• ছলাৎ ছল ছল / সায়ীদ আবুবকর

    সাগর গান জোড়ে ছলাৎ ছল ছল, জলেরা জোড়ে নাচ। হৃদয় নাচে দেখে, যেন বা নীল জলে হৃদয় তিমি মাছ।। ঢেউযের ’পরে এসে আছড়ে পড়ে ঢেউ, হৃদয়ে লাগে ঘাই। যেদিকে চোখ যায়, সাগর ছাড়া কিছু জগতে যেন নাই।। সাগর নিঃসীম, অথৈ, অনন্ত, আদি ও অস্থির। দুচোখে নাই ঘুম, ক্লান্তি নাই দেহে, খুশিতে নাচে নীর।। যে জানে…


  • রাতের তারাগুলো / সায়ীদ আবুবকর

    রাতের তারাগুলো আলোর সুর তোলে কালের ট্রাম্পেটে কাঁচের জানালায় সে-সুর শুনে একা রাত্রি যায় কেটে কী বলে তারাগুলো নিরব সংগীতে, বুঝিনে ভাষা তার- হৃদয়সৈকতে আছড়ে পড়ে এক উথাল হাহাকার ৩০.৯.২০১৫ সিরাজগঞ্জ


  • পুরোনো বাড়ি / সায়ীদ আবুবকর

    পুরোনো এই বাড়ি, বুনো লতায় ঘেরা, দাঁড়িয়ে নির্জনে; পড়ছে খসে ছাদ, পলেস্তারা আর নকশা করা ইট; কে ছিলো এই বাড়ি-জানে না কেউ আজ, কারো তা নেই মনে; সেখানে বাস করে এখন ভূতপ্রেত, সর্প আর কীট। সিংহমূর্তিটা দাঁড়িয়ে তিন পায়ে সদর দরোজায়, গিয়েছে ভেঙে মুখ, রেখেছে ধরে তবু প্রাচীন প্রাচূর্য; এখানে একদিন উঠতো রাতে চাঁদ জমাট…


  • সন্ধ্যা / সায়ীদ আবুবকর

    অন্ধকার আর শান্তি ঝরে পড়ে এ ভরা সন্ধ্যায় যেভাবে ঝরে পড়ে গোলাপফুল হতে নরম পাপড়িরা; জমিন দেয় ভরে সুবাসে কামিনী ও রজনীগন্ধায় জলধি দেয় ভরে যেভাবে তটিনীর শিরা ও উপশিরা। পাখিরা ফিরে গেছে দিনের রোদ নিয়ে ক্লান্ত পাখনায়, গিয়েছে থেমে সব শব্দসংগীত, সুরের ঝংকার; জেগেছে নিরবতা, ফেলেছে ঢেকে তার জাদুর ঢাকনায় বিশ্বচরাচর; অন্ধকার যেন বোবা…


  • ইডেনকাব্য / সায়ীদ আবুবকর

    নদীর জল নাচে নদীর বুক জুড়ে জলের ’পরে নাচে রূপসী জোছনারা বনের যত ফুল স্বপ্নে যায় উড়ে যেখানে ঘুরে ঘুরে নাচিছে জলধারা জলের নিচে নাচে মাছেরা দল বেঁধে কিসের উৎসব কে জানে রাতে আজ! মৎস্যকন্যারা আঁচলে জল বেঁধে দোলায় কটিদেশ তাদের সাথে আজ। বহিছে মৃদুবায়ু, গাহিছে বনে পিক অবাক চোখে শুধু চাহিয়া আছে চাঁদ নদীর…


  • ভাষা ও প্রকৃতি / সায়ীদ আবুবকর

    নদীর কাছে যাই, বলে না নদী কথা বিপুল ঢেউরাশি দেখায় শুধু নাচ বনের কাছে যাই, বলে না বন কথা দেখায় বুক-পিঠ রূপসী যত গাছ ফুলের কাছে যাই, বলে না ফুল কথা সুরভি তার শুধু আছড়ে পড়ে নাকে চাঁদের কাছে যাই, বলে না চাঁদ কথা জোছনারাশি তার জগত ঘিরে রাখে কী কথা বলে লোকে, কী কথা…


  • কোথায় যায় সব / সায়ীদ আবুবকর

    মানুষ চলে যায়-কোথায় যায় সব-কোন্ সে চরাচরে! নদীর কালো জল হারিয়ে যায় কোথা সাগর গহ্বরে! যে-কথা মৌমাছি নীরবে যায় বলে ফুলের কানে কানে সুবাসমাখা সেই কথারা যায় উড়ে কোথায়- কে বা জানে! দুচোখ কী যে দ্যাখে, আর কী শোনে কান-বুঝিনে আগামাথা কখনো গাছ দেখি-সবুজ ডালপালা, কখনো ঝরাপাতা। যেখানে বন ছিলো, পাখির কলরব, সেখানে আজ শুধু…


  • প্রকৃতি / সায়ীদ আবুবকর

    কিভাবে কুঁড়িগুলো উঠিল ফুল হয়ে, হইলো দিশেহারা বনের মৌমাছি! যা কিছু দেখি চোখে, যায় তা ভুল হয়ে সত্য হয় তা, যা চোখে না দেখিয়াছি। কুঁড়িরা ফুল হয়, ঝরিয়া যায় ফুল ভরিয়া যায় বন নতুন ফুলে ফের; যে ছিলো কিশোরী, সে প্রণয়ে মশগুল- ঘটিয়া যায় কত ঘটনা জগতের। আমরা এইখানে-সত্য যত না এ, সত্য তার চেয়ে…


  • বলিয়া যেন যাই / সায়ীদ আবুবকর

    চলিয়া যদি যাই, বলিয়া যেন যাই তাবৎ পৃথিবীকে: দুঃখ নাই মনে। দুঃখ নাই, যেন একথা যাই লিখে এবং এই কথা গাঁথিয়া অন্তরে একেলা চুপচাপ চলিয়া যেন যাই, শরীরে লেগে থাকে সুখের উত্তাপ। গোলাপ দেখিয়াছি, কাঁটার কথা তার পায়নি ঠাঁই মনে; সাঁতার কাটিয়াছি চিতল মাছ হয়ে অথৈ যৌবনে, জরা ও জীর্ণতা পারেনি ছুঁতে মন। গিয়াছে ফিরে…


  • রাতের ঘটনা / সায়ীদ আবুবকর

    ভ্রমর গান গায় রাতের ফুলবনে অথৈ নির্জনে আকাশে জাগে চাঁদ একটি বোবা পাখি দুঠোঁটে এক মনে জোছনা খুটে খায় কেমন উন্মাদ কেমন উন্মাদ একটি বোবা পাখি জোছনা খুটে খায়, দ্যাখে তা ফুলগাছ ফুলে-বাতাসে করে সুবাস মাখামাখি তাধিন ধিন তা তা জগত জোড়ে নাচ ২৩.১.২০১৫ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ


  • একটা বুনো হাঁস / সায়ীদ আবুবকর

    গাছেরা গান গায় গাছেরা কাঁদে হাসে গাছেরা কথা বলে সেসব শোনে শুধু একটা বুনো হাঁস নদীর বুনো জলে জলেরা কথা বলে ছলাৎ ছল ছল হাঁসটি শোনে একা এবং চুপ করে অবাক চেয়ে থাকে দূরের বনে একা নদীর বুনো জলে বেড়ায় ভেসে একা একটি বুনো হাঁস উদাস দুটি চোখে কখনো চেয়ে দ্যাখে রূপসী নীলাকাশ আকাশ কথা…


  • কবিতার সক্রেটিস / সায়ীদ আবুবকর

    নগরবাউল হয়ে অনেক হয়েছে হাঁটা। জমকালো বিদ্যুতের রোদে ভাটশালিকের পায়ে সারারাত বেড়িয়েছি খুঁজে ঢের শিল্পের আহার। ক্রোধে, ক্ষোভে ও ঘৃণায় পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের মুখে অনেক মেরেছি থুতু। মানবতা- মানবতা করে কাটিয়েছি কালো দিন রক্তলাল রাজপথে। কাগজের কুসুমের কথা আর পাথরের প্যারাডাইসের কথা বলতে বলতে ক্লান্ত অবশেষে কণ্ঠ কোকিলের। আজ মৃত্তিকা আমাকে ডাকে। সুনিবিড় সবুজের শীতলতা…


  • উৎসর্গ কবিতা (আমার কোথাও যাওয়ার নেই) / সায়ীদ আবুবকর

    কেশবপুরবাসী শরীর শীতল করে, ভিতর শীতল করে এই ঘোলাপানি, এ পানিতে স্নান করে ভোরের দোয়েল আর আমার হৃদয়; পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ এখনও আগের মতো করে কানাকানি তখন এ নদ দেখে কত মধু মধুদেশে মহাকবি হয়! অন্য কোনোখানে গিয়ে বাঁচবো কি একদিনও এ জমিন থুয়ে? বিদেশবিভুঁই গিয়ে কী করে মানুষ বাঁচে, আমি ভেবে মরি; আমার কেশবপুর…