-
-
একান্ত বাক্যেরা-১২ / সাইফ আলি
যখন সবাই চাঁদের আলোয় ভিজছিল আমিই কেবল শুকনো পাতার মর্মরে, চাঁদ হঠাৎই সবার কথা বাদ দিয়ে অরণ্যে চায় ঘুরতে আমার হাত ধরে।
-
বাবা / সাইফ আলি
ভাঙনের মুখে এক সুবিশাল মহিরুহ শেকড়ে কামড়ে রাখে আমার জগত কিছুতেই ধসতে দেবে না, আমি তার নাজুক পৃথিবী দুলে উঠি সামান্য ঝড়ে, সেই ঝড় রুখে দিতে ডাল ভাঙে ভাঙুক তবুও আমার জগত থাক সহি সালামতে!! সে আমার গ্রিষ্মের ছায়া, শীতের চাদর; বাদলের বড় কালো ছাতা! আমি তার আঙুলের জোরে টলকানো পায়ে ফের হাঁটি, দৃষ্টিতে খুঁজে…
-
-
যদি বৃষ্টি নামতো / সাইফ আলি
আমি শোকাহত হবো এটা কোনো বড় বিষয় নয় তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে একটু আগেই শোকার্ত মেঘমালা থেকে অবিরাম ঝরে চলেছে সুখাশ্রু বৃষ্টির ফোটা। তোমরা তো জানোই কবির হৃদয় আর্দ্র না হলে তার থেকে বৃষ্টি ঝরে না সৃষ্টি হয়না কবিতার তাল-লয়-ছন্দ কিংবা অন্তমিলের মাধুর্য! একটু পরেই হয়তো বৃষ্টি থেমে যাবে সংকীর্ণ এ শহরের দেয়াল আঁকড়ে…
-
দেখতে দেখতে / সাইফ আলি
দেখতে দেখতে দেখতে দেখতে দু’চোখ গিয়েছে জ্বলে তবু দেখার হলোনা শেষ! আমি দেখবো না কিছু আর- অদৃশ্যে গিয়ে বাধবো এবার কল্পিত সংসার।
-
আবেগটা ঠিক ওড়ছে না / সাইফ আলি
রাতটা কেমন থমকে আছে গাছের পাতা নড়ছে না, হাওয়ার গাড়ি তুলছে ধোঁয়া আবেগটা ঠিক ওড়ছে না। আকাশটাকে আগলে রাখে এমনতর জোছনা কই, কালো কালো মেঘের বুকে জমবো ভীষণ! বৃষ্টি নই।
-
বরফ গলে যেতেও পারে / সাইফ আলি
তাকাও যদি বরফ গলে যেতেও পারে, ফোটায় ফোটায় জমতে পারে শিশির হয়ে ঘাসের বুকে এবং কিছু সবুজ পাতায়; তাকাও যদি চাঁদের মতো মেঘ সরিয়ে জোছনাতে ফের ছন্দ ফিরে পেতেও পারে। মনের মাঠে খুব গোপনে কি দাও রুয়ে এমন কেনো বাড়তে থাকে লাগামছাড়া দেখতে কিছুই পাইনে চোখে কিন্তু কেমন ঝর্ণাশীতল উপচে পড়ে পাহাড় চুয়ে। তোমার চোখে…
-
বৃষ্টি ঝরার শব্দটা ঠিক কেমন ছিলো / সাইফ আলি
বৃষ্টি ঝরার শব্দটা ঠিক কেমন ছিলো শীতল ছিলো, ঠান্ডা ছিলো; যেমন ছিলো তোমার সাথে কাটিয়ে দেওয়া অল্প সময়- হাত ছুঁয়ো না নাজুক এ হাত পাতার মতো শক্ত করে ধরতে পারো- বললে যখন, তখন আমার অবশ শরীর গাছের মতো নড়ছিলো না বাতাস ছাড়া একটুখানিও। বৃষ্টি ঝরার শব্দটা ঠিক কেমন ছিলো! প্রশ্নটা কি প্রশ্ন ছিলো, নাকি তোমার…
-
-
কেউ কেউ ভান করে / সাইফ আলি
সবাই থাকে না ভালো কেউ কেউ ভান করে ভালো থাকবার কেউ কেউ ভান কোরে হাসে সবাই বাসে না ভালো কেউ কেউ ভান করে ভালোবাসবার কেউ কেউ বাসে-
-
চিঠি / সাইফ আলি
একটা চিঠির চারটি ভাজে কষ্টগুলো বন্দি আছে চিঠির খামে ছোট্ট করে লেখা আছে সুখপাখি- বেহাত চিঠি এ-হাত ও-হাত ঘুরছে শুধু ঘুরছে সে সুখপাখিটার খবর জানে কেউ কি আছে, কেউ চেনে? কেউ জানে না, কেউ চেনে না- এই চিঠিটার প্রেরক কে? কে পাঠালো এমন চিঠি খাম খুলে তার তালাশ নে। সুখপাখিকে লেখছে চিঠি…
-
একান্ত বাক্যেরা-০৯ / সাইফ আলি
তোমরা যেখানে মুছেছো ক্লান্ত তুলি সেখানে আমার চোরা ক্যানভাস পাতা তোমাদের সব ক্লান্তির রঙ মেখে রঙিন আমার জীবনের খেরো খাতা।
-
ভোলা আর মন / সাইফ আলি
ভোলা বলে খোলা হয়ে গেলে আজ আকাশের বুক অর্ধেক সুখ তুই নিস আর অর্ধেক টুক রেখে দিস থাল ভরে, দেখা যদি হয় কোনো দিন ফের বকুলের চত্তরে মেখে নেবো সারা গায়। মন বলে ততক্ষণ যদি কেউ লুটে নিয়ে যায় সুখের বকুল খুব ভোরে এসে খুটে নিয়ে যায়? ভোলা আর মন চিন্তিত মুখে খুলছে আকাশ যেখানে…
-
একান্ত বাক্যেরা-০৮ / সাইফ আলি
পলাশের কাছ থেকে রঙ করে ধার সাদা ক্যানভাস আমি সেরেছি আহার পাতাবাহারের সাথে মিললো না তাই ক্যাকটাস বনে বাধি প্রিয় সংসার।
-
একান্ত বাক্যেরা-০৭ / সাইফ আলি
তুমি আসলেই কবি হয়ে যাই সত্যি তুমি আসলেই হয়ে যাই কেউ অন্য কবিতা তোমার জন্য…
-
একান্ত বাক্যেরা-০৬ / সাইফ আলি
কিছু অর্থশূন্য কথায় কিছু চোরাদৃষ্টির ফাঁকে, এক জীবনের ঘনিষ্ঠতর চাওয়া পাওয়া বেঁচে থাকে।
-
একান্ত বাক্যেরা-০৫ / সাইফ আলি
ছায়াসমুদ্র নীলজল ছল চোখে দেখিস আমাকে আমিও দেখবো তোকে, মড়াকাটা ঘরে পড়ে থাক সব কথা ব্যবচ্ছেদের দায়িত্ব নিক লোকে।
-
একান্ত বাক্যেরা-০৪ / সাইফ আলি
১ এক কপি প্রেম দেবো ফ্রেম কিনে নিস, ছেড়াখোড়া হোক তবু বাধিয়ে রাখিস। ২ এক জোড়া প্রেম দেবো ঘর করে দিস, জল-ক্ষুদে ভরা পেট আমোদে রাখিস।
-
অন্তরে সে বসত করে / সাইফ আলি
অন্তরে সে বসত করে চোখের সীমানায় না, হৃদয় দিয়ে জাপটে ধরি হাতের নাগাল পাই না।