-
আত্মার সংকটে / সাইফ আলি
তোমার বাগানে যে ফুল ফোটেনি তার দিকে কেনো দৃষ্টি তোমার; তুমি কি ভুলেছো শত বছরের মাটি মানুষের কৃষ্টি তোমার? তুমি কি ভুলেছো ধানের খেতের আইল মাড়িয়ে ছোটা রাখাল তুমি কি ভুলেছো আম মৌসুম, জাম, লিচু আর তাল কাঠাল- তুমি কি ভুলেছো পিঠার আসর, দেশি মোরগের গোস-রুটি, বৃষ্টি দিনের গরম খিচুড়ি, নারকেল পিঠে; হুটোপুটি!! গরুর দুধের…
-
দালাল বলছি / সাইফ আলি
আজকে আমি বাক্যালাপে সংযত খুব বেশি কারন হলো একূল-ওকূল দু’কূলেতেই ঘেষি, তোমরা বলো দালাল তাতে যায়না আমার কিছু চিপায় পড়ে তোমরা ছোটো আমার পিছু পিছু। পরস্পরের মুখ দেখাটা তোমরা বলো পাপ ঝড়ের বেগে বেরিয়ে আসে পাপের মহা বাপ, তোমরা শালা এমন মানুষ- কান থাকতেও কালা চোখ থাকতেও অন্ধ ভীষণ কারন ঝোলে তালা। পরকে বলো গোঁড়ার…
-
যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে / সাইফ আলি
যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে যেটুকু বিষাদ ছিলো রাতের শরীরে সবটুকু তুলিতে মলিন; সারা ক্যানভাস ছিলো ভীষণ রঙিন! দৃষ্টিরা দেখেছিলো শুধু সেই রঙ পারেনি আঁধার ছুতে ঠোঁট; সারাটা রাতের ব্যথা এক নিমেষেই কিনে নিয়ে গেলো কিছু কাগজের নোট!
-
ঝড়ের রাতটাতে / সাইফ আলি
ঝড়ের রাতটাতে জমেনি ধুলোময় প্রাচীন গল্প জমেছে শংকিত চোখের বন্দরে প্রতিকী মৃত্যু জমেছে চৌকাঠে পুরোনো পাতাদের লাশের স্তুপ তবুও সীমাহীন আশার বুকে জমা শিশির অল্প। ঘরের মাঝখানে দাড়িয়ে ভাবনায় ভেবেছি কেউ নেই, ভেবেছি এই ঝড়ে শুধুই মৃত্যু; জীবন ঢেউ নেই। অথচ রাতভর ঝড়ের তান্ডবে নেচেছে বৃক্ষ, বলেছে- রাত শেষে ভোরের কোল জুড়ে সূর্য হাসবেই। আহা…
-
হায়! নিয়তি…
শরীরে জমেছে মেদ ভারী হয়ে গেছে পা, গচ্ছিত সব মালামাল নিয়ে পথ চলা যাবে না। ছিলো ঝাড়বাতি জ্বলা বেডরুম ছিলো বিশাল কক্ষ ডাইনিং তবু রাত আনলোনা সুখ-ঘুম হায়! নিয়তি… ছিলো ভান্ডার ভরা খাদ্য ছিলো সঙ্গীত ছিলো বাদ্য শুধু তোমাকে নিলোনা মহাকাল হায়! নিয়তি… ছিল প্রাসাদ ফটোকে দারোয়ান ছিলো পাহারাদারেরা পালোয়ান তবু খাঁচার পাখিটা উড়লো হায়!…
-
ফাইল-বন্দি সংসার
তোমার আমার সন্ধি আজ ফাইল চাপায় বন্দি ভালোবাসি বলে আসলেই আর মেটেনা সকল দন্দ মাঝখানে থাকে কাঁচা পয়শার গন্ধ। তুমি অফিস-টফিসে যাওনা তাই ওসব খবর পাওনা; তবু দুষছো! আমার জন্য ঘৃণায় কেবল পুষছো! …………………………………………. তোর হাতে পা’য় ধরি অফিসার তুই ভাঙিস না এই সংসার…
-
না কবিতা; বাস্তবতা / সাইফ আলি
-আর দু’চামচ ঘি দে না ভাই গরম গরম ভাতটা মাখায়। -তোরা তো সব হাড়-হাভাতে অমন করে ঘি খায় ভাতে? ……………………………………………………………….. চোখটা বন্ধ করুন এবং ডুকে পড়ুন দৈত চরিত্রে এবার একটিবার অভিনেতা হয়ে যান; হাত তুলুন, আত্মসমর্পন করুন এবং হারিয়ে যান। বলুন কম্পিত গলায়- দু’চামচ করুনার ঘি… পাবো কি?? এবং উত্তর দিন- তোদের মতো হাড় হাভাতে…
-
আজ শুধু বেঁচে আছে
রাত্রির ঘাড়ে চেপে মেঘেদের কাঁথা গায়ে যখন ভিজতে যাবো স্বপ্নের সৈকতে প্রিয়, তারাদের ফুল নিয়ে তুমি এসে বাসর সাজিও। তুমি এসো জানালাতে মৃদু আলো জোছনাতে বাতাসে ছাড়িয়ে দিয়ে চুল, সে চুলের মেঘগুলো হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে ভালোবাসা খুঁজে নেবে আমার আঙুল। এরকমই ছিল সব চিন্তার আগা থেকে গোড়া আজ শুধু বেঁচে আছে যুদ্ধের ধোঁয়াটে মহড়া।
-
বোধের ভিতর-বাহির
চিনতে পারিনি, করিনি চেনার চেষ্টা; শুরুতে বোঝার মর্ম বুঝিনি, বুঝতে পারিনি শেষটা। জোনাকিতে ভরা ঝোপটা নাকি ঝোপটার কোলে জোনাকি, তেতো বিষে ভরা ফলটা বুঝতে শেখেনি লোনা কি; লোনা পানি পেয়ে শেষমেশ তেতো সাদ গেছে বেশটা। বুঝেছি বুঝেছি মর্ম- তেতো ও লোনার ধর্ম শুধু বুঝতে পারিনি শেষটা। আঁধার বুঝেছি আলোও বুঝেছি, বুঝতে পারিনি সন্ধ্যা; বুঝতে পারিনি…
-
পুতুল নাচের ইতিবৃত্ত
ব্যাটারি গিয়েছে পুড়ে পুতুল নাচে না আর… ব্যাটারিটা থাক পুতুল বদল হোক! দিক ভোলা নাও তবু চলে যাও; দিক ঠিক আছে তারারা ভুলেছে পথ সামনে চন্দ্রালোক!!
-
প্রলাপ
ঘর বাঁধি বাঁধি বিচেছি কুড়াই সকাল-সন্ধ্যা-রাত, চালাহীন ঘর চুলাভরা ছাই তারাগুলো পোড়া ভাত। ঘরে নেই খুটি তবু পাউরুটি মেঘ ফুঁড়ে ওঠে চাঁদ, রাতের আকাশ ভাত-তারাময় তরকারি অবসাদ। তৃষ্ণার পানি খুঁজে হয়রানি কলস গিয়েছে চুরি; তবু ও পাড়ার শ্যাম বালিকারে ভেবে জাগে সুরসুরি। ঘর বাঁধি বাঁধি সকাল দুপুর কখনো সন্ধ্যা-রাত; আহারে অভাগা খড়কুটো ধরে ভাবে রমণীর…
-
ভুল করে ফুল
ভুল করে ফুল পাতায় করেছে মৃত্যুভয় এভুল কিভাবে গাছের সয়! শিকড় খুঁজেছে সূর্যের আলো ডাল ছেড়ে হাল মাটির ঘ্রাণ নিচ্ছে যখন তখন কান্ড এমন কান্ডে হারায় প্রাণ। ফুল যায় ঝরে পাতা মরে মরে বৃক্ষের শেষ শয্যা বানায় শিকড় খুঁজেছে সূর্যস্বপ্ন মৃত্যু পেয়েছে ষোল-আনাই।
-
অতঃপর ঘুম থেকে জেগে
চাঁদের স্নিগ্ধতাকে সূর্যের বীরত্বের পাশে সমান্তরালে দাড় করাতে যারা ওস্তাদ অন্ধকারময় তাদের একটি রাতের বর্ণনা- এ্যালকোহল আড্ডায় পরচর্চা বীরত্বের প্রতীক চাটুকারিতা গভীর ভারত্বের পরিচায়ক গলাবাজি আর তেলবাজির ভরসায় আগামী দিনের প্রস্তুতি- স্তুতি নয়, অবিশ্বাসে বিশ্বাস, বিশ্বাসে সংশয় ক্রমশ অন্ধকারের দিকে শিক্ষিত মস্তিষ্কের ঝুলে পড়া আত্মা শেষ মুহুর্তে চিৎকার- অতঃপর ঘুম থেকে জেগে ওঠা স্বপ্নচারী মানুষের…
-
ধুলো জমা পিঠে মেঘ দেখো তুমি
ধুলো জমা পিঠে মেঘ দেখো তুমি মেঘগুলো কার্পাশ তুলো উষ্কখুষ্ক চুলে দাড়িয়ে আছে বৃক্ষের সারি সিগারেট ধোয়ায় পুড়ে যাওয়া ফুসফুস নিয়ে প্রহরী বায়ুমন্ডল- আল্ট্রাভায়োলেট দস্যুরা ছুয়ে দেবে মাটি পরিপাটি ঘর সাজানো বিছানা। মৃত্যু সয্যায় শহুরে কাক ডাস্টবিনে ফরমালিন- টসটসে উচ্ছিষ্টে পচন ধরেনি আজো; পারফিউমে ধোয়া দেহ থেকে বিবেকের লাশ পঁচা দুর্গন্ধ; কি বিশ্রি… কি কুৎসিত…!…
-
এমন রঙিন খুব বেশি দিন থাকবে না
এমন রঙিন খুব বেশি দিন থাকবে না সাধের কোকিল সকাল বিকাল ডাকবে না এসব সবাই জানে… তবুও কিসের টানে আহা! কিসের আহ্বানে, ঘর ছেড়েছি আমরা কজন কেউ কি জবাব জানে? পাবার শুধু নয়তো জীবন, সব হারানোর দিন হবে, সবকিছু বিলীন; তবু, মনের ঘরে ঝাপটে মরে আশার কবুতর, সবাই সেদিন থকবে ভালো আমার হবে জ্বর…
-
সবাই মানুষ হয় মরিবার কালে…
যে পাখি উড়াল দেবে সে কি আর বসবে না ডালে সবাই মানুষ হয় মরিবার কালে… ঝাড়িতে-ঝুড়িতে-হাড়িতে মরবে মাছি বদলাবে নাকি কেউ! চিপাই পড়লে চুনো-পুটিরাও অনায়াসে তোলে ঢেউ। তাই বলে যদি চুনো-পুটি পাতে বোয়াল মারার ফাঁদ, আমরাও তাকে বলতেই পারি অস্থির উম্মাদ…। উড়লেই যদি ঘুড়িরা ভাবতো স্বাধীন কাটাই কাটাই, সেটা কি মানতো নাটাই?
-
সবটা যাবো ভুলে
বলিস না খুব ভালোই ছিলাম আগে বলিস না খুব ছিলাম মন্দ না, সবাই তো খুব বন্ধু থাকে আগে দ্বন্দ হলেই বেরই গন্ধ, না? অবশ্য আর বলবো কিবা তোকে সবাই এমন পালার বদল চায়, তুই চেয়েছিস নিলাম হজম করে বন্ধু ভাবি এটাই তো অন্যায়। অভিযোগের বস্তা নিয়ে আসিস কাধেই নেবো তুলে, শুধু- এইটুকু তুই বলতে বলিস…
-
যেই দেখেছি ফুলের তোড়া
রক্তে কিছু গানের কলি মিশে বির্জে কিছু বীরের প্রতিচ্ছবি শরীর না হয় শরীর থাকুক মাটির কাছাকাছি মেঘের কাছে প্রশ্ন করো আকাশ নীলেও আছি। মনটা আমার খুব যাযাবর পাখির পালক ছুঁয়ে গাছের ডালে ঘরের চালে কিংবা সবুজ ভূঁইয়ে বেড়ায় শুধু ঘুরে তবুও যেনো হারাও তুমি দূরে বহু দূরে…….. স্বাধীনতার সুখ পাওয়া কি নাটাই ঘুড়ি সুতা যেই…
-
ঘুড়ি স্বাধীনতা
মেঘের মুলুকে ঘুড়ি মেলেছিলো ডানা বালকের হাতে ছিলো সীমানার খোঁজ বাতাসে বুকের পাড়া কেঁপেছিলো খুব খুঁজেছিলো আরো দূর রঙিন ঠিকানা। উড়ন্ত চিল দেখে জেগেছিলো সাধ অজানা মেঘের দেশে বাধবে বাসর ছিড়ে গেলো বন্ধন নাটাই সুতার মাটিতে জমলো শেষ মৃত্যু আসর।