সব থেমে গেলেও / আবুল হাসান

শব্দের তরঙ্গে সব কাব্য লেখা হয়ে গেলে
সব কাব্য অবসান হলে যদি অতিষ্ঠ আঙ্গুলে
বাজে তোমার কবিতা, প্রপাতের ধ্বনি যদি থেমে গিয়ে
শুধু থাকে তোমার চোখের তলে অতলান্ত জলের উচ্ছাস

আর রাত চাপা তারার আগুনে, পুড়ে গেলে নির্জতের ফিতে
ফিরে গেলে সব টিয়া বনের মর্মরে, আমার অস্তিতে জানি
কেউ যেন খুঁজে দেয় পথিক চুঁড়ার মত তোমার কবিতা!

যখন ফসিল ছেনে নিয়তির নিরক্ত কফিনে
রক্তস্রাবী সন্ধ্যারা ব্যাহত সে মিথুনের ঢালে
দুয়ারে, চৌকাঠে দ্যাখে অবিচ্ছিন্ন আদিম পিপাসা

যখস কার্নিশে ঝরে ঝুলে পড়া পূর্ণিমার ভাষা
তখন টুকরো ঘ্রাণে কেউ যেন আমার দু’হাতে
ছড়ায় তোমার সেই গ্রীবার উত্তাপ!

কিংবা সিঁড়ির কোণে নূয়ে পড়া পাথরের গায়
যদি ঝরে অতিরিক্ত মেঘের ঝঙ্কার
বিদ্যুতের রাগী চোখে দেখে নিয়ে রাতের দুয়ার
তোমাকে সঞ্চয় কোরে কেউ যেন রেখে দ্যায়
আমার এ স্নায়ুর ভাঁড়ারে!

শুনিনি টংকার, কিংবা দেখিনিতো রাস্তার শয্যায়
কোন মাতালের লোলুপতা অথবা নিষ্ঠায় বুঝিনিতো
প্রথম মৃত্যুর কান্না রাত জাগা কুকুরের মুখে।

যখন কাব্য সব থেমে যায় শব্দের উল্লোলে
নিহত রৌদ্রের শব মিশে যায় অলৌকিক দেহে
যখন সমুদ্র, নদী, নিস্তরঙ্গ স্বরের আঘাতে
ধুয়ে নেয় আজন্ম প্রোথিত পলি, বিলোল নেশায়
তখনও তোমাকে নিয়ে গড়ে ওঠে নতুন কবিতা!