-
তিনি / মুসা আল হাফিজ
যে দিন হলাম আমি সিনাইয়ের তূরদগ্ধ হয়ে হই সেই মুগ্ধ উদ্ভাসসত্ত্বায় জেগে উঠলো নিখিলের সুরজীবনের নদী হলো তোমার উচ্ছাস যে দিন পেলাম সেই হৃদয়ের স্বাদআহা সে কী দীপ্ত মুগ্ধ স্নিগ্ধ শিহরণপ্রকৃতির রক্তজলে তারই ঐকনাদবৃষ্টির হরফ লেখে সেই বিবরণ বিগত প্রহরে ছিলো মহাকাল কাছেবুকে তার নদীর মতো গীতিকার ঢেউমাতামাতি করে চির ব্রীড়াতুর মাছেঅনন্তের চিত্রকর তিনি ছাড়া…
-
নিবেদনের কবিতা / মুসা আল হাফিজ
এভাবে না হয়, ওভাবেই হোকদূরে ঠেলেও ভালোবাসো অন্তত তুমি যখন প্রত্যাখান দিয়ে স্মরণ করো, আমি খুশিতুমি যখন যন্ত্রণা দিয়ে খুশি হও, আমি খুশি তুমি যখন তিলে তিলে পিষে ফেলোতখন আমার আনন্দকে বিকাশের বিভূতি দাও হত্যা করো যেভাবেই চাও শুধু অমার চিৎকারকে করো শুদ্ধশুধু আমার রোদনকে করো প্রেম
-
তোমার আচরণ / মুসা আল হাফিজ
তোমার দেয়া বিষই আমার বিষনাশকতোমার তীব্রআঘাতগুলো আমাকে আগুন বানালো বলেকোনো আগুন আমাকে আর পুড়াতে পারছে না! নেকড়ের অরণ্যে আমাকে ফেলে দিলে বলেইনেকড়েরা হয়ে গেলো আমার খাবার! তুমি আমার সাথে কোনোদিন মন্দ আচরণ করোনি অসুখে মরতে মরতে মরি নাকতো নিপুণ কুদাল আমার কবর খুড়ে চলছে!কিন্তু বেলা শেষে দেখা গেলো অসুখই করে দিলোআমাকে অজেয়! এই যে আমাকে…
-
তখনও লিখব প্রেমের কবিতা? / মুসা আল হাফিজ
অস্তমিত সূর্য আমার থালায়মাথার ওপর দিগন্তের ছেড়া ছেড়া মেঘআমার ডানে বর্ণহীন দিন বামে ভয়াল কালোবিবরদূরে,সভ্যতার গোলাঘরে ডাকাতি চলছে প্রহরব্যাপীবেলাশেষের হু হু হাওয়া সেই সংবাদ জানিয়ে গেলো যখনতখনও লিখবো প্রেমের কবিতা? বধির সাপের মতো দিবসের ঘরে নেমে এসেছে প্রলয়ফসল তোলার স্বপ্নকে ঘিরে ধেই ধেই করে নাচছে বিনাশি প্লাবনউঠানে প্রত্যাশার পায়চারী আর নেই,সেখানে অগ্নিবৃষ্টি নিয়ে যখন ধেয়ে…
-
তোমার প্রতি / মুসা আল হাফিজ
এই সুহাসিনী চাঁদ তোমার মুখের চেয়ে মোহনীয় নয়এই অমাবস্যার বন তোমার কেশের চেয়ে অন্ধকার নয় তোমার আচলের মেঘে জ্বলজ্বল করছে দশটি অঙ্গুলির শূভ্রশিখাতোমার দৃষ্টিতে আছে পৃথিবীর সেরা মৌচাকভ্রুলতার গোপন তরবারি তাকে পাহারা দিচ্ছে! তোমার হাসির ভেতর তিন লক্ষ গোপন তিরন্দাজধনুক ছাড়াই তারা বিদ্ধ করে বীরের হৃদয়! তোমার বুকের ভেতর নিখিলের জীবন জমে আছেতোমার দুগ্ধে আছে…
-
দার্শনিকের প্রতি / মুসা আল হাফিজ
হে দার্শনিক তোমার কথায়মর্ম আছে সূক্ষ্মকিন্তু জগত এখন ভয়ালজটিলতায় রুক্ষ ফুলের চাষে লাগুক সবাইএটাই তোমার মুখ্যকিন্তু কীটের বিনাশ সাধনজানো না হায় , দুঃখ !
-
এখানে এখন / মুসা আল হাফিজ
বলা হচ্ছে, আমরা বেঁচে আছিএ গুজবে বিশ্বাস করি নাআপনারা বেঁচে আছেন, এও গুজবআমাদের কেউ গুরস্তানে দাফন করেনি!আপনাদের কেউ শববাহকের হাতে তুলে দেয়নি! কেন দেবে? এখানেএখনআমরা সকলেই যার যার গুরস্তানআপনারা সকলেই যার যার শববাহক
-
পাখিরা কথা কয় / সাইফ আলি
পাথর চুপ থাকে পাখিরা কথা কয়পাখিরা কথা কয় শিকারী গুলি ছোড়েশিকারী গুলি ছোড়ে পাখির লাশ পড়ে,পাখির লাশ পড়ে, পাখির লাশ পড়ে…হঠাৎ একদিন পাথর কথা কয়,পাখিরা চুপ থাকে পাথর কথা কয়! সবাই বিস্ময়ে লাশের চারপাশে সেদিন জড়ো হয়,কিভাবে চুপ থাকে পাখিরা আর সবপাথর কথা কয়!? পাথর চুপ থাকে পাখিরা কথা কয়পাখিরা কথা কয় শিকারী গুলি ছোড়ে……
-
এলোমেলো মেঘ ওড়ো / সাইফ আলি
এলোমেলো মেঘ ওড়োযেদিকে ইচ্ছে যাওতোমার তো নেই মানা;আকাশ তোমার বাড়ি। আমিও তোমার মতোযদি পারতাম উড়ে যেতে;যদি পিছু না ডাকতো আমারএই শূন্য ভাতের হাঁড়ি! ২০/০৮/২২
-

কেনো সে দিলো ফাঁকি / সাইফ আলি
মাটির ঘর ছেড়ে তুমিও বের হও আবার ঘরে ফেরোফেরার কথা ছিলো সেদিন ঘর ছাড়া সুবোধ বালকেরও;শালিক তুমি এই পদ্মা বালুচরে কি সুখে বাস করোহঠাৎ ঢেউ ভাঙে তোমার ঘরদোর তবু বিশ্বাস করোযে নদী ঢেউ বুকে তুমুল বিত্তের বইছে সারাবেলামানতে হবে তার আঘাত কিছু কিছু, কিছুটা অবহেলা?অথচ মা’র মন কেমন দেখো দেখি, কিছুই মানছে না;নদীর স্রোত কেনো…
-
সবকিছু বদলায় / সাইফ আলি
সবকিছু বদলায়, তুমি আমি বদলাবো কিসে?কোন সুরে, দাহে, কোন বিষে?এভাবেই একদিন সব ছেড়ে, একদম সবইএকসাথে যাবো এই দলিত মাটির সাথে মিশে। রঙ রূপ বদলায়, বদলায় শব্দের সুখবদলাতে বদলাতে কাদা কাদা হয়ে যায় পাথরের মুখতুমি আমি বদলাই মুখোমুখি পাতাদের মতোএকসাথে, একসুরে; না হলে কি ভিন্ন কিছু হতো? ২৭/০৭/২২
-
অনুকবিতা ৪৪ / সাইফ আলি
কোন কারণে রাগ করো মনকোন কারণে কষ্ট পাওইচ্ছে করেই ভাসাও যখনউল্টোস্রোতে তোমার নাও। ০৪.০৬.২২
-
রূপকথা / সাইফ আলি
:এক দেশে এক রাজা ছিলোতার ছিলো এক রাজকুমারী;রাজকুমারী পরীর মতো… :আচ্ছা বাবা ওসব রাখোযেই পরীটা ট্রাকের নিচেসেদিন বসে চাল কুড়োলোতার কি হলো?
-
পরিচয় / সায়ীদ আবুবকর
আমার কোথাও যাওয়ার নেই। আমি এইখানে পড়ে আছিবট-পাকুড়ের নিচে, হিজলছায়ায়, বঙ্গ-উপসাগরের পাড়েকত কাল মহাকাল। নুহের নগর থেকে আমি আসিয়াছি;আমার শরীরে হ্যামের শোণিতধারা। আমার অস্থিতে-হাড়ে তাঁর পুত্র হিন্দের উজ্জ্বল উপস্থিতি, যাঁহার ঔরশে ছিলো বঙ।পিতা বঙ থেকে আমি এই বঙ্গে, বয়ে যাই তাঁরই উত্তরাধিকার।আমার কোথাও যাওয়ার নেই। পাখি আর আকাশের নানা রঙদেখে দেখে আমার দিবস কাটে। কিভাবে…
-
দ্রাবিড় হৃদয় / সায়ীদ আবুবকর
যদি শুকনো পাতার মতো টুপ করেঝরে যাই আজ ভোরে,নারকেলের পাতায় বসে জটলা করবে বুঝি কয়েকটি কাকআর মেঘ ছুঁয়ে উড়ে যাবে দুধসাদা পাখি এক ঝাঁক। কোথায় যে উড়ে যায় পাখি, কোথায় হারিয়ে যায় নদীর জোয়ার!হায় বেদুইন, যে-উটের কুঁজো পিঠে হয়ে আছো নিশ্চিন্তে সোয়ার,সে-উট থামবে কোন্ দিগন্তের পারে?জীবন যে-সুর তোলে সারা দিন সেতারের তারে, কে জানে কোথায়…
-
হে মধুসূদন / সায়ীদ আবুবকর
তোমার দুচোখে দিয়েছিল ঢেলে ঘোরমিল্টন, পেত্রার্ক, হোমার, দান্তে ও শেলি;আমার দুচোখে ঢেলে দেছে সেই ঘোরআমারই গৃহের শিমুল পলাশ বেলি। তুমি ছুটেছিলে আটলান্টিকের পাড়ে,হেঁটেছিলে একা শেক্সপিয়ারের বাড়ি:কবিতার নেশা জাগলে মজ্জায়-হাড়েআমি ছুটে যাই তোমার সাগরদাড়ি। তুমি ফিরেছিলে, যেন বীর, হাসিমুখে,বিপুল বৈভব এনেছিলে হাত ভরে;আমার জীবন কেটে যায় সেই সুখে,কাটে দিনরাত কবিতার মহা ঘোরে। তুমি গিয়েছিলে শেক্সপিয়ারের বাড়ি,আমি…
-
গ্রামেও শহর চলে এলো / সায়ীদ আবুবকর
গ্রামেও শহর চলে এলো। নিশীথে নামিয়ে সূর্যোদয়ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে ছুটে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি।শরীল ভালো তো, বাপ?’ উঠোনে দাঁড়িয়ে মহিরের মা কুয়েতে কথা কয়,কী আর করবো বল-বসে বসে বেলছিলাম রুটি- সৈয়দ বাড়ির ছাদে শোভা পায় ডিশের এ্যান্টেনা;মোবাইলে কান লাগিয়ে গফফার-গফুর-আনিচকামলা খাটতে যায় মাঠে। দুচোখ ঝলসে যায়-দেখলে যায় না চেনাপিচঢালা পথঘাট-নিবিড় নৈঃশব্দ ভেঙে ট্রাক-জিপ ছুটে যায়-জ্বলজ্বল করে…
-
ফিরে যাই শৈশব ও কৈশোরে / সায়ীদ আবুবকর
আমার শৈশব বেলের আঁঠার মতো আমার সর্বাঙ্গে লেগে আছে।সর্ষের তেলের মতো আমার কৈশোর সারা গায়ে মেখে নিয়েআমি যেন তৈরি হয়ে আছি ঝাঁপ দেওয়ার জন্যে দিঘির শীতল জলে। দেশলাইয়ের বাক্সে ডাঁশমাছি ভরে গান শোনার রোদেলা দিনগুলো,কাঠের গুলতি দিয়ে মাঠে মাঠে পাখি মারার বিফল সংগ্রামআর গাছের খোঁড়লে দোয়েল ও মাছরাঙার ডিম খোঁজার সুস্মৃতিহৃদয়ের মধ্যে এসে খালি আটকে…
-
কারবালা ১৯৭৫ / সায়ীদ আবুবকর
পাষাণ সীমার কাঁটে খঞ্জরে ইমামের শির-কাঁদে দুলদুল, কাঁদে মা ফাতেমা জান্নাতে বসে;বুক চাপড়ায় কুলমাখলুক সারা পৃথিবীর,আবার জগতে এলো কারবালা, হায়, কার দোষে! শহিদের খুনে বুড়িগঙ্গার পানি হলো লাল,ধানমন্ডির রাজপথ গেল ডুবে সেই খুনে;ঘুঘুরা বিষাদে হিজলের ডালে কুটছে কপাল,প্রাণের পতাকা খামচে ধরেছে প্রাচীন শকুনে। হায়, শেষ রাতে ঘুঘু কেন কাঁদে ঘুম থেকে উঠে?কোথা থেকে এলো পুরনো…
-
একটি হত্যাকাণ্ড ও দেশপ্রেম / সায়ীদ আবুবকর
তারা তাকে হত্যা করেই ফেললোকারণ তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যেসে তার জবান খোলেনি একবারও। সে দাঁড়িয়ে ছিলো তার পুরোনো কাস্তেটি হাতে নিয়েধানখেতের মাঝখানে।তার মুখভরা ছিলো ঈশা খাঁর দাঁড়ি।সে কোনোদিন স্কুলে গিয়েছিল বলে শোনেনি কখনো কেউ।সত্তর বছর ধরে এ গাঁয়ের আলো ও বাতাসেরৌদ্র ও বর্ষায়ফলন্ত বৃক্ষের মতো বেঁচে ছিলো সে। রাজনীতির আড্ডায়, ফুটবলের মাঠে কিংবা চায়ের…