-
কাটাতারে বিধে গেছে পাখি
কাটাতারে বিধে গেছে পাখি; পাখির পালক থেকে গোধুলির লাল ঝরে গেলো ফোটায় ফোটায়… কাটাতারে ঝুলছে রুমাল; রুমালের বুক চিরে গোধুলির লাল এরপর মিথ্যে গোটাই… পাখির স্বপ্ন উড়ে গেলো গোধুলির লালচে আকাশে; পাবে কি সে প্রশ্নের উত্তর তার রুমালটা উড়ছে বাতাসে।
-

উড়াল কৈতর
আহা কৈতর দূরে উড়ে যায় নিরুপায় ভাঙা ঘর তার করে হাহাকার ডাকে পিছুডাক তবু বাতাসের বুকে উদ্দাম তুলে ঢেউ আহা কৈতর দূরে উড়ে যায় ডাকে কেউ সে ডাক বাতাসে ঘোলাটে আর্তনাদ তুলে মিশে যায় মিশে যাবে সে ডাক মিথ্যে স্মৃতির অন্ধকারে হয়তোবা খুঁজে পাবে প্রিয় ঠাই আহা কৈতর দূরে উড়ে যায় নিরুপায়। পালক পড়ে থাকে…
-

ঘুমাও তুমি এ রাজপথের পথিক আহা..!!
এখন মধ্যরাত বারুদ পোঁড়া গন্ধ নিয়ে বুকে অতল তোমার ঘুম ঘুমাও তুমি এ রাজপথের পথিক আহা !! ঘুমাও তুমি ক্লান্ত তোমার চোখ… তুমি বলতে এবার ঘাসফড়িংও উড়বে ভীষন কাশের বনে আসবে শরৎ বর্ষা ভীষন নাচবে ঝড়ো বৃষ্টি হাওয়ায় কিন্তু কোথায়? তার বদলে আসলো বুলেট এই কি ফড়িং শুভ্র কাশে বারুদ পোঁড়ার এই মহরৎ আনলো এ…
-

বিক্ষুব্ধ রাতের প্রতি
কেনো তুমি শান্ত হলে না অন্য সব রাতের মতোই কেনো তুমি শীতল অন্ধকারের অন্তরালে ঢাকলেনা তোমার বিবেক… তবে কি স্বার্থপর দিনের প্রতি অনাস্থা তোমার ? নাকি এ তোমার করুণা- তবে তাই হোক অকেজো চোখের উপর ভরশাহারা মানুষ হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলুক। দিগন্তছুঁয়ে ডুবে যাওয়া সূর্যের অপেক্ষায় আর কোনো যাত্রাবিরতী নয়- আরেকটি স্বার্থপর দিনের চেয়ে বিক্ষুব্ধ…
-

আর কতদূর
ভেবেছিলাম- আমি আর কথা বলবো না দু’ঠোটে গড়ে তুলবো নিরবতা বেষ্টনি- অথচ পারলাম না, যখন দেখলাম নির্যাতিত হাড়গুলো নড়েচড়ে উঠলো খুলিতে অনবরত রোদ্রের ঝলকানি সহস্র হাড় যেন সহস্র মশাল মিছিল করবে তারা দূর থেকে ভেসে আসছে অসমাপ্ত মিছিলের গান… আজ তাদের সংকিত চোখ নেই নেই দুরুদুরু হৃদস্পন্দন; কোটর ভরা অন্ধকার আর পাজর ভরা শূন্যতা নিয়ে…
-

মুহুর্তেই রক্তজবা নীল
বুড়োটার কুঁচকানো চামড়ার ভাঁজে রক্তজবা ফুটেছিলো কাল জ্বলজ্বলে লোভাতুর চোখে ছুঁয়ে দিল কেউ মুহুর্তেই রক্তজবা নীল হতে নীল… আমিতো শংকিত দর্শকের চোখে দেখেছি রক্তজবা কিভাবে নীল হয়ে যায় কুঁচকানো চামড়ার ভাঁজে বেদনার রেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে অতঃপর মিলিয়ে যায় মিলিয়ে যায় চিরতরে যেভাবে মিলিয়ে যায় তেপান্তরের অন্তরালে অসংখ্য আর্তচিৎকার…
-

অপেক্ষা হয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন……
অপেক্ষা করো- এইতো এক্ষুনি… আর একটু পরেই – শুরু হবে শেষ… মৃয়মান আলোকরশ্মি ফুঁটতে শুরু করেছে ঐতো – লালচে আকাশ আগুনের মেঘ উড়ন্ত পাখি… পাখিরা ফিরছে নীড়ে? মেঘেদের ভীড়ে আলো যেনো ক্রমশ আঁধার!! বিষ্ময়, এ চরম বিষ্ময় বটে- অতঃপর- বিশুদ্ধ রাত দৃশ্যপটে… লজ্জিত মুখে ফের- সবুরে মেওয়া ফলে, মাত্রতো একটি রাত; কেটে গেলেই নতুন সকাল……
-

যোগ বিয়োগ
যোগ বিয়োগের নিগূঢ় তত্ত্ব শিখেছি যেদিন সেইদিন থেকে ফলাফল খুঁজি অষ্টপ্রহর এক পাখি ছিল ডালে বসে আর এক পাখি দূর যোগ করে দেখি দুই পাখি মিলে তুলেছিল সুর হঠাৎ একটা বুলেট ছুটলে বিয়োগ চিহ্ন কটা পাখি থাকে ফলাফল হয় কতটা ভিন্ন ? একটা মিছিল শ্লোগান অধির হাজার কণ্ঠ কোন সে সূত্রে এক হয়ে যায় ছিল…
-

আহা মানুষ
বাতাসে ব্যথার ঝাঁঝালো গন্ধ ভরা বাতাসে হাসির তোড়, বুকের গভীরে নীলাভ আলোর ফুল দু’দিকে দু’পথ দু’চোখে শান্ত মোড়। নিরিহ মগজ না চেনে রাস্তা না চেনে সস্তা ঘুম উষ্ণ রক্ত খুঁজে ফেরে শুধু শীতল রাত নিঝুম। অথচ সুদূর পথ বেয়ে নামে বিবেকের করাঘাত- মানুষ মানুষ দাবিতে কাঁপছো আহা মানুষের জাত…!!
-

শিখা এবং মৃত্যুনাচ
নৃত্যরত আগুনের শিখা হয়ে জ্বলছিলো প্রদীপের প্রাণ… সেই প্রাণ ছোঁবে বলে ছুঁয়ে এলো মৃত্যু অবশেষ- হায় সে কি মোহনীয় ঘাতক আগুন হায় সেকি নেশাধরা রূপ- আলো আলো অতঃপর অশেষ আঁধার টেনে নিলো তবে কি শিখার সাথে মৃত্যু সেইখানে সমান রিদমে নেচেছিলো!!
-

ওরা যদি ভেবে থাকে
ওরা যদি ভেবে থাকে লোহার চৌদ্দশিকে থেমে যাবে তোমার রিদম নিভে যাকে তোমার প্রদ্বীপ তবে তা ওদের মুখে এনে দিক সুখের ঢেকুর… তোমার কলম হয়ে এবার যুদ্ধে যাবো আমরা সবাই। ওরা যদি ভেবে থাকে শৃঙ্খল বেধে দিয়ে তোমার ডানায় তুমি আর ভাঙাবেনা ঘুম তবে তা ওদের চোখে এনে দিক নেশাতুর রাত… আমরা তোমার সুরে ডেকে…
-

কতটা ব্যথার কান্নায় নামে জল
কতটা ব্যথার কান্নায় নামে জল কতটায় ফাঁটে বুক, বুকের গভীরে রক্তক্ষরণ কতটা ব্যথায় হয় কতটা ব্যথায় মূক? রক্ত বারুদে কতখানি পথ ভেজালে কাঁদবে মেঘ কতটা মাংশে কাঁদা মাখামাখি হলে অঝোরে নামবে শীতল বর্ষা ধারা? ততটা রক্তে এখনো ভেজেনি পথ ততটা বারুদে ঝাঁঝাঁলো হয়নি হাওয়া…!!
-

অনিবার্য নির্বাচনের পথে
অনিবার্য নির্বাচনের পথে দৌড়ে চলেছে দেখো স্বদেশের ট্রেন বগিহীন একাকি ইঞ্জিন… তুমি কি শুনতে পাও তুমি কি শুনতে পাও রাতের বাজারে রক্তমাখা লাশ আর পোঁড়াবারুদের ঝাঁঝালো বেচাকেনার হাক তুমি কি শুনতে পাও বাতাসে গ্রেনেড অথবা টিয়ারশেল অশ্রুতে শিক্ত রাজপথের কান্নাকে; শত শত বিক্ষুব্দ জনতার রক্তহীন লাশের মহড়ায় দৌড়ে চলেছে দেখো স্বদেশের ট্রেন বগিহীন একাকি এক…
-

মায়ের প্রতি
রুক্ষ তোমার ওষ্ঠো জুড়ে জলের মায়া চোখের তারায় নিরব কান্না মেঘের প্রতি কিন্তু যখন মেঘদলেরা বৃষ্টিহারা তখন তোমার ওষ্ঠো ভেজায় কোথায় সে জল ? আমার তুমি দোষ দিও মা- ছন্নছাড়া আমার তুমি বলতে পারো নিস্ব চাষা তবুও তোমার সাড়ে তে হাত ছায়ায় ঢেকে বলতে পারি এ বুক আমার আপন বাসা। কিন্তু যারা তোমার বুকে বান…
-

জাগুক মিছিল ফের
তুমি কি এখন শুধু অশরীরি ছায়ার মতোন অন্ধকারে হারাও নিজেকে; তুমি কি এখন শুধু দৃষ্টিহীন পুতুলের চোখ? অথচ সেদিন দেখো দুরন্ত মিছিলের শ্লোগানে শ্লোগানে বেজেছিলো তোমার নিনাদ; রোদপোড়া রাজপথ কেঁপে কেঁপে উঠেছিলো তোমার জোয়ারে। তুমি কি এখন তবে প্রাণহীন পদ্মার ঢেউ; তুমি কি এখন তবে অশরীরি অলস অতীত? অথচ সেদিন ছিলে উচ্ছল প্রাণের জোয়ার। জেগে…
-

বৃষ্টিক্লান্ত রাতের শেষে
বৃষ্টিক্লান্ত রাত হয়ে গেল ভোর চোখের পাড়ায় স্বপ্নের আঁকিবুকি তবুও এখন? তাহলে এবার রাস্তা মাড়াবে কে? দীর্ণ বুকের পিপাশা মেটাবে কে? যদি ডানাহীন পাখি উড়তে না পারে মেঘের সঙ্গে আকাশ নিরবে শূন্যতা বুকে নীল হয়ে যায় শুষ্ক ডালেরা পাতার জন্যে ঝরায় অশ্রু তবে পুষ্প পুষ্প বলে এ কান্না কিসের জন্যে? জাগো ঘুমন্ত দেখো বৃষ্টিতে ভিজেছে…
-
উপসংহার
যদি রমণীর হাতে শোভা পায় কালো সিগারেট তবে আমরা না হয় খেলাম পুষ্ট মামলেট; হাওয়া বদলায় কিছু কথা হয় অকথ্য কিছু গালাগাল হালে পানি পায়, তাই পথ্য হয় জরুরী, হয় জীবনের প্রিয় ডাক্তার; তবু কেন হায় কেউ বলে যায়- আছে ফাঁক তার। যদি আলেয়ার পিছে দৌড়ে কেউ জিতে যায় কেউ খুঁজে পায় ছোট জীবনের মূলমন্ত্র…
-

কে কবে কোথায় কার
কে কবে কোথায় কার নাড়ী টিপে বলেছিলো- বাছা, ঐখানে ঐ নদী তীরে কাশের শরীরে যেই শুভ্রতা আছে; পাখির কণ্ঠে যেই ব্যকুলতা আছে; কোমলতা দেখেছো যে ফুলের শরীরে; সবার তো ফুরিয়েছে আয়ু। আজ শুধু পোড়া ইট লোহার মরিচা পড়া দেহে ঝুলে আছে সভ্যতার মায়াবী ছোবলে … কে কবে কোথায় কার পাজরের হাড়ে হাত রেখে কাঁপা ঠোটে…
-

আমাদের তাতে কি..!
টেলিভিশনের পর্দাটা যদি চোখের পর্দা হয়ে যায় পলিটিক্সের ফুটবল খেলা সয়ে যায় তবে, মাঝে মাঝে কিছু বোকা পাখি এসে থেমে যায় চর্বীওয়ালার চর্বী কিছুটা নেমে যায়.. আমাদের তাতে কি..! আমরাতো সেই কবেকার মাল, বাঁচতে শিখে গেছি… আমরা শিখেছি- দেশের দশের চিন্তা করছে দেশ আহা! বেশ বেশ বেশ… আমরা শিখেছি- ঘুসের বাজারে ঘামের পয়সা শেষ আহা!…
-

এইসব প্রতিদিন হয়
চেতনার দ্বারপ্রান্তে এসে উঁকি দেয় অভিমানী বুড়ো অপেক্ষারা মধ্যমাঠে ঘুমায় আশার লাশ… বলেছিলে একদিন- যারা আজ ক্ষুধায় কাতর হাট ঘাটে যায় চায়ের দোকান থেকে চুপি চুপি রুটি নিয়ে সটকে পালায় অবহেলায় ফিরিয়ে দেবে মোরগ পোলাও। বলেছিলে ভিখারীরা তিনবেলা খেতে পাবে ভাত শোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চিপায় চাপায় বেওয়ারিশ ফড়িং ডাস্টবিন আবাসনে বেড়ে ওঠা কিট স্টেশন বস্তির বেয়াড়া…