-
জীবন বীমা / সাইফ আলি
এভাবে একটি রাত ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সহজেই পার হয়ে যাবে এভাবে একটি দিন রাস্তার মোড়ে মোড়ে জীবিকার খোঁজ করে যাবে সমসাময়িক ঘড়ির কাটারা পূর্ণ করবে ঠিক পরিধির সীমা -এখানে আসুন ভাই করে যান মূল্যবান জীবনের বীমা। জীবনের বীমা হয়!! দুচোখ কপালে তুলে ভাবি, কোনোদিন পাগলেও করে এই দাবি? তবুও জীবন বীমা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে খুব আমি…
-
আমি কোনো হতাশার কথা বলছি না / সাইফ আলি
আমি কোনো হতাশার কথা বলছি না আমি বলছি না- ওখানে যেওনা তুমি ধ্বশে পড়া নগরিতে নেই কোনো আবাসন স্বাস্থকর একটুকু ভূমি… আমি তো বরং উল্টোটা বলে বলে বার বার বুঝিয়েছি ধ্বশে গেছে যাক রক্ত-মাংশ আর লাশের গলিত মিছিল ভাঙাচুরো দরজার খিল এর আগে বহুবার দেখা হয়ে গেছে। অন্য কোনো গ্রহ থেকে নয় অন্য কোনো বন্য…
-
আজান / সাইফ আলি
পরিতাপের বিষয় এই যে, তুমি জেনেও না জানার অভিনয়ে মত্ত হলে শুনেও শুনলে না রাতের অন্ধকার চেরা সত্য আহ্বান- অথচ, তারকাদের ঘুমিয়ে পড়া এবং চাঁদকে অতিক্রম করতে দেখে কেবলি চোখের পর্দা টেনেছো… হায়, তুমি যদি নিশ্চিত জানতে! আগামীকালের সূর্য তোমাকে আলিঙ্গন করবে, ফুসফুসের এই বাতাসটুকুই তোমার জন্য নির্ধরিত শেষ বাতাস নয়… অথচ, তারা কেউই তোমার…
-
তোমার জন্য অপেক্ষা / সাইফ আলি
আমাদের এই পাহাড় চূড়ায় বাধলো না তো তোমার মেঘ উড়লো না তো তোমার ঘুড়ি আকাশময় আর কতোদিন চাতক হয়ে অপেক্ষাতে থাকতে হবে- ছোট্ট ছনের গ্রাম কুটিরে দাওয়াত দিলাম বললে না তো আসবে কবে। করিম চাষার মেয়ের বিয়ে এ বর্ষাতেই মেঘের ভেলা উড়িয়ে নিয়ে আসবে কি? নষ্ট ধানের কষ্ট ভুলে সরল চাষা একটুখানি সুখের হাসি হাসবে…
-
জীবনের পথে এইসব টুকিটাকি / সাইফ আলি
এখনো অনেক শব্দ না বলা কথার রাজ্যে এখনো অনেক পালক দেখেনি আকাশ কিভাবে নীল হয়ে যায় লাল হয়ে যায় মেঘে মেঘে হয় ধুসর কখনো কালো এখনো অনেক দৃষ্টি মাখেনি আলো; এখনো অনেক স্বপ্ন দেখার রাত্রি বাকি রয়ে গেছে; যাত্রী, যাত্রা পথের ধুলোয় এখনো পড়েনি অনেক পা যাত্রা থামিও না। এখনো অনেক ঘুড়ি ওড়াবার দিন গল্প…
-
নাটাই সুতো ঘুড়ি / সাইফ আলি
১ এই যারা চলে গেছে জিবিকার কোলাহল রেখে ভালোবাসা দুঃখ সুখ শাসনের বেড়াজাল ছিড়ে এই যারা চলে গেছে সুতো কাটা ঘুড়িটার মতো হঠাৎ বিচ্ছিন্ন নাটাইয়েরা খুঁজেছে তাদের মায়া রেখে যাওয়া সুতোর শরীরে। ব্যথার মাজনে মোড়া সুতোর পালক শরীরে জড়িয়ে থাকে নাটাই বালক সেই সব মানুষের মতো তুমিও ঘুমিয়ে গেলে যারা আর ঘুম ভেঙে দেখলোনা সকাল…
-
জোনাকি / সাইফ আলি
তুমি কি আজব বাতি জ্বলে ওঠো নিভে যাও অন্ধকার ঝাওবন, বাঁশঝাড়, পুকুরের ঘাটে নিরিবিলি নিজেকে সাজাও তুমি কি আজব বাতি মধ্যরাতে মশারির জালে আলনায় খাটে দেয়ালের গায় বুনে দাও কবিতার বীজ; গাঁয়ের চাষার মতো আমি সেই বীজ পুতে রাখি ডাইরির ভাঁজে হৃদয়ের খাঁজে… প্রিয়তমা কবিতা আমার মাথা রাখে বুকের পাঁজরে নির্দিধায় নিরবে সলাজে। তুমি কি আজব…
-
সমুদ্র তীরের প্রার্থনা / সাইফ আলি
সমুদ্রের তীরে বসে আছি ঢেউগুলো ক্রমাগত সেজদায় নত সন্ধ্যার সূর্যটা টকটকে লাল আর কিছুক্ষণ এরপর হারিয়ে যাওয়া জাহাজের মতো দৃষ্টির ওপারে রাঙাবে পৃথিবী… এক ঝাক সমুদ্রচর পাখি উড়ে এলো বেলা শেষে খুঁজে নেবে রাত্রী অবসর… বাতাসে দুলছে চুল দুলছে জীবন সমুদ্রের এবং সন্ধ্যার তীরে বসে আর কতক্ষণ? ডুবে যাওয়া সূর্যের মতো ফিরে আসা পাখিদের মতো…
-
এক জোড়া চোখ উৎসুক / সাইফ আলি
বৃষ্টি গড়িয়ে নামে কাগজের নৌকার গায় মাঝি মাল্লার নেই দেখা তবু একা একা নৌকা চলেছে ঠিক ভর করে মেঘের শরীরে। এক জোড়া চোখ দূর থেকে দেখে সেই খেলা কাগজের নৌকাটা শেষমেশ হয়ে যায় ভেলা ভেলা ভাসে খালে-বিলে নালায় নদীতে কাঁচা হাত ধরে রাখে দাঁড় বেলা শেষে ভেলা হয় সাম্পান কোনো কাঁচা হাত পাকা হয়ে বাইছে…
-
স্রষ্টা সমীপে / সাইফ আলি
জীবন যখন উঠবে মেতে ঘূর্ণী হাওয়ায় হঠাৎ আলো অন্ধকারে আসা যাওয়ায় তখন তারে খুঁজো মনের গভীর কোণে। কোন অভাগা কোথায় বসে ডাকছে তাকে সব কথা সেই শোনে। কেউ যদি না হাতটা বাড়ায় কঠিন দিনে সঙ্গে দাঁড়ায় মনে মনে তাকেই তুমি খুঁজো সে ঠিক দেবে সাড়া সবাই সবার স্বার্থ বোঝে তোমার কথা বুঝবে না সে ছাড়া।