শামুকে সংসার / সাইফ আলি

কোনো মৃত্যুই এখন আর আমাদের বিচলিত করে না
খেলার মাঠে জমে ওঠা বর্ষার জলে যেমন জমে ওঠে
শামুকে সংসার তারপর জল নেমে যেতেই
মৃত শামুকের খোলগুলো পড়ে থাকে এখানে সেখানে
ঠিক তেমনই আমাদের খোসাগুলো পড়ে থাকে ধানখেতে
খালে বিলে শহরের ড্রেনে!
আমরা এখন এক ধ্যানের মধ্যে আছি
এখন যদি পৃথিবী ধ্বংশ হয়ে যায় আমাদের কি হবে!?
সর্বচ্চ মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কঠিন বিপদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।
আমাদের বাজারগুলো খুলে যাক, দিতে হবে!
কারণ আমরা জানি, আমাদের মোড়লেরা খুব জোর
এক সপ্তাহ তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে পারবে;
আসলে তারা কখনোই অন্তর্বাসে অভ্যস্ত ছিলো না!

০৬.০৫.২০

একটুখানি পড়বো বলে / সাইফ আলি

একটা মানুষ কাঁদছে একা কেউ দেখেনি
একটা পাখির ভাঙা বাসার মূল্য কতো কেউ বোঝেনি
একটা ফুলের খুব নিরবে চুপশে যাওয়া।

হয়তো কোথাও একটা ভাঙা পাতিল হঠাৎ
তৃষ্ণা মেটায় এমন কারো কেউ চেনে না
কেউ শোনেনা তার আকুতি, পথের ফকির
কিংবা রাজা রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও।

হয়তো এমন নষ্ট চোখের খবর শুনে
অবাক হয়ে বলবে তুমি- কেমন করে
দেখলো এমন আকাশটাকে!!?

বাস্তবে যা দেখছো তুমি তার আড়ালে
এমন হাজার গল্প থাকে কেউ জানে না,
আমি কেবল সেই জানালায় দৃষ্টি রেখে
একটুখানি পড়বো বলে পণ করেছি।

০১.০৫.২০

খুব কাছাকাছি বেঁচে আছি তবু / সাইফ আলি

কেউ জমা করে কাড়ি কাড়ি টাকা
কেউ জমা করে স্মৃতি,
আমাদের কাছে জমা হয়ে আছে
ক্ষুধা ভয়। সম্প্রীতি?

সে কেবল শুধু মুখে মুখে বাজে
বাস্তবে বহুদূর,
কথা ছিলো একসাথে লেখা গানে
একই সাথে দেবো সুর!

কথার কথা! সে ভুলেছে সবাই
মেপেছে আপন রাস্তা,
মানুষে মানুষ মিলতে পারেনি
টাকায় রেখেছে আস্থা।

তারপর থেকে দালানবাড়ির
ফটকের তালা টেকসই,
খুব কাছাকাছি বেঁচে আছি তবু
কেউ কারো সাথে এক নই।

০১.০৫.২০

এই শহরে বৃষ্টি নামার আগে / সাইফ আলি

এই শহরে বৃষ্টি নামার আগে
প্রখর রোদে খাক হয়ে যায় মাটি
শহরবাসির সহজ কবিতারা
বারুদ-গোলায় ফুসতে থাকা ঘাটি!
এই শহরে বৃষ্টি নামার আগে
মৃতের প্রেমে বুদ হয়ে যায় হাওয়া।

ভোরের বেলা তীব্র মোরগ বাগে
কেবল কিছু গাছগাছালিই জাগে
শহর তখন মৃত সাপের দেহ
ঠান্ডা এবং বিষণ্ন স্যাতসেতে।

এই শহরে সূর্য করে দেরি
বাতাস কেবল দুঃখ ফেরি করে
শহরবাসি জাগবে বলে ঘুমোয়
ঘুমের ঘোরে শহস্রবার মরে।

হঠাৎ শুনি একটা নতুন শোর-
খুব সকালে বৃষ্টি মেখে কারা
দিচ্ছে পুতে সব দালানের পিঠে
একটা করে জাগরণের চারা।

২৭.০৪.২০

মানুষ সেধেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান / সাইফ আলি

মানুষ সেধেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান
কোনো বিজ্ঞান সাধেনি মন,
সাধিত সে জ্ঞান সহজ করেছে
কঠিনতর এ নর-জীবন।

কবে কোন কালে প্রমান করেছে
বিজ্ঞান বলো স্রষ্টা নাই?
স্রষ্টার দেয়া বিধান ধর্ম
বর্ম পরেই মেলে রেহায়।

যদি এ যাত্রা বেঁচে যাও প্রিয়
যদি এ যাত্রা মুক্তি পাও,
ধর্মের কাছে পথ চেয়ে নিও
বিজ্ঞান দিয়ে জুতা সেলাও।

২৩.০৪.২০

এক শহরেই থাকতো দু’জন / সাইফ আলি

এক শহরেই থাকতো দু’জন দু’দিক তাদের মুখ
এক বাজারেই দুঃখ কিনে এক বাজারেই সুখ,
দুই দালানের দুই জানালা কিন্তু মুখোমুখি
খুলতো না কেউ খুললে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ার ঝুকি।

কপাল তাদের পুড়লো নাকি মহামারীর ঘায়ে
এক জানাজায় উঠলো দু’জন এক ইমামের নায়ে,
একই গোরস্থানে তাদের মুখোমুখি কবর
এক শহরের নামেই তাদের প্রচার হলো খবর।

২২.০৪.২০

আলো আছে নিশ্চয় / সাইফ আলি

আলোগুলো নিভে যাচ্ছে
কতগুলো চাপ চাপ অন্ধকার ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে
কতগুলো হাত এলোমেলো বিচ্ছিন্ন
হাতগুলো রুক্ষ, অমসৃণ।
চোখে আলো নিয়ে কে যেনো বললো,
‘আমাদের ভয় নেই, আমরা তো অন্ধকারেই চলি;
রাস্তা ভুল হবে না, ঠিক পৌছে যাবো দেখো!!,
পাশে পড়ে আছে অসুস্থ সমাজের ছায়া,
ছায়া!? তবে তো কোথাও আলো আছে নিশ্চয়!

১৫.০৪.২০

বিষণ্ণ এই দিনকে কেবল তোমার জন্য বদলে দিই / সাইফ আলি

‘বিষণ্ণ এই দিনকে কেবল তোমার জন্য বদলে দিই
জান-মাল দিয়ে মাগফিরাতের চাদর শরীরে জড়িয়ে নিই,
মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে নই তোমার খুশিতে বাঁচতে চাই
শহীদি মৃত্যু জোটে যদি তবে তোমার করুণা দাও আমায়।

তোমার জন্য আমার নামাজ, আমার সাওম, আমার হাজ্জ্ব
তোমার কাছেই নিরব কান্না, তোমারই জন্য তুলি আওয়াজ,
রোগে-শোকে খুঁজি তোমার করুণা, তোমার ওয়াদা মিথ্যে নয়
তবে আর কিসে বিচলিত হবো, তুমি যদি দাও পাবো বিজয়।’

‘‘মহামারী আনে শহীদি মৃত্যু! ভয় কি মুমিন তোমার রব
যদি ডেকে নেন সে সৌভাগ্য লুফে নিতে ছেড়ে দিতে এ সব
প্রস্তুত থেকে মানুষের পাশে নিঃসঙ্কোচে দাঁড়াবো আজ;
‘তোমার খুশিতে কুরবান হতে প্রস্তুত আমি।’- তুলি আওয়াজ।’’

২৪.০৩.২০

অনুকবিতা ৩০ / সাইফ আলি

প্রথম যেদিন বৃষ্টি হলো
কিংবা প্রথম সূর্যালোকে
হাজার চোখের অন্তরালে
কাঁদলো যে চোখ তোমার শোকে,
সে চোখের ব্যাকুল ভাষা বুঝলে না তো
সে চোখের মালিক কে তা খুঁজলে না তো।

০৭.০৩.২০

অনুকবিতা ২৯ / সাইফ আলি

যেই ছেলেটা বোতাম খুলে বাতাস লাগায় বুকে
তার বুকে হোক ফুল ফসলের চাষ,
আর যে ছেলে বোতাম এঁটে ঘুমায় বারোমাস
বোতাম খোলার মন্ত্র শেখাও তাকে।

২২.০২.২০