রোদনের উৎস / আল মাহমুদ

আমার জন্যে যাদের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না, ভাবত অকাজের কাজী লোকটা
আল্লা মালুম কোথায় হুমড়ি খেয়ে মরবে। কথা শোনে না, সাহায্যের
হাত বাড়ালেও ধরে না; একাকী শূন্যে হাতড়ে বেরিয়ে যায়। মনে হয়
যেনো বাতাসের পালক শক্ত করে ধরে আছে। অথচ দেখ, এই শহরে
কত খানাখন্দ! ম্যানহোলের ঢাকনাহীন পথের প্রতিটি বাঁকেমৃত্যু
হা করে আছে! কে তাকে ফেরাবে?

এই হাহাকার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, উদয়াস্ত আত্মীয়তা অতিক্রম করে আমি, সেই
লোকটা বাতাসের পালক টেনে ছিঁড়ে উড়ে যাচ্ছি। স্বপ্ন থেকে
স্বপ্নে। আশা থেকে অধিকতর আশায়। ভাষা থেকে ভাসমান প্রতীকের
গম্বুজে। আমি আনতে চলেছি ও মায়াবী ঢাকা শহর, তোমার জন্যে
স্বপ্ন,স্বস্তি, প্রেম এবং সুখনিদ্রা। আমাদের নিয়ে এত দুশ্চিন্তা কেন?
কেউ কি স্বপ্নাহারি কবির দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলে? সবাই তো ভাবে
কবির আবার ক্ষুৎ পিপাসা কী? আশ্রয় বা আস্তানা কী দরকার?

আমি তোমাদের কোনো প্রশ্নেরই জওয়াব দিতে অস্বস্তিবোধ করি না। তবু
আমার জন্যে কাঁদা অন্তত দুটি চোখ আমি পুঁতে রেখে এসেছি
পদ্মার এক চরে। সেই দুটি চোখ থেকে বেড়ে উঠেছে দুটি অদ্ভুত
উদ্ভিদ। তারা হাওয়ার দোলায় ফুটিয়েছে অশ্রুজল, কান্নার গুঞ্জন।
তা না হলে পৃথিবীতে বোধহয় রোদনধ্বনি লুপ্ত হয়ে যেতো।

আমি যদি স্বপ্নের বীজ থেকে কোনো অশত্থের ডাল-পালা
মেলে দিতে নাও পারি, আমার উমে যদি না ফোটাতে পারি হরিয়ালদের
লালখাদ্য, অশত্থের লাল ফল, তাহলে কান্নার বীজ থেকে কেনো
আমি কান্না ঝরিয়ে দেব না?

১৮ ডিসেম্বর, ২০০৪

Advertisements