কঠিন-কোমল / সাইফ আলি

খসখসে কড়াপরা হাত দেখে ভেবোনা
এই আঙুল কখনো গোলাপ ছোঁয়নি;
উষ্কখুষ্ক চুল আর ঘর্মাক্ত শরীর কোনো উজবুকের নিশানা নয়
ভেবোনা এই বিব্রত চোখ কখনো স্বপ্ন দেখতে শেখেনি
কুচকে পড়া আস্তিন
আর রঙ জ্বলে যাওয়া ত্বকের অন্দরে যার বসবাস
তার চেহারাটা তোমার মতই মোলায়েম,
দাগ বসে,
তাকে বড্ড সাবধানে ছুঁতে হয়;
যেনো চোট না পৌঁছোয়।
ঝিনুক দেখেছো কখনো?
কঠিন-কোমলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না,
এতটুকু জেনো- যার অন্দরে কোমলতা থাকে
তার বাহির বড্ড মজবুত হয়, সহজে ভাঙে না;
কিন্তু একবার যদি ভেঙে যায় তবে জোড়া লাগবে
এর কোনো গ্যারান্টি নেই।
মানবী হে,
তুমি যাকে ইট বলো সেও পোড়া মাটির শরীর
ক্ষয় হয়, বৃষ্টিতে; চলমান স্রোতে…

Advertisements

তুমি তার কবিতার মতো / সাইফ আলি

তুমি তার কবিতার মতো
কি নিখুঁত সুন্দরে গড়া!
কি নিখুঁত কালো দুটো চোখে
প্রকৃতিই টেনেছে কাজল!!

চিলের ডানার মতো উড়ন্ত চুলে
বাতাসেরা বিলি কাটে বসে,
পলিজমা শরীরের ভাঁজে
ঝরে পড়ে রোদ্রের ফোটা!

তুমি তার কবিতার মতো
ইন্দ্রিয়ে করেছো প্রবেশ
অনুমতি ছাড়া, তবু হায়!
রোখার সাধ্য আছে কার!?

দৃষ্টিভ্রম / সাইফ আলি

অমানবিক কোমল তসবির তোমার
ভেসে থাকে মেঘের মুলুকে
কালোকেশি ঝড় আসে, বৃষ্টি হয়
ঝরে পড়ে শফেদ বরফ…

আর,
সেই শীলাবৃষ্টিতে ভিজে
একাকার কাকের মতো আমি
অবাক বিষ্ময়ে বারবার
করি আবিষ্কার-

এলোকেশী মেঘদলে তোমার প্রতিকৃতি
ঝাপশা-ঘোলা-অস্পষ্ট
অথচ কি বাস্তব
কি নিপূণ সুক্ষতায় ধরা দেয়
আমার দু’চোখে –

নিজেকে বোঝাই-
এ তোমার দৃষ্টিভ্রম
এ তোমার ভ্রান্ত কল্পনা মাত্র

পরক্ষণেই জবাব আসে ভেসে-
তবে দৃষ্টিভ্রম নিত্য সঙ্গী হোক
কল্পনা বেঁচে থাক অনন্তকাল…

অঝর বৃষ্টি হবে / সাইফ আলি

চোখ তুলে তাকাতেই গোধুলির তুলো তুলো মেঘ
আকাশ গড়িয়ে নামে টলটলে বৃষ্টির ফোটা
সূর্য রঙিন এক রংধনু একে দেয় দূরে
অভিমানী তাকিয়েছো কার চোখে বলো
কি ভীষন নিষ্ঠুর; অতল আবেগ…

আমি তো কাঙাল নদী চর জাগা চোখে
তাকিয়েই থাকি-
অঝর বৃষ্টি হবে;
বাধভাঙা তোমার জোয়ার
আমাকে ভাসিয়ে নিতে কতক্ষণ বাকি?
অঝর বৃষ্টি হবে বুকের ভিতর
আমি হবো লাজহীন ভয়াল ইতর…

ঘাটের ছেলের আনাড়ি কবিতা / সাইফ আলি

প্রথমে স্মরণ করো ঘোলাজল নদীটার কথা
পাথরের ঘাট, কূল বসে কেউ পা ডুবিয়ে জলে
ভিষন বাচাল সকাল সন্ধ্যা শুধু কথা বলে-
তুমি কি এখনো আগের মতোই; প্রিয় নিরবতা?

কিশোরি তোমার কোমল পা দু’টি জলে দিতে ভয়
আজো কি তেমন? আজো কি সন্ধ্যা লাগতে লাগতে
ঘরে যেতে হয়? ঘুম থেকে রোজ জাগতে জাগতে
বারোটা বাজাতে, এখনো কি তাই; নয় নিশ্চয়?

যা হোক তোমার মনে পড়ে কিছু ঘাটের ছেলেকে?
বর্শি পেতে যে গালে হাত রেখে গাঢ় মনোযোগী-
যদিও সে সব ভান ছিলো তার, আসলে সে রোগী
প্রেম রোগে ভুগে বসে বসে শুধু ভাবতো তোমাকে।

মনে পড়ে তার? একসাথে কত কেটেছে সময়-
কাঁচা হাতে লেখাসেই চিরকুট- বেনামী পত্র
পত্র তো নয় স্বরচিত তার কয়েক ছত্র
আনাড়ি কবিতা? হেসেছিলে খুব পড়ে মনে হয়-

আজ সে তোমার সামনে দাড়িয়ে, মনে পড়ে তার?
প্রথমে স্মরণ করো সেই নদী ঘাটে বসে যার
কেটেছে তোমার কিছুটা সময়।

ধুমকেতু

আমার বুকের গভীরটাতে
কষ্টগুলো লুকিয়ে আছে যেই সীমানায়
সেখানটাতে সুখপাখিটা রাখতে গিয়ে
চমকে উঠি, পূর্ণ দুখে কানায় কানায়।

কবে তুমি হঠাৎ রাতে আসলে ছুটে
ধুমকেতু
আমার বাতাস তোমার ধোঁয়ায় পূর্ণ হলো;
চূর্ণ হলে আমার বুকে কোন হেতু?

এখন আমার রাতের আকাশ
পূর্ণ পোঁড়া বাড়ির মতো
বাঁদুরে আর চামচিকায়,
মাঝে মাঝে রাতের বেলা
লালপরী আর নীলপরী
স্বপ্নগুলো হারিয়েছে দূর সীমায়।

আমি কি আর আগের মত চাঁদ তারা
মেঘে ঢাকা আকাশটাতে খুঁজতে যাই
তুমি গেছো সঙ্গে গেছে সবকিছু
শূন্য আমার আকাশটাতে কিচ্ছু নাই।

তোমাকে তাই বলছি আমি- ধুমকেতু
বুকের পাঁজর ভাঙলে তুমি কোন হেতু।

আজো সেই শ্রাবণের দিন আসে

আজো সেই শ্রাবণের দিন আসে
রিমঝিম বৃষ্টিরা আসে না,
আজো সে আঁধার কালো রাত আসে
মধুর স্বপ্ন চোখে ভাসে না।

এখন চাঁদের আর প্রদ্বীপের
তফাৎটা খুব চোখে পড়ে না,
এখনো রাতের কালো ফিকে হয়
শুধু যেনো জোসনারা ঝরে না।

আজো সে বসন্তের দিন আসে
গাছে গাছে ফুল শুধু হাসে না,
যার আসা যাওয়া ছিল নিত্য
সেই জন আজ শুধু আসে না।

আজো সে নদীর জল বয়ে যায়
হৃদয়ে পুলক শুধু জাগে না,
কোকিলেরা কুহু গান গেয়ে যায়
সে গান আগের মত লাগে না।

সারাদিন দেখলাম তুমি

সারাদিন দেখলাম তুমি
সবুজ ঘাসের মতো
মেঘের পালক দেখে কাটালে সময়…
মেঘেরা বৃষ্টি নিয়ে এলো
বাতাসের ঘোড়া দাবড়িয়ে,
পাখির ছানার মতো বৃক্ষের আবডালে
নিলে আশ্রয়;
সারাদিন দেখলাম তুমি
দু’হাতে বৃষ্টি মেখে কাটালে সময়…

এদিকে একটা মেঘ
কি শীতল জল নিয়ে বুকে
তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গেল
নিদারুন বৃষ্টি অসুখে।

উষ্ণতা দাও

এ চোখ শীতল বড়ো; উষ্ণতা দাও
অতল গভীরে এসো চিবুক ঠেকাও
হরিণী ঋণের বোঝা বাড়িও না আর
এ লতায় ঠোঁট রাখো; চুম্বন দাও।

এ প্রান্তে এসো
এই বিরহী নদীর সমতলে
কি গভির কম্পন ছুয়ে দেখো
কি নিবিড় স্রোত তার বুকের অতলে।

আরো এসো পার হও নদী
ন্ধদয় লতার স্বাদ পেতে চাও যদি
চপল হরিণী তুমি রেখে দেখো পা
এ বুকে সবুজ ঘাস উষ্ণ গালিচা।