-
ভাষার গভীরে ভাষা – সৈয়দ শামসুল হক
ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া নীল এই মখমল রাতে চাঁদের সোনালি থালা, রাশি রাশি নক্ষত্রের ফুল; মনে হয় মানুষ এমন রাত দেখেছে বোগদাদে। অথচ কী অগ্নিদাহ, স্তব্ধতার দীর্ঘ কালো চুল খুলে পড়ে আছে পথে রাজপথে অন্ধকারময়। ছদ্মবেশে—হারুনর রশিদের মতো—নামী পথে, এখন আমার সঙ্গী সেদিনের হাবশি খোজা নয়— আমারই কবিতাগুলো, নাছোড় সঙ্গী সে কোনোমতে। শব্দের অমৃত আমি পান…
-
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প/ রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ
তাঁর চোখ বাঁধা হলো। বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত করলো তার মুখ। থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা-রক্তে একাকার হলো, জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝরে পড়লো কংক্রিটে। মা…..মাগো….. চেঁচিয়ে উঠলো সে। পাঁচশো পঞ্চান্ন মার্কা আধ-খাওয়া একটা সিগারেট প্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক। পোড়া মাংসের উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরের বাতাসে। জ্বলন্ত সিগারেটের স্পর্শ তার দেহে টসটসে আঙুরের মতো…
-
আজ আমি এখানে কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি…/মাহবুবুল আলম
ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায় ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য। যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য আলাওলের ঐতিহ্য কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও কবিতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে পলাশপুরের মকবুল আহমদের -পুঁথির জন্য রমেশ শীলের গাথার জন্য, জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাটের’…
-
একুশের কবিতা/ মহাদেশ সাহা
ভিতরমহলে খুব চুনকাম, কৃষ্ণচূড়া এই তো ফোটার আয়োজন বাড়িঘর কী রকম যেন তাকে হলুদ অভ্যাসবশে চিনি, হাওয়া একে তোলপাড় করে বলে, একুশের ঋতু! ধীরে ধীরে সন্ধ্যার সময় সমস্ত রঙ মনে পড়ে, সূর্যাস্তের লীন সরলতা হঠাৎ আমারই জামা সূর্যাস্তের রঙে ছেয়ে যায়, আর আমার অজ্ঞাতে কারা আর্তনাদ করে ওঠে রক্তাক্ত রক্তিম বলে তাকে! আমি পুনরায় আকাশখানিরে…
-
বার বার ফিরে আসে/ শামসুর রাহমান
বার বার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে, ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে। হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে, ঘোরে হাতে হাতে, মিছিলে পতাকা হয় বারবার রক্তাপ্লুত শার্ট। বিষম দামাল দিনগুলি ফিরে আসে বারবার, বারবার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম। ‘আবার আসবো ফিরে’ ব’লে সজীব কিশোর শার্টের আস্তিন দ্রুত গোটাতে গোটাতে শ্লোগানের…
-
স্মৃতিস্তম্ভ/ আলাউদ্দিন আল আজাদ
স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনও চার কোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো! যে ভিত কখনো কোনো রাজন্য পারে নি ভাঙ্গতে হীরার মুকুট নিল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার খুরের ঝটিকা ধুলায় চূর্ণ যে পদপ্রান্তে যার বুনি ধান গুন টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাপর চালাই সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য। ইটের মিনার ভেঙেছে ভাঙ্গুক!…
-
একুশের কবিতা/ আল মাহমুদ
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ? বরকতের রক্ত। হাজার যুগের সূর্যতাপে জ্বলবে এমন লাল যে, সেই লোহিতেই লাল হয়েছে কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে ! প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে ছড়াও ফুলের বন্যা বিষাদগীতি গাইছে পথে তিতুমীরের কন্যা। চিনতে না কি সোনার ছেলে ক্ষুদিরামকে চিনতে ? রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে মুক্ত বাতাস কিনতে ?…
-
রাজপথ
ওরে রাজপথ আর কতোরাত জেগে কাটাবি; তোর ঘুম কি কভু আসেনি কোনো নিরালায় একা হতাশায়? তোর বক্ষে কতো রক্ত ঘোর রাত্রে শত ভক্ত লুটে চুমু খায় তবু কেনো ভাই এতো শক্ত তোর বক্ষে কতো রক্ত! কতো ঘটনার তুই সাক্ষী শত অজানার খোঁজ রাখলি কতো শফিকের কতো …