আকারে ও ইঙ্গিতে / সাইফ আলি

আকারে ও ইঙ্গিতে বোঝালেন নেতা-
সততার কথা কয় পাগলে,
ওভাবে কি কোনোদিন যায় নাকি জেতা!
বাধা পড়া যাবে না সে আগলে।

মুহূর্তে গুঞ্জন শুরু হলো এই-
মুখে তিনি বলেছেন প্রমান পেলেই
ছেড়ে দেবো দল!
নেতা তুই একবার বাংলায় বল…

Advertisements

তেল / সাইফ আলি

পরোটায় তেল খায়
তেল খায় তেলিতেও
তেল ছাড়া চাও যদি
লুডু-মুডু খেলিতেও

জিতবানা জেনে রেখো
জিতবানা মনু গো,
তেল আছে ভাড়ে যার-
‘মুই কিবা হনু গো’
ভাবে সেই।
তেল ছাড়া এ জীবনে
গতি আছে? গতি নেই।

নসিহত / সাইফ আলি

কিছুদূর যেয়ে সোজা তারপর বাক নিও
আলগা পিরিত ছেড়ে কিছু রাখঢাক নিও
বেপোরোয়া চলনের অভ্যাস বদলিও
প্রয়োজনে মাঝে মাঝে নাম ‘নির্বোধ’ নিও

অকারণে দু’চারটা থাপ্পর খেলে খাবে
তাতে যদি প্রেস্টিজ যায় কিছু যাক যাবে
তবু তুমি প্রতিবাদ না না সেটা করবে না
মুঠো কোরে কলারটা না না তুমি ধরবে না

একটাই জীবনের মূল্য কি বুঝবে না?
যা দেখছো তাই দেখো ভিন্নটা খুঁজবে না
সভ্য এ পরিসরে ‘অসভ্য বেয়াদব’
তকমাটা ঝুলাবেনা বলছি খবরদার।

কবিতার ফিটনেস / সাইফ আলি

ফিটনেস দেখে নিস কবিতার
কলকাঠি জাগামতো আছে কিনা
দুটো চড় ঘুষি খেলে বাঁচে কিনা
ঠিকমতো খোঁজ নিস কবি তার কে বা
করতে পারবে কিনা জনতার সেবা।

হাত-পাও নাড়ে কিনা
মাথা আছে ঘাড়ে কিনা
টনটনে বুকে পিঠে
চর্বি জমেছে কিনা,
কোনোদিন কোনোখানে
পিরিতে মজেছে কিনা
দেখেশুনে নিস!
তার আগে বল বেটা, কবিতা চিনিস?

নব্যনেড়ে / সাইফ আলি

:এমন কিছু বলুন জনাব
খোরাক জোগায় ভাবার
আবার
অর্থ না হয় কোনো
কক্খোনো।
এমন কিছু বলুন যেটা বোঝার সাধ্য নেই
কারো
আরো
উল্টোসিধা যেই
কথাটা লাইনমাফিক নয়।
এমনতর কথা দিয়েই জয় কবিতার জয়!
কবিতাতো তাকেই বলে, পড়তে লাগে ভয়!!
এমন কিছু লেখুন জনাব পিলিজ…
ছন্দটন্দ ভুলুন ওসব পুরোন মেলা,
ওসব রেখে আধুনিকের ছাঁচে আসুন
এই জামানার ধাচে আসুন
পুরোনকে দেন রিলিজ!

:কবির মাথায় হাত-
তোমায় আমি ভালোবাসি-
খাচ্ছি এখন ভাত-
কণ্ঠে তোমার রূপোর থালে
উপচে পড়ে চাঁদ;
কাব্য দিয়ে ভরা ছিলো কচুমতির খাঁদ!!

:কিন্তু ভায়া ছন্দ এবং অন্তমিলের ভারে
কবিতাডা বুড়োয় গেছে দেখেন-
ওসব বাদে নতুন কোরে একটা দুটো লেখেন।

(কবি এখন অল্প কথার গল্প লেখে ওসব ছেড়ে,
লম্বা-কালো চুল ফেলিয়ে নাম নিয়েছেন নব্যনেড়ে)

এপাড়ার চামচিকা ওপাড়ার মাতবর / সাইফ আলি

এপাড়ার চামচিকা ওপাড়ার মাতবর
ঢাকা এসে আত্মিয়! বলে- মামা হাত ধর,
এই ঢাকা শহরের অলিগলি-রাস্তায়
তুবড়ি বাজিয়ে রাজ করে যাবো আস্থায়
ভাগেযোগে নেতা আছি আমরা যে সাত ঘর।

মাতবর বলে- বাহ, বুদ্ধি চমৎকার;
মহৎ এ প্রস্তাবে বলুন অমত কার?
সাতঘাড় এককাতে রাজি মতামত দেয়
শাহাবাগে জড়ো হয়ে এক স্বরে ঘোঁত দেয়।
ভেবাচেকা পাবলিক বলে, বাজিমাত কর !

এরপর ইতিহাস- জানজটে আটকা,
পান্তায় মিললো কি গোটা দুই জাটকা!?

উলঙ্গ স্বপ্নেরা / সাইফ আলি

উলঙ্গ স্বপ্নেরা পাল দিলো তুলে
কোন গাঁয়ে যাও মাঝি ভেড়ো কার কূলে
দাঁড়ের আঘাতে জল করে টলমল
পাপী হবি মাঝি তুই ছুঁলে সেই জল

ফকিরে আজম কয়- খালি ক্যান থালা
জনাব চটিয়া কন- চুপ কর শালা
এই শালা শালা নয় আরো শালা আছে
ফকির না বুঝে কয়- ওরে মোর জ্বালা!

মাঝির সে নায়ে উঠে ফকিরে আজম
কয়- মাঝি বুকে তোর নেই কিরে দম,
দাঁড় টান জোরে মাঝি, জোরে দাঁড় টান
ঐ কূলে যেতে দিল করে আনচান।

স্বপ্নের পাল ছিলো উলঙ্গ তাই
মাঝি আর ফকিরের কূল মেলে নাই-