-
নংদনু বালো না / সাইফ আলি
ভাত কে বলে বাত আর খাবো কে বলে তাবো, ছোটো ছোটো কোমল দু’পায়ে হাটার প্রশিক্ষণ নেয়; আমি তাকে বললাম… ‘ রংধনু একে দাও একটা…’ নংদনু তি?? আমি তাকে রংধনু দেখাতে অপেক্ষায় থাকলাম… বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তাম… আতিপাতি খোঁজ করতাম… রংধনু মেলেনি তবুও। হঠাৎ একদিন রংধনু দেখে দৌড়ে গেলাম বাড়িতে, বললাম- তোমাকে আজ রংধনু…
-
মৃত্যুপথযাত্রী জীবন / সাইফ আলি
নাকের প্রান্তে যে বাতাস এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে মাত্র সে বাতাস তুমি যতটা ইচ্ছে শুষে নাও বিষপাত্র; কালকে যখন ফুরাবে তোমার দমের বড়াই থামবে লড়াই। খুব ভালো হয় যদি ইতিহাস ভুলে থাকা যায় জাগতিক এই আয়েশি বাতাসে ফুলে থাকা যায় এক জীবনের স্বার্থকতার মূলে থাকা যায় কিন্ত কেমন জীবন লাগেনা জীবন জাগাতে ক্রমেই এক পা পিছিয়ে…
-
-
ইনকিলাব / সাইফ আলি
যখন তুমি ভাবলে কেউ আর নেই বৃক্ষের মতো, আগলে রাখে ছায়া দেয় বুক চেতিয়ে দাঁড়ায় প্রচন্ড রোদে… বাগ দেয়া মোরগেরা শহরের মতো ঘুমিয়ে পড়েছে ভোরে, ভাঙাবে না ঘুম। রক্তে মরিচা ধরেছে ভেবে অসহায় এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে বসে গেলে সমান্তরালে মাটির… মাটি তোমাকে শুনিয়ে দিলো শত সহস্র বছরের ইতিহাস- ইনকিলাব, ক্ষয়, পরাজয়, অতঃপর আবার ইনকিলাব……
-
নায়ক এবার মঞ্চে প্রবেশ করো / সাইফ আলি
নায়ক এবার মঞ্চে প্রবেশ করো- শোনাও তোমার নতুন ইশতেহাার, নায়ক এবার শপথ বাক্য পড়ো- রোখার সাধ্য কার… পায়রা এখানে মেলছে না ডানা পরাধীন এ আকাশ, নতুন আঁধার ঘিরেছে ক্রমেই; শুনছো কি উল্লাস? নায়ক এবার মঞ্চে প্রবেশ করো- ঘর পোড়া সব তাকিয়ে তোমার দিকে, নায়ক এবার শপথ বাক্য পড়ো- শুনে যাক দাম্ভিকে… চোখের কাগজ বৃষ্টিতে ভেজা …
-
ভালোই হতো রাতের মতো / সাইফ আলি
ভালোই হতো রাতের মতো হতাম যদি অন্ধ মনের ভিতর থাকতো না আর সাক্ষ্যি হওয়ার দন্দ্ব। সব খেয়ে ফের আমার ভাগের- বলতে কিছু খাইনি। আক্ষেপে তো দিন যেতো না- ‘আমিই শুধু পাইনি।’ কারোর চোখের নীলাভ শোকের থাকতো ভাষা অজানা; জেনেই এখন ভুল করেছি কাটছে না তাই দোটানা। তোমরা যারা আপন তারা ভাতের হাড়ি ভাগ করো সামান্যতে…
-
অবাক লাগে / সাইফ আলি
আমার মায়ের জায়নামাজের প্রান্ত ধরে দাঁড়িয়ে আছি তাকিয়ে আছি সবুজ শ্যামল মাঠের দিকে; ঘাটের দিকে এখন তো আর নৌকা বোঝায় সুখ আসে না আগের মতো মূক হয়ে যায় ইচ্ছেগুলো, ঘাসের কাছে বিকেল হলেই; কষ্ট আসে ঠোঙায় ভরে বিভৎস এক লাশের শরীর; শরীর টা কার জানতে বড় ইচ্ছে করে, চোখ বুজে যায়; বিকাল বেলার ফুলের মতো…
-
পিপাশা এখন / সাইফ আলি
মানুষের বসতি কোথায়? কোনদিকে গেলে মিলবে বলুন এক গ্লাস ঠান্ডা পানি, পিপাশা মিটাতে চাই; খরায় শুকিয়ে গেছে বুকের চাতাল। আতিথেয়তার প্রয়োজন নেই বেশিক্ষণ থাকবোনা; তবে আমি ক্লান্ত বড় বেশি… একটু ছায়া…যদি… না না ঘরে নয়, বারন্দা… না, থাক; কোনো এক গাছের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেবো। এখনো তো গাছগুলো ছায়া দেয় বাতাসেরা স্বার্থপর হয়ে যায়নি এখনো……
-
দায় / সাইফ আলি
কলমের কালি শুকিয়ে গিয়েছে? লেখবেনা আর গণমানুষের কাব্য? নাকি তুমি আছো রক্তে মাংশে বিবেকে মরেছো ভাববো?? তোমার কবিতা বলেনা এখন ব্যথা বেদনার কথা বলেনা স্বপ্ন কিংবা বাস্তবতা। তুমি ভিনদেশী এলিয়েন নিয়ে ইদানিং নাকি লেখছো? লেখতেই পারো নিষেধ করিনে হয়তো রঙিন চশমায় শুধু এলিয়েনদেরই দেখছো! শুধু এইটুকু বলে রাখি যদি মানুষ না থাকে কেউ আর, তোমার…
-
বিবেক বিক্রি হতে দেখে / সাইফ আলি
তুমি যা বিক্রি করে দিলে তা আমার কবিতার খাতা তুমি যাকে বোমা-বাজি ভাবো সে আমার সখের কবিতা।
-
তুমি আসলে সেদিন আমজনতার মঞ্চে / সাইফ আলি
তুমি আসলে সেদিন আমজনতার মঞ্চে বললে অনেক প্রিয়-কথা প্রিয় বাক্য, বললে তোমার উন্নয়নের গল্প; আজ ভুলে গেলে সব? নেতাজী!! দেখলেনা ঐ মঞ্চের খুটি ধরে আছে কোন দৈন্য ভাবলেনা ঐ সমাবেশ কার জন্য রাখলে না মনে ওয়াদা যা তুমি করেছো; এ কি ভন্ডের বেশ ধরেছো! সম্পদ আর বিলাসী জীবন তোমাকে পেয়েছে আজকে ভুলেছো তোমার করণীয় সব…
-
পুতুল খেলার গল্প / সাইফ আলি
শুনতে পেলাম একটা পুতুল কাঁদছিলো খুব বেশি না ছোট্ট বুকে পুতুল খেলার সাধ ছিলো; পুতুল পুতুল ছিন্ন পুতুল বোমায় বিশ্ব তখন ঘোমায়। আকাশজুড়ে কয়েকটা চিল উড়ছিলো মুহুর্মুহু মণ্ডা-মিঠাই ছুড়ছিলো মণ্ডা-মিঠাই তেতো খুকুর কাছে এসব খবর তার কি জানা আছে? পুতুল পুতুল শান্ত পুতুল চোখ খোলো মানবতার মিথ্যে গানের আকাশ ছেড়ে নতুন করে ঢেউ তোলো; ঘুমিয়ে…
-
ডাইনে-বামে / সাইফ আলি
তোমরা তো খুব ভালোই থাকো লেপ মুড়িতে মিষ্টি কথার ফুলঝুরিতে যায়না টেকা, চিত্রকল্প ভালোই আঁকো। আমার ওসব সইনা ধাতে পাইনে হাতে ইচ্ছে হলেই যখন যা তা পাইনে ছাতা বৃষ্টি হলেই এমন তো নয়- ভিজবো বলেই। অশিক্ষিত গাল দিলে দাও, সত্যি ওসব পেটের ছুঁচো দিন-রাত্তির খেদিয়ে বেড়াই তোমরা করো বিদ্যে প্রসব। সকাল-সন্ধ্যা খুব কেটে যায় রাত্রী…
-
তাকিয়ে ছিলে মৃত্যু শীতল চোখে / সাইফ আলি
তাকিয়ে ছিলে মৃত্যু শীতল চোখে, বুকের জামায় লেপ্টে ছিলো লাল গোলাপের পাপড়ি… তুমি তাকিয়ে ছিলে তোমার খুনির দিকেই; নাকি দেখছিলে কি দেখছে সারা বিশ্ব! তোমার বুকের কাছে বাগ দেয়া ঐ লাল মোরগের বোলে দুপুর বেলার সূর্য ছিলো জ্বলে কিন্তু যখন শীতল চোখের তাক করা বন্দুকে বারুদগুলো মরলো ধুকে ধুকে তখন শুধু তুমিই ধনী, আমরা সবাই…
-
দেখা / সাইফ আলি
দেখলে শাদা বক দাঁড়িয়ে চুপচাপ গভীর মনযোগে কি যেনো খুঁজছে ভাবলে হয়তো বা ধ্যানি সে ধ্যানে-জ্ঞানে পৃথিবী বুঝছে। অথচ পুঁটিমাছ স্বার্থ সন্ধানে ধ্যানি সে বকটা, মাছেরা কোনোদিন বোঝেনা ধূর্ত সে বকের ছকটা। হয়তো ভাবো তুমি সুবাস বিলানোই ফুলের লক্ষ্য, অথচ বৃক্ষেরা বংশ বিস্তারে সমান দক্ষ । জন্ম মৃত্যুতে সবটা শেষ হলে তুমিও ফুল হবে, বাহির…
-
স্বপ্নকে সত্য করে তুলতেই / সাইফ আলি
তোমরা বললে, স্বপ্নকে সত্য করে তুলতেই অবিরাম সংগ্রাম তোমাদের ; আর, সুবিধাবাদী স্বপ্নেরা কি সহজেই বেড়ে উঠলো হায়েনার মতো… ফলজ বৃক্ষের গায়ে কি দারুণ ছেয়ে গেলো পরজীবী স্বপ্নের ঝোপ; পথের স্বপ্নগুলো কঠিন জুতার তলায় কি নির্মম পৃষ্ট হতে হতে বিবর্ণ হয়ে গেলো হায়…! টেলিভিশনের রঙিন পর্দায় লোভনীয় কম্পোজিশন আর সৃষ্টিশীল পরিবেশনায় কি চমৎকার বেড়ে উঠলো…
-
বন্দুকের স্বাধীনতা / সাইফ আলি
যদি, উড়ন্ত পাখির বুকে বন্দুকের নল তাক করে লক্ষ্যভেদী নিশানারা মুচকি হেসে বলে- এ আমার স্বাধীনতা এ আমার অধিকার… তবে, স্বাধীনতা এই সব পাখিদের রঙিন মিছিলে অধিকার এইসব রক্তমাখা বুলেটের গায়ে, লেগে থাক; সমুন্নত থেকে যায় যাক। আমি তার করিনে পরোয়া, আমি তাকে ঘৃণা করি; করে যাবো যতোদিন বাঁচি…