাঁর সমগ্র আলোয়
সাক্ষাৎ-সূর্যের মতো জ্বলে উঠলেন একদিন এক সৌভাগ্যের প্রাতে;
যেখানে প্রত্যহ আলো আর অন্ধকারে, মন্দে ও ভালোয়
সমানে সমানে যেন মুষ্টিযুদ্ধ হয়, কেউ কারে কিছুতেই না পারে হারাতে।

সূর্য তো মূলত এক ক্লান্ত কাঠুরিয়া, পৃথিবীর অরণ্যে আজন্ম এক ছাঁদে
অন্ধকার কাঠ কেটে রোজ পৃথিবীকে দিয়ে যায় একটি করে দিন।
তারপর রাত আসে শিকারীর মতো। রাত তার অলৌকিক অন্ধকার ফাঁদে
নির্ভুল শিকার করে নেই সব আলোর হরিণ।

দাউদাউ অগ্নির মতোই তিনি তো এলেন, পৃথিবীর ডাস্টবিনে
রাশিকৃত সব অন্ধকার আবর্জনা গ্রাস করে নিতে। আর তিনি
ধপ করে জ্বলে উঠলেই তাঁর সমগ্র আলোয়, পৃথিবীটা মুহূর্তেই অনিঃশেষ দিনে
ভরে গেল সমুদ্রের মতো, যেন আর কোনোদিনই
উত্তরে দক্ষিণে
পুবে ও পশ্চিমে আসবে না ফিরে হন্তারক রাত;
এবং রাস্তার মোড়ে, বকুলতলায়, অশ্বত্থের ডালে, প্রাসাদে হেরেমে
অচল ঘড়ির মতো আলো ও অন্ধকারের শাশ্বত সংঘাত
চিরতরে গেল থেমে।

আকাশ পারের অবসন্ন সূর্যের আলোয় চলতে অভ্যস্ত যারা
পৃথিবীর পথে, নক্ষত্রের সমগ্র আলোয় তাদের দুর্বল চোখ
শুকনো পাতার মতো যেন ভস্ম হয়ে গেল পুড়ে, এবং সেসব দিশেহারা
অন্ধকারবাদী লোক
প্রচন্ড ঘৃণায়, যেন নক্ষত্রটি কোনো এক অভিশপ্ত কুৎসিত কীট,
বলতে লাগলো-‘হা-ঈশ্বর! এ কোন্ নরক! এ কোন্ নরক!’

…অতঃপর প্রভাতের রোদে, চাঁদের আলোয় কিংবা কাকচক্ষু অন্ধকারে কেউ
ছপছপ বেয়ে চলে শতাব্দীর কিস্তি অবিরাম ইতিহাসগাঙে।
কখনো কখনো দুরন্ত ঘোড়ার মতো দিশেহারা ঢেউ
খুরের আঘাতে যেন, এ-কূল ও-কূল শুধু ভাঙে।

ভাঙারও ছন্দ থাকে এক গড়ার মতোই। ভাঙারও ছন্দে
জেগে ওঠে ফুল পাখি নদী লোকালয়।
কারো কারো হঠাৎ ভীষণ, ভাঙনের গান শুনে, কৌতুহল হয়
অতীতের খানা-খন্দে
চোখ ফেরাবার।
আর

এভাবেই শতাব্দী পারের একদল আলোর বুভুক্ষু লোক
ভৌতিক নিশীথে এক ভাঙনের গানে কি-অদ্ভুত হলো উৎসুক-
নিষিদ্ধ দেয়াল ভেঙে সুদূর অতীতে ফেলে তীক্ষ্ণ অন্ধকার চেরা চোখ
আশ্চর্য দেখতে পেলো মৃত্তিকার মনজিলে এক অলৌকিক নক্ষত্রের আলোঝরা মুখ।

আশ্চর্য বালক / সায়ীদ আবুবকর

জননীর কোল ছেড়ে যুদ্ধপোড়া পৃথিবীতে মেলে ত্রস্ত চোখ
নিষ্কলুষ একটি বালক
বললো বিষণ্ন স্বরে, ‘বলো হে, এ আমি কোথায় এলাম?’
আমি তাকে শোনালাম পৃথিবীর নাম।

বিস্মিত বালক পৃথিবীর আনাচে কানাচে তাকালো করুণ,
এবং ভয়ংকর দেখে দেখে লাশের শহর, পথভরা মর্মন্তুদ খুন
পুনরায় বললো আমাকে,
‘কি করে মানুষ বলো এ নরকে থাকে?’

আমি তাকে বললাম, ‘হায়,
এ নরকে মানুষ কোথায়?’

——————————————-

ENGLISH VERSION

A Strange Boy

An innocent boy leaving the lap of mother
opened his fearful eyes in the war-trodden world
and asked in a depressed voice, ‘Where have I come? ‘
I told him the name of the earth.

The boy looked at the corners of the earth
and with wonder and pain, seeing the towns and paths
full of corpses and heart-rending bloods
further asked,
‘Will you tell me how man lives in this hell? ‘

I said to him, ‘Oh, it’s a shame!
Where is man in this hell?

Translated by Nazib Wadood

———————————————-

SPANISH VERSION

Un niño extraño

Un niño inocente saliendo del regazo de mama
Abrió sus temeroso ojos en el mundo pisoteado por la guerra,
Y dijo con voz deprimente, ‘¿De dónde vengo? ‘

Le dije el nombre de la tierra.

El niño miró en los rincones de la tierra
Y con asombro y dolor, viendo las ciudades y caminos
Llenos de cadáveres y sangrientos corazones desgarrados
Ademas dijo,
‘Dime cómo el hombre vive en este infierno.

Yo le dije, ‘Oh, es una pena!
¿Dónde estás viendo hombre en este infierno? ‘

Traducido por Alma Lorena Lopez Velazquez

———————————————

RUSSIAN VERSION

Странный ребёнок

– Сайед Абубакар

Невинное дитя, слезая с коленей мамы,
Открыл в страхе глаза в мир, охваченный войной,
И спросил боязливо: «Откуда я взялся? »
Я сказала, что это земля.

Малыш осмотрелся вокруг земли
И с удивлением и горечью, видя города и тропы
Полные трупов и кровоточащих сердец,
Спросил ещё:
«Скажи, как живут люди в этом аду? »

Я сказала ему: «Мне очень жаль!
Где ты увидел людей в этом аду? »
Перевёл Валентин Савин
Translated by Valentin Savin

—————————————–

 CHINESE VERSION

【孟加拉国】赛义德•阿布•巴卡尔

                       一个奇异的男孩
在战争蹂躏的世界,一个无辜的男孩
离开母亲的膝盖,睁大恐惧的眼睛
用沮丧的声音问,“我从哪里来?”
我告诉他,叫地球的地方
男孩看到地球的角落,城镇、道路
横满死尸,鲜血让人胆战心惊
他很惊异,痛苦地
接着问,
 “告诉我,人怎么能住在这样的地狱?”
我告诉他,“噢,这是个耻辱!
地狱里哪有人?”
苏菲Sophy Chen汉译英 2016-01-25 )
———————————————

to read in Odisha

visit the link  Aschaya_Balaka
Translated by Bharati Nayak, Odisha, India

হে রাখাল

এক শ বছর আগে কোথায় ছিলে তুমি।
যখন তোমার মা দেবদারু বৃক্ষের মতো বাড়ন্ত কিশোরী এক
তখন কি বুঝতে পেরেছিল কেউ, এক কড়াই উত্তপ্ত রসের মতো উথলে ওঠা
এই মেয়েটির শরীরের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে এক সৌম্য পুরুষ?
কিংবা তোমার পিতা, সুদূর আকাশ থেকে পৃথিবরি মাঠে
গরুমরার গন্ধ পেয়ে শকুনের মতো, পেয়েছিল কি ঘ্রাণ তোমার অস্তিত্বের-
যৌবনের ঘুটঘুটে অন্ধকারে শাড়ীর ভাঁজের মতো খুলতে খুলতে
তোমার মায়ের শরীরের সব ভাজ?
তাহলে কোথায় ছিলে তুমি?
বিড়ির ধোঁয়ার মতো, একশ বছর পরে কোথায় বা তুমি থাকো?

যখন ছিলে না তুমি, তখনও পৃথিবীতে ভালোবাসা ছিল।
তখনও অন্ধকার কুস্তিগীরের মতো বৈরী আলোর সাথে
খেলতো রহস্যের খেলা। তখনও রমণীরা হৃদয়ের কথা বলে বলে
প্রেম-অন্ধ পুরুষের সাথে কাটাতো কামার্দ্র রাত।
যখন থাকবে না তুমি, তখনও আকাশে ফুটবে তারার ফুল;
তখনও রমণীরা দিগম্বর হয়ে থইথই রাতের সমুদ্রে
প্রমত্ত হাসের মতো কাটবে সাঁতার। অথচ তুমি ভাবো
তুমি না থাকলে পৃথিবীর কোনো নারী প্রসূতি হয় না আর,
তুমি না থাকলে পৃথিবীর সব খেলা অচল ঘড়ির মতো
চিরতরে যায় থেমে।

তুমি তো অমর বৃক্ষ দ্যাখোনি কোথাও, হে রাখাল;
দ্যাখোনি তো তুমি মৃত্যুহীন কোনো মেষ। তবে কেন পর্বতের মতো
থাকতে চাইলে মুঠ করে ধরে চিরকাল
আজন্ম ধর্ষিতা পৃথিবীর স্তন?

তুমি বড়-

তুমি বড়
ঝড় বৃষ্টির কথা ভাবো, ভূমিকম্পের
কথা ভাবো, ভাবো আরো নানা
অনিষ্টের কথা

ভাবো এই পড়ো পড়ো
কুঁড়েঘরখানা
যদি পাল্টে যায়…

তাই নীল স্বপ্নের পাঁজা
পাঁজা করে ধরে তুমি বলো দালান দালান।

তুমি বড় অনাবৃষ্টির
কথা ভাবো, দুর্ভিক্ষের কথা ভাবো, আর
শস্যহীনতার

কথা ভেবে বলে ওঠো- হায়,
কি করে চলবে এই
পাখির সংসার।

আমি বলি – দেখো
ঠিকঠিক চালাবেন তিনি, যিনি গোটা জগৎ চালান।

স্বপ্নের দৌড়

আমার স্বপ্ন তোমার পাহাড় বুক
আমার স্বপ্ন তোমার ঠোঁট ও চিত্ত
আমার স্বপ্ন দেহ মিলনের সুখ
এবং আমার সমগ্র অস্তিত্ব

আমার স্বপ্ন তোমাকেই শুধু পাওয়া
হয়ে থাকা শুধু তোমার প্রেমের ভৃত্য
তোমার স্বপ্ন রাজরানী হয়ে যাওয়া
আমার দু’হাতে রাজার মতন বিত্ত

তোমার স্বপ্ন আকাশে আকাশে ওড়ে
আমার স্বপ্ন তোমাকে ঘিরেই ঘোরে

আমার স্বপ্ন ঘুরতে ঘুরতে শেষে
তোমাকে ছুঁয়েই হয়ে গেল নিস্পন্দ
তোমার স্বপ্ন কোথায় যে কোন্ দেশে
খুঁজে খুঁজে ফেরে মায়াবী সুখ-আনন্দ!

আমার শান্তি তোমার একটি চুমায়
তুমি তো পাও না দেখতে শান্তি, অন্ধ
আমার নিবাসে দুঃখেরা যেন ঘুমায়
তুমি শুধু পাও দুঃখের দুর্গন্ধ

তোমার স্বপ্ন আকাশে মেলেছে পাখা
আমার দায় যে তোমাকেই ধরে রাখা!

হে ইউসুফ

কি করে নারীর টকটকে আমপাকা যৌবনকে অস্বীকার করে
অদৃশ্যের ‘পাওয়ার হাউজের’ দিকে একজন বুভুক্ষু পুরুষ
ছুটে যাওয়া যায় পুরুষত্বহীন এক অপূর্ণাঙ্গ মানুষের মতো?
রমণীর সর্বশ্রেষ্ঠ যৌবনের উনুনে দাড়িয়ে কয়লার মতো
যৌবনের জ্বালে জ্বলতে জ্বলতে কি করে বলতে হয়: ‘আমি ভয় করি
অদৃশ্যের সম্রাটকে’?
কি করে কাপুরুষের মতো রমণীর সমস্ত ঐশ্বর্য হাতের মুঠোতে পুরে
রক্তমাংস কোথায় লুকিয়ে, পালাতে হয় মহাশূন্যের বুকের ভেতর,
মুরগির বুকের ভেতর যেমন চিলের ভয়ে নিশ্চিন্তে পালিয়ে থাকে
সন্ত্রস্ত বাচ্চারা?
সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরীর সুখসুখ সহবাস কি করে করতে হয় প্রত্যাখ্যান, ইউসুফ?
জুলেখার হাত সাঁড়াশির মতো এঁটে ধরলে তোমার শার্টের আস্তিন
কি করে বলতে হয় কাপুরুষের মতো হে?

আমি তো, হাঁসের মতো রমণী বাড়িয়ে দিলে তার
রোদভেজা ঠোঁট, না দিয়ে পারি না এক ঝুড়ি শামুক চুম্বন।
রমণী বাড়িয়ে দিলে তার ব্যথাতুর হাত, আমি তো পারি না, ইউসুফ,
নপুংসকের মতো প্রত্যাখ্যান করতে তাকে। এবং পারি না বলেই
জীবনডাঙায় কালবোশেখীর তান্ডবতা চলে প্রতিদিন
পৃথিবীর অমঙ্গল হয়
পৃথিবী ক্রমশ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মূলত আমিই বড় কাপুরুষ, ইউসুফ, মূলত আমিই বড়
যৌবনহীন, এবং আষাঢ়ি মেঘের মতো ইম যৌবনহীন বলেই
রমণীর যৌবন ভাগাড়ে শব হয়ে পড়ে থাকে আমার বিশ্বাস,
আমার আত্মার কংকাল। আষাঢ়ি মেঘের মতো আমি যৌবনহীন বলেই
রমণীর কামনার প্রাচীর ডিঙিয়ে আমি ছুঁতে পারি না শাশ্বত
অদৃশ্যের চূড়ো, হে ইউসুফ, তোমার মতো।

দুঃখিত যুবকের প্রার্থনা

আমি এক দুঃখিত যুবক, প্রভু, আমারও হৃদয় আজ প্রেম-অন্ধ কায়েসের মতো
আমারও হৃদয় আজ যুক্তিহীন রাত্রিদিন তুচ্ছ এক যুবতির নাম জপে
আমি তো আজন্ম এক ক্ষুধার্ত রাখাল, আর তার ভালোবাসা ভাপ ওঠা একথাল পায়েসের মতো
ছুঁড়ে দিয়ে ঘৃণাভরে আশ্চর্য এ অমৃত আহার, কি করে নিবিষ্ট করি ক্ষুধাহীন, তোমার জিকিরে তপে?

তুচ্ছ এক যুবতীর কোকিলের মতো দুটো চোখ আমার অস্তিত্ব ঘিরে আজ ঘূর্ণমান স্বপ্নের লাটিম
কিংবা তার স্যাঁতসেঁতে চোখ, বিক্ষুব্ধ গঙ্গায় যেন মাছধরা নাও, দিশেহারা প্রণয়তরঙ্গে আছাড়ি পিছাড়ি খায়
কিংবা তার চোখ যেন ছুটে চরা আলোর হরিণ, নির্নিমেষ দেখে দেখে দু’চোখ বৃষ্টির মতো নেমে আসে ঝিম
অতঃপর ঘুম নামে, আরণ্যক ঘুমের ভেতর নির্ঘুম আত্মার ঘুঘু মাথা কোটে তার নামে, শান্তিগান গায়।

আমার জমিনে আজ বোশেখের ঝড়বাদীমেঘের মতোই ডেকে ওঠে কড়কড় ভালোবাসা ধান
শান্তি ফুটে, স্বপ্ন ফুটে আমার ভূগোল আজ হয়ে থাকে চৌপ্রহর পরীদের লোকোত্তর ফুলের শহর
ব্রহ্মান্ডের সব শব্দ স্তব্ধ করে দিয়ে হৃদয়ের মসজিদে মসজিদে আজ সকাল সন্ধ্যায় ওঠে প্রেমের আজান
আর আমি মূর্খ এক প্রেমিক পুরুষ, তুচ্ছ তার নাম জপে জপে দিনকে যে রাত করে দেই, রাতজেগে রাতকে যে করে দেই ভোর

কোথায় সে পাবো বলো সুর তোমার প্রশস্তি গাবো হে, যে-তুমি ‘হও’ বললেই সবই হয়ে যায়, দিন হয় রাত, রাত হয় বেজে ওঠা আলোর নূপুর
অমোঘ তোমার এই জাদুর বলেই তুচ্ছ এই মেয়েটিকে, প্রভু, করে দিও মরণের পর অধমের জন্যে এক বেহেস্তের হুর

সুলতানা সিরিজ

সুলতানা-১

সে এমন মেয়ে, যার নদীচোখে চেয়ে পৃথিবীর নদীগুলো লজ্জায় আরো বেশি নদী হয়ে যায়
সঙ্গীতের মতো যার গলার আওয়াজ পেয়ে প্রেমবাদী পাখিগুলো গানে গানে আরো বেশি পাখি হয়ে যায়
সে এমন মেয়ে, যার ফুলঠোঁট দেখে পৃথিবীর ফুলগুলো লজ্জায় আরো বেশি ফুল হয়ে যায়
সুখাকাশ ছোঁয়া যার গিরিবুকে বুক রেখে প্রেম-অন্ধ কবি এই, ভালোবেসে আরো বেশি কবি হয়ে যায়

সুলতানা-২

বললাম,
‘তুমি বুঝি পাকা কোনো আম,
বেহেস্তের বোঁটা ছিঁড়ে পড়েছে যা টুপ করে পৃথিবীতে খসে?’

বললো সে:
‘আলোয় ও অন্ধকারে, চুপচাপ,
গাছের পাতার মতো বেড়ে ওঠা আমি এক পাপ।’

আমি তাকে জ্বালানির মতো, টেনে নিয়ে সুখচুলা বুকের ভেতরে
বললাম- ‘আমাদের এই নীল বুকের ব্যথায়, তুমি এক, ভুল করে
খসে পড়া হুর;
নদী নদী চোখ যার, দেখে দেখে, দেখে দেখে, হয়ে যায় এভাবেই সকাল দুপুর।’

সুলতানা-৩

সমস্ত চোখ অর্ধেক চোখ, শুধু তার নীল ধানভরা বিল চোখ দুটো চোখ সম্পূর্ণ
সমস্ত ঠোঁট অর্ধেক ঠোঁট, শুধু তার লাল গাছপাকা ঝাল ঠোঁট দুটো ঠোঁট সম্পূর্ণ

সমস্ত বুক অর্ধেক বুক, শুধু তার শ্বেত কুমড়ার খেত বুকটাই বুক সম্পূর্ণ
সমস্ত নারী অর্ধেক নারী, সব নারীআম চেখে দেখলাম- সে-ই শুধু নারী সম্পূর্ণ

প্রেমান্ধের ডাকে

ভালোবাসা সমুদ্রের ঢেউ। বুকে সেই ঢেউ নিয়ে সমুদ্রের মতো আমি
নদী নদী বলে ডাকি। মানবী হে, তুমি সেই ডাক শুনে
সাহসের নদী হয়েছিলে, এবং গঙ্গার মতো আকাশকে শুনিয়ে কঠিন
করেছিলে অঙ্গীকার: ‘ঘর ভেঙে এই দুরন্ত ফাল্গুনে
স্বপ্নের সমুদ্রে মিশে যাবো।’ অতঃপর ফেলে রেখে মুহূর্তেই পেছনের সব ঋণ
ছুটতে ছুটতে তুমি সমুদ্রের সঙ্গমে চাইলে তো মিশে যেতে একদিন।

এভাবেই সমুদ্র নদীকে ঘরছাড়া করে।
এভাবেই সমুদ্র নদীকে দিশেহারা করে।

ভালোবাসা সঙ্গীতের ঝড়। এক বুক ঝড় নিয়ে আমি
কোকিলের মতো কুহু কুহু বলে
ডাক দিয়েছিলাম। এবং শুকনো পাতার মতো
সেই ডাক শুনে তুমি চঞ্চল তোমার শাড়ির আঁচলে
বেঁধে নিয়ে এক মুঠো তেঁতুল বাতাস, বলে উঠেছিলে-‘জীবনের
এই হলো আজ ব্রত:
জড়বৎ পড়ে থাকা আর নয় পৃথিবীর ঘাসে ঘাসে,
মায়াবী মেঘের মতো অপরূপ উড়বো এবার অসীম আকাশে।’

এভাবেই ঝড় ডাকে
পৃথিবীর শুকনো পাতাকে।

সমুদ্র ডাকলে বলো কি করে বিচ্ছিন্ন থাকে আর নদী?
এবং ডাকলে ঝড়, কি করে শুকনো পাতা পড়ে থাকে আর পৃথিবীর ঘাসে ঘাসে?
আর মানবী হে, সমুদ্রের মতো এবং ঝড়ের মতো যদি
ভালোবেসে দেই আমি ডাক, কি করে তোমার প্রেমার্দ্র চোখের কবর নিবাসে
লাশের সুষুপ্তি নেমে আসে?