-
বেনামী চিঠি / নবী আজাদ
বাড়ির কোনো খবর পেলে জানিও; কয়টা চিঠি দিলো পিওন? জানতে পারলে বুঝতে পারবো কয়টা চিঠি হারিয়ে গেলো! নিমের ডালে জোড়া শালিক কেমন আছে নাকি ওরা মানুষ শিখে পাল্টে গেছে? নদীর জলে নাও ভাসালো কয়টা ছেলে কয়টা মেয়ে অভিমানে ছিঁড়লো মালা? বাড়ির পাশের মানুষ সবাই কেমন আছে আলো হাওয়া জলের অভাব কেমন করে পার করছে- শুনতে…
-
এই কবিতা নতুন দিনের গানা / সাইফ আলি
(ধারাবাহিক কবিতা) এই কবিতা লেখবো এমন ভাবে এই কবিতা কামড়ে খাওয়াও যাবে এই কবিতা মিছিল নিয়ে এলে শ্লোগান হয়ে ছড়িয়ে দেবে ডানা এই কবিতা নতুন দিনের গানা- মিথ্যে যত ইশতেহারের ভারে নুইয়ে পড়ে আমার মাতৃভূমি ওসব নিয়ে তোমরা থাকো সুখে মিথ্যে কথা বলতে পারো তুমি এটুক শুধু বলতে পারি, শোনো- এই কবিতা বাধতে পারে দানা।…
-
হিরোশিমাবাসীদের উদ্দেশ্যে / আল মুজাহিদী
পূর্ব পুরুষের ইতিহাস ধরে রেখে তোমরাও ইতিহাস হলে। তোমরা দেশের মাটিকে স্বর্গে ভরিয়ে তুললে। জোতজমিভরা সোনালি শস্য আর উন্মুক্ত বাতাস আর তোমাদের অস্থিতে মজ্জায় নেচে ওঠে জীবন্ত নিয়তি। তোমরা মুক্ত হলে অনন্তকালের কুঠুরিতে; আকাশের এবং আকাশের চেয়েও দিগন্ত বিস্ত্ৃত অন্য কোনো অন্তরীক্ষে, অন্তরীক্ষমণ্ডলে তোমার শোকার্ত পতাকা ওড়ে। আজ তোমাদের চোখে মুখে দেখি শোকের জ্বলন্ত স্বপ্ন…
-
বাতাসের মুখে লাগাম দিয়ে / আল মাহমুদ
ইচ্ছে ছিল দেখতে দেখতে যাওয়ার। আমার কৈশোরের পথও ছিল ছায়াশীতল। বৃক্ষ ও পাখির অরণ্যের একঘেয়েমি পেরিয়েই যে নদী তা আমি জানতাম। যেমন জানে ডিমের ভেতরকার পাখির কুসুম। চিরকাল ভেবে এসেছি একটা নদীর লেজ ধরতে পারলেই আমার গন্তব্যে অর্থাৎ মস্তকে গিয়ে দাঁড়াবো। একেবারে ফণার ওপর। এক মধ্য দুপুরের নদী যেখানে বাঁক ধরেছে সেখানে পৌঁছেই দেখি ডাঙা…
-
প্রবাসী বন্ধুর প্রতি / আবুল হাসান
এই তো এখানে আমি একা বসে আছি বন্ধু, তুমি শুধু দূরে চলে গেছো। গাঢ় অন্ধকার হতে জন্তুগুলো আসছে বেরিয়ে সদম্ভ লাঙুল তুলে অতর্কিত তাদের চীৎকার ভীত ত্রস্ত করে দেয় ব্যস্ত সব সংখ্যা জোড়া দিয়ে এ কথা জানাতে চায় সর্দি, কাশি, গলা বসে গেছে, কেউ এসে জন্তুটার কান ধরলোনা! আমি শুধু একা একা সন্ধ্যা কাটালাম! মনে…
-
অনুঃস্বর / সাইফ আলি
যখন তোমার একতারাটায় সুর ওঠে না ভাবনাগুলো হর-হামেশা জট পাকায় মাটির কাছে গিয়েও কোনো সুখ মেলে না তখন তুমি আকাশ হয়ে দেখতে পারো তারার পিঠে মনের কথা লেখতে পারো- যখন তোমার ব্যালকোনিতে সূর্য ওঠে কিন্তু ভীষণ অন্ধকারে সাঁতার কাটে দরজা খুলে দেখতে কেমন বুক কাঁপে জমতে থাকে বিষণ্নতা চা’র কাপে তখন তুমি সাগর হয়ে দেখতে…
-
প্রিয়তমা চোখ দুটো খোলো / সাইফ আলি
প্রিয়তমা চোখ দুটো খোলো, ওই চোখ যুদ্ধ দেখুক তা কি আমিও চেয়েছি কোনোদিন! ওই চোখে শোভা পায় কাজলের রেখা, অভিমানের অশ্রু; কান্নার নয়, কষ্টের নয়; ব্যথা বেদনার নয়, কক্ষনো নয়… গোলাপের দলিত এ পাপড়ির নিচে জেগে আছে ভয়ার্ত চোখ, কেবলি বোমায় যেনো ছিন্ন প্রেমিক তাকে ডেকে গেছে, আয়- কেবলি কামান যেনো দেগে গেছে কেউ তার…
-
কে তুমি / সাইফ আলি
কে তুমি অধর ছুঁয়ে নিংড়ানো তৃষ্ণার জল কে তুমি পেখম তোলো গহীনেরও গহীন ভেতর বৃষ্টি তোমাকে ছোঁবে নাকি তুমি বৃষ্টিকে সে বাহাস দূরে রাখো ঠেলে, তার আগে বলো শুনি, হৃদয় কুঠুরি ঘেটে প্রেম ছাড়া আর কি কি পেলে?? তোমাকে চিনি তো আমি, দেখেছিও হয়তো বা ছুঁয়ে শাদা-কালো পরিচয়, রঙিন অন্ধকারে করো তবু বাস- বাঁধানো ছবির…
-
আমি কি ঘুমাবো / সাইফ আলি
পৃথিবী, তোমার অন্ধকারে কি আছে গোপণ কষ্টেরা আছে? তুমি রোজ কাঁদো? শাদাশিদে স্বপ্নের ভেঙে যাওয়া আছে? পাওয়া আছে; না পাওয়ার ব্যথা? তাহলে তো তুমিও মানুষ; মানুষের মতো… আমার যে ডানপিটে চোখ চারিদিকে খুঁজে ফেরে স্বপ্নালু রোদ ক্লান্তির ঘুম এসে জড়িয়েছে তাকে; আমি কি ঘুমাবো? ঘুমালে কি সফলতা আসে…?
-
কবি সেই কবিতার ক্যানভাস / সাইফ আলি
প্রকাশিত কবিতার ভীড়ে কখন লুকিয়ে ফেলে নিজেকে নিজেই এক অযাচিত গোপন কবিতা, পাঠক পড়েনি তাকে- প্রকাশক করেনি প্রকাশ; ডায়েরির পাতা থেকে কখন কিভাবে ঢুকে গেছে যাপিত জীবনে; কবির ছায়ার মতো এখন সে অভিন্ন কেউ। কবি সেই কবিতার ক্যানভাস হয়ে, ঘর থেকে বের হয় রোজ…
-
রাত তুমি প্রিয়া হও / সাইফ আলি
তারার অলংকারে সাজো তুমি রোজ ভালোবেসে আমি বলি- রাত, দিনের ক্লান্তিগুলো মুছে দিতে দিতে ঘভীর অন্ধকারে নিজেকে হারাও। রাত তুমি প্রিয়া হও, আমি হই একান্ত প্রেমিক তোমার…
-
প্রেসক্রিপশন / সাইফ আলি
রোগী: কাল রাতে চুপিচুপি কষ্টরা এসে ঝাপিয়ে পড়লো এই পোড় খাওয়া শরীরের পর দপ দপ জ্বলে ওঠা মুমূর্ষু মাথা তুমুল যন্ত্রনায় ছটফট করে, কেউ নেই- কোথাও তখন; অথচ সবাই ছিলো, চারপাশে; পাশের বালিশে ছিলো প্রিয়তমা নিবিড় ঘুমিয়ে। চিকিৎসক: আহত শরীরটাকে আর বেশি কষ্ট দিও না মনটাকে রেখে আসো ফরমালিনে ডুবিয়ে যতদিন না এর একটা বিহিত…
-
দৃষ্টি এড়ায় না / সাইফ আলি
ফেলে দিতে চাইলেই ফেলে দেয়া যায় না মাঝে মাঝে কিছু কথা ভাষা খুঁজে পায় না তাই বলে কথা নেই ভাবনাটা ঠিক না হৃদয়ের কথাগুলো চেপে রাখা যায় না। কিছু কথা চোখ বলে, কিছু বলে কেউ না; ঘুমের পাড়ায় জাগে স্বপ্নের ঢেউ না? সেই ঢেউ কোনোদিন ছুঁতে পারে হাতটা? কিন্তু সবাই বোঝে গভীর আঘাতটা। নিরবে যে…
-
স্বপ্নশূন্য হাতে / সাইফ আলি
আজ বহুদিন স্বপ্ন দেখি না- স্বপ্ন দেখি না রাতে, স্বপ্নশূন্য হাতে হাতড়াই মানিব্যাগ… আজ বহুদিন আড্ডা জমে না আড্ডা জমে না আর, বিয়ে করি নাই তবু আমাদের ব্যাচেলার সংসার চালে ডালে মিলে খিচুড়ি পাকায় ব্যস্ততা একাকার… আজ বহুদিন আকাশের নিচে একান্তে হাঁটা হয় না, বিকারগ্রস্থ মস্তিষ্কটা পোষমানা এক ময়না- যেদিকে ভাবাই সেদিকেই ভাবে যেভাবে দেখাই…
-
চোখ, কান, নাক ও হৃদয়বিরোধী কবিতা / সায়ীদ আবুবকর
চোখ না থাকলেই বোধহয় ভালো হতো; কান না থাকলেই, নাক না থাকলেই, এবং হৃদয় না থাকলেই বোধহয় ঝামেলা হতো না এত এই জাহান্নামে। শুধু নষ্ট, নোংরা আর অপবিত্র দেখতে দেখতে সূর্যোদয় হয় এখানে প্রত্যহ; শুধু হত্যা, খুন, রক্তপাত, ভণ্ডামি ও কূপমণ্ডুকতা দেখতে দেখতে সূর্য ডুবে যায়; তবু যদি রাত্রি হতো কবরের রাত! দুচোখ পীড়িত করে…
-
নিসর্গ / আবুল হাসান
ত্রিকোন চক্ষু এঁটে খণ্ড অবয়বে, যে বোধ বিস্মৃতি খুঁজে, জরাক্রান্ত ধুলো, বস্তি, বিকারগ্রস্থ আড্ডায় কিংবা উৎসবে নেমে উঠে, উঠে নেমে, বিস্রস্থ বার্ধক্য খোঁজে ঘন বরফের মতো শীতল দুর্বাক্যে যার মুকের সেমিজ নিবিষ্ট আনন্দে ফোলা, তার অনাদৃত চোখের আঁধারে অনেক সবাক ছবি বিস্মৃতির পথ পায় জানি। এও হতে পারে, যদি অস্থির মণ্ডলে নিদ্রালু পূজার বর্তে ছেঁড়া-ফাটা…
-
ভাবছোটা কি / সাইফ আলি
ভাবছোটা কি খুব সোজা এক প্রেমিকের দহনজ্বালা বহন করা… পাপড়িঝরা একটা ফুলের বৃন্ত যখন আকাশ দেখে নাটাইছাড়া একটা ঘুড়ি উড়তে থাকে বাধনহারা একটা পাখি শুন্য ঘরে সন্ধ্যা নামায় একলা বসে নিস্ব চাষা বুকের ভেতর একটা করুণ কাব্য পোষে সেই চাষাটার বুকের জমিন আবাদ করা এতই সোজা চোখের পাতায় টলমলিয়ে জমতে থাকা অশ্রু বোঝা- ভাবছোটা কি…
-
চাইনি ফেলানী চাইনি / সাইফ আলি
চাইনি ফেলানী চাইনি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদী হতে চাইনি দুঃস্বপ্নের খোরাক জমাতে চাইনি সংসার হবে, সাবলিল সুখে ভাসবো দু’জন- এইসব নিয়ে ভাবনার কোনো ফুসরত খুঁজে পাইনি… ভূগোল পড়েছি বার বার; কিন্তু মাথায় কিচ্ছু ঢোকেনি; ঢুকবে কি করে কাঁটাতার দেখে সাহস করেনি হয়তো- সীমানায় কিছু চোকিদার দেখে পালিয়ে গিয়েছে নয়তো। চাইনি ফেলানী চাইনি, বিবেকের ’পর বর্ণবাদী এ…
-
যদি প্রতিদিন ঈদ হতো / সায়ীদ আবুবকর
ল্যাংড়া ফকিরগুলো কত খুশী, অন্ধ ফকিরগুলোও খুশিতে অবাক: একেই তাহলে বলে বুঝি লাক- তারা ভাবে; পড়ছে বৃষ্টির মতো ঝরে দু-টাকার পাঁচ টাকার কয়েন; কেউ কেউ চিল্লিয়ে ‘এই যে চাচা, নেন’ বলে ছুঁড়ে মারছে দশ টাকা বিশ টাকা পঞ্চাশ টাকার নোট; নিজের চোখকেও হতে চায় না বিশ্বাস-এরকম অন্ধ খোঁড়া অচল লোককেও দিতে পারে মানুষেরা এত টাকাকড়ি;…
-
সমস্ত কবিতার শেষে / আবুল হাসান
পৃথিবীর সব কাব্য লেখা হয়ে গেলে, আমার টেবিলে কিছু শব্দ পড়েছিল ”একান্ত মলিন, জীর্ণ!” সংগ্রহ করে রজনীগন্ধার পাশে রেখে দিয়ে ফুৎকার দিলাম, “সমস্ত ছড়িয়ে পড়ে, ক্রমাগত লিখে চলে নক্ষত্রের কবিতা” শুধু এক নাম, সে তোমার নাম!