কঠিন দাবাড়ু আমি / সাইফ আলি

সিধেল চোরের মতো গায়ে মেখে সরিষার তেল
দিনে কিবা রাতঘুমে অচেতন নগরির পথ
চুপিসারে পার হয়ে যাবো।

আমাকে প্রশ্ন করে বিব্রত হতে চাও যদি
চলে এসো পাশাপাশি হাটি
খুব পরিপাটি আর গোছানো কথার জালে
তুমি হবে অসহায় মাছের মতোই।

কঠিন দাবাড়ু আমি যেনোতেনো চালে
আটকে ফেলতে পারো আছো কেউ?
যদি থাকো তার হাতে খুশি মনে ধরা দেবো এসো
তবু তুমি একবার আদর্শ হয়ে থেকো আমার দু’চোখে।

01.07.19

ভণ্ড রাজার সেপাই / সাইফ আলি

ভয় দেখাবে? দেখাও
তোমার নাকি ভয় দেখানোর সখ,
কিন্তু তোমার কোমরটা খুব সরু
অনেকটা ঠিক বানর বানর ঢক।

দাঁত কেলিয়ে ভেঙচি কেটে ভয়?
তা কি আবার হয় 🙂
তার চেয়ে ঐ পান খাওয়া দাঁত কামারশালায় বসে
গরম করে ঘষে
একটু যদি ধার করাতে পারো
ভয় পাবো ঠিক, তা না হলে ছাড়ো।

আচ্ছা, এসব বুলেট-গুলির ভয়ে
গা ঢাকা দেয় কারা?
আজরাঈলের সঙ্গে বুঝি সওদা করে তারা
দু’দিন হায়াৎ বাড়িয়ে নিতেও পারে?
তা না হলে ভয় অযথা বেকুব ছাড়া কে পায়,
তোমার কথা বাদই রাখো;
তুমি তো এক ভণ্ড রাজার সেপাই।

28.10.19

বললো রাজা হেসে / সাইফ আলি

বললো রাজা হেসে-
‘ভিন্নমতের চিহ্ন যেনো না থাকে এই দেশে-’
ঝাপিয়ে পড়ে রাজসেনারা ভিন্নমতের খোঁজে
তাই দেখে কেউ ঠোস পরে কেউ সাবধানে ঘাড় গোঁজে,
কিন্তু কিছু আগ্নেগীরির বেরিয়ে আসা লাভায়
ভয় ঢুকে যায় রাজার বুকে, ভীষণ করম ভাবায়।
ভাবনা শেষে চেঁচিয়ে বলে- ‘বন্ধ করো মুখ-’
বন্ধ হলেই শান্তি রাজার, বন্ধ হলেই সুখ।

08.10.19

চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় / সাইফ আলি

নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নও
তোমার শরীর বেঁচে রাতের শরাব কেনে পুজিপতি শেয়ালের দল
শিল্পীরা চড়া দামে তোমাকে বেঁচেই খায়
কবি হয় নন্দিত তোমার শরীর এঁকে নানা উপমায়।
নারী তুমি জরায়ুর মালিকানা নিয়ে
শামুকের মতো কেনো নিজেকে গুটাও?
কখনো প্রেমিকা তুমি কখনো বা মা!
চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় তুমি বোঝো না?

03.10.19

আমরা তাদের দুটো নাম দিই / সাইফ আলি

একই সে জলের ধারা দুটি ভাগে গড়ালো খানিক
আমরা তাদের দুটো নাম দিই বলি দুই নদী
উভয় নদীর তীরে জমে ওঠে লোকালয় আর
কিছুদূর গিয়ে তারা সমুদ্রে মিশে যায়; যদি
এভাবেই সবকিছু মেনে নেয় পুরোনো শরীর
কিসে থাকে ভেদাভেদ, কিসের অহঙবোধ
আামাদের ঘিরে রাখে সুনিপূণ ঘৃণায় বিবাদে!
আমরা ছিলাম এক, মিশে যাবো একই পরিচয়ে।

মানব মানসে ঘুন, খুন হয় মানবতা জানি
মানুষেরই হাতে। ভীনগ্রহী খুঁজি তবু হায়
আমাদের বিছানায় খাটে; হয়রান হয়ে জাগি,
ভীত চোখে পাশ ফিরে শুই; অবিশ্বাসের চোখে
ঘুরে ঘুরে দেখি প্রিয় মানুষের মুখখানি পাশে
কেমন ঘুমিয়ে থাকে! সেও বুঝি ভিন্ন কোনো নদী!!

ভালোবাসা মরে গেলে / সাইফ আলি

ভালোবাসা মরে গেলে
কিছুতেই হবেনা কিছুই
ভালোবাসা ছাড়া কোনো
মানবতাবাদ টিকবেনা।

ভালোবাসা ছাড়া কোনো
অবতার আনেনি কিতাব
ভালোবাসা ছাড়া কোনো
ধর্মের ভিত টিকবেনা।

তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন / সাইফ আলি

তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন
শুধু কথা মতো নাচবে তা ধিন,
তুমি বলো তার মুক্ত ডানায়
সোনার শিকল আহা চরম মানায়।

তুমি বলো তার কণ্ঠ মধুর
তবে তাল লয় ভুল ভুল ভুল,
এই মাপকাঠি মানলে তবেই
সব ঠিক আছে সব নির্ভুল।

তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন
শুধু এই দাগ পেরোতে মানা,
সোনার খাঁচাটা ভেঙে বেরোতে মানা।

মৃত্যু / সাইফ আলি

মৃত্যু ঘনিয়ে আসে সন্ধ্যার পাড়াগাঁর মতো
ছোট পরিসরে,
মৃত্যু ঘনিয়ে আসে চোখের নিমেষে।

এমন অনেক নীড় থাকে
কোনোদিন ফেরেনা পাখিরা
এলোমেলো বাতাসের মোহে
খুলে পড়ে কুটোর সেলাই

মৃত্যু এমন এক বাতাসের ঢেউ
হৃদয় আলগা কোরে খুলে ফেলে সমস্ত ফোঁড়
পরিত্যক্ত হয় সখের কাঁথারা…।

সিরিয়ার শিশুটা / সাইফ আলি

সিরিয়ার শিশুটার চোখ নেই, কাঁদে না
মুখ নেই, হাসে না
বোধ নেই, নির্বোধ! বোঝেনা এ যুদ্ধের সার কি
মরছে মানুষ তাতে কার কি!?

সিরিয়ার শিশুরা কি নিষ্পাপ!?
সভ্যরা কথা বল, মুখ খোল;
মুখ পোড়া জানোয়ার মুখ খোল।

যুদ্ধের মাঠ কেনো শিশুদের দোলনা
পুড়ছে কি? সিরিয়ার মায়েদের কোল না??

সিরিয়ার শিশুটার ভাষা নেই,
চোখে চোখ রাখ, জীজ্ঞাসা নেই!?
আছে, আরো জ্বলে আছে ঘৃণা; তুই ঘৃণ্য
মানুষ আর জালিমের সঙ্গাটা ভিন্ন।