-
হৃদয়পুরে হৃদয়বতী / ফজলুল হক তুহিন
আমার পদ্মাজীবন ভরেছিলো তোমার বর্ষা জগতে প্রাণের দু কূল ছাপিয়ে এলো খরায় মরা স্রোতের পথে। জীবনের সব অর্থ খুঁজে পেলো আমার চোখ হৃদয়পুরে দিনে দিনে সৃষ্টি হলো ভালোবাসা আরণ্যক। আমি তোমার নামটি দিলাম: হৃদয়বতী খা খা করা আধাঁর ভরা মন পৃথিবী জ্বালিয়ে দিলো তোমার মুখের জ্যোৎস্নাজ্যোতি। আমি বিপুল অভিভূত- আমার ঠোঁটে লাগলো তোমার চুমুর চিহ্ন…
-
তুমি তার কবিতার মতো / সাইফ আলি
তুমি তার কবিতার মতো কি নিখুঁত সুন্দরে গড়া! কি নিখুঁত কালো দুটো চোখে প্রকৃতিই টেনেছে কাজল!! চিলের ডানার মতো উড়ন্ত চুলে বাতাসেরা বিলি কাটে বসে, পলিজমা শরীরের ভাঁজে ঝরে পড়ে রোদ্রের ফোটা! তুমি তার কবিতার মতো ইন্দ্রিয়ে করেছো প্রবেশ অনুমতি ছাড়া, তবু হায়! রোখার সাধ্য আছে কার!?
-
ছায়ার মানুষ / সায়ীদ আবুবকর
সে হাঁটছে জ্যোৎস্নার ভেতর, কিন্তু তার ছায়া নেই; এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে হাঁটছে সে এক মনে- শুধু তার ছায়া নেই। কে এই লোকটা? আমি ভাবি। চোখের চশমা খুলে সে তাকালো এক নজর আমার চাহনির দিকে। তারপর আগের মতোই হাঁটতে হাঁটতে মিলে গেল নিশীথের ছায়ার ভেতর। কে এই লোকটা? আবারও অবাক হয়ে আমি ভাবি। সে কি…
-
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি / ফজলুল হক তুহিন
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি আমি, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি ! ভেতরে এক রক্তক্ষরণ- যেন নীল প্রস্রবণ! সারাটা রাত সারাটা দিন টের তো আমি পাচ্ছি। কেন তবু নিরন্তর এক পশুর সাথে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি? যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি? ২. শত্রু বুঝেও ধ্বংস বুঝেও কেউ কখনো আমার মতো শত্রুকে কী নিজের মধ্যে দেয় বসতি গড়তে? দেয় নিরবে প্রশ্রয়? চোখের মধ্যে…
-
আমার তখন চারকোল ভালোবাসা / সাইফ আলি
তুমি চেয়েছিলে পেছনের কবিতারা সামনে আসুক আবার নতুন কোরে, শ্রাবণের যতো ঝরে পড়া সন্ধ্যারা আবার আসুক আমাদের হাত ধরে! কিন্তু এখনো রাতের বাজারে চাঁদ কেমন মলিন জোছনা ছড়ায় দেখো, পান্ডুর এই কবিতার খাতাটাতে শূন্য পাতারা ধুলোয় রয়েছে ভরে! তুমি চেয়েছিলে একটা রঙিন ছবি আমার তখন চারকোল ভালোবাসা, শাদা ক্যানভাসে গোটা গোটা কালো দাগ রঙিন যা…
-
যদি বৃষ্টি নামতো / সাইফ আলি
আমি শোকাহত হবো এটা কোনো বড় বিষয় নয় তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে একটু আগেই শোকার্ত মেঘমালা থেকে অবিরাম ঝরে চলেছে সুখাশ্রু বৃষ্টির ফোটা। তোমরা তো জানোই কবির হৃদয় আর্দ্র না হলে তার থেকে বৃষ্টি ঝরে না সৃষ্টি হয়না কবিতার তাল-লয়-ছন্দ কিংবা অন্তমিলের মাধুর্য! একটু পরেই হয়তো বৃষ্টি থেমে যাবে সংকীর্ণ এ শহরের দেয়াল আঁকড়ে…
-
থুতু / সায়ীদ আবুবকর
রসুলবিদ্বেষী ব্লগারদের বিরুদ্ধে যারা ফুলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়, জ্যোৎস্নার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে ন্যাংটা তরবারি নিয়ে নাচে, ঝর্ণার কুলকুল ধ্বনির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের গান গায় আর ভালবাসার বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে ছুটে চলে হায়েনার মতো; আমি কবি, যার কাজই হলো কোকিলের কণ্ঠে সত্য আর সুন্দরের গান গাওয়া, আজ ঘৃণায় তাদের মুখের উপর ছুঁড়ে মেরে গেলাম আমার যত থুতু।…
-
খুনের শহরে আমি / ফজলুল হক তুহিন
খুনের শহরে আমি হেঁটে চলি ত্রস্ত মানুষের মতো কেননা কবিরাও আর নিরাপদ নয়। শিশু, বৃদ্ধ কেউ না, কেউ না। হন্তারোক, আততায়ী- চতুর্দিক অবরুদ্ধ! এ দেশ ঘেরাও- জীবনের সম্ভাবনা উধাও সুখের মতো। এ শহর যে আমার, আমি কোথায় যাব, কোথায়? কতো কিছু আজো হলো না দেখা, চেনাই হলো না কতো মানুষ, কতো রাস্তা। মমতার, বন্ধুত্বের দৃশ্যাবলী,…
-
দেখতে দেখতে / সাইফ আলি
দেখতে দেখতে দেখতে দেখতে দু’চোখ গিয়েছে জ্বলে তবু দেখার হলোনা শেষ! আমি দেখবো না কিছু আর- অদৃশ্যে গিয়ে বাধবো এবার কল্পিত সংসার।
-
কারবালা / সায়ীদ আবুবকর
যত দূর চোখ যায়, লাশ আর লাশ, আর শুধু দেখা যায় শকুনের গলা- এখানে এখন রাস্তায় যায় না চলা মানুষের পায়ে; তবু বারবার বিধ্বস্ত অন্তরে ঘরের বাইরে যাই আর ভয়বিদ্ধ পায়ে ফিরে ফিরে আসি ঘরে। হঠাৎ শকুন এত, রাস্তায় রাস্তায়- কি-উল্লাসে ছিঁড়েখুঁড়ে খায় সীমারের শরে ধরাশায়ী সব স্বজনের নীল লাশ; কান্নায় ও পচা গন্ধে ভারী…
-
সর্বনাশ সিরিজ / ফজলুল হক তুহিন
ক. সে এক গভীর সর্বনাশ আমাকে নদীর মতো টানে পাথরের মতো নিমেষে তলিয়ে নেয় তার ঘ্রাণে পায় না দেখতে আমি আর সেই আমার আকাশ। খ. সে এক প্রবল সর্বনাশ আমাকে জড়িয়ে নেয় নেশার আঠায় পারি না ছড়িয়ে যেতে নেশার লাটাই ফিরে ফিরে আসে সেই ফাঁস। গ. সর্বনাশ আমাকে খুবলে নেয় খেয়ে ট্রেনের মতো সত্তার দিকে…
-
আবেগটা ঠিক ওড়ছে না / সাইফ আলি
রাতটা কেমন থমকে আছে গাছের পাতা নড়ছে না, হাওয়ার গাড়ি তুলছে ধোঁয়া আবেগটা ঠিক ওড়ছে না। আকাশটাকে আগলে রাখে এমনতর জোছনা কই, কালো কালো মেঘের বুকে জমবো ভীষণ! বৃষ্টি নই।
-
কোথা থেকে এলো এ বিহঙ্গ / সায়ীদ আবুবকর
উৎসর্গ: মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এ বিহঙ্গ কোথা থেকে এলো, কণ্ঠে যার শুধু অগ্নি ঝরে? সে-অগ্নিতে মুহূর্তে স্বদেশ জ্বলে উঠে হয়ে গেল সোনা; সে-বিহঙ্গ বেঁধেছে যে বাসা ষোলো কোটি সবুজ অন্তরে,- ব্যাধের কী সাধ্য তাকে ধরে, বৃথা তার সব জাল-বোনা! সব…
-
বুঝি না কি প্রয়োজন / ফজলুল হক তুহিন
বুঝি না কী প্রয়োজন আর তার বেঁচে থাকবার ভেবে পাইনে কী দরকার আর তার এভাবে বাঁচার। প্রাণের জোনাকী অন্ধকার দেহে মিটমিট জ্বললেই জীবন্ত মানুষ বলা যায়? যায় না, হয়তো যায়। কিন্তু তাকে কী করে প্রমাণ করা যায় পৃথিবীর মানবিক জীব? স্মৃতির প্রবাহ তার পদ্মা নদী খা খা। ধু ধু- শুধু শূন্যতার ঢেউ। একদিন এখানে অসংখ্য…
-
আমার অগ্নিবীণা / সায়ীদ আবুবকর
রক্তাক্ত মিশরকে উৎসর্গিত যারা বিপ্লবের কথা বলে পথেঘাটে আর খেজুরের লাঠি নিয়ে বীরপুরুষের মতো হাঁটে, আমার সমস্ত ঘৃণা সেসব মূর্খের মুখে, এবং আমার অগ্নিবীণা বেজে ওঠে তাদেরই বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হৃদয়ে ইসরাফিলের শিঙা হয়ে। আর যারা তাদের কথায় গাঁড়লের মতো নাচে পৃথিবীর আনাচে কানাচে; শান্তির রুমাল হাতে নিয়ে, অতঃপর, তারা সব ঘুঘুর নরম কণ্ঠে গেয়ে ওঠে…
-
পূর্ণিমায় অমানিশা / ফজলুল হক তুহিন
অবশেষে তোমাকেও পেয়েছি আমার সৌভাগ্যের মৃত্তিকায় তুমি হয়েছো আমার আনন্দিত অবগাহনের করতোয়া। সেই কবে শুরু হয়েছিলো স্বপ্নদৌড়। নীলিমা, তোমাকে ছোঁয়া ছিলো সাফল্যের শেষ মাইলস্টোন। আজ আমি সেই সীমানায়। মুহূর্তে আমার মানচিত্র এভারেস্ট বিজয়ীর উল্লসিত নীল শিহরণে থরোথরো! আদিম প্রচ্ছদে মগ্ন সুলতান ধরেছে নিখুঁত আমাদের সরল প্রণয় আর অভিমান। আমাদের আকাশের এই পূর্ণিমার গান আজ হোক…
-
অহোনা জেবিন / সায়ীদ আবুবকর
তোমার দুচোখে সুন্দর বেঁধেছে বাসা বাবুই পাখিরা তোমার কি কেউ হয়? ঘৃণা চেনো না হে, চেনো শুধু ভালবাসা কোন্ জলে ধোওয়া বলো তোমার হৃদয়? তুমি কি দ্যাখোনি শকুনের ক্রুর ঠোঁট বিধ্বস্ত নগরে কিভাবে খুবলে খায় মানুষের শব? শ্বাপদ বেঁধেছে জোট, মহাসংকট মানুষের সভ্যতায় তুমি এক নারী, ভুলে যেতে পারো সব, শুধু সুখস্মৃতি বাঁধো তাই আরশিতে…
-
তোমাকে বাজাতে চাই / ফজলুল হক তুহিন
তোমাকে বাজাতে চাই আমি আমার আপন সত্তার তৃষ্ণায় তোমার ভেতর পাই আমি এখনো শুনতে কালের ঝংকার । ইট পাথরের ভিত, প্রশস্ত গৃহের সজ্জা আজো মেখে আছো তুমি। পোড়া মাটির বাসনে তুমি বেড়ে দাও ভাপ ওঠা ভাত আমার ক্ষুধায়। আমারই তৃষ্ণায় পদ্মার জলে ভেজে হাত ভেজে তোমার আঁচল, ভেজে ঢেউয়ের আদরে গৌড়। ফলবতী হও তুমি আদরে…
-
বাতুলতা এবং / আবুল হাসান
বাতুলতা তোমাকে চাই না আর! ঢের ঢের শিখেছি নায়ক বুলি, কী কোরে প্রেমিক সেজে সারারাত কাঁদতে হয় তাও জানি। আর কড়ে আঙ্গুলের ছোঁয়া কী কোরে লাগতে হয় প্রতিজ্ঞার ঘাড়ে তাও বেশ জানে এ অধম! ভাঙ্গা মন্দিরে হে বাতুলতা, শুধুই অতীত কাঁদে পুরোনো মন্ত্রের স্বরে। আর প্রবীণ মসজিদে সেই ব্যাকুল শব্দে জানে তোমার করুণ হেরফের। ফুঁ…
-
যেভাবেই তুমি চাওনা মাধবী / সাইফ আলি
যেভাবেই তুমি চাওনা মাধবী যতটাই তুমি চাও আমার আছে যা তার থেকে বেশি পারবোনা দিতে সত্যি। কথা দিতে আমি পারবোনা কাল এ পথেই ফিরে আসবো, পার্কের এই বেঞ্চিতে বসে বাদাম চিবাবো দুইজন, কথা দিতে আমি পারবোনা কাল সত্যিই ভালোবাসবো। যেভাবেই তুমি চাওনা মাধবী, যতটাই তুমি চাও আমার আছে যা তার থেকে বেশি বাতুলতা ছাড়া আর…