ঘুম পাড়ানোর গান / সাইফ আলি

আয় ঘুম আয়রে
চোখ পেতে বসে যা,
লাল নীল স্বপ্নের
অংকটা কষে যা।

স্বপ্নের ধারাপাতে
তোর কোনো জুড়ি নাই,
চাঁদ আছে কিন্তু সে
সুতাকাটা বুড়ি নাই।

আয় ঘুম সাথে নিয়ে
চাঁদ মামা, বুড়িকে;
প্রজাপতি আর কিছু
ছোটো ফুলকুঁড়িকে।

আয় ঘুম আয়রে
চোখ পেতে বসে যা,
লাল নীল পরী হয়ে
চাদ-তারা খসে যা।

ঘুম ঘুম ঝুম ঝুম
ঘুম রুম ঝুম,
খোকার (/খুকির) কপাল জুড়ে
দিয়ে গেলো চুম।

Advertisements

অভিমান / সাইফ আলি

আম্মু বলে দুষ্টু তুমি
তোমাকে আর নেবো না,
আমি বলি আমাকে আর
ছোট্ট খোকা ভেবো না।

আম্মু বলে, তাই নাকি রে!
থাক তাহলে একলা ঘর;
যাচ্ছি আমি বাবার বাড়ি
সব কিছু তুই নিজেই কর।

আমি বলি- যাও না খুকি
তোমাকে আর রাখবো না,
নানুর বাড়ি গিয়ে আমি
আম্মু বলে ডাকবো না।

মানুষকে ভালোবেসে / সাইফ আলি

চাঁদ খেলে লুকোচুরি মেঘটার আঁড়ালে
সহযে কি ধরা যায় দুই হাত বাড়ালে?
না না ধরা যায় না তা, তবু ভালোবাসা যায়
মানুষকে ভালোবেসে আরো কাছে আসা যায়।

একেবেঁকে সব নদী সমুদ্রে মিশে যায়
ছোট নদী বড় নদী কোনো ভেদাভেদ নাই
সাগরের কাছ থেকে শিখে এই তত্ব
মানবিক গুনে নিজ বাড়াও মহত্ব।

আকাশের নীলে তুমি ছিলে কি না ছিলে না
কারো সাথে মতবাদে মিলে কি না মিলে না
এইসব পাশে রেখে ফুল হয়ে ফুটে যাও
ভালোবেসে জীবনের স্বাদটাকে লুটে যাও।

ভাবছি কিছুই ভাববো না

ভাবছি কিছুই ভাববো না
ভাবনা শুধু জট পাকায়
ভাবতে গেলে ছোট্ট চারা
ভাবনা বুড়ো বট পাকায়।

ভাবতে গেলাম করবো কি
কোন পথে বা হাটবো আজ
হঠাৎ দেখি দিনটা শেষ
আঁধার নিয়ে নামলো সাঁঝ।

ভাবতে গেলাম চাঁদ নিয়ে
লক্ষ তারার মন খারাপ
কোত্থেকে এক মেঘ এসে
চাঁদের গায়ে ফেললো ছাপ

ভাবতে গেলাম বন নিয়ে
বনের পাখি উড়লো কই
আম্মা বলেন- ‘মন দিয়ে
এখন শুধু পড়বে বই।’

কিন্তু পড়ার ভাবনাটা
আমার মনে যেই আসে,
ঘুমের নেশায় চোখ দুটো
যায় বুজে,
এই বিষয়ে ভাবনা কোথায় পাই খুঁজে?

ভাবছি কিছুই ভাববো না
ওসব তো আর কাব্য না;
মন মজে
একটুখানি পাইনা সময় ভাববো যে!

স্বকীয়তা

তোমার তুমিতে তুমি ছাড়া যদি অন্য কেউ
তুলবে ঢেউ; তুমি তবে কি?

তুমি কি পুতুল; দেখাবে পুতুল নাচ?
পুতুল কখনো নিজে সাজে নাতো
গড়েনা নাচের ধাঁচ।

নিজে ফোটে ফুল তাইতো ভ্রমর শোনায় মিষ্টি গান
নদী বয়ে যায় ভেঙে-গড়ে পাড় পাহাড়ের সন্তান।

তোমাতে তোমার চাই স্বকীয়তা
নিজস্ব পরিচয়,
না হলে অন্যে মুছে যাবে ঠিক
পথ যেতে পাবে ভয়।

একটুখানি মেঘের পানি / সাইফ আলি

একটুখানি মেঘের পানি বৃষ্টি হয়ে ঝরুক
গাছের পাতা দুলুক,
রুদ্ধমনে সঙ্গপনে লুকিয়ে থাকা দুঃখগুলো
এবার সবাই ভুলুক।

আমি মেঘের পানি মাথায় করে নাচি
শহর ছেড়ে একটুখানি গ্রামের কাছাকাছি
সবুজসবুজ নুইয়ে পড়া পাতা
তাতে লেপ্টে থাকা বিজলি মাখা পানি
যেনো ডাকছে কেমন অবাক ভাষায়
জলজ সে হাতছানি…

যেনো স্বপ্নগুলো দু’চোখ ছেড়ে বুকের কাছাকাছি
আমি মেঘের পানি মাথায় করে নাচি;

একটুখানি দমকা হাওয়া লাগুক
ঝিমিয়ে পড়া সবুজ কিছু জাগুক
কিছু পাখির কুঁড়ে ধুলোর বোঝা ঠেলে
নতুন করে আকাশটাকে দেখুক;
এবার না হয় মেঘের পানি শুষ্ক ঘাসের বুকে
সবুজ লেখা লেখুক।

অচিনপুরের যাত্রী

বল না মা আজ সত্যি করে মাথায় রেখে হাত
আমি কি আর দেখতে পাবো জোনাক জ্বলা রাত;
পূব আকাশে এক থালা চাঁদ উঠবে যখন হেসে
নদীর জলে ভাসবে সে চাঁদ ঝলমলিয়ে হেসে
তখন কি আর ঘুরতে যাবো ছোট্ট নদীর তীরে
নাকি শুধুই হারিয়ে যাবো অন্ধকারের ভীড়ে?

কাঁদিসনে মা বল না আমায় সত্যি করে বল
বর্ষা এলে অঝোর ধারায় নামবে যখন ঢল
আমি কি আর দেখতে পাবো দিঘল কালো মেঘে
চিরুল দাঁতের হাসি দিয়ে বিজলি ওঠে জেগে;
আমি কি আর উঠোন জুড়ে হাস ছানাদের মতো
খেলবো যখন বৃষ্টি ধারা ঝরবে অবিরত?

বল না মা তোর চোখের কোণে ভাসছে কেনো জল
মিথ্যে মায়ায় ভুলাসনে মা, করিসনে আর ছল,
আমি কি আর প্রভাত হলে দেখবো রাঙা রোদ
দেখবো শুধু দু’চোখ ভরে নিচ্ছে প্রতিশোধ
ভোরের আলো রাতের কালোর বক্ষ করে ভেদ
দু’চোখ ভরে দেখবো কি আর সূয্যি মামার জেদ?

কাঁদিসনে মা কাঁদিসনে আর কান্না হবে শেষ
আমার যখন আবাস হবে অচিনপুরের দেশ
রাত হয়েছে ঘুমো এখন বলবে না আর কেউ
দেখবি না আর আমার চোখে অশ্রু তোলে ঢেউ;
যখন আমি ঘুমিয়ে যাবো আলতো টেনে কেশ
বলবি না তুই, খোকন আমার ঘুমিয়ে আছে বেশ।

আচল পেতে দে না মা তোর একটুখানি শুই
কোমল হাতের পরশ দে মা অঙ্গ জুড়ে তুই,
আর কি আমি দেখবো তোরে পাচ্ছে বড় ঘুম
দে না আমার কপোল জুড়ে মিষ্টি করে চুম।
কাঁদিসনে মা কাঁদিসনে আর সত্যি করে বল
আর কি পাবো এমন মধুর স্নেহের ছায়াতল?

গোধুলিতে আলো আঁধার করছে মোলাকাত
দিনের শেষে ঘনিয়ে আসে আঁধার কালো রাত
কাঁদিসনে মা কাঁদিসনে আর মোছেক চোখের জল
শুনছি আমি মৃত্যূপুরের নিরব কোলাহল;
এমন সময় বক্ষে আমার হাত বুলিয়ে দে
শান্তিতে আজ মুদবো নয়ন মধুর পরশে।

ইচ্ছে মতো / সাইফ আলি

ইচ্ছে মতো খেলতে পারো এখানে
মনের মতো মন আছে
ছোট্ট ঝাউয়ের বন আছে
ঘাসে ঘাসে ফুলের মেলা যেখানে।

খেলতে তোমার ইচ্ছে করে যে খেলা
খেলতে পারো লুকোচুরি
আকাশ পানে রঙিন ঘুড়ি
উড়িয়ে দিয়ে নাটাই ধরে একেলা।

গাইতে যদি ইচ্ছে করে গানগুলি,
কণ্ঠ ছেড়ে গান ধরো
মিষ্টি সুরে তান ধরো
পাতার ফাঁকে লুকিয়ে যেমন বুলবুলি।

মজার মজার গল্প গানের বই ভরা
ইচ্ছে হলে বই পড়ো
রং তুলিতে রং করো
ইচ্ছে হলে সব এখানে যায় করা।

তোমার আমার সবার প্রিয় মজার দেশ
আনন্দে আর উৎসবে
মিষ্টি মধুর কলরবে
মুখর হেথা স্বপ্ন সুখের নেই কো শেষ।

ঘুম পাড়ানোর কবিতা / সাইফ আলি

লক্ষী সোনা ঘুমিয়ে পড়ো রাত হয়েছে বেশ
স্বপ্নে তবে দেখতে পাবে লাল পরীদের দেশ
তোমার দু’চোখ বুজবে যখন
ঝিঝিরা সব ডাকবে তখন
চুপি চুপি চাঁদটা এসে লাগিয়ে দেবে চুম
ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি পাড়িয়ে দেবে ঘুম।
ঘুম এসে এই দু’চোখ পেতে
উঠবে যখন গল্পে মেতে
তুমিও তখন কল্পে যাবে নীল পরীদের বাগে
ভোমরা যেথায় গুন গুনিয়ে গান করে যায় ফাগে।
ফুল সেখানে পাপড়ি মেলে
প্রজাপতি বেড়ায় খেলে
মৌমাছিরা এ ফুল ও ফুল খুঁজতে থাকে মৌ
এখন তুমি চোখটি বুজে চুপটি করে শৌ।

পাখিদের চেনা পথ

ঝাপটে ডানা যাচ্ছ কোথায় পাখি
কোন সুদূরে হচ্ছো নিরুদ্দেশ
কোথায় তোমার যাত্রা হবে শেষ
মেঘের ধোয়া পালক জুড়ে মাখি?

এই সীমানা খুব কি তোমার চেনা
আকাশ ছোয়া গাছপালাদের শাখা
এই মেঠো পথ ছোট্ট আঁকা-বাঁকা
খড়ের গাদায় ছোট্ট ফোকর খানা?

কেমন করে সন্ধ্যা বেলায় নীড়ে
আসবে তুমি পথটা চিনে ঠিক
পালকগুলো ছড়িয়ে চতুর্দিক
চিনবে এ পথ হাজার পথের ভিড়ে?