খেল / সাইফ আলি

:হিং টিং ছট
দাঁত কটমট
এইবার এইবার কান্ডটা ঘট-

(ঘটে গেলো কান্ড
ফকিরের ভান্ড
খালি করে হলো এক
ইয়া বড় ফান্ড!)

ফান্ডের কাজ কি?
ভেবে ভেবে ফেলছেন কপালের ভাঁজ কি?
ভাঁজ ফেলে লাভ নেই
কাজের অভাব নেই
লুটেপুটে খাবে রাজা
এমন স্বভাব নেই!!

:বেশ তাই হোক না,
রাজা কিছু কোক না-

:ফকিরের ফান্ড নিয়ে কথা বলে রাজা!
ঐ মিয়া খান কি? ভাঙ নাকি গাঁজা??

:বাহ বাহ বেশ তো
খেল শুরু না হতেই হয়ে গেলো শেষ তো!
সত্যিই কাটছে না দু’চোখের রেশ তো।

 

Advertisements

সময়ের ছড়া-০৩ / সাইফ আলি

ফালতু কথা বাদ দেন
পারলে কামে হাত দেন,
উন্নয়নের গপ্প ছেড়ে
পারলে দু’মুঠ ভাত দেন।

বাজার দরে জল দেন
গাছ না কেটে ফল দেন,
কিন্তু এ কি পোলার হাতে
মানুষ মারার কল দেন!?

কথায় কথায় আশ দেন
ছাগল ভেবে ঘাস দেন,
এ সব নিয়ে বললে কিছু
বাঁশ তো বারমাস দেন।

এবার একটু ক্ষ্যান্ত দেন
অনেক মধুর জ্ঞান তো দেন,
কিন্তু তাতে চলবে ক’দিন
ভাত না পারেন ফ্যান তো দেন।

রাস্তা বাঁকা / সাইফ আলি

শহর-ধুলো-মেঘের তুলো
দশতালা সুখ এবং অসুখ
এবং কিছু রুটির প্যাকেট
কলার খোসা, চায়ের পাতি
বৃষ্টি এবং হলুদ ছাতি,
গাড়ির চাকা-অচল টাকা
সব মিলিয়ে রাস্তা বাঁকা;
রাস্তা বাঁকা, রাস্তা বাঁকা…

দেয়াল দেয়াল এবং শেয়াল
এবং কিছু স্বপ্নদোষের
জীবনকোষের মৃত্যুস্মৃতি,
স্বজনপ্রিতি এবং বেকার
রাখবে খবর বলুন কে কার;
কার হুকুমের মিঠাই(!) নিয়ে
রাত্রি-ঘুমের ঘটছে ইতি
এবং নীতি নিষ্ঠা ছাড়াই
ঘটছে দারুণ পদোন্নতি?
বলতে পারেন কালের গতি
কিন্তু তাতে যায় সমাধান আঁকা?
সব মিলিয়ে রাস্তা বাঁকা;
রাস্তা বাঁকা, রাস্তা বাঁকা…

সময়ের ছড়া-০২ / সাইফ আলি

রমজানে চাদাবাজি করবে না পুলিশে
আহা কিযে মধুময় শোনা গেলো বুলি সে
এই বুঝি কথা ছিলো এটাই দায়িত্ব
জনতার সাথে এই মশকরা নিত্য;
অথচ তেনারা নাকি জনতারই ভৃত্য!

পঞ্চাশ টাকা কেজি মোটা চাল বাজারে
দুটো গরু রেখে আয় চাটাদের মাজারে
করুণার জল যদি তবু কিছু মিলতো!
মিলবে না জেনে বুঝে বলি- খুশ দিল তো;
কান নিয়ে চলে গেছে বেটা পাজি চিল তো!

চিলে কান নিয়ে গেলে তেনাদের দোষ কি
কান ছাড়া বোঝা যায় জনতার রোষ কি?
আগে সেই কান খোঁজো, খোঁজো চটজলদি।
এইদিকে মিডিয়ার চলে শুভ হলদি;
মাতাল চেচিয়ে বলে- লুঙ্গিটা তোল দি!

বিপ্লবী ডাকে তার ছাতি ফাটা গরমে
জনতা লাফিয়ে ওঠে- কাম নাই শরমে,
কাছা মেরে নামো সব বিপ্লবী ভাইরা
চলো গিয়ে ধরে আনি শান্তির পায়রা।
সেই ডাকে ছুটি সব কান-চিল ছাইড়া!

লাখ টাকার ফ্যান / সাইফ আলি

এই গরমে
লাজ শরমে
কাম কি?
কম দামে ফ্যান
কিনলে শুকোই ঘাম কি?

লাখ টাকাতে ফ্যান কিনবো
প্রশ্ন করো ক্যান কিনবো!?
বলদ নাকি?
লাখ টাকাতে মিলবে বাতাস ঠান্ডা
ঠান্ডা হয়ে ভাজবো ঘোড়ার আন্ডা
গলদ নাকি?

আটশো কোটি
ও লটপটি
আস্ত গরুর রান না,
এতটুকুতেই ঘাম ছুটে যায়!
দেখাও ব্যাঙের কান্না!!

তোমরা বাপু কিপ্টে বড়
কলজেটারে উদার করো
এই গরমে বাঁচন যায়;
লক্ষ টাকার ফ্যান না হলে
ঠান্ডা মাথায় নাচন যায়!?

সিলিং ফ্যানের দাম এক লাখ টাকা!

ছাফ কথা / সাইফ আলি

যা হোক তা হোক
কিছুই না হোক
হোক না কিছু ছাফ কথা;
বলবে লোকে, ‘রাফ কথা’
তাই বলুক;
তবুও কিছু ছাফ কথা ভাই চলুক।

আম গাছে কি ধরবে কাঠাল
তেতুল গাছে জাম,
সুদ কষে কি ছাওয়াল তুমার
কাল হবে ইমাম!?

চায়ের কাপে ভিজলে ব্যলোট
দেশ হবে না উলোট-পালোট!?

চোখ বুজে কেউ ভোর দেখেছে,
ভর দুপুরে চাঁদ;
লাঙল-জোয়াল-বলদ ছাড়াই
চলবে কি আবাদ!?

কিস্তি এবং খিস্তিতে
দারিদ্রতার শাপ মোচন,
হাজার টাকায় ধর্ষকের
গ্যারন্টিতে পাপ মোচন!?

তাইলে তো ঠিক দেশের চাকা
চরমভাবে ঘুরতাছে,
হাজার কোটি টাকার হিসেব
হাওয়ায় হাওয়ায় উড়তাছে!

শেয়ার বাজার ফেয়ারভাবেই
লুট হয়েছে, ভুল কোথায়?
পাতায় পাতায় হাতড়ে খোঁজো
মূল কোথায়!?

খুঁজতে থাকো মিল জায়েগা
মিল জায়েগা খাপপে খাপ,
ছাওয়াল ভি এক মওকা ঢুনে
হো জায়েগা বাপকো বাপ!!

সেদিন তুমার টনক নড়ে লাভটা কি,
ছাফ কথা আজ বলেই ফেলো- খা’বটা কি?

গুম / সাইফ আলি

নগরবাড়ি ঘুমিয়ে আছে
গাঁও গেরামে শান্তি নেই,
গুম হয়েছে কার বাপে কার
পোলায় সে বিভ্রান্তিতেই
কাটছে সময় এখন সবার;
গুম হয়েছে রাতের ঘুম,
অথচ ঠিক নিয়মমাফিক
চলছে নাকি এ মৌসুম!!

গুম হয়ে যায় হঠাৎ স্বামী
বাচ্চা কোলে ঘুরছে বউ,
কোর্ট-কাচারি মোড়ল বলে-
সত্য এসব নয় আদৌ!!
সত্যটা কি জানতে গিয়ে
গুম হয়ে যায় সাংবাদিক,
র‌্যাবের কালো ছায়ার তলে
চলছে নাটক সাংঘাতিক!?

পুলিশ বলে কাস্টডিতে
থাকতে পারে, খাতায় নেই;
পয়সা ফেলো পেতেও পারো
শেষ দেখা, রাজকপাল সেই!
দুদিন বাদে আইন-সাবক
বললো হেসে চমৎকার-
‘গুম’ না ওটা ‘নিখোঁজ’ হবে
এই ইস্যুতে অমত কার!?

নালায়-ডোবায় খোঁজ করো ভাই
থানায় কেনো মুখ দেখাও?
দুদিন বাদে গুমের খাতায়
আপনি যেচে নাম লেখাও!

রঙচটা কথাগুলো / সাইফ আলি

আয় দুটো কথা কই, বয় এইখানে
রঙচটা কথাগুলো বলি কানে কানে
যানজটে বেধে থাক দুঃখ বা সুখ
নিভৃতে কিছু কথা সামনে আসুক।

এই ধর পাখিদের কোলাহল শেষে
হঠাৎ বর্গি এলো আমাদের দেশে,
কিংবা জঙ্গি হলে দুধ খাওয়া শিশু
খরচ কি হবে আর টয়লেট টিস্যু!
তার থেকে দৈনিকে মুছে ফেল সব
নিঃসন্দেহে এটা সেরা উদ্ভব।

মনে কর দেশটাকে পরোটার মতো
ছিড়ে ছিড়ে খাওয়া যায় ডাল মেখে মেখে,
কিংবা আইন করে ভিনদেশী কাওয়া
মুরগির মতো যায় ফ্রাই করে খাওয়া
তাহলে কি ব্যাংকের লুট করা মালে
তেল কিনে মারা যায় আল-বাল-ছালে?

আয় দুটো কথা কই, বয় এইখানে
যদিও এসব কথা সকলেই জানে।

পাগলটা / সাইফ আলি

দারুণ মজার খবর না!
ঐ পাশের ঐ কবর না
আমার তোমার মামার না
চাচার কিংবা খালুর না!!
আধেক রাতে পাগলটা যে
ঘুম ভাঙাতো, ছাগলটা যে
মরেছে বেশ ভালোই হলো
ঘুম হবে খুব জবর না!!?

পাগলটা না হঠাৎ রাতে
বলতো- ‘নিলো সব ডাকাতে,
মরবি এবার ডাল কি ভাতে
মিথ্যে কোনো খবর না,
ঘুমের ঠেলায় নাভির নিচে
খুব জমেছে চবর না!?’

কেমন পাগল বলুন মশাই
যেই কথাটা সবাই জানে
জোর কোরে তা ফেরছে কানে
পুশইন করার দরকার কি,
নিজের খেয়ে তেল দেয়া ঠিক
অন্যকারো চরকার কি?