যেভাবেই তুমি চাওনা মাধবী / সাইফ আলি

যেভাবেই তুমি চাওনা মাধবী
যতটাই তুমি চাও
আমার আছে যা তার থেকে বেশি
পারবোনা দিতে সত্যি।

কথা দিতে আমি পারবোনা কাল
এ পথেই ফিরে আসবো,
পার্কের এই বেঞ্চিতে বসে বাদাম চিবাবো দুইজন,
কথা দিতে আমি পারবোনা কাল সত্যিই ভালোবাসবো।

যেভাবেই তুমি চাওনা মাধবী, যতটাই তুমি চাও
আমার আছে যা তার থেকে বেশি বাতুলতা ছাড়া আর কি-
পারবোনা আমি আগামীকালের সূর্যকে আজ পোঁড়াতে,
পারবোনা এই দু’হাত ঝাপটে শূন্যে নিজেকে ওড়াতে।

অতি সাধারণ ছেলে আমি এক
ব্যংকে অঢেল টাকা নেই,
জীবন গাড়িটা আপোষে চলবে
এমন জাদুর চাকা নেই
তাই, সকাল সন্ধ্যা জীবন যুদ্ধে হতে চাও যদি অংশী
বাজাতেই পারি হাত হাত রেখে দুজনে প্রেমের বংশী।

সরাও সরাও ছায়া / সাইফ আলি

কে তুমি অতলে নোঙর ছোঁয়ালে
কে তুমি ভীড়ালে যুদ্ধ জাহাজ দানব
দানবীয় প্রেমে কে তুমি জড়ালে
সরাও সরাও ছায়া…

এ প্রেম যুদ্ধ যুদ্ধ চেয়েছে
চেয়েছে রক্তজবা
চেয়েছে যুগের হৃৎপিন্ডটা নিষ্ঠুর করতলে!
এ প্রেম কষ্ট কষ্ট চেয়েছে আরো বেশি আরো বেশি-
এ প্রেম যুদ্ধ যুদ্ধ চেয়েছে নিষিদ্ধ রোষানলে।

কে তুমি অতলে নোঙর ছোঁয়ালে বোমারু বিমান কাঁধে
উৎসব করে শহরে নগরে ফাটালে প্রেমের বোমা
গোলাপের লাল পাপড়ির মতো বিছিয়ে লাশের সারি
বললে এবার তোমার আমার বাসর সাজাতে পারি!

হায় অসভ্য প্রেমীক তোমার প্রেমের কাঙাল কারা?
জাতিসংঘের ব্যানারে ব্যানারে কারা খেলে এই খেলা?
এ আকাশ-মাটি জ্বলুক আগুনে চাইনে শান্তি আর
নিয়ে যাও এই প্রেমের জাহাজ
বিষাক্ত উপহার।

বরফ গলে যেতেও পারে / সাইফ আলি

তাকাও যদি বরফ গলে যেতেও পারে,
ফোটায় ফোটায় জমতে পারে শিশির হয়ে
ঘাসের বুকে এবং কিছু সবুজ পাতায়;
তাকাও যদি চাঁদের মতো মেঘ সরিয়ে
জোছনাতে ফের ছন্দ ফিরে পেতেও পারে।

মনের মাঠে খুব গোপনে কি দাও রুয়ে
এমন কেনো বাড়তে থাকে লাগামছাড়া
দেখতে কিছুই পাইনে চোখে কিন্তু কেমন
ঝর্ণাশীতল উপচে পড়ে পাহাড় চুয়ে।

তোমার চোখে চোখ পুতে যে বলবো কথা
শব্দেরা সব গা ঢাকা দেয় পাইনে খুঁজে,
তাকাও যদি ওমন করে উষ্ণ চোখে
সত্যি বলছি বরফ গলে যেতেও পারে,
ফোটায় ফোটায় ভাঙতে পারে বিষণ্নতা।

কিন্তু কেমন গোপন কোরে / সাইফ আলি

তোমরা তাকে শিখিয়ে দিলে দেয়াল বেয়ে পালিয়ে যাওয়া
এবং হাসি হাসি মুখে জীবন গাড়ি চালিয়ে যাওয়া
কিন্তু কেমন গোপন কোরে হাত লুকালে ভালোবাসার
তাই কোনোদিন সে বেচারা পথ পেলো না কাছে আসার।

ব্যারাম / সাইফ আলি

কিছুই দেখিনা আমি
সবকিছু দেখে ফেলে লোকে!
আমার যে চোখ আছে
ভুলে যাই দেখে দেখে তাদের সে চোখে।

কিছুই বুঝিনা আমি
সবকিছু বুঝে ফেলে লোকে!
আমার যে বোধ আছে
ভুলে যাই তাদের সে বোধের আলোকে।

আমার কি দরকার
বুঝে ফেলে সরকার!
আমি বলি- নারে না, এটা নয় ওটা।
উনারা বলেন- বাবা দিলাম তো গোটা!

মোটা মোটা চোখে আমি বিস্ময়ে ভাবি-
গোটা গোটা অক্ষরে লেখেছি এ দাবি!!?

স্বাধীনতা / সাইফ আলি

এবার কিছুটা স্বাধীনতা হোক বোঝাপড়া আসো তোমার আমার
এবার কিছুটা ঝরে যেতে দাও দায়বদ্ধতা আঙুল ধরার
পাখি ও পাখির পালক-পাখার ছুটোছুটি থাক আকাশের বুকে
নীড়ে ফিরে যেতে বাধ্য করার কে তুমি মানুষ আমাকে বোঝাও

আমাকে বোঝাও রঙধনু থেকে দৃষ্টি কেড়ে যে দেখালে দালান
তার ভেতরে কি এসির বাতাসে খুঁজে পেয়েছিলে সাগরের ঘ্রাণ
যদি নাই পাও ঘুড়ি স্বাধীনতা শেখাতে এসো না যুত খুলে দাও
তোমার হাতের নাটায়ে বেধো না আমার চলার অলিগলি পথ

এবার কিছুটা সাগর বিলাসী খালি পায়ে থাক ঢেউ স্বধীনতা
জোনাক বিলাসী চোখের পাতায় রেখো না তোমার দানবীয় হাত
এবার কিছুটা স্বাধীনতা হোক বোঝাপড়া আসো তোমার আমার
এবার কিছুটা ঝরে যেতে দাও দায়বদ্ধতা আঙুল ধরার।

বহুতল ভবনের ছাদে / সাইফ আলি

তুমি কোন সাগরের তীরে
খালি পায়ে হাঁটছো এখন,
আমি আছি শহরের
বহুতল ভবনের ছাদে-
এখানে যে চাঁদ উঠে
বিষণ্ণ করে দিলো রাতের আঁধার
সেই চাঁদ ঢেউয়ে ঢেউয়ে
বসালো কি জোনাকি-আসর!?

তোমার পাদুকা জোড়া
বেওয়ারিশ নৌকা সেজেছে
শুভ হোক দু’জনার চাঁদরাতে সাগর সফর
তুমি আর খুঁজতে যেওনা।

এখানে মধ্যরাত পার হয়ে গেছে
রাস্তার মাঝখানে সারি সারি দেবদারু তবু
টহল পুলিশ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেপরোয়া!

তুমি কি এখন কোনো পাঁচতারা হোটেলের এসিরুমে শুয়ে?
সাগরের তীর জুড়ে জমে গেছে শফেদ প্রবাল?
অথচ এখানে আমি বহুতল ভবনের ছাদে
ভাবছি কি আকশ পাতাল!

কেউ কেউ থাকবে এমন / সাইফ আলি

কেউ কেউ থাকবে এমন
নিশ্বাস ফেলে যাবে ঘাড়ের উপর
মৃত্যুর মতো এক ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে
অথচ কখন সে যে ঝড় বয়ে যাবে
জানবে না গাছের পাতারা!

কেউ কেউ থাকবে এমন
চিবুকের তিল হয়ে একান্ত রাতে
হিংসায় চাঁদ যাবে পুড়ে
দৃষ্টির মাকড়সা জালে তবু সেই
কুচকুচে কালো তিল ছটফট করবে ভীষণ!

কেউ কেউ থাকবে এমন
ধরা যায় ছোঁয়া যায়
খিলিপানে সুগন্ধি জর্দার মতো
অনুভব করা যায় বেশ
অথচ চোখের সাথে চোখ রেখে বলা যায়
এমন কবিতা থাকবে না-

কেউ কেউ থাকবে এমন
মৃত্যুর মতো এক একান্ত সহচর হয়ে
জানবে না গাছের পাতারা কোনোদিন
প্রচন্ড ঝড় যাবে বয়ে !

ঘুসখোর / সাইফ আলি

তোর ঘুষের চর্বি নিলামে উঠলে
বিনে পয়সায়ও কিনতাম না,
ঘুষখোর বিনে কোনো পরিচয়ে
কোনোদিন তোকে চিনতাম না।

অফিসার তুই লজ্জা চিনিস?
চোর নস বেটা জোচ্চর-
উল্টাপাল্টা ভূগোল পড়ায়ে
পরিচিতি মিঠে ঘুসখোর।

বৃষ্টি ঝরার শব্দটা ঠিক কেমন ছিলো / সাইফ আলি

বৃষ্টি ঝরার শব্দটা ঠিক কেমন ছিলো
শীতল ছিলো, ঠান্ডা ছিলো; যেমন ছিলো
তোমার সাথে কাটিয়ে দেওয়া অল্প সময়-

হাত ছুঁয়ো না নাজুক এ হাত পাতার মতো
শক্ত করে ধরতে পারো- বললে যখন,
তখন আমার অবশ শরীর গাছের মতো
নড়ছিলো না বাতাস ছাড়া একটুখানিও।

বৃষ্টি ঝরার শব্দটা ঠিক কেমন ছিলো!
প্রশ্নটা কি প্রশ্ন ছিলো,
নাকি তোমার জবাব ছিলো খটকা লাগে;
কয়েকফোটা বৃষ্টি ছিলো একটা করে পাতার ভাগে।