হে চোখ / সাইফ আলি

হে চোখ,
ভালোবেসে অশ্রু ঝরাও
আমার বিশ্বাস, তোমার উর্বর স্পর্শ
হৃদয়কে আরো বেশি আবাদযোগ্য করে তুলবে-
তবে তোমার অশ্রু যাদি দূর্বলতার প্রতিক হয়ে থাকে 
তাকে রুখে দাও।
মনে রেখো-
জালিমের কারাগারের উর্বরতায় বলে দেয়
বিপ্লব কতোদূর।

Advertisements

শব্দ ছিলো জলের / সাইফ আলি

শব্দ ছিলো জলের
এবং গভীর তলের
শব্দ ছিলো মিহি
বাতাস চলাচলের।

শব্দ ছিলো মেঘের
বৃষ্টি ভেজা পাতার
এবং কিছু কথা,
কলম, খেরো-খাতার।

হঠাৎ কিযে বিকট
শব্দ; একি বোমার?
সভ্যতা নও রানী;
লজ্জা ঢাকো তোমার।

শিশিরে আঁধার / সাইফ আলি

শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে
আলোরা মেতেছে ওপাড়ায়,
মিছিল শিখেছে আপোষের সুর
শ্লোগানে কাঁপেনা ধমনীর জমা খুন!

নদীরা সরল, ঝরনা সরল এবং পাহাড়
এখন কেমন অবকাশ প্রিয়,
এখন কেমন আপোষের কারু
বেয়াড়া ষাড়ের বাঁকানো সিঙেও!

শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে
কলমে ওঠাও সকালের তরজমা,
মিছিলে জাগুক দ্রোহের কবিতা
শ্লোগানে কাঁপুক ধমনীর জমা খুন।

তুমি জাগো / সাইফ আলি

তুমি জাগো
তমি জাগলেই আর অভিযোগ থাকবে না
তুমি জাগলেই আর এ ব্যর্থতার ইতিহাস থাকবে না
তুমি জাগো-

মাটিতে কাদায় মুখ গুঁজে আছে মতিহার
স্রোতে ভেসে ভেসে কতদূর যাবে ঐ চাঁদ বলো আর
পুড়ে ছায় যত আশার বসতি গোলাপের সংসার
এই ভার
পিঠে তুলবার ক্ষমতা আমার জাগো
একটু বিবেক মমতা আমার জাগো
তুমি জাগো
তুমি জাগলেই আর অভিযোগ থাকবে না
তুমি জাগলেই আর এ ব্যর্থতার ইতিহাস থাকবে না।

অসিয়ত / সাইফ আলি

তুমি যখন নিঃশব্দে পার হয়ে যাবে
তখন ভুলেও যেনো পেছন ফিরবে না, দোহায় তোমার-
তুমি যদি সীমান্তে পৌছে দেখো, আমাদের আধখাওয়া চাঁদ-রুটি
নির্মম কাটাতারে ঝুলে আছে,
যদি দেখো ঝাঁওবনে রেখে আসা জোনাকিগুলো
দলবেধে ঝাপিয়ে পড়ছে নাফ নদীতে
তবে, তোমার নাজুক শরীরের দোহায়
আর কোনো পিছুডাকের অপেক্ষায় তোমার পা যেনো থেমে না যায়।
দূর থেকে দেখা যাবে না কিছুই, আমাদের গ্রাম, শস্যখেত, হালের বলদ, কিচ্ছু না;
আমাকেও দেখতে পাবে না –
আশ্রয়কেন্দ্রে হয়তো ভালো লাগবে না তোমার,
আমার কথা ভেবে চোখের জল ফেলো না প্রিয়তমা,
জেনো, তোমার পুরুষ মাথা তুলে বাঁচতে শিখেছে।

একটা কবিতা লেখতে চেয়েছিলাম / সাইফ আলি

আজ যখন অনেক রাত হয়ে যাবে
তুমি বিরক্ত হয়ে বলবে- এবার থোওতো ওসব; ঘুমোও…
আমি হয়তো খেয়াল করবো না তোমাকে
তোমার কোনো শব্দই আমার কানে পৌছোয়নি
আমার অবচেতন মন উদভ্রান্তের মতো এদিক ওদিক দৌড়ে মরছে
একগুচ্ছ শব্দের জন্য-
এমন শব্দ, যার কোনো জন্মই হয়নি এখোনো;
এমন সব ভয়াবহ শব্দের জন্য আমি কলম কামড়ে বসে আছি
যার এক একটি শব্দ জালিমের কানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলতে ক্ষেপনাস্ত্রের মত ছুড়ে মারা যায়-
আর, ব্যর্থতা কাঁধে করে
আমি যদি মাথা নিচু করে তোমার কাছে ফিরে আসি
রাত শেষে
আমাকে একমুঠো প্রেম দিও
আমি আরাকানের পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর উঠোনে উঠোনে দাঁড়িয়ে
চিৎকার করে বলবো-
শেষমেষ এই ছিলো তোমাদের জন্য;
ক্ষমা করো, আমি একটা কবিতা লেখতে চেয়েছিলাম…

বিবর্ণ পতাকার খোঁজে (২) / সাইফ আলি

কে ছিলো রূপকার, পেয়েছে উপকার কারা;
বিভেদ বর্ণের জ্বালিয়ে এ আগুন কথিত সুখ পায়তারা
ভাঙিয়ে এতকাল লুটেছে দুই হাতে কারা?

কিসের ভিত্তিতে পৃথিবী ভাগ হয়
উঠোন ভিনদেশ নাম পায়,
কাদের বুক চিরে জাগাও পতাকা
বিভেদ শ্রদ্ধা সালাম পায়?

ধর্ম-বর্ণ না, ভাষা-সাংস্কৃতি তাও না,
শাসক শেয়ালের ধুর্ত ভাগাভাগি
বুঝেও বুঝতে কি চাও না?

স্বদেশপ্রেম বলে ভাইকে ভিনদেশী শত্রু বানাও;
মানুষ, তুমি তাতে সুখ পাও?

স্বদেশ-পতাকার চিহ্ন বদলালে কালকে
কি নামে চিনবে সকালকে?

অধিকার শুধু / সাইফ আলি

অধিকার শব্দটা ভয়ানক বড়
বার বার শাসকের ভিত নড়ে ওঠে!?
কর্তব্যের সাথে বোঝাপড়াহীন
অধিকার ঘুরে ফিরে বাজে ঠোঁটে ঠোঁটে।

খাদ্যের অধিকার নিয়ে তুমি আছো
অথচ তোমার পাশে ভুখা থাকে যারা
তাদের তোমার চোখ দেখেনা কখনো;
তোমার কণ্ঠ তাই সূচনা করে না কোনো
নতুন দিনের-
বস্ত্রের অধিকারে তোমার বিবেক
মৃয়মান, যেহেতু সে অভাব বোঝে না;
মূলত সবাই শুধু স্বার্থই বোঝে,
অন্যের কষ্ট খোঁজে না।

কথা বলো, সে তোমার অধিকার বটে
কিন্তু সে কটু কথা অন্যের ভাঙলে হৃদয়
অধিকার কোন পথে যাবে?

তোমার তো ঘর আছে,
ঘরের ইস্যুতে তুমি নাড়বে না ঠোঁট;
উদ্বাস্তুর কোনো খবর রাখোনা।
এইখানে অধিকার নিরবতা জানে…

কর্তব্যের সাথে বোঝাপড়াহীন
অধিকার বাক্যের মূল্য থাকে না;
কারো বিবেকেই কোনো চিহ্ন আঁকে না।

তুমি ঘুমাও নিটোল জলে / সাইফ আলি

তুমি ঘুমাও নিটোল জলে
তোমার স্নিগ্ধতা পাক ধরা,
তুমি ঘুমাও আরাম করে
আমার হৃদয় শিকল পরা।

তুমি ভাসছো দারুণ সুখে!
নাকি চোখ রেখেছো কাঁধে,
আমার লাগছে ভীষণ বোঝা
তোমার এমন প্রতিবাদে।

তুমি ঘুমাও চাঁদের বেটি
তোমার আকাশ সাজুক তারায়,
আমি ব্যর্থ প্রেমিক তোমার
ভীষণ লাজুক দিশেহারায়!

দেখো আজব কাটাতারে
আমার ছিন্ন শরীর কাঁদে,
আমার লাগছে ভীষণ বোঝা
তোমার এমন প্রতিবাদে।

21077544_1479462602142747_5122700430393207718_n
মায়নমারে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও হত্যার  একটি নির্মম চিত্র

তুমি ছিলে / সাইফ আলি

কখনো তোমাকে দেখেছি, তুমি ছিলে
যেখানে মিছিলে গোলাপ ফুটে ছিলো, তুমি ছিলে
যেখানে শ্লোগানে মুখর কণ্ঠ মেতেছে চায়ের আবেশে; তুমি ছিলে…

কখনো তোমাকে দেখেছি ফেস্টুনে
কিংবা রঙিন পোস্টারে লেখা গোটা গোটা অক্ষরে-
তুমি ছিলে কারো চিন্তার সাথে, চেতনার সাথে মিশে
তুমি ছিলে …
তুমি ছিলে …
শত সংকটে প্রতিবাদে-

কখনো তোমাকে শুনেছি উচ্চারণে
কবিতার উৎসবে-
কলমের উৎসবে-
হৃদয়ের উৎসবে; তুমি ছিলে…