• কলমের উত্তরাধিকার / ফজলুল হক তুহিন

    কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সময়ের পদ্মা বয়ে যায় মহাকাল বঙ্গোপসাগরে শতাব্দীর দিন আর রাত্রি অবিরত উত্তাল সমরে। বিশ শতকী আঁধার অনিশ্চিত, কে দেবে সাঁতার? অতঃপর তোমার প্রাণের ঝড়ে শতাব্দীর সুকঠিন অন্ধকার পালালো কোন্ গহ্বরে? আমাদের কবি এশিয়ার কবি পৃথিবীর কবি তুমি কেননা তোমার আবেগের বৃষ্টিতে সজীব হয় নির্যাতিত, বন্ধ্যা ভূমি। আমাদের স্বপ্নের সন্তান আমাদের আত্মার…


  • মধ্য রাতের কবিতা / ফজলুল হক তুহিন

    জনারণ্য কোথায় হারিয়ে গেলো এই রাজপথে? মৃতের মতন পড়ে আছে একা নৈশব্দের রাতে- যন্ত্র দানবেরা ক্লান্ত হয়ে ফিরছে ঘুমের জগতে ল্যাম্পপোস্ট শুধু এক পায়ে খাঁড়া, আলোর আঘাতে অন্ধকারের পালোক উড়ে যাচ্ছে গাছের গভীরে। নাইট গার্ডের বাঁশি বেজে যায় রাত্রির যৌবনে পুরুষেরা লোকালয়ে মেতে ওঠে নারীর শরীরে। হেঁটে চলি বেকার যুবক ফুটপাতে আনমনে। তালাবদ্ধ দোকানের সিঁড়িতে…


  • ছায়াহীন গতিহীন / ফজলুল হক তুহিন

    গতিশীল যন্ত্রযান গতিহীন রাজপথ, গাছের ছায়ার অশরীরী সত্তার উপর দিয়ে শব্দ তুলে আমাকে বহন করে নিয়ে যায়, নিয়ে আসে। আমার গন্তব্য, আমার প্রাঙ্গণ প্রাত্যহিক কর্মব্যস্ততায় ভরে ওঠে। গতি পায় স্থিরতার শিরা উপশিরা। যদিও আমরা সবাই আহ্নিক গতিতে বেগবান। সূর্যের রশ্মিতে পৃথিবীর গায়ে গাছের ছায়ার দুলুনি- আমার যানে পৃষ্ঠ হয় গ্রাহ্যহীন আনন্দ ভঙ্গিতে। অতঃপর রোদ নিভে…


  • সত্য, হাঁ সত্য / ফজলুল হক তুহিন

    সত্য! হাঁ সত্য, সূর্যোদয় প্রসবের মতো মানুষ জন্মের মতো মানুষ মৃত্যুর মতো এবং ডুবে যাওয়া সূর্যের আত্মার মতো সত্য আজ আমি চিনে নিতে চাই। সত্যের গভীরে আমি মুহূর্তের জন্যে হলেও প্রবেশ করতে চাই। ২. সত্যের বিদ্যুতে আমার ভেতর ঝলসিত উদ্ভাসিত আলোকিত হোক আজ। ৩. আজ পৃথিবীর জন্মদিন আজ পৃথিবীর মৃত্যুদিন আজ পৃথিবীর সত্যদিন। ৪. আমার…


  • শ্রাবণ গীতিকা / ফজলুল হক তুহিন

    ক. এক পৃথিবী হেঁটে হেঁটে একটি জীবন ভিজে ভিজে তোমার কাছে পৌঁছে গেলাম কদম হাতে। দেখে ছিলাম সেই যে তোমার গভীর চোখে দরদমাখা গভীর শ্রাবণ- শেষ দেখাতে, শেষ দেখাতে। মনে পড়ে তোমার মনে? সে কী তোমার কষ্ট শ্রাবণ নীল বেদনার দুঃখ শ্রাবণ সত্যি কী তা অন্য ঘরে যাবার নিরব রক্ত ক্ষরণ? না আমাকে করুণা জল…


  • আহ্ আমি যদি পারতাম / ফজলুল হক তুহিন

    তাদের মতন আমি যদি ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম তিন শ বছর দূরের কোন গুহায় কিংবা নিজ বাসস্থানে। জেগে উঠে আমার শহর কতটা বিশ্বাসী আর কতটা মৃত পাথর হলো তা দেখতে পারতাম। আহ্ আমি যদি পারতাম- কী নিশ্চিন্তে, প্রশান্তিতে ঘুমের মধ্যেই বয়ে যেত এক একটি শতাব্দী দেখতে পেতাম আকাক্সক্ষার শান্তিগন্ধী সবুজ শহর, সুখময় গ্রাম আমার ভ্রমণ হতো…


  • তার কথা ভাবলেই / ফজলুল হক তুহিন

    তার কথা ভাবলেই কেন যেন অসংখ্য নদীর স্রোত চোখের সুস্বচ্ছ ক্যানভাসে আকাঁ হয়ে যায়। সেই স্রোত বাংলাদেশের মানচিত্র করেছে প্লাবিত জীবন্ত, শোভিত- বিশ্বাসের পাল ওড়ে পদ্মা মেঘনা ও যমুনায়। দশ দিগন্তে, পদ্মার ঢেউয়ে যে নাম ধ্বনিত পিতৃপুরুষের জন্মভূমি যার প্রাণে আলোকিত সময়ের অন্ধকার রাত তার হাতে পরাজিত তিনি আমাদের আত্মার বাদক- শাহ্ মখদুম। তার বিশ্বাসের…


  • পৃথিবী মানুষ এবং তারা / ফজলুল হক তুহিন

    পৃথিবী যখন ঘুমে প্রশান্তি প্রশান্তি ঘুমে ঘুমে নীল মানুষ যখন স্বপ্নে সবুজ সবুজ স্বপ্নে স্বপ্নে অমলিন তখন তাদের চোখ রক্তেআঁকা চোখ জ্বলে ওঠে দাউদাউ শিশুদের হৃদয়ে হৃদয়ে তারা ভয়ের আওয়াজ তোলে: হাউমাউ! হাউমাউ! মানুষেরা যখন গভীর আস্থায় বিশ্বাসে পরস্পর গড়ে তোলে ব্রীজ তখন তাদের মন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রক্তের সিরিজ চালু করে মানুষের সভ্যতায়।…


  • দুঃস্বপ্নের কাকফেরি / ফজলুল হক তুহিন

    ভাবতেই পারিনি আমরা সকালের সুবাতাস এভাবে শোকের বিষে নষ্ট হবে আজ। পাখিদের আর্তনাদে, বিলাপে বিদীর্ণ হবে নিজের নিশ্বাস! কেউ কী জানতো কখনও পাখির কান্নার ভারে ভেঙে পড়বে মায়ের বুক। প্রথম যেদিন নীড় বুননের খড়কুটো নিয়ে ছায়ার উঠোনে, পাতাবাহারের সবুজ আড়ালে দুটো বুলবুলি এসে আশ্রয়ের নিচ্ছিল প্রস্তুতি; সেদিন মা বললেন, দেখ্ দেখ্ পাখি দুটো বাসা বানাচ্ছে,…


  • গান্ধীজীর প্রতি / ফজলুল হক তুহিন

    দু হাজার দুই সাল। ঠিক এই সময়ে গান্ধিজী, আপনার জন্মভূমে আগুনের স্বাদু খাদ্য হলো জীবন্ত মানুষ! মানুষের কয়লায় হিংস্রতার পেট এখন ভরাট দাউদাউ আগুনের চমৎকার জাহান্নাম আজ গুজরাট! আপনার ‘সত্যাগ্রহ’ আপনার ভস্মের সাথেই উধাও। সত্যের মতো নীতির মতো কবেই আভিধানিক শব্দাবলী। সে জন্যেই বুঝি আপনার সুসন্তানেরা সব কী নিপুণভাবে চিরে ফেলছে গর্ভবতীর পেট অতঃপর কী…


  • দুঃসময়ের প্রার্থনা / ফজলুল হক তুহিন

    এইসব দিন এইসব রাত কিভাবে গড়ায় আমাদের প্রভু তুমি তো জানোই- রাতগুলো আর দিনগুলো সব খুন হয়ে যায়! আমরা তো প্রভু ত্রিকালদর্শী নই- সাধারণ আমরা সবাই অতীত-আগামী দেখি না, বুঝি না কুটিল পাঁকের বর্তমানও। বুঝি ইউনুস নবীর মতন আটকা পড়েছি ঘাতক মাছের পেটে বিষাক্ত দাঁতে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায় এই প্রাণের সীমানা! হায়, আমাদের বাঁচাবে…


  • ও বেহুলা ও সখিনা / ফজলুল হক তুহিন

    ক. কী এক খোয়াবে পোয়াতী মেঘের মতো কেঁদে ফ্যালে বেহুলা সোয়ামি যে ঘরে মেখে দেবে তাকে প্রেমের প্রথম পরাগ সেখানেই তার প্রাণিত স্বপন হয়ে যাবে নীল বিলাপ- সে কথা কী হয় বিশ্বাস? তবু সাহসী বেহুলা। অতঃপর এলো সেই কাল রাত! নাগিনীর বিষে আসমানে জমে বিষমেঘ। জমিনে ঘাসেরা সবুজ হারায়। হাওয়ায় হাওয়ায় রটে অলুক্ষণে কী এক…


  • মহান সম্রাট, আপনাকে / ফজলুল হক তুহিন

    সম্প্রতি আমি একটি চরিতাভিধান রচনা করেছি পৃথিবীতে যারা সুমহান শুধু তাদেরকে নিয়ে। এই ধরুন চেঙ্গিস খান, হালাকু খান, হিটলার মিলোসভিচ প্রমুখ। আর আপনি তো আছেনই। একদম শুরুতেই- কেননা আপনি আমাদের যুগের প্রধান অধিপতি আপনাকে ছাড়া এক মুহূর্ত কি চলে পৃথিবীর গতি? আপনার মহানুভবতা পৃথিবীতে প্রশান্তির সুবাতাস এনেছে দারুণ। দেখুন না আপনার অলৌকিক হাতের মায়ায় খরার…


  • রবীন্দ্রনাথের প্রতি / ফজলুল হক তুহিন

    ক দিন ধরেই মেঘে আর বৃষ্টিতে জিম্মি করে রেখেছে এই আমাকে, সবাইকে। মেঘকে নিশ্চয় প্ররোচণা দিয়ে থাকবেন রবীন্দ্রনাথ। আশ্চর্য তাঁর বর্ষাপ্রীতি অসময়ে এই বাংলাদেশে বৃষ্টি ঝরায় একদিন নয়, দুইদিন নয়, এক সপ্তাহ সবাই বৃষ্টিবন্দি! মৃত্যুর পরও কেন আপনি বাড়িয়েছেন বর্ষাপ্রিয় যাদুকরি সেই হাত? আপনার মতো বর্ষাযাপনের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই আমাদের। চায়ের স্টলে প্রাণজ আড্ডায়…


  • রাত দুটোয় দুচোখ / ফজলুল হক তুহিন

    রাত দুটোয় দু চোখ ঘুম পাথরের মায়াভার এক নিমেষেই ছিন্ন করে জেগে ওঠলো হঠাৎ প্রজাপতির ডানার মতো। চারপাশ অন্ধকার। ঝপঝপ শব্দে ধসে পড়ে রাত- ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের আঘাত- কোন্ উৎস থেকে আসে পৃথিবীর এই মুহূর্ত আবহে? তার চোখে ক্ষয়ের করাত তিমির মতন ভেসে ওঠে। সে কী নিজের গভীর বিশ্বাসের ক্ষতচিহ্ন? দ্বিধার দ্বিমুখী তীক্ষ্ম দাঁত? আতঙ্কে…


  • পদ্মা আমার পদ্মা / ফজলুল হক তুহিন

    ‘নদী দেখব দাদু নদী দেখব দাদু!’ ‘কোথায় নদী ? এখানে কি নদী আছে পাগল?’ ‘কেন, সবাই তো রোজ দেখে আসে- তুমি একটা ছাগল !’ ‘হা হা হা , তো দাদুরা, কি কি দেখে আসে বলো না!’ ‘বিকেল যখন নেমে আসে রঙ বেরঙের নানান মেঘে ছবি আঁকে ওই আকাশে তখন দারুণ দৃশ্য ফোটে চারিদিকে নদীর বুকেই…