-
এই দিনগুলো বেঁচে থাক / ফজলুল হক তুহিন
আহা, কি স্নিগ্ধ পবিত্র দিন! সূর্যালোকে প্লাবিত পৃথিবী কি অমলিন! আমার সত্তাও হতে চায় এ রকম স্বচ্ছ নীল আকাশের বিশাল আঙিনা। কাশফুল সাদা, বকসাদা মেঘ আমার উড়ন্ত স্বপ্ন আরো দূর দিগন্তে রূপকথায় করে সঞ্চার। সবুজের যৌবনে রোদের অনুরাগ কি শুভ্র জীবনস্পন্দন জানালায় জানালো পূবের হাওয়া প্রশান্তির অভিনন্দন শিশিরের ঘাসচাখে সূর্যের রক্তপ্রদীপ মনে করে দেয় এক…
-
বাড়িতে কী যেন আছে / ফজলুল হক তুহিন
বাড়িতে কী যেন আছে যতক্ষণ থাকি আমি কেমন স্বস্তির আরামে নিশ্চিন্ত নির্ভার নীলিমা সাগরে পালতোলা মেঘনাও মনে হয়। ক্লান্তি, সংশয়, অস্বস্তি, অস্থিরতা, ভয় ও দ্বিধার বৃষ্টি একদম ঝরে না আমার ভেতরে। বাহির হলেই পৃথিবীর পথে বুঝতে পারি কে যেন ডাকে বাড়ি থেকে- রক্তে আমার ভাটির সুর বাজে। উজান হাঁটায় আমি টের পাই- কী যেন আমায়…
-
নিঃসঙ্গ নির্জনে দার্শনিক / ফজলুল হক তুহিন
আমি এখন কঠিন ব্যধিগ্রস্তের মতন ভীষণ আতঙ্কগ্রস্থ, অস্তিত্বের প্রশ্নে উদ্বিগ্ন! হতাশা, ব্যথা, হাহাকার, মনস্তাপ, উদ্বেগ আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে শূন্যতায় অগ্নিকুন্ডে ফেলে দিচ্ছে! সাংঘাতিক অসহায় আমি জীবনের এ প্রহরে। এক অজানা ভীতির তরঙ্গে জীবন কেঁপে কেঁপে উঠছে ক্রমেই ধীরে, সংগপনে। সূক্ষ্ম এ ভীতির শেকড় খুঁজতে খুঁজতে অদৃশ্য অন্ধকারময় ও রহস্যময় এক দৈত্যের সমুখে হয়েছি হাজির! যাকে…
-
বিবেকের প্রতিনিধি / ফজলুল হক তুহিন
পিচের সড়কে হেঁটে চলি, চলে কবির শরীর। লাইট পোস্টের আলো রাস্তার মসৃণ পিঠে পড়ে কাঁদে আর কাঁদে। টিপটিপ বৃষ্টির পালক ঝরে নিসর্গে, সড়কে, জোনাকীর নীল ডানায়, কবির জমার জমিনে আর চায়ের স্টলের ফুঁটো চালে। রিকসার টুংটাং শব্দে ও নৈশব্দে ওড়ে পাখি। সন্ধ্যের নরম অন্ধকার দেহে করে মাখামাখি আর নক্ষত্রের মুখ চলে যায় দৃষ্টির আড়ালে। হেঁটে…
-
নারী নদী ও নিসর্গে / ফজলুল হক তুহিন
[কবি আল মাহমুদকে] নারী নদী ও নিসর্গে কিভাবে আপনি পান বিশ্বাসের ঘ্রাণ? কিভাবে দেখতে পান মিথ্যাবাদী রাখালের মতো ভবিষ্যৎ! কী করে সাহসী হন পালক ভাঙার প্রতিবাদে সুবৃহৎ! ভাবতেই এসব হই বিস্মিত, রঞ্জিত- আশাবাদী হয় প্রাণ। বখতিয়ারের সেই দীপ্ত ঘোড়ার ক্ষিপ্র খুরের শব্দ শুনি যখন মায়ের মতো শোনান গল্প, দেখান স্বপ্ন; আকাঙ্ক্ষিত স্বদেশের জন্যে আমি যখন…
-
স্মৃতির আলো দৌড়ে আসে / ফজলুল হক তুহিন
স্মৃতির আলো দৌড়ে এসে কড়া নাড়ে দুয়ারে জেগে উঠে দু ভাগ হই অতীতে আর বর্তমানে জীবনের এই দু ধারে। স্মৃতি তুমি বড্ড বেশী জ্বালাও পোড়াও মন স্মৃতি তুমি অন্তরে নীল সুখের প্রস্রবণ। পালতোলা এক নাওয়ে চেপে পদ্মা নদীর ঢেউয়ে সে আর আমি আবেগ হাওয়ায় মুহূর্তে হই আপন। স্মৃতি আমার যন্দ্রণাময় নিঃসঙ্গতার মলম স্মৃতি আমার প্রাণ…
-
আমরা এখন / ফজলুল হক তুহিন
(আফ্রিকা মহাদেশের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর) আমরা এখন আমাদের সম্বল মাথায় করে রোদপোড়া রাজপথ ধরে শরণার্থী শিবিরের খোঁজে একপাল শঙ্কিত মেষের মতো হাঁটছি তো হাঁটছিই। লক্ষ বছর অভুক্ত পথচলা যেন হয়ে গেছে, তবু একটু রুটির ঘ্রাণ কিংবা আলুনি খিচুড়ির সন্ধান পাই নি আজও। পেয়েছি শুধু ধু ধু প্রান্তর। যেখানে লাল রক্ত আর দুর্গন্ধ বারুদ মিলিমিশে হয়ে…
-
আমার কোথাও আর যাবার নেই / ফজলুল হক তুহিন
# আমার কোথাও আর যাবার নেই- আমার গ্রহ এখন সংকীর্ণ, দু পা ব্যক্তিগত বৃত্তে, ইচ্ছেয় আবদ্ধ। কারও জন্যে অপেক্ষা করার নেই- আমার বন্ধুরা সব মরে গেছে। অথচ তারা চলতে পারে, বলতে পারে! আগ্রহও নেই আর মানবিক অস্তিত্বের সংস্পর্শ চাওয়ার- বড্ড ক্লান্ত হয়ে যাই; বিপন্ন, বিষন্ন হয়ে যাই মানুষের কাছে গেলেই। আকাঙ্ক্ষা করি না আর কারো থেকে…
-
কলমের উত্তরাধিকার / ফজলুল হক তুহিন
কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সময়ের পদ্মা বয়ে যায় মহাকাল বঙ্গোপসাগরে শতাব্দীর দিন আর রাত্রি অবিরত উত্তাল সমরে। বিশ শতকী আঁধার অনিশ্চিত, কে দেবে সাঁতার? অতঃপর তোমার প্রাণের ঝড়ে শতাব্দীর সুকঠিন অন্ধকার পালালো কোন্ গহ্বরে? আমাদের কবি এশিয়ার কবি পৃথিবীর কবি তুমি কেননা তোমার আবেগের বৃষ্টিতে সজীব হয় নির্যাতিত, বন্ধ্যা ভূমি। আমাদের স্বপ্নের সন্তান আমাদের আত্মার…
-
মধ্য রাতের কবিতা / ফজলুল হক তুহিন
জনারণ্য কোথায় হারিয়ে গেলো এই রাজপথে? মৃতের মতন পড়ে আছে একা নৈশব্দের রাতে- যন্ত্র দানবেরা ক্লান্ত হয়ে ফিরছে ঘুমের জগতে ল্যাম্পপোস্ট শুধু এক পায়ে খাঁড়া, আলোর আঘাতে অন্ধকারের পালোক উড়ে যাচ্ছে গাছের গভীরে। নাইট গার্ডের বাঁশি বেজে যায় রাত্রির যৌবনে পুরুষেরা লোকালয়ে মেতে ওঠে নারীর শরীরে। হেঁটে চলি বেকার যুবক ফুটপাতে আনমনে। তালাবদ্ধ দোকানের সিঁড়িতে…
-
ছায়াহীন গতিহীন / ফজলুল হক তুহিন
গতিশীল যন্ত্রযান গতিহীন রাজপথ, গাছের ছায়ার অশরীরী সত্তার উপর দিয়ে শব্দ তুলে আমাকে বহন করে নিয়ে যায়, নিয়ে আসে। আমার গন্তব্য, আমার প্রাঙ্গণ প্রাত্যহিক কর্মব্যস্ততায় ভরে ওঠে। গতি পায় স্থিরতার শিরা উপশিরা। যদিও আমরা সবাই আহ্নিক গতিতে বেগবান। সূর্যের রশ্মিতে পৃথিবীর গায়ে গাছের ছায়ার দুলুনি- আমার যানে পৃষ্ঠ হয় গ্রাহ্যহীন আনন্দ ভঙ্গিতে। অতঃপর রোদ নিভে…
-
সত্য, হাঁ সত্য / ফজলুল হক তুহিন
সত্য! হাঁ সত্য, সূর্যোদয় প্রসবের মতো মানুষ জন্মের মতো মানুষ মৃত্যুর মতো এবং ডুবে যাওয়া সূর্যের আত্মার মতো সত্য আজ আমি চিনে নিতে চাই। সত্যের গভীরে আমি মুহূর্তের জন্যে হলেও প্রবেশ করতে চাই। ২. সত্যের বিদ্যুতে আমার ভেতর ঝলসিত উদ্ভাসিত আলোকিত হোক আজ। ৩. আজ পৃথিবীর জন্মদিন আজ পৃথিবীর মৃত্যুদিন আজ পৃথিবীর সত্যদিন। ৪. আমার…
-
শ্রাবণ গীতিকা / ফজলুল হক তুহিন
ক. এক পৃথিবী হেঁটে হেঁটে একটি জীবন ভিজে ভিজে তোমার কাছে পৌঁছে গেলাম কদম হাতে। দেখে ছিলাম সেই যে তোমার গভীর চোখে দরদমাখা গভীর শ্রাবণ- শেষ দেখাতে, শেষ দেখাতে। মনে পড়ে তোমার মনে? সে কী তোমার কষ্ট শ্রাবণ নীল বেদনার দুঃখ শ্রাবণ সত্যি কী তা অন্য ঘরে যাবার নিরব রক্ত ক্ষরণ? না আমাকে করুণা জল…
-
আহ্ আমি যদি পারতাম / ফজলুল হক তুহিন
তাদের মতন আমি যদি ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম তিন শ বছর দূরের কোন গুহায় কিংবা নিজ বাসস্থানে। জেগে উঠে আমার শহর কতটা বিশ্বাসী আর কতটা মৃত পাথর হলো তা দেখতে পারতাম। আহ্ আমি যদি পারতাম- কী নিশ্চিন্তে, প্রশান্তিতে ঘুমের মধ্যেই বয়ে যেত এক একটি শতাব্দী দেখতে পেতাম আকাক্সক্ষার শান্তিগন্ধী সবুজ শহর, সুখময় গ্রাম আমার ভ্রমণ হতো…
-
তার কথা ভাবলেই / ফজলুল হক তুহিন
তার কথা ভাবলেই কেন যেন অসংখ্য নদীর স্রোত চোখের সুস্বচ্ছ ক্যানভাসে আকাঁ হয়ে যায়। সেই স্রোত বাংলাদেশের মানচিত্র করেছে প্লাবিত জীবন্ত, শোভিত- বিশ্বাসের পাল ওড়ে পদ্মা মেঘনা ও যমুনায়। দশ দিগন্তে, পদ্মার ঢেউয়ে যে নাম ধ্বনিত পিতৃপুরুষের জন্মভূমি যার প্রাণে আলোকিত সময়ের অন্ধকার রাত তার হাতে পরাজিত তিনি আমাদের আত্মার বাদক- শাহ্ মখদুম। তার বিশ্বাসের…
-
পৃথিবী মানুষ এবং তারা / ফজলুল হক তুহিন
পৃথিবী যখন ঘুমে প্রশান্তি প্রশান্তি ঘুমে ঘুমে নীল মানুষ যখন স্বপ্নে সবুজ সবুজ স্বপ্নে স্বপ্নে অমলিন তখন তাদের চোখ রক্তেআঁকা চোখ জ্বলে ওঠে দাউদাউ শিশুদের হৃদয়ে হৃদয়ে তারা ভয়ের আওয়াজ তোলে: হাউমাউ! হাউমাউ! মানুষেরা যখন গভীর আস্থায় বিশ্বাসে পরস্পর গড়ে তোলে ব্রীজ তখন তাদের মন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রক্তের সিরিজ চালু করে মানুষের সভ্যতায়।…
-
দুঃস্বপ্নের কাকফেরি / ফজলুল হক তুহিন
ভাবতেই পারিনি আমরা সকালের সুবাতাস এভাবে শোকের বিষে নষ্ট হবে আজ। পাখিদের আর্তনাদে, বিলাপে বিদীর্ণ হবে নিজের নিশ্বাস! কেউ কী জানতো কখনও পাখির কান্নার ভারে ভেঙে পড়বে মায়ের বুক। প্রথম যেদিন নীড় বুননের খড়কুটো নিয়ে ছায়ার উঠোনে, পাতাবাহারের সবুজ আড়ালে দুটো বুলবুলি এসে আশ্রয়ের নিচ্ছিল প্রস্তুতি; সেদিন মা বললেন, দেখ্ দেখ্ পাখি দুটো বাসা বানাচ্ছে,…
-
গান্ধীজীর প্রতি / ফজলুল হক তুহিন
দু হাজার দুই সাল। ঠিক এই সময়ে গান্ধিজী, আপনার জন্মভূমে আগুনের স্বাদু খাদ্য হলো জীবন্ত মানুষ! মানুষের কয়লায় হিংস্রতার পেট এখন ভরাট দাউদাউ আগুনের চমৎকার জাহান্নাম আজ গুজরাট! আপনার ‘সত্যাগ্রহ’ আপনার ভস্মের সাথেই উধাও। সত্যের মতো নীতির মতো কবেই আভিধানিক শব্দাবলী। সে জন্যেই বুঝি আপনার সুসন্তানেরা সব কী নিপুণভাবে চিরে ফেলছে গর্ভবতীর পেট অতঃপর কী…
-
দুঃসময়ের প্রার্থনা / ফজলুল হক তুহিন
এইসব দিন এইসব রাত কিভাবে গড়ায় আমাদের প্রভু তুমি তো জানোই- রাতগুলো আর দিনগুলো সব খুন হয়ে যায়! আমরা তো প্রভু ত্রিকালদর্শী নই- সাধারণ আমরা সবাই অতীত-আগামী দেখি না, বুঝি না কুটিল পাঁকের বর্তমানও। বুঝি ইউনুস নবীর মতন আটকা পড়েছি ঘাতক মাছের পেটে বিষাক্ত দাঁতে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায় এই প্রাণের সীমানা! হায়, আমাদের বাঁচাবে…
-
ও বেহুলা ও সখিনা / ফজলুল হক তুহিন
ক. কী এক খোয়াবে পোয়াতী মেঘের মতো কেঁদে ফ্যালে বেহুলা সোয়ামি যে ঘরে মেখে দেবে তাকে প্রেমের প্রথম পরাগ সেখানেই তার প্রাণিত স্বপন হয়ে যাবে নীল বিলাপ- সে কথা কী হয় বিশ্বাস? তবু সাহসী বেহুলা। অতঃপর এলো সেই কাল রাত! নাগিনীর বিষে আসমানে জমে বিষমেঘ। জমিনে ঘাসেরা সবুজ হারায়। হাওয়ায় হাওয়ায় রটে অলুক্ষণে কী এক…