গুম / সাইফ আলি

নগরবাড়ি ঘুমিয়ে আছে
গাঁও গেরামে শান্তি নেই,
গুম হয়েছে কার বাপে কার
পোলায় সে বিভ্রান্তিতেই
কাটছে সময় এখন সবার;
গুম হয়েছে রাতের ঘুম,
অথচ ঠিক নিয়মমাফিক
চলছে নাকি এ মৌসুম!!

গুম হয়ে যায় হঠাৎ স্বামী
বাচ্চা কোলে ঘুরছে বউ,
কোর্ট-কাচারি মোড়ল বলে-
সত্য এসব নয় আদৌ!!
সত্যটা কি জানতে গিয়ে
গুম হয়ে যায় সাংবাদিক,
র‌্যাবের কালো ছায়ার তলে
চলছে নাটক সাংঘাতিক!?

পুলিশ বলে কাস্টডিতে
থাকতে পারে, খাতায় নেই;
পয়সা ফেলো পেতেও পারো
শেষ দেখা, রাজকপাল সেই!
দুদিন বাদে আইন-সাবক
বললো হেসে চমৎকার-
‘গুম’ না ওটা ‘নিখোঁজ’ হবে
এই ইস্যুতে অমত কার!?

নালায়-ডোবায় খোঁজ করো ভাই
থানায় কেনো মুখ দেখাও?
দুদিন বাদে গুমের খাতায়
আপনি যেচে নাম লেখাও!

Advertisements

রঙচটা কথাগুলো / সাইফ আলি

আয় দুটো কথা কই, বয় এইখানে
রঙচটা কথাগুলো বলি কানে কানে
যানজটে বেধে থাক দুঃখ বা সুখ
নিভৃতে কিছু কথা সামনে আসুক।

এই ধর পাখিদের কোলাহল শেষে
হঠাৎ বর্গি এলো আমাদের দেশে,
কিংবা জঙ্গি হলে দুধ খাওয়া শিশু
খরচ কি হবে আর টয়লেট টিস্যু!
তার থেকে দৈনিকে মুছে ফেল সব
নিঃসন্দেহে এটা সেরা উদ্ভব।

মনে কর দেশটাকে পরোটার মতো
ছিড়ে ছিড়ে খাওয়া যায় ডাল মেখে মেখে,
কিংবা আইন করে ভিনদেশী কাওয়া
মুরগির মতো যায় ফ্রাই করে খাওয়া
তাহলে কি ব্যাংকের লুট করা মালে
তেল কিনে মারা যায় আল-বাল-ছালে?

আয় দুটো কথা কই, বয় এইখানে
যদিও এসব কথা সকলেই জানে।

পাগলটা / সাইফ আলি

দারুণ মজার খবর না!
ঐ পাশের ঐ কবর না
আমার তোমার মামার না
চাচার কিংবা খালুর না!!
আধেক রাতে পাগলটা যে
ঘুম ভাঙাতো, ছাগলটা যে
মরেছে বেশ ভালোই হলো
ঘুম হবে খুব জবর না!!?

পাগলটা না হঠাৎ রাতে
বলতো- ‘নিলো সব ডাকাতে,
মরবি এবার ডাল কি ভাতে
মিথ্যে কোনো খবর না,
ঘুমের ঠেলায় নাভির নিচে
খুব জমেছে চবর না!?’

কেমন পাগল বলুন মশাই
যেই কথাটা সবাই জানে
জোর কোরে তা ফেরছে কানে
পুশইন করার দরকার কি,
নিজের খেয়ে তেল দেয়া ঠিক
অন্যকারো চরকার কি?

ওসব নিয়ে ভাবতে নেই / সাইফ আলি

‘ওসব নিয়ে ভাবতে নেই
নোংড়া জলে নাবতে নেই
বস্তিপাড়ায় যাসনে খোকা
ওসব নিয়ে ভাবতে নেই।

বস্তিতে সব চোর থাকে
পাগল মাতাল খোর থাকে
ছোটোলোকের ঝুপড়ি ঘরে
নানান পদের ঘোর থাকে।’

বড়লোকের ননির পুতুল
চোরের ঘরে যায় না আর,
দুঃখ শুধু বড়চোরের
বিলাসঘরেই জন্ম তার।

সাহস থাকে মুখ খোলেক / সাইফ আলি

সাহস থাকে মুখ খোলেক
ভয় করে তো হাত তোলেক
স্যারেন্ডারের ভঙ্গিতে
সামান্যতেই রূপ নেওয়া খুব
সহজ এখন জঙ্গিতে।

কালির দোয়াত বোম হয়ে যায়
মুখের দাড়িই জম হয়ে যায়
কম হয়ে যায় জেলের মেয়াদ
নগদ কিছু উপরিতে
ভাগ্য যদি খারাপ থাকে
বুলেট চুমায় খুপড়িতে।

আর যদি তুই আল্লা ডাকিস
পাল্লা দিয়ে বাড়বে নাম,
ছাওয়ালডা তো ভালোই ছিলো
হঠাৎ কিসে ভুললো বাম!?
এখন নাকি মসজিদে যায়
নাম উঠালো জঙ্গিতে,
সর্বনাশা কাম করেছে
হুজুর মতো সঙ্গিতে।!
এখন ছাওয়াল টুপির নিচে
বিড়বিড়িয়ে কি সব কয়,
হয়তো ওসব লাদেননামা
মুসলমানের কালাম নয়!!

কিন্তু যদি মদ্যপানে
মাস্তি-গানে মন লাগাস,
পয়সা পাবি, নাম কামাবি
এক জীবনের আর কি চাস।
হিসেব করে চলবি সোনা
হিসেব করে বলবি তুই,
কলকি সাজাই লালন বাজাই
জ্ঞানচোরাদের চরণ ছুঁই।

দোহাই জনাব ওসব ছাড়েন / সাইফ আলি

জনাব, আপনি কলম ছাড়েন
ধরতে পারেন অন্য কিছু
যেহেতু আজ কাঁঠাল দেখে
আস্তে করে লেখেন লিচু।

পিঠ বাঁচিয়ে লেখেন ছড়া
মুখোরোচক ডালের বড়া
ডাণ্ডা দেখে আণ্ডা পাড়েন
ঠাণ্ডা হাতে কলম নাড়েন
দোহাই জনাব ওসব ছাড়েন।

উপুড় করে তেলের শিশি
সকাল বিকাল ফরমায়েশি
আলাপ পাড়া বন্ধ করেন;
সাহিত্যকে নগ্ন করে
কচলে কেনো গন্ধ করেন?

জনাব, যদি সত্যি করে
বলতে পারেন তালকে তাল-ই,
হতে পারেন মন্দ লোকের
ঘুম কাড়া এক চোখের বালি
তবেই লেখেন,
তা না হলে কলম ছেড়ে
ভিন্ন কোনো রাস্তা দেখেন।

তুই ইতর / সাইফ আলি

অন্তরালের শেয়াল তুমি
প্রেস ব্রিফিঙে হাক লাগাও,
মধুর মধুর বোল-বচনে
আম জনতার তাক লাগাও।

হুক্কা হুআ ইসতেহারে
জোরছে তালি হুররে হু,
অন্ধকারে হালাল সবই
পয়সা-পাতি ব্যঙের থু!

কবজিঅলা সবজি বেচে
মগজঅলার ময়লা মুখ
বগল বাজায় কলকি গাজায়
বাসর সাজায়, আহ! কি সুখ-

চোখের কোণে কামের কেতর
নামের কেতর জমছে তোর,
এই মিছিলের শ্লোগান হবে-
বুদ্ধিচোরা, তুই ইতর।