দ্রবতার মিনিয়েচার / গোলাম মোহাম্মদ

কেউ ভুলে গেছে বলে আমি কেন ভুলে যাবো পথ
এখনও সূর্য ওঠে, ফুল ফোটে, পাখি গান করে
এখনও মানুষেরা স্নিগ্ধ হাতে জনপদ গড়ে
ঝড়ের দাপট দেখে আমি কেন হবো ক্লান্ত শ্লথ?

অন্ধকার ঢেকে রাখে পৃথিবীর রূপম শরীর
জনপদ থামে আর জমে দ্রুত ভয়ের কেলাস
লুটেরার মুখে ওঠে কলঙ্কিত পাপের গেলাস
নক্ষত্র থামে না তবু বয়ে আনে আলোক অধীর!

লম্বমান মৃত্যু তবু প্রাণপণ বীর লড়ে যায়
মাথায় পর্বত তবু সাহসীরা ফুল যেন হাসে
আলোর পবিত্র ধারা প্রদীপের দহন নিঃশ্বাসে
প্রত্যয় অটল জন প্রয়োজনে জীবন বিলায়।

রূপালী আলোর পথ- স্বর্ণময় ঝলমল পথ
প্রাণ দিয়ে গড়ে যাবো এই পথে আলোক-পর্বত।

অনুকবিতা ২৯ / সাইফ আলি

যেই ছেলেটা বোতাম খুলে বাতাস লাগায় বুকে
তার বুকে হোক ফুল ফসলের চাষ,
আর যে ছেলে বোতাম এঁটে ঘুমায় বারোমাস
বোতাম খোলার মন্ত্র শেখাও তাকে।

২২.০২.২০

টুপ টাপ ঝোল / সাইফ আলি

তুলতুলে গাল
ঠোঁট লাল লাল
ছোটো ছোটো হাত
দুই জোড়া দাঁত
ভাঙা ভাঙা বোল
টুপ টাপ ঝোল!

ঝোল খেতে গোল হয়ে
বসে পিঁপড়া,
ছোটো সোনামণিটার
ছোটো ছোটো পা।

২২.০২.২০

অনুকবিতা ২৮ / সাইফ আলি

তুমি আমি হাঁটি বরাবর দুইদিকে
ভূ-গোল তত্ত্বে মুখোমুখি এসে দাঁড়াবোই
রেষারেষি ভুলে ভালোবেসে হাত বাড়াবোই।
অথচ ভূ-গোল বিচ্ছেদে বড় পটু,
তোমার জন্য সমুদ্র ডেকে এনে
আমাকে করলো পাহাড়ের মুখোমুখি!

২২.০২.২০

ভাল্লাগে তাই / সাইফ আলি

হাসতে আমার ভাল্লাগে তাই হাসি,
হাসলে সকাল শিশির দানায়
ছড়িয়ে পড়ে মুক্তো রাশি রাশি।

ছুটতে আমার ভাল্লাগে তাই ছুটি,
ছুটলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে
মিষ্টি সুরে গান শুনিয়ে;
ফুলকলিরা হেসে হেসে খায় যে লুটোপুটি।

বাসতে ভালো ভাল্লাগে তাই বাসি
পণ করি এই, ভালোবেসেই থাকবো পাশাপাশি।

০৩.০২.২০

অনুকবিতা ২৭ / সাইফ আলি

কি যে কামাই ক্যান যে কামাই
আমালনামায় হচ্ছে জড়ো কি যে;
সবার হিসেব ঠোঁটের ডগায়!
নিজের খবর রাখছি না কেউ নিজে।
জিভের তেজে থাকছে না হুশ
নিজের ছ্যাপে যাচ্ছি নিজেই ভিজে।

২৮.০১.২০

যেখানে থাকো তুমি / সাইফ আলি

আমার কথাগুলো তোমার কানে কানে পৌছে দেবে পাখি,
যেখানে থাকো তুমি আড়ালে যতোদূরে
থাকুক ফুলে ফুলে তোমার মাখামাখি।

যেদিন নদীতীরে কেবল সারি সারি যন্ত্র দানবেরা রবে
হাওয়ার বুক ভরে উঠবে বিষ-শ্বাসে; সেদিনও এই কথা হবে-
কুশুমে থাকো তুমি,দু’ঠোটে হাসি থাক লেগে;
তোমার গানে গানে উঠুক পৃথিবীটা জেগে।

২৭.০১.২০