জনপ্রিয় / সাইফ আলি

জনপ্রিয় রোগে যদি ধরে ভাই
কেউ তারে আটকাতি পারে না,
হিংসায় জ্বলে যায়, যা তা বলে যায়,
অহমিকা পোকে খায়; ছাড়ে না।

জনপ্রিয় বক্তার ভুলও জনপ্রিয়,
দয়া করে সেদিকিউ নজরডা দিও;
ভুল হয় মানুষিরই, ক্ষমা চায় বড়;
তুমরা শিখায়ে ফের তুমরাই লড়ো!?

১২.০৩.২২

কবি / সাইফ আলি

আমি এক শাদামাটা কবি
তুষ্টির তেলে ভাজি, চটকায় শব্দের দলা।
এইসব সাধারণ কলা
আম্মার ভাত বাড়া, ভর্তা-ভাজি দেখে
শিখেছি অনেক আগে, সেই ছোটোবেলা।

লোকে বলে শব্দের সেবা
বিরাট কঠিন কাজ, আমি বলি সোজা;
যেভাবে কোকিল গায়, ফুল ফোটে, প্রজাপতি ওড়ে
সেরকমই সাবলিল অথচ নিখুঁত!
শুধু শুধু অকারণ শব্দের বোঝা
বহন করার ভার নিয়েছেন যারা;
কবি নন কবিতার শিক্ষক তারা।

০৬.০৩.২২

মানুষ সেধেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান / সাইফ আলি

মানুষ সেধেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান
কোনো বিজ্ঞান সাধেনি মন,
সাধিত সে জ্ঞান সহজ করেছে
কঠিনতর এ নর-জীবন।

কবে কোন কালে প্রমান করেছে
বিজ্ঞান বলো স্রষ্টা নাই?
স্রষ্টার দেয়া বিধান ধর্ম
বর্ম পরেই মেলে রেহায়।

যদি এ যাত্রা বেঁচে যাও প্রিয়
যদি এ যাত্রা মুক্তি পাও,
ধর্মের কাছে পথ চেয়ে নিও
বিজ্ঞান দিয়ে জুতা সেলাও।

২৩.০৪.২০

এক শহরেই থাকতো দু’জন / সাইফ আলি

এক শহরেই থাকতো দু’জন দু’দিক তাদের মুখ
এক বাজারেই দুঃখ কিনে এক বাজারেই সুখ,
দুই দালানের দুই জানালা কিন্তু মুখোমুখি
খুলতো না কেউ খুললে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ার ঝুকি।

কপাল তাদের পুড়লো নাকি মহামারীর ঘায়ে
এক জানাজায় উঠলো দু’জন এক ইমামের নায়ে,
একই গোরস্থানে তাদের মুখোমুখি কবর
এক শহরের নামেই তাদের প্রচার হলো খবর।

২২.০৪.২০

এই নদীটা / সাইফ আলি

এই নদীটা শুকিয়ে যাওয়ার আগে
ফুসতো ভীষণ রাগে
রাগ করা কি ভালো?
তাই দিয়েছি হাত পা বেঁধে
শান্তি প্রদীপ জ্বালো!

এই নদীটা ভীষণ জেদি জানো
ভাঙা গড়ার নষ্ট খেলায় মাতে
তাই দিয়েছি হাত পা বেঁধে 
শান্ত থাকে যাতে।

এই নদীটা শান্ত এখন খুবই
ঘুমিয়ে থাকে ঠিক আমাদের মতো
ঘর ভাঙেনা কারো
আরো
বুক জুড়ে তার সোনার ফসল ফলে
তবুও লোকে বলে-
ইস্ সে যদি আগের নদী হতো!

21.03.19

সুন্দর / সাইফ আলি

সুন্দর কাকে বলে জানো?
সুন্দর শিশুটির মুখ, হাতের আঙুল; যখন সে শরীরের সমস্ত শক্তির জোরে ধরে রাখে মায়ের জগত…
কিংবা পিতার বুকে খুঁজে নেয় আদরের ভুঁই।
সুন্দর পাখিদের বাসা, পাতায় জড়ানো তার ছানার আওয়াজ,
প্রথম উড়তে শেখা, উড়ে যাওয়া প্রথম প্রহর; সুন্দর সবই।
সুন্দর মাছেদের চোখ, লেজ আর শরীরের যাবতীয় কৌশল সব-
সুন্দর ফুল, যখন ওলিরা আসে; ছুয়ে দেয়, সারাগায় পারাগের গুড়ো মাখে, তারপর অন্য কোনো ফুলে ঘুরে ঘুরে রেখে আসে জীবনের সুপ্ত রসদ-
সুন্দর যুবতীর বাহু, যুবকের উদোম শরীর; কর্ষিত জমিনের পাড়,
বোপনের সুখ, ব্যথা সব।
সুন্দর প্রেয়সীর চুল, বর্ষায় ভেজা; কদমের ঘ্রাণ-
সুন্দর কাকে বলে জানো?
মাঝে মাঝে মৃত্যুও হয়ে ওঠে তুখড় উপমা…

মায়াবতি ম্যাজিক দেখাও / সাইফ আলি

মায়াবতি ম্যাজিক দেখাও
এই চোখে ক্লান্তি নেমেছে
মায়াবতি কথা কও, হাত রাখো চুলের গোড়ায়
বিন্দু বিন্দু ভয়, জমেছে শিশির।
মায়াবতি চোখ তুলে চাও একবার…
দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ
খাদের কিনারে এসে চেতনার সবকটি পা
থরথর কাপে,
মায়াবতি, তোমার বুকের তাপে
চেপে রাখো; আরো জোরে,
বের হোয়ে যাক সব ভীরু নিশ্বাস।
মায়াবতি ম্যাজিক দেখাও
চোখে রাখো হাত,
একবার ঘুমের গভীরে
আমিও হারাতে চাই;
আমাকেও প্রেমিক বানাও।

আজব প্রেমিক তুৃমি বটে / সাইফ আলি

পাহাড়কে শান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলো কোনো একজন
বলেছিলো, সামান্য এই ঝরনার স্রোতে তুমি বলো
কতোটুকু হারাবে তোমার! পাহাড় তা শুনে শুধু হেসে
বলেছিলো, তুমি তাই ভাবো? ঝরনা প্রেমিক তুমি বটে!

সাগরকে শান্তনা দিতে বলেছিলো মহা বিদ্যান,
কেনো তুমি খামাখাই কেদে তিতে করে ফেলো এই ঢেউ;
তোমার কষ্ট এতো কিসে? সাগর অবাক হয়ে বলে,
তিতে কোনো কষ্টের নাম! আজব প্রেমিক তুৃমি বটে!

সবুজ / সাইফ আলি

১.
মাটির কাছে একটা সবুজ ভবিষ্যতের গল্প আছে
তোমরা যারা কান রাখোনা মাটির বুকে
তাদের কাছে সেই সবুজের গল্পটা
কেমন যেনো প্রলাপ লাগে।
২.
ইট পাথরের এ সভ্যতায় সবুজটা ঠিক মানায় না
মগজ পাড়ায় বুকের খবর জোর করে কেউ আনায় না।
আর যা আসে ভাসা ভাসা পানার মতো ভেসেই যায়;
হয়তো আমিই উল্টোমানুষ, সবুজ ভালোবেসেই যাই।

স্বপ্নগুলো অন্যরকম / সাইফ আলি

একটা বুনো পাখির পাখায়
জড়িয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো
হাওয়ায় হাওয়ায় ছন্দ আনে;
সেও কি তোমার আমার মতো
জীবনবোধের নামতা জানে?

স্বপ্নগুলো অন্যরকম কেমন যেনো
বাস্তবতার ধার ধারে না,
বুনো পাখির লেজ ধরে সে
গাছে গাছে বেড়ায় ঘুরে
সংসারে না
একটুও তার মন বসে না।

আচ্ছা সে কি যোগ বিয়োগের বালাই জানে?
জেনেই কি লাভ, তার চেয়ে তার
উড়াল দিনের গল্পগুলোই টসটসে না?