-
পদ্মা আমার পদ্মা / ফজলুল হক তুহিন
‘নদী দেখব দাদু নদী দেখব দাদু!’ ‘কোথায় নদী ? এখানে কি নদী আছে পাগল?’ ‘কেন, সবাই তো রোজ দেখে আসে- তুমি একটা ছাগল !’ ‘হা হা হা , তো দাদুরা, কি কি দেখে আসে বলো না!’ ‘বিকেল যখন নেমে আসে রঙ বেরঙের নানান মেঘে ছবি আঁকে ওই আকাশে তখন দারুণ দৃশ্য ফোটে চারিদিকে নদীর বুকেই…
-
ফেরা না ফেরা / ফজলুল হক তুহিন
কেউ ফিরুক বা না-ই ফিরুক আমাকে ফিরতেই হবে আমার আশ্রয়ে। পাখিরা যেমন ফিরে। ফিরে সাগর ঢেউয়েরা। মনের দিগন্ত দ্বার ভেঙে বিরল স্মৃতির হারানো মেঘেরা। কিন্তু আমার রাজপথ না ফেরার হরতাল, ব্যারিকেটে ঘেরা কারা যেন মত্ততায় মাতাল না ফেরার উৎসবে, আমার কি হবে ফেরা? ঋতু ফিরে আসে রাত ফিরে আসে ভোর ফিরে আসে নিজ পৃথিবীতে, নিজ…
-
ফালগুনের স্মৃতি / ফজলুল হক তুহিন
ফালগুনের এই রাতের আকাশ রাতের বাতাস ফুলের সুবাস খুলে দিলো বন্ধ মনের আগল আজ কী আমি স্মৃতির ছোঁয়ায় হয়ে যাবো সেই পুরোনো পাগোল? ২. তোমার বিরল হাসির মতো জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পূর্ণিমা চাঁদ এই উঠোনে এসেছিলো নেমে নীল ফাগুনের স্বপ্ন স্বপ্ন রাতটা জানি পড়েছিলো তোমার আমার প্রেমে। আমরা যখন জ্যোৎস্না ধুলোয় হাঁটছি পাশাপাশি শান্তি হাওয়ায় শ্বাস…
-
নিরন্তরের কবিতা / ফজলুল হক তুহিন
আজকের এই সকালবেলাটা গতিহীন হোক ছবি হয়ে থাক রৌদ্র-ছায়ার হাওয়ার বেলা আমি বিছানায় শুয়ে বসে থেকে উপভোগ করব সকাল। আমার ডানের জানালা- আমার পৃথিবী দেখার চোখ। কেউ জানবে না, কি যে ভালোলাগা; কী গাঢ় বাতাস উদোম উঠোন, কি নীল আকাশ- আশ্বাসে মন ভরে যায়। বিছানায় শুয়ে দেখতে পাচ্ছি ডালিমের প্রাচুর্য সবুজের ফাঁকে সুন্দরীদের লজ্জায় ফেটে…
-
পারিনি বুঝতে আমি / ফজলুল হক তুহিন
পারিনি বুঝতে আমি। পারে কী সবাই? পারে হয়তো সে, মনকে যে করেছে জবাই! আমি যে মনের ভৃত্য। মনের বৃত্তেই চলি। একদিন যে লিখেছে তোমার প্রণয় পদাবলী। একদিন যে নাগর ছিল তোমারই শরীর সভায়। পারিনি বুঝতে আমি অথচ সেদিন তোমার মুখকে আমি ভেবেছি অন্য নারীর তোমার বুককে আমি দেখেছি অন্য নারীর তোমার সুখকে আমি মেখেছি অন্য…
-
হৃদয়পুরে হৃদয়বতী / ফজলুল হক তুহিন
আমার পদ্মাজীবন ভরেছিলো তোমার বর্ষা জগতে প্রাণের দু কূল ছাপিয়ে এলো খরায় মরা স্রোতের পথে। জীবনের সব অর্থ খুঁজে পেলো আমার চোখ হৃদয়পুরে দিনে দিনে সৃষ্টি হলো ভালোবাসা আরণ্যক। আমি তোমার নামটি দিলাম: হৃদয়বতী খা খা করা আধাঁর ভরা মন পৃথিবী জ্বালিয়ে দিলো তোমার মুখের জ্যোৎস্নাজ্যোতি। আমি বিপুল অভিভূত- আমার ঠোঁটে লাগলো তোমার চুমুর চিহ্ন…
-
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি / ফজলুল হক তুহিন
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি আমি, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি ! ভেতরে এক রক্তক্ষরণ- যেন নীল প্রস্রবণ! সারাটা রাত সারাটা দিন টের তো আমি পাচ্ছি। কেন তবু নিরন্তর এক পশুর সাথে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি? যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি? ২. শত্রু বুঝেও ধ্বংস বুঝেও কেউ কখনো আমার মতো শত্রুকে কী নিজের মধ্যে দেয় বসতি গড়তে? দেয় নিরবে প্রশ্রয়? চোখের মধ্যে…
-
খুনের শহরে আমি / ফজলুল হক তুহিন
খুনের শহরে আমি হেঁটে চলি ত্রস্ত মানুষের মতো কেননা কবিরাও আর নিরাপদ নয়। শিশু, বৃদ্ধ কেউ না, কেউ না। হন্তারোক, আততায়ী- চতুর্দিক অবরুদ্ধ! এ দেশ ঘেরাও- জীবনের সম্ভাবনা উধাও সুখের মতো। এ শহর যে আমার, আমি কোথায় যাব, কোথায়? কতো কিছু আজো হলো না দেখা, চেনাই হলো না কতো মানুষ, কতো রাস্তা। মমতার, বন্ধুত্বের দৃশ্যাবলী,…
-
সর্বনাশ সিরিজ / ফজলুল হক তুহিন
ক. সে এক গভীর সর্বনাশ আমাকে নদীর মতো টানে পাথরের মতো নিমেষে তলিয়ে নেয় তার ঘ্রাণে পায় না দেখতে আমি আর সেই আমার আকাশ। খ. সে এক প্রবল সর্বনাশ আমাকে জড়িয়ে নেয় নেশার আঠায় পারি না ছড়িয়ে যেতে নেশার লাটাই ফিরে ফিরে আসে সেই ফাঁস। গ. সর্বনাশ আমাকে খুবলে নেয় খেয়ে ট্রেনের মতো সত্তার দিকে…
-
বুঝি না কি প্রয়োজন / ফজলুল হক তুহিন
বুঝি না কী প্রয়োজন আর তার বেঁচে থাকবার ভেবে পাইনে কী দরকার আর তার এভাবে বাঁচার। প্রাণের জোনাকী অন্ধকার দেহে মিটমিট জ্বললেই জীবন্ত মানুষ বলা যায়? যায় না, হয়তো যায়। কিন্তু তাকে কী করে প্রমাণ করা যায় পৃথিবীর মানবিক জীব? স্মৃতির প্রবাহ তার পদ্মা নদী খা খা। ধু ধু- শুধু শূন্যতার ঢেউ। একদিন এখানে অসংখ্য…
-
পূর্ণিমায় অমানিশা / ফজলুল হক তুহিন
অবশেষে তোমাকেও পেয়েছি আমার সৌভাগ্যের মৃত্তিকায় তুমি হয়েছো আমার আনন্দিত অবগাহনের করতোয়া। সেই কবে শুরু হয়েছিলো স্বপ্নদৌড়। নীলিমা, তোমাকে ছোঁয়া ছিলো সাফল্যের শেষ মাইলস্টোন। আজ আমি সেই সীমানায়। মুহূর্তে আমার মানচিত্র এভারেস্ট বিজয়ীর উল্লসিত নীল শিহরণে থরোথরো! আদিম প্রচ্ছদে মগ্ন সুলতান ধরেছে নিখুঁত আমাদের সরল প্রণয় আর অভিমান। আমাদের আকাশের এই পূর্ণিমার গান আজ হোক…
-
তোমাকে বাজাতে চাই / ফজলুল হক তুহিন
তোমাকে বাজাতে চাই আমি আমার আপন সত্তার তৃষ্ণায় তোমার ভেতর পাই আমি এখনো শুনতে কালের ঝংকার । ইট পাথরের ভিত, প্রশস্ত গৃহের সজ্জা আজো মেখে আছো তুমি। পোড়া মাটির বাসনে তুমি বেড়ে দাও ভাপ ওঠা ভাত আমার ক্ষুধায়। আমারই তৃষ্ণায় পদ্মার জলে ভেজে হাত ভেজে তোমার আঁচল, ভেজে ঢেউয়ের আদরে গৌড়। ফলবতী হও তুমি আদরে…