মুজিবনামা / সায়ীদ আবুবকর

চতুর্থ সর্গ

ব্যাপক প্রচার-প্রপাগাণ্ডা-প্রস্তুতির
পর এলো ৭ই মার্চ, মহাসংগ্রামের
রৌদ্রস্নাত দিন। রেসকোর্স ময়দান
যেন জনতার সমুদ্দুর। ‘জয় বাংলা!’
‘জয় বঙ্গবন্ধু!’ ধ্বনি ও প্রতিধ্বনিতে
কেঁপে কেঁপে উঠছে বারবার উদ্বেলিত
ঢাকার হৃৎপিন্ড। যেন মহাপ্রলয়ের
আশঙ্কায় কাঁপতেছে সারাদেশ। মাঝে
মাঝে উত্তপ্ত বাতাসে ছড়াচ্ছে উত্তাপ
বাঁধভাঙা অগ্নিশ্লোগান-‘বীর বাঙালী
অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।’
এ যেন বালির বাঁধ, বারবার পড়ছে
ধসে, শত চেষ্টাতেও যাচ্ছে না বাঁচানো
যাকে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতর
আক্রমণ থেকে। গর্জে উঠলো যেন
ঝড়োমেঘ বাংলার আকাশে অকস্মাৎ,
যেন ইস্রাফিলের প্রলয়শিঙা হাতে
রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ ক্রুদ্ধ
যুদ্ধোন্মুখ জনতার সম্মুখে গর্জন
করে উঠলেন এক বীর, বাঙালীর
দুচোখের মণি, বঙ্গের শ্রেষ্ঠ সন্তান,
পাহাড়ের মতো শির, বিক্ষুব্ধ মুজিব:

“ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত
মন নিয়ে,আপনাদের সামনে হাজির
হয়েছি। আপনারা সবই জানেন
এবং বোঝেন। আমরা আমাদের
জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি । কিন্তু
দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম,
খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার
ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত
হয়েছে । আজ বাংলার মানুষ মুক্তি
চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়,
বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। ”

পিনপতন নিস্তব্ধতা চারদিকে। দেখে
নিলেন এক নজর কানায় কানায়
পূর্ণ রেসকোর্স ময়দানের উত্তাল
জনতার সমুদ্র; সরোষে, অতঃপর,
ঊঠলেন তিনি হেঁকে, যেন তূর্যনাদ:

“কী অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনে
বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে
আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন ।
আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে,
আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি
করবো এবং এদেশকে আমরা গড়ে
তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের
সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের
করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের,
বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস।
তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু
নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস।
বাংলার ইতিহাস- এদেশের মানুষের
রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার
ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি।
১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও
আমরা গদিতে বসতে পারি নাই।
১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান
মার্শাল ল জারি করে দশ বছর
পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে
রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা
আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার
ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা
হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে
আইয়ুব খানের পতন হওয়ার
পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব
সরকার নিলেন, তিনি বললেন,
দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র
দেবেন; আমরা মেনে নিলাম। তারপরে
অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো, নির্বাচন
হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান
সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি,
শুধু বাংলা নয়, পাকিস্তানের
মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে
অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি
তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের
অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা
রাখলেন না। তিনি রাখলেন ভুট্টো
সাহেবের কথা। তিনি বললেন,
প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে সভা হবে।
আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা
এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম,
এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো।
এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম,
যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা
সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও
যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা
মেনে নেব। জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে
এসেছিলেন। আলোচনা করলেন। বলে
গেলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ না,
আরো আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য
নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে আলাপ করলাম:
আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ
করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো। তিনি
বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা
যদি এখানে আসে তাহলে কসাইখানা
হবে এসেম্বলি। তিনি বললেন,
যে যাবে তাকে মেরে ফেলা হবে;
যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে
পেশোয়াার থেকে করাচি পর্যন্ত
দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে।
আমি বললাম, এসেম্বলি চলবে।
তারপরে হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলি
বন্ধ করে দেওয়া হলো । ইয়াহিয়া
খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে
এসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম
যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব বললেন,
তিনি যাবেন না। পঁয়ত্রিশ জন সদস্য
পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে
আসলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে
দেওয়া হলো, দোষ দেওয়া হলো
বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো
আমাকে। বন্ধ করে দেয়ার পরে
এদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে
উঠলো। আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে
আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি
বললাম, আপনারা কলকারখানা
সব কিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ
সাড়া দিলো। আপন ইচ্ছায় জনগণ
রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো, তারা
শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার
জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।”

“জয় বাংলা!” “জয় বাংলা!” শ্লোগানে শ্লোগানে
প্রকম্পিত হলো চারদিক। তারপর
ফের আরণ্যক নিরবতা। যেন ক্ষুব্ধ
জনতা নিশ্চুপ, তৃষ্ণার্ত বাঘের মতো
ছপছপ করে, করে যাচ্ছে পান তপ্ত
অগ্নিবাণী। যেন কোনো সুপ্ত অগ্নিগিরি
ফেটে পড়বার জন্যে করছে উৎসুক
আর কান পেতে শুনতেছে মহানাদ
আকাশে বাতাসে। ঈগলের চোখ দিয়ে
সে-দৃশ্যের দিকে তাকালেন একবার;
তারপর ক্ষুব্ধ স্বরে বললেন বীর:

“কী পেলাম আমরা? আমরা আমাদের
পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর
আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার
জন্য। আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে
আমার দেশের গরীব-দুঃখী নিরস্ত্র
মানুষের বিরুদ্ধে; তার বুকের ওপরে
হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের
সংখ্যাগুরু; আমরা বাঙালীরা যখনই
ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই
তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
টেলিফোনে আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়।
তাঁকে আমি বলেছিলাম, জেনারেল
ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের
প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার
গরিবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের
বুকের ওপর গুলি করা হয়েছে।
কী করে আমার মায়ের কোল খালি
করা হয়েছে, কী করে মানুষকে
হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন,
দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন,
আমি নাকি স্বীকার করেছি যে, ১০
তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স
হবে। আমি তো অনেক আগেই বলে
দিয়েছি, কিসের রাউন্ড টেবিল,
কার সঙ্গে বসবো? যারা আমার
মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে, তাদের
সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে
পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে
বৈঠক করে যে-বক্তৃতা তিনি
করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি
আমার ওপরে দিয়েছেন, বাংলার
মানুষের ওপরে দিয়েছেন।

ভায়েরা আমার, ২৫ তারিখে
এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ
শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে
দিয়েছি, ওই শহীদের রক্তের ওপর
পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান
যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলি
কল করেছেন, আমার দাবি মানতে
হবে। প্রথম, সামরিক আইন, মার্শাল ল
উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক
বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত
নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে
তার তদন্ত করতে হবে। আর
জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা
হস্তান্তর করতে হবে। তারপর
বিবেচনা করে দেখবো, আমরা
এসেম্বলিতে বসতে পারবো কি
পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলিতে
বসতে আমরা পারি না। আমি
প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা
এদেশের মানুষের অধিকার চাই।
আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার
চাই, আজ থেকে এই বাংলাদেশে
কোর্ট-কাঁচারি, আদালত-ফৌজদারি,
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের
জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে
কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ
কষ্ট না করে সেইজন্য যে-সমস্ত
অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলোর
হরতাল কাল থেকে চলবে না ।
রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, রেল চলবে,
লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট,
সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট,
সেমি-গভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো,
ওয়াপদা কোনো কিছু চলবে না।
২৮ তারিখে কর্মচারীরা যেয়ে
বেতন নিয়ে আসবেন। এরপরে
যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর
যদি একটা গুলি চলে, আর যদি
আমার লোককে হত্যা করা হয়-
তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ
রইলো, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে
তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে
তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা
করতে হবে এবং জীবনের তরে
রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু-
আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি,
তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে
মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা
আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো,
কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু
আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার
চেষ্টা কোরো না। সাত কোটি মানুষকে
দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন
মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের
দাবাতে পারবে না। ”

“বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো! বাংলাদেশ
স্বাধীন করো!” পড়লো রোষানলে ফেটে
উন্মত্ত জনতা, যেন মান্দারের ফল।
টগবগ করে তার ফুটছে রুধির,
সেগুনের কাঠে জ্বাল দেয়া যেন কোনো
তেলের কড়াই। কোথায় শুনেছে কবে
অগ্নিঝরা এমন অমর বাণী, লোকে?
এ যেন বক্তৃতা নয়, অনল বর্ষণ,
ঝরছে যা অনর্গল বঞ্চিত-লাঞ্ছিত,
মুক্তির জন্যে মরিয়া, মারমুখো এক
জাতির উপর। তাদের প্রাণের নেতা,
যাঁর কথায় প্রস্তুত ঝাঁপ দিতে তারা
জ্বলন্ত অগ্নিতে, বললেন অতঃপর:

“আর যে-সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে,
আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী
লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের
সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা
পারেন, আমাদের রিলিফ কমিটিতে
সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছে দেবেন।
আর এই সাত দিন হরতালে যে-সমস্ত
শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে,
প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের
বেতন পৌঁছে দেবেন। সরকারি
কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি
তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার
এই দেশের মুক্তি না হবে, খাজনা ট্যাক্স
বন্ধ করে দেওয়া হলো-কেউ দেবে না।
শুনুন, মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী
ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ
সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই
বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালী,
নন-বাঙালী যারা আছে তারা আমাদের
ভাই। তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব
আপনাদের ওপর। আমাদের যেন
বদনাম না হয়। মনে রাখবেন,
রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা
যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে
তাহলে কোনো বাঙালী রেডিও-স্টেশনে
যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের
নিউজ না দেয়, কোন বাঙালী টেলিভিশনে
যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা
থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মাইনা-পত্র
নেবার পারে। পূর্ব-বাংলা থেকে পশ্চিম-
পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে
পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম
আমাদের এই পূর্ব-বাংলায় চলবে
এবং বিদেশের সাথে দেয়ানেয়া
চলবে না। কিন্তু যদি এদেশের
মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা
হয়, বাঙালীরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন।
প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম
পরিষদ গড়ে তোলো। এবং তোমাদের
যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।
রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো।
এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো
ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের
মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”

এ-কি মহামন্ত্র শোনালেন জাদুকর,
আচ্ছন্ন হঠাৎ জাতি যার ঘোরে; যার
ঝাঁকুনিতে জেগে উঠলো একটি অগ্নিগিরি
যেন অকস্মাৎ, মহাকাল-নিদ্রা থেকে।
আকাশে বাতাসে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত
হতে থাকলো বারবার-‘মুক্তির সংগ্রাম!’
‘স্বাধীনতার সংগ্রাম!’ লক্ষ জনতার
কণ্ঠ যেন আজ কামানের গোলা হয়ে
ফুটতে লাগলোÑ ‘জয় বাংলা! জয় বাংলা!’

এ যেন বক্তৃতা নয়, রক্ত টগবগ
করা সব উন্মাতাল তরুণ-যুবার
উদ্দেশে উদাত্ত আহ্বান, মৃত্যুর; যেন
হেমিলনের বংশীবাদক ফের, তাঁর
জাদুর বাঁশিতে তুলেছে স্বর্গীয় সুর,
যা শুনে রাস্তায় এসে জুটেছে সমস্ত
মুক্তিপাগল কিশোর-যুবা-বৃদ্ধ-নারী
ঘর ছেড়ে; এ যেন বক্তৃতা নয়, অন্ধ
পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠির
বিরুদ্ধে, ইস্রাফিলের শিঙার ফুৎকার,
যার গা কাঁটা দেওয়া প্রলয়-ধ্বনিতে
কাঁপতে লাগলো সারা পূর্ব-পাকিস্তান
তুমুল উত্তেজনায়, যেন ভূমিকম্পে
কেঁপে কেঁপে ওঠা কোনো পুরনো বিল্ডিং।

মুজিবনামা মহাকাব্যের ‘৭ই মার্চের মহাভাষণ পর্ব’; নাম ‘চতুর্থ সর্গ’।