বুড়ো / সাইফ আলি

এক হালি দাঁত বুড়োর গালে 
হাটঁছে বুড়ো হাওয়ার তালে 
হাঁটছে যেনো চাঁদের বাটি
দাও বিছিয়ে শিতল পাটি।

বুড়োর মুখে নতুন বোল
ঠোঁটের ডগায় রসের গোল
রস চুয়ে যায় তাড়াতাড়ি
দাও না পেতে রসের হাড়ি।

বুড়োর কথার হাজার মানে 
পাড়ার লোকে কয়টা জানে?
বুড়োর চোখে ঘুমের ঘোর 
যখন জাগে তখন ভোর।

25.02.19

ঢুলুঢুলু চোখে তার / সাইফ আলি

বাঁকা চাঁদ মামা তুমি 
ধরে রাখো দোলনা,
চুপ চুপ ঝিঁঝিঁপোকা
কোনো শোরগোল না।

ঢুলুঢুলু চোখে তার 
ঘুম ঘুম ঘুম কি?
জোনাকিরা দল বেঁধে 
জ্বেলে রাখে চুমকি।

মিঠিমিঠি হাসে খোকা
হাঁটে কোন রাজ্যে,
স্বপ্নের কোন দেশ
ঘুরে এলো আজ যে!

তার কোনো সন্ধান 
দিতে পারো রাত্রি?
আমরাও হতে চাই 
তার সহযাত্রি।

04.02.19

এই মালাটা পাবে কে / সাইফ আলি

হলুদ গাঁদা শিউলি শাদা
রঙ বরঙের ডালিয়া
বকুল ফুলের গাঁথছে মালা
ছোট্ট খুকু মালিয়া।

এই মালাটা পাবে কে
মিষ্টি সুরে গাবে যে।

তাই শুনে সব গানের পাখি
খুকুর কাছে ছুটলো রে;
কয়টা মালা গাঁথতে খুকু
কয় ঝুড়ি ফুল খুটলো রে?

04.02.19

সবুজ পাখি টিয়ে / সাইফ আলি

সবুজ পাখি টিয়ে
গলায় মালা দিয়ে
বন বনানী উড়ছো একা
আমাকে যাও নিয়ে।

আব্বু তোমার রাগ করে না
দূর বনে যাও একা?
ফুল পরীদের সাথে তোমার
হয় কখনো দেখা?

ফুল পরীরা দেখতে কেমন,
ঘুমায় ওরা ফুলে?
কি খায় ওরা,
পড়ে কোন স্কুলে?

সবুজ টিয়ে
তুমি আমার বন্ধু হবে না কি;
চারপাশে সব কেমন যেনো 
জাদুর মতই ফাঁকি।

20.01.19

টুনটুনি মাস্টারের স্কুল / সাইফ আলি

প্রজাপতি মৌমাছি ফড়িঙের দল
বলে খোকা আমাদের স্কুলে চল

টুনটুনি মাস্টার
নেই চক ডাস্টার
পারলে সকল পড়া খেতে দেয় ফল
চল খোকা আমাদের স্কুলে চল।

কোনো ক্লাসরুম নেই
কারো চোখে ঘুম নেই
ঢুল ঢুল ঢুল,
ফুলে ফুলে ভরে আছে গোটা স্কুল।

18.01.19

টুনটুনি / সাইফ আলি

টুনটুনি পাখি তোর সরু দুটো পা
শিল্পী নাকি রে তুই বেশ তো গলা
ডানাগুলো মেলে দিয়ে উড়তে তোকে
কে শেখায় বল দেখি এক পলকে?

পাতা দিয়ে ঘর বাঁধা শিখেছিস কই
আমাকেও বল দেখি পড়ি সেই বই।

16.01.19

ঘুম পাড়ানোর গান / সাইফ আলি

আয় ঘুম আয়রে
চোখ পেতে বসে যা,
লাল নীল স্বপ্নের
অংকটা কষে যা।

স্বপ্নের ধারাপাতে
তোর কোনো জুড়ি নাই,
চাঁদ আছে কিন্তু সে
সুতাকাটা বুড়ি নাই।

আয় ঘুম সাথে নিয়ে
চাঁদ মামা, বুড়িকে;
প্রজাপতি আর কিছু
ছোটো ফুলকুঁড়িকে।

আয় ঘুম আয়রে
চোখ পেতে বসে যা,
লাল নীল পরী হয়ে
চাদ-তারা খসে যা।

ঘুম ঘুম ঝুম ঝুম
ঘুম রুম ঝুম,
খোকার (/খুকির) কপাল জুড়ে
দিয়ে গেলো চুম।

অভিমান / সাইফ আলি

আম্মু বলে দুষ্টু তুমি
তোমাকে আর নেবো না,
আমি বলি আমাকে আর
ছোট্ট খোকা ভেবো না।

আম্মু বলে, তাই নাকি রে!
থাক তাহলে একলা ঘর;
যাচ্ছি আমি বাবার বাড়ি
সব কিছু তুই নিজেই কর।

আমি বলি- যাও না খুকি
তোমাকে আর রাখবো না,
নানুর বাড়ি গিয়ে আমি
আম্মু বলে ডাকবো না।

মানুষকে ভালোবেসে / সাইফ আলি

চাঁদ খেলে লুকোচুরি মেঘটার আঁড়ালে
সহযে কি ধরা যায় দুই হাত বাড়ালে?
না না ধরা যায় না তা, তবু ভালোবাসা যায়
মানুষকে ভালোবেসে আরো কাছে আসা যায়।

একেবেঁকে সব নদী সমুদ্রে মিশে যায়
ছোট নদী বড় নদী কোনো ভেদাভেদ নাই
সাগরের কাছ থেকে শিখে এই তত্ব
মানবিক গুনে নিজ বাড়াও মহত্ব।

আকাশের নীলে তুমি ছিলে কি না ছিলে না
কারো সাথে মতবাদে মিলে কি না মিলে না
এইসব পাশে রেখে ফুল হয়ে ফুটে যাও
ভালোবেসে জীবনের স্বাদটাকে লুটে যাও।

ভাবছি কিছুই ভাববো না

ভাবছি কিছুই ভাববো না
ভাবনা শুধু জট পাকায়
ভাবতে গেলে ছোট্ট চারা
ভাবনা বুড়ো বট পাকায়।

ভাবতে গেলাম করবো কি
কোন পথে বা হাটবো আজ
হঠাৎ দেখি দিনটা শেষ
আঁধার নিয়ে নামলো সাঁঝ।

ভাবতে গেলাম চাঁদ নিয়ে
লক্ষ তারার মন খারাপ
কোত্থেকে এক মেঘ এসে
চাঁদের গায়ে ফেললো ছাপ

ভাবতে গেলাম বন নিয়ে
বনের পাখি উড়লো কই
আম্মা বলেন- ‘মন দিয়ে
এখন শুধু পড়বে বই।’

কিন্তু পড়ার ভাবনাটা
আমার মনে যেই আসে,
ঘুমের নেশায় চোখ দুটো
যায় বুজে,
এই বিষয়ে ভাবনা কোথায় পাই খুঁজে?

ভাবছি কিছুই ভাববো না
ওসব তো আর কাব্য না;
মন মজে
একটুখানি পাইনা সময় ভাববো যে!