-
কি নাম যে তার / সাইফ আলি
কে ছিলো হাতের মুঠোয় অন্য হাতে জাদুর কাঠি চোখে কে কাব্য ছিলো ঠোঁটের আফিম কার ছিলো তা কে ছিলো সরল সুখে এবং সরল বিষণ্নতায়। কে ছিলো হৃদয় গলে হুড়মুড়িয়ে ক্লান্ত সময় পায়রার ঢং নিয়ে কে ঘাঁড় বাঁকিয়ে, কি নাম যে তার!!?
-
রসের প্যাচাল ০২ / সাইফ আলি
গতরে গতর পাও এর নাম ভালোবাসা ভাবো আমি বলি আংশিক সত্য তা বটে পুরোপুরি প্রেম শুধু হৃদয়েই ঘটে। হৃদয়ে তালাশ দাও সেখানে কে আসন পেতেছে দু’দেশে দু’জন তবু কি দারুণ প্রণয়ে মেতেছে!
-
রসের প্যাচাল ০১ / সাইফ আলি
হৃদয়টা এক আন্ডা হলে কুশুম হতে তুমিই রানী, এমন কেনো প্যাচার মতো করছো নিজের সুরতখানি!? রাগলে তোমার ভাল্লাগে না সত্যি বলতে গাল লাগে না অভিমানের উঠলে কথা গোলাপ তুমি সত্যি মানি।
-
আমরা অপেক্ষায় আছি
তারপর আমাদের ফেরার কোনো পথই খোলা থাকবে না আমরা আমাদের লোভের সাম্রাজ্যে প্রবেশ করছি আমরা তো জানতামনা এমন নয় আমরা তো বিবেককে নির্দয়ভাবে অস্বীকার করেছি! সূর্য উঠলেই অন্ধরা চোখে দেখবে না বাতাস শব্দকে বহন করলেই শুনবে না বধির- হৃদয়ের প্রতিটি শব্দকে অস্বীকার করে আমরা আজ মস্তিষ্কের দাসত্ব মেনে নিয়েছি! এক টুকরো চকচকে সভ্যতার ডিমে তা…
-
অনুকবিতা ০১ / সাইফ আলি
পাতায় পাতায় চোখ পেতেছি ফাগুন তুমি আসলে না তোমায় পেলাম হলুদ শাড়ি তরুণিদের মাথায় মাথায়…
-
হাত ধরেছি অন্ধকারে / সাইফ আলি
এবং তোমার দুঃখগুলো ধুইয়ে দিতেই হাত ধরেছি হাত ধরেছি অন্ধকারে; হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে অন্ধ হলাম অন্ধ এমন দুচোখ বুজে খুব সহজেই পেলাম তোমার হৃদয় হাতে হাতের মুঠোয় তোমার দু’হাত চোখের গভীর শীতল স্রোতে ভাসিয়ে দিলাম আমার ভেলা এবং তুমি সঙ্গে ছিলে!
-
খুড়িয়ে খুড়িয়ে আর কতদূর / সাইফ আলি
খুড়িয়ে খুড়িয়ে আর কতদূর যাবে হে জননী? উল্টেছে পায়েসের থালা, দুধের বাটিটা আমাদের মুখে মুখে সোনার চামচ! শূন্য চামচ করে আয়নার কাজ, মলিন ঠোঁটের ছবি তিলহীন ঠোঁট কাপে কান্নায় ক্ষোভে তোমার ছেলেরা মাগো খাবারের লোভে তোমার আচল বেচে বনে গেছে বিরাট বণিক অথচ গোলায় তার তিনবেলা ব্যাঙের বিলাস!
-
তবুও প্রেম ছিলো / সাইফ আলি
পাহাড় জানলো না মেঘের কোনোকথা ঝর্ণা শুনলো না সমুদ্রের গান তবুও প্রেম ছিলো; আকাশ ভিজে ছিলো প্রেমের বৃষ্টিতে- ফুলেরা বেঁচে ছিলো মাটির ঘ্রাণহীন পাখির বাসা ছিলো পুরোন খড়খড়ে, তবুও ফুল ঝরে মাটির বুক ছোঁয় গভীর প্রেম থাকে পাখির দৃষ্টিতে।
-
একান্ত বাক্যেরা-২২ / সাইফ আলি
তোর আওলা চুলের চঞ্চলতায় ঝরুক রোদ আর বুকের ভিতর বকুল ফুলের ঘ্রাণ জমুক আমি পাখির মতোন ডানায় লুকোয় দুঃখ সব আর রাতের গভীর অন্ধসুখে পথ হারাই।।
-
একান্ত বাক্যেরা-২১ / সাইফ আলি
কালো পাখি জানালায় কালো পাখি বাসা বাঁধে পরাণের ভাজে কালো পাখি গান গায় এবং লুকায় মুখ নিরবে সলাজে…
-
একটা সকাল অন্যরকম হতেই হবে / সাইফ আলি
একটা সকাল অন্যরকম হতেই হবে শিউলি ফুলের শফেদ কিছু স্বপ্ন বুকের বা’পাশটাতে এবং হাতে রোদের তোড়া; একটা সকাল টং দোকানের বেঞ্চে বসে কাক গণনার এবং নানান অসঙ্গতির বাইরে এসে হতেই হবে অন্যরকম যেমন ধরুন রশুন খেতের মধ্য দিয়ে শিশির পায়ে কিংবা নদীর সঙ্গ নিয়ে হাঁটতে থাকার- একটা সকাল বেলকনিতে রকিং চেয়ার শূন্য রেখে পাহাড় ছুঁয়ে…
-
একান্ত বাক্যেরা-২০ / সাইফ আলি
আমিযে প্রেমিক হবো, কথা কবো ভিন্ন কোনো সুরে পোড়া চাঁদ, কখনও সে সুযোগই দিলে না যা ছিলো মনের খাতে সবটুকু আজলায় পুরে তোমাকে দিলাম; তুমি কিছুই নিলে না।
-
তোমাতে ঝরলো আলো / সাইফ আলি
যে আলো চোখের তারায় মাখাও প্রিয় অশ্রু দিয়ে সে আলোর ঝলকানিতে অন্ধ হলাম ঝলমলিয়ে কবিতার শব্দগুলো তোমার মতোই উদাস ছিলো আমি তার বুকের উপর মাথা রেখে যায় ঘুমিয়ে। তুমি কি বিরান পথের শরীর হলে চাঁদনী রাতে তোমাতে ঝরলো আলো নীল কবিতার ছন্দ হাতে আমি সেই ছন্দ নিয়ে বুক পকেটে বুকের কাছে খুঁজেছি শূন্য ছাড়া তোমার…
-
অনবরত তোমার ঢেউ / সাইফ আলি
অনবরত তোমার ঢেউ- আমি হলদে মেঘের মতো ভিজি অনবরত তোমার কথা- আমি মজে থাকি কুয়াশার ধ্যানে তুমি ফিরে যাও ফিরে যাও আমাকে ডেকোনা আমি সাঁতার জানিনা সত্যিই সাঁতার পারিনি কোনোদিনই মাছের লেজের মতো চতুর হৃদয় নিয়ে যারা তোমাতে মেতেছে তারা প্রেমিক; আমি তো কেবল এক সামান্য কবি- তোমার শব্দ খুঁজে কবিতায় গাঁথি।
-
আমরা আমাদের মায়ের আচল ধরে বেড়ে উঠেছি / সাইফ আলি
দেখুন জনাব কোনো আন্তর্জাতিক মানের বেহায়া আমদের দরকার নেই আমরা আমাদের মায়ের আচল ধরে বেড়ে উঠেছি অন্তর্বাসের আধুনিকতায় আমরা অভ্যস্ত হতে পারবো না, আমরা আমাদের বোনের লম্বা ওড়নায় ঘাম মুছে বেড়ে উঠেছি আমরা ভালোবাসতে শিখেছি আমাদের মতো কোরে যেভাবে পাখির বাচ্চাগুলো ঠোঁট ফাঁক করতেই পেয়ে যায় প্রেম যেভাবে মাটির কোলে বেড়ে ওঠে সবুজ শিশুরা। আমরা…
-
উৎসর্গ : এই কবিতা পাখির জন্য / সাইফ আলি
খসে পড়া পালকের পিঠে ধুলো নয়, লেগে থাকে স্বাধীনতার সুঘ্রাণ বাতাসে দোলাও তাকে জীবনের কোলাহল পাবে।
-
পথ হারানোর প্রশ্নই আসেনা / সাইফ আলি
হাতের বাধনগুলোতে শর্ত আরোপ করতে পারো মনের বাধনগুলোতে নয় যদি ভয় পাও সংশয় থাকে সরে দাঁড়াও- পাখিদের চোখের একটা ভাষা থাকে তোমরা তাকে পড়তে শেখোনি পাখিদের ডানার একটা ভাষা থাকে যা তোমাদের আয়ত্বের বাইরে নিজেদের শেয়ালের মতো চতুর ভেবে খুশি থাকা তোমাদের মানায় আমাদের চোখে কেবল রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দেওয়া ঐ ভিতু প্রাণিটি ছাড়া…
-
বিচ্ছিন্ন পায়ের জন্য স্বান্তনা / সাইফ আলি
কবি আঙ্গুল উঁচিয়ে চিৎকার করলেন- ‘শুয়োরের বাচ্চা…’ একপাল শুয়োর চমকে উঠে তাকিয়ে থাকলো ফ্যাল ফ্যাল করে- তাদের চোখে একটাই প্রশ্ন, আমাদের অপরাধ? কবি নিজেকে শুধরে নিয়ে আবারো বলে উঠলেন- ‘কুত্তার…’ নিরিহ কুত্তাটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো- আমার অপরাধ? কবি ফের নিজেকে সংশোধন করলেন। কোনো জানোয়ারের সমকক্ষে রাখা সম্ভব হলোনা তাদের; থাক, তারা মানুষের বাচ্চাই…
-
রাত্রি নিঝুম হয় / সাইফ আলি
রাত্রি নিঝুম হয় উঁকি দেয় চাঁদ কারো বা আবাদ হয় প্রেম কারো বরবাদ- দরজায় খিল বাইরে মিছিল জোনাকির! জানালায় মাথা রাখে শিউলির ঘ্রাণ কুয়াশার জাল কালচে আঁধার রূপালী চাঁদের গায়ে দাগ কাটে বাবলার ঝোপকাটা ডাল। কারো কারো চোখে নেই ঘুম রাত্রি নিঝুম হয়- মৃত্যুর ভয় জীবনের ভয় যাপনের জোড়াতালি ভয়; সংশয় বাড়ে- যেভাবে বাড়তে থাকে…
-
যে আঁধার লুকিয়ে বেড়ায় / সাইফ আলি
যে আঁধার লুকিয়ে বেড়ায় দিনের আলোয় তার কপালে রাত এনে দেয় বিষণ্নতা যে জলের অন্তরালে রুক্ষতারা ভেজায় শরীর সে কবে বুঝতে পারে নিজের মায়া। আয়না কবে মুখ দেখেছে নিজের বুকে বাতাস কবে নিজের সুখে মেললো ডানা দিগন্তে যে চিল উড়েছে তার চোখে কি মূল্য রাখে কাটাতারের ছেদ সীমানা? আগুন পোড়ে আগুন পোড়ায় আগুন বাঁচে ঠান্ডা…