সবকিছু বদলায় / সাইফ আলি

সবকিছু বদলায়, তুমি আমি বদলাবো কিসে?
কোন সুরে, দাহে, কোন বিষে?
এভাবেই একদিন সব ছেড়ে, একদম সবই
একসাথে যাবো এই দলিত মাটির সাথে মিশে।

রঙ রূপ বদলায়, বদলায় শব্দের সুখ
বদলাতে বদলাতে কাদা কাদা হয়ে যায় পাথরের মুখ
তুমি আমি বদলাই মুখোমুখি পাতাদের মতো
একসাথে, একসুরে; না হলে কি ভিন্ন কিছু হতো?

২৭/০৭/২২

পুঁজিবাদী / সাইফ আলি

যুতসই দাম পেলে
বেচে দেবো সব,
ঘটিবাটি, মেধা সত্ত্ব
এমনকি রব।

যুতসই দাম পেলে
তোমাকেও বেচে দেবো প্রিয়,
যদি পারো বেশি দামে
আমাকেই তুমি কিনে নিও।

২৬.০৪.২২

আমি সেই পাখি নই / সাইফ আলি

আমি সেই পাখি নই যার কোনো ঘর নেই,
ঠোঁট নেই, নখ নেই, স্বর নেই।

আমি সেই পাখি নই যার পিছুটান নেই
চোখ নেই, কান নেই।

আমি সেই পাখি নই যার
প্রাণ নেই, মন নেই কোনো;
চোখ উল্টোনো।

১৬.০৪.২২

ফাগুন রাতের গল্প / সাইফ আলি

শোনো এক ঝলসে যাওয়া ফাগুন রাতের গল্প বলি-
সে রাতের মুঠোয় ভরা জোনাক ছিলো, জোছনা ছিলো
হঠাৎ এক শান্তিবাদী বিষ্ফোরণের সূত্র ধরে
প্রেমিকার ছিন্ন দেহের সাক্ষ্যি হলো প্রেমিক পুরুষ।

ইতিহাস লেখলো যারা তাদের ঘরেও কণ্যা ছিলো,
বোমারু বিমানগুলোর মডেল ছিলো শিশুর হাতে;
ফাগুনের এ রূপ দেখে সাম্যবাদী কতক কবি
কলমের বল ঘুরিয়ে, নাম কুড়ালো; জমলো আসর।

লেখলো- প্রিয়ার চোখের কাজল ধোয়া জলই নাকি
গড়ালো সমস্ত রাত, বাদবাকি সব চোখের ফাঁকি!

২৬.০২.২২

আমি বুঝি তুমিও তা চাও / সাইফ আলি

আমি রোজ কথা কই
স্বপ্নের কথা,
তুমি শুনে হাসো;
হয়তো পাগল ভাবো তবু ভালোবাসো।
আমি বুঝি তুমিও তা চাও
মুখ ফুটে বলো না কেবল
হয়তো বা ভয় পাও
পরাজিত হতে।
পরাজিত মানেই তো নিচু হয়ে বাঁচা!
মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে
একা একা লজ্জায় হেট হয়ে থাকা।
তার চেয়ে ঢের ভালো দর্শক হয়ে
করতালি দেওয়া, অথবা দুঃখ পেয়ে
চুপি চুপি সরে পড়া, চিনবে না কেউ;
বলবে না ডেকে কটু কথা।

আমি জানো পরাজিত হই
ভেঙে পড়ি, ডুবে যাই
তবু কই
স্বপ্নের কথা
তুমি শুনে হাসো;
হয়তো পাগল ভাবো তবু ভালোবাসো।

১৭/১০/২১

আশাবাদী হও প্রিয়া / সাইফ আলি

অদৃশ্য খাঁচা এক নিত্য আজ পাখিদের ঘর
বিষন্ন বিকেলের বুকে পিঠে ঘাতকের শর!
সন্ধ্যার কোলজুড়ে ফুটফুটে রাত আসে নেমে
দীর্ঘতম এই রাত শেষ হলে ডেকো। তারপর-
সকালের সোনা রোদে মেলে দেবো আমাদের ডানা।

সন্দেহ দূর করো; ঐ মেঘে আকাশ ঢেকো না
আশাবাদী হও প্রিয়া, হতাশায় মৃত্যু ডেকো না।

২১/১০/২০

কঠিন দাবাড়ু আমি / সাইফ আলি

সিধেল চোরের মতো গায়ে মেখে সরিষার তেল
দিনে কিবা রাতঘুমে অচেতন নগরির পথ
চুপিসারে পার হয়ে যাবো।

আমাকে প্রশ্ন করে বিব্রত হতে চাও যদি
চলে এসো পাশাপাশি হাটি
খুব পরিপাটি আর গোছানো কথার জালে
তুমি হবে অসহায় মাছের মতোই।

কঠিন দাবাড়ু আমি যেনোতেনো চালে
আটকে ফেলতে পারো আছো কেউ?
যদি থাকো তার হাতে খুশি মনে ধরা দেবো এসো
তবু তুমি একবার আদর্শ হয়ে থেকো আমার দু’চোখে।

01.07.19

ভণ্ড রাজার সেপাই / সাইফ আলি

ভয় দেখাবে? দেখাও
তোমার নাকি ভয় দেখানোর সখ,
কিন্তু তোমার কোমরটা খুব সরু
অনেকটা ঠিক বানর বানর ঢক।

দাঁত কেলিয়ে ভেঙচি কেটে ভয়?
তা কি আবার হয় 🙂
তার চেয়ে ঐ পান খাওয়া দাঁত কামারশালায় বসে
গরম করে ঘষে
একটু যদি ধার করাতে পারো
ভয় পাবো ঠিক, তা না হলে ছাড়ো।

আচ্ছা, এসব বুলেট-গুলির ভয়ে
গা ঢাকা দেয় কারা?
আজরাঈলের সঙ্গে বুঝি সওদা করে তারা
দু’দিন হায়াৎ বাড়িয়ে নিতেও পারে?
তা না হলে ভয় অযথা বেকুব ছাড়া কে পায়,
তোমার কথা বাদই রাখো;
তুমি তো এক ভণ্ড রাজার সেপাই।

28.10.19

বললো রাজা হেসে / সাইফ আলি

বললো রাজা হেসে-
‘ভিন্নমতের চিহ্ন যেনো না থাকে এই দেশে-’
ঝাপিয়ে পড়ে রাজসেনারা ভিন্নমতের খোঁজে
তাই দেখে কেউ ঠোস পরে কেউ সাবধানে ঘাড় গোঁজে,
কিন্তু কিছু আগ্নেগীরির বেরিয়ে আসা লাভায়
ভয় ঢুকে যায় রাজার বুকে, ভীষণ করম ভাবায়।
ভাবনা শেষে চেঁচিয়ে বলে- ‘বন্ধ করো মুখ-’
বন্ধ হলেই শান্তি রাজার, বন্ধ হলেই সুখ।

08.10.19

চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় / সাইফ আলি

নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নও
তোমার শরীর বেঁচে রাতের শরাব কেনে পুজিপতি শেয়ালের দল
শিল্পীরা চড়া দামে তোমাকে বেঁচেই খায়
কবি হয় নন্দিত তোমার শরীর এঁকে নানা উপমায়।
নারী তুমি জরায়ুর মালিকানা নিয়ে
শামুকের মতো কেনো নিজেকে গুটাও?
কখনো প্রেমিকা তুমি কখনো বা মা!
চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় তুমি বোঝো না?

03.10.19