ফড়িঙ / সাইফ আলি


খুলে খুলে পড়া রাতের কাব্য শোনো,
চোখে চোখ রেখে চাঁদ উঠে এলে ছাদে
প্রিয়া তুমি বসে নরম সুতোয় বোনো
তারা-ফুল যারা খসে পড়ে আহ্লাদে।


তারা ডোবা ডোবা চোখের দৃষ্টি ছুঁয়ে
উড়ে গেলো পাখি! আঁধারে মেললো পাখা!!
আজ ভেজা ঠোঁটে প্রেমের কাব্য রুয়ে
জোনাক জ্বললে মুশকিল ধরে রাখা
এই ধরফড় ফড়িঙ বুকের বামে;
যন্ত্রণা শুধু মিষ্টি সুখের নামে।

২৮.০২.২২

কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি / সাইফ আলি

১.
শুকনো ঠোঁটের চেয়ে দাহ্য কিছু নেই-
প্রিয়তমা তুমি বুঝি বৃষ্টির সন্ধানে আছো?
মেঘেরা আমার বুকে লুকিয়েছে বহুকাল আগে
আকাশের মতো এক শূন্যতা করেছি আবাদ
সেখানেই মেঘগুলো থাকে।

২.
সাগরের নীলছোঁয়া কি গভীর দৃষ্টি তোমার!
প্রিয়তমা আমি এক ডুবে যাওয়া জাহাজের পেটে
ঝড়ের কবলে পড়া নাবিকের প্রার্থনা জানি;
কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি।

২৬.০২.২২

শিশির / সাইফ আলি

কপালে ঘামের মতো জমে আছে রূপসী তোমার
ভোরের শিশির, তাতে রোদ হয়ে নেমে এলে প্রেম
চোখ বুজে কিছুক্ষণ মেলে দিও গোলাপি উঠোন।

দু’চোখে মেঘের যতো আনাগোনা তার চেয়ে ঢের
রিমঝিম বুকে আর মুখে থাক জোছনার ছাপ,
ঝিঁঝিঁদের মুখে মুখে তুমি আর তোমার আলাপ।

রূপসী তোমার প্রেমে বুদ হয়ে জমে যেই সর
সেটুকুই মুখে পুরে শান্তিতে বুজে আছি চোখ।

২৩.০২.২২

উঠে আয় আঙুল ছুঁয়ে / সাইফ আলি

যদি তোর মাটির চোখে ব্যথার মতো বৃষ্টি ঝরে
আর তুই কাঁপতে থাকিস একলা বসে তোর শহরে
গুটিয়ে পালক-পাখা, স্বপ্ন আঁকা ইচ্ছাগুলো;
ভেঙে ফেল জমাট ঘোলা অন্ধকারের কিচ্ছাগুলো।

কেনো তুই প্রদীপ জ্বেলে একলা আঁধার বইতে গেলি
ঢেলে সব প্রেম পেয়ালায়, কষ্ট একা সইতে গেলি?
আমি তোর একলা রাতের তারার মতো সঙ্গী হলে;
দুজনেই প্রতাপশালী যুদ্ধজয়ী জঙ্গি হলে?

উঠে আয় আঙুল ছুঁয়ে, একসাথে আজ শপথ করি-
তুই আমার দিন, আমি তোর রাত-প্রহরী।

২৩.০২.২২

জলে কার কমেছে দহন / সাইফ আলি

যে আগুনে ছাই হয়
সে আগুন পোড়ায় না মন,
তবু ক্যানো জল টানো
জলে কার কমেছে দহন?

চোখের আগুনে পুড়ে
ঠোঁটের আগুনে পুড়ে
পুড়ে পুড়ে প্রেমিকার তাপে,
পুরুষ ধারালো হয়
ক্রমাগত আলো হয়
শুদ্ধ, অজেয় ধাপে ধাপে।

আগুনে অরুচি যার
সে কেমন পুরুষ তা বুঝি না,
কেবলই কাতর চোখে
শুদ্ধ প্রেমের জল খুঁজি না।

২৩.০২.২২

মন / সাইফ আলি

ছোটো সেই পাখিটার ডাকনাম মন
চিন্তার মগডালে যখন তখন
জুড়ে দেয় সূত্রহীন এমন আলাপ
মনে হয় কিছুতেই খাচ্ছে না খাপ।

তবু তাতে সায় দিতে বেরোয় মিছিল
জীবনের অলিগলি রাজপথে রোজ;
আজ সে কোথায় গেছে, কার পিছে হায়
ইদানিং খুব বেশি হচ্ছে নিখোঁজ।

০৬.১২.২১

উড়ন্ত মেঘ / সাইফ আলি

আমিই তো সেই চাঁদের নেশায় উড়ন্ত মেঘ
জোছনা মেখে দাড়াইনে
অনন্তবার ফিরে আসার রেকর্ড আমার
খেয়ালে মন হারাইনে।

আমিই তো সে,
আয়না দেখার ভান করে যে তোমায় দেখে
গোলাপ কাটায় না জড়িয়ে
মনের সুখে কাব্য লেখে।
মন পেতে যেই পথ ধরে সব, সহজ ভেবে
সেই পথে পা বাড়াইনে।

১০.১১.২১

এতো ভালো কেনো বাসো / সাইফ আলি

এতো ভালো কেনো বাসো
মানুষের কাতারে রাখো না?
আদমের ছেলে আমি
তুমি প্রিয়া আদমেরই মেয়ে,
আমাদেরও পাপ হয়
লোভে পড়ে গন্দম খেয়ে।

যে পাপ করেছি আমি
ক্ষমা চেয়ে মুছবো সে পাপ,
আমাতে ভরসা করো
শুরু হোক ফের সংলাপ।

০৪.০৪.২১

প্রেম হয়েছে তোমার আমার / সাইফ আলি

চোখের ভাষা মুখের চেয়েও সরল হলে
বলতে পারো প্রেম হয়েছে তোমার আমার।

পরষ্পরে পরষ্পরের মাথা ব্যাথায় কাতর হলে
কিংবা কেবল সূত্র ধরে পৌঁছে গেলে খুব গভীরে
একটুও পথ ভুল না হলে
তখন তুমি বলতে পারো প্রেম হয়েছে তোমার আমার।

প্রেম হয়েছে পাখির সাথে পাখির ডানার
প্রেম হয়েছে পাপড়ি এবং ফুলের রেণুর
প্রেম হয়েছে নদীর এবং নরম পলির।

তোমার আমার প্রেম নিয়ে যে কাব্য হবে
এক চরণেই শেষ হবে তার সমস্ত ভাব
কিন্তু তাতে এক জীবনের গল্পগুলো
পাশাপাশি থাকবে যেমন পুঁথির মালা।
২৯.০৫.২০

চলো মৃত্যুবরণ করি / সাইফ আলি

: অপলক চেয়ে থাকা মানে মুগ্ধতা নয়; মৃত্যু।
প্রিয়তমা, যখন আমি তোমার দিকে তাকাই
আমারও মৃত্যু ঘটে; তুমি তা বোঝো না।
মুগ্ধতা খোঁজো তুমি, মৃত্যু খোঁজো না।

: হেয়ালি ছাড়ো তো, মৃত্যু এতো সহজ বিষয় না,
এভাবে যখন তখন মুখে আনবে না।

: কেনো তুমিও তো প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বলো-
‘হে আল্লাহ! আপনারই নামে মৃত্যু বরণ করি
আবার আপনারই নামে জীবন লাভ করি।’

: তোমার সাথে তর্কে পেরে উঠবো না সেটা আমি জানি।

: এটাও তো জানো, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর।’
আমার সঙ্গে বুঝি বহুদূর যেতে ইচ্ছে করে না ?

: আবারো? রাত হয়েছে, চলো মৃত্যুবরণ করি।

১৮.০৯.১৯