-
শূন্য কবিতা / সাইফ আলি
বহুদিন ভালোবেসে কবিতা লেখিনা, দ্রোহের আগুনে পোঁড়ে অক্ষর আমার- বহুদিন ভালোবেসে তোমাকে দেখিনা, তুমিকি কবিতা হয়ে দেখা দেবে আর?
-
তারা আর ঘুমাতেই যায় না কখনো!! / সাইফ আলি
ধুয়ে ফেলো, এ রক্ত যদি লেগে থাকে ঘুমাতে দেবে না। এ রক্ত যতটুকু ভেজাবে জমিন কামারের হাপড়ের মতো ফুশে ফুশে উঠবেই জানি, এ রক্ত কোনোদিন ঘুমাতে দেয়নি- মানুষতো বিছানায়ও মরে সেই মরা ঘুম থেকে জাগে না কখনো, আর যারা রাজপথে গরম রক্ত ঢেলে মরে তারা আর ঘুমাতেই যায় না কখনো!!
-
লাশেরাও কথা কয় / সাইফ আলি
লাশেরাও কথা কয় লাশেরাও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সময়ে-সময় তোমরাই বুঝতে পারো না। কাশ্মীরী লাশ দ্যাখো দগদগে ক্ষতে তার জ্বলে আছে যেই দাবানল, একদিন সেও ঠিক বিদ্রোহী হবে; তারছেঁড়া জালিমের ঘাঁড় ছেঁড়া সময়ের দাবি, সে সময় বহুদূরে নয়। বিশ্বাসী লাশেদের লাশ বলে ভুল করে বসো; তোমাদের চামড়ার চোখ, কোনোদিন সূর্য দেখে না, দেখে শুধু সূর্যের আলো।…
-
আমাদের কথাগুলো আমাদের নয় / সাইফ আলি
আমাদের কথা ছিলো ভালোবাসবার আমাদের কথা ছিলো সহজ-সরল আমাদের কথা ছিলো বাংলার কথা মাটিমন নদীপথ জীবনের কথা আমাদের কথা ছিলো দুধে আর ভাতে, অথচ এখন…. আমাদের কথাগুলো আমাদের নয়, ভীনদেশী কাঙালের মতো… আমাদের নদীগুলো আমাদের নয় অন্য কারোর কথা বলে অবিরত!!
-
ডুবে যাই শুধু / সাইফ আলি
ডুবে যাই শুধু হায়, আমি কেনো এ পানিতে ভিজতে পারি না। সাঁতরাই শুধু, তবু কেনো এই ঢেউ ভাসায় না মোরে!! আমি কি তলিয়ে গেছি অথৈ সাগরে, অচেতন ঘোরে? আমি কেনো এ ব্যথায় কাঁদতে পারি না…?? পানি নাই চোখে! অথচ সেদিন শুধু বাধভাঙা অশ্রুর ঢেউয়ে কিরকম ভাসলাম সামান্য শোকে…। খুব বেশি সহনীয় হয়ে গেছে চোখ এখন…
-
যে আগুন জ্বালাও তুমি / সাইফ আলি
যে আগুন জ্বালাও তুমি সে আগুন তোমার ঘরেও লাগবে লো সে মরণ বাঁশি ঠিকই তোমার কানেও বাজবে যাতে মরণ খেলায় সুর তোলো… যে পাপের আগুন জ্বেলে গরম তেলে ভাজলে সুখ সে পাপে পুড়বে তোমার মিথ্যে মায়ার সব শালুক। যে অহংকারের তাপে বাক্যালাপে দারুণ তুমি অহংকারি সে তোমার প্রথম পতন, বলতে পারি… যে টাকার গন্ধে তুমি…
-
কাশ্মীর জেগে আছে তবুও / সাইফ আলি
কাশ্মীর কাশ্মীর কাশ্মীর ভিজে আছে রক্তে কাশ্মীর জেগে আছে তবুও কাশ্মীর কাশ্মীর কাশ্মীর জালীমের লাল চোখ মানবে না কোনোদিন মুজাহিদ… কাশ্মীর ভয় নেই এ রাতের সমাপ্তি ঘটবেই বুলেটের পাশাপাশি বিজয়ের সূর্যটা ওঠবেই পাজরের ক্ষত থেকে যে নদীর শুরু হয় তামাম ভাসায়ে নেয় সে নদী, যে চোখ যায় না নিভে অত্যাচারের ভয়ে সে চোখ নামাতে পারে…
-
সেই চোখে ওরা তবু মানুষ দেখে না / সাইফ আলি
ওরা যারা মানুষের রক্ত নিয়ে করে ছুড়াছুড়ি মানুষের তাজা খুন হাতে মুখে মাখে ওদেরও দু’হাত আছে মানুষের মতো সেই হাতে ওরা খেলে কসাইয়ের খেলা; ওদেরও দু’চোখ আছে মানুষের চোখ সেই চোখে ওরা তবু মানুষ দেখে না।
-
আমার এখন প্রেম হয়েছে লাশের সঙ্গে / সাইফ আলি
আমার এখন প্রেম হয়েছে লাশের সঙ্গে প্রেম হয়েছে ভাগ্য এবং তাশের সঙ্গে তোমরা যারা লাশ দেখনা ভিন্নমতের কাল তাদেরও ঘটবে মিলন বাঁশের সঙ্গে মতবাদের জাল ধরেছে রুই কাতলা আমরা পুটি কিংবা ঝায়া চিন্তা কিসের সবাই মরে, মরছে তাতে কি আসে যায় বিষ খেয়েছি, আমার কি দোষ; দোষ তো বিষের আমার এখন প্রেম হয়েছে লাশের সঙ্গে…
-
হঠাৎ করে আটকে গেলো পা দুটো / সাইফ আলি
হঠাৎ করে আটকে গেলো পা দুটো- রক্তে ধোয়া ঘুমিয়ে ছিলো স্বাধীনতার ছা দুটো!! ক্যামনে আমি ডিঙায় তাদের, ক্যামনে বলি থাক পড়ে; ক্যামনে বলি ও কিছু না, এবার ঈদের চাঁদ উঠো…
-
তবু এই মানুষেরা / সাইফ আলি
মৃত্যু কি আমাদের কাউকেই ফেলে রেখে যাবে? কণ্ঠ কি চিরদিন বাজবে তুমুল বল মন… তবু এই মানুষেরা মিছেমিছি মৃত্যুর করে আয়োজন। তবু এই মানুষেরা উগ্রতা বুকে ধরে কাটায় জীবন…
-
তবু তারা জেগে থাকে / সাইফ আলি
: তুমি কেনো রোজ রোজ ঘুমাতে দাওনা, সবাই ঘুমিয়ে পড়ে রাত নামতেই তুমি কেনো সারারাত জেগে থাকো বলো তুমি কেনো ঘুমানোর তালিম নাওনা? এই ঘন কালো রাতে শেয়ালেরা ছাড়া আর কেউ জেগে থাকে শুনেছো কখনো? এই ঘন কালো রাত হুতুমের সাথে জেগে জেগে কাটানোর খায়েশ তোমার? ( তবু তারা জেগে থাকে সমস্ত রাত রাতের প্রহরি…
-
নংদনু বালো না / সাইফ আলি
ভাত কে বলে বাত আর খাবো কে বলে তাবো, ছোটো ছোটো কোমল দু’পায়ে হাটার প্রশিক্ষণ নেয়; আমি তাকে বললাম… ‘ রংধনু একে দাও একটা…’ নংদনু তি?? আমি তাকে রংধনু দেখাতে অপেক্ষায় থাকলাম… বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তাম… আতিপাতি খোঁজ করতাম… রংধনু মেলেনি তবুও। হঠাৎ একদিন রংধনু দেখে দৌড়ে গেলাম বাড়িতে, বললাম- তোমাকে আজ রংধনু…
-
দৃষ্টিভ্রম / সাইফ আলি
অমানবিক কোমল তসবির তোমার ভেসে থাকে মেঘের মুলুকে কালোকেশি ঝড় আসে, বৃষ্টি হয় ঝরে পড়ে শফেদ বরফ… আর, সেই শীলাবৃষ্টিতে ভিজে একাকার কাকের মতো আমি অবাক বিষ্ময়ে বারবার করি আবিষ্কার- এলোকেশী মেঘদলে তোমার প্রতিকৃতি ঝাপশা-ঘোলা-অস্পষ্ট অথচ কি বাস্তব কি নিপূণ সুক্ষতায় ধরা দেয় আমার দু’চোখে – নিজেকে বোঝাই- এ তোমার দৃষ্টিভ্রম এ তোমার ভ্রান্ত কল্পনা…
-
যখন হতাশা চোখের পর্দা / সাইফ আলি
যখন হতাশা চোখের পর্দা হয়ে পথ করে দেয় ঝাপসা অন্ধকার তখন আশার কাশফুল ফুটে থাকে পুরোনো বাড়ির জানালার কার্নিশে। যখন স্বপ্ন বোমার বিস্ফোরণে ক্ষত বিক্ষত দুপুরের রাজপথ তখন সেপথ চিৎকার করে বলে- স্বপ্ন অমর; ধ্বংস করবে কিসে? যখন বেহালা কিংবা বাঁশীর সুরে বাজে নিশীথের ঘুম পাড়ানোর গান তখন ভোরের পাখির কণ্ঠে শুনি চেতনার সুর প্রকৃতির…
-
মৃত্যুপথযাত্রী জীবন / সাইফ আলি
নাকের প্রান্তে যে বাতাস এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে মাত্র সে বাতাস তুমি যতটা ইচ্ছে শুষে নাও বিষপাত্র; কালকে যখন ফুরাবে তোমার দমের বড়াই থামবে লড়াই। খুব ভালো হয় যদি ইতিহাস ভুলে থাকা যায় জাগতিক এই আয়েশি বাতাসে ফুলে থাকা যায় এক জীবনের স্বার্থকতার মূলে থাকা যায় কিন্ত কেমন জীবন লাগেনা জীবন জাগাতে ক্রমেই এক পা পিছিয়ে…
-
সংলাপ / সাইফ আলি
:তুমি কি শুনেছো মেঘ যন্ত্রটা বিকল হয়েছে রাতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাটা অসম্ভবের খাতে ঘুরে গেছে, তবে বৃষ্টি আনার ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়ো চারিদিকে এই খরার রাজ্য বেড়েই চলেছে আরো। তুমি বলেছিলে সম্ভাবনায় ভাসছে বর্তমান আগামীর দিকে তাকিয়ে ভীষণ হাসছে বর্তমান তুমি কি তাহলে সত্যের থেকে বহু দূরে আছো পড়ে তোমার সকল আশার পিলার কোন ঝড়ে গেলো…
-
চোখের বয়ান / সাইফ আলি
চোখের বয়ান শুনে থেমে যায় মেঘ ঝরে পড়ে অবিরাম জলজ আবেগ মুখ থেকে তবু তার সরলো না রা দ্বিধার দোলায় তাই দুলছে দু’পা শরীর তো থেমে গেছে তবু এই মন চুপি চুপি প্রণয়ের করে আয়োজন…
-
-
ইনকিলাব / সাইফ আলি
যখন তুমি ভাবলে কেউ আর নেই বৃক্ষের মতো, আগলে রাখে ছায়া দেয় বুক চেতিয়ে দাঁড়ায় প্রচন্ড রোদে… বাগ দেয়া মোরগেরা শহরের মতো ঘুমিয়ে পড়েছে ভোরে, ভাঙাবে না ঘুম। রক্তে মরিচা ধরেছে ভেবে অসহায় এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে বসে গেলে সমান্তরালে মাটির… মাটি তোমাকে শুনিয়ে দিলো শত সহস্র বছরের ইতিহাস- ইনকিলাব, ক্ষয়, পরাজয়, অতঃপর আবার ইনকিলাব……