-
মহামানব হজরত মহম্মদের স. সেই দেশে / সায়ীদ আবুবকর
পবিত্র পায়ের ধুলো তাঁর লেগেছিল যার গায়ে, সেই মাটি আর সেই দেশ কতই না ভাগ্যবান! যে-মাঠে কৈশোরে তিনি ছুটেছিলেন ফেরেস্তার পায়ে, সেই মাঠ ছিলো বুঝি এক টুকরো বেহেস্তবাগান। আমার দুচোখ শুধু খুঁজে ফেরে সেই পদছাপ আরবের পথে পথে, যার স্পর্শে বাতিলের ভিত ধসে গিয়েছিল, কেঁপে উঠেছিল পৃথিবীর পাপ আর ফিরে পেয়েছিল মানুষ তার লুপ্ত সম্বিত।…
-
সরাও সরাও ছায়া / সাইফ আলি
কে তুমি অতলে নোঙর ছোঁয়ালে কে তুমি ভীড়ালে যুদ্ধ জাহাজ দানব দানবীয় প্রেমে কে তুমি জড়ালে সরাও সরাও ছায়া… এ প্রেম যুদ্ধ যুদ্ধ চেয়েছে চেয়েছে রক্তজবা চেয়েছে যুগের হৃৎপিন্ডটা নিষ্ঠুর করতলে! এ প্রেম কষ্ট কষ্ট চেয়েছে আরো বেশি আরো বেশি- এ প্রেম যুদ্ধ যুদ্ধ চেয়েছে নিষিদ্ধ রোষানলে। কে তুমি অতলে নোঙর ছোঁয়ালে বোমারু বিমান কাঁধে…
-
রবীন্দ্রনাথকে / আবুল হাসান
আমার রক্তকে বলি তোমার গানের মত পরম্পর গভীরে ছড়াতে স্বাস্থ্যের শিরায় তোমার ভাষ্যের শীষে কলিক নীবিতে রেখে বিদেহী বিলাপ বুঝিনা অমৃত কার, বুঝিনা কেননা এই প্রতিম বিকাশ তোমার সকল গানে মিশে নিয়ে হারায় নিজেকে। কৃতজ্ঞতা ভুলে গেছি, কৃতজ্ঞ কখনো নই; কাঙাল মুখের ছাপে মেখে দেই তবুও তো তোমার প্রাণের ভাষা, মুঠে পুরে প্রশান্তির কড়ি! পৃথিবীকে…
-
বরফ গলে যেতেও পারে / সাইফ আলি
তাকাও যদি বরফ গলে যেতেও পারে, ফোটায় ফোটায় জমতে পারে শিশির হয়ে ঘাসের বুকে এবং কিছু সবুজ পাতায়; তাকাও যদি চাঁদের মতো মেঘ সরিয়ে জোছনাতে ফের ছন্দ ফিরে পেতেও পারে। মনের মাঠে খুব গোপনে কি দাও রুয়ে এমন কেনো বাড়তে থাকে লাগামছাড়া দেখতে কিছুই পাইনে চোখে কিন্তু কেমন ঝর্ণাশীতল উপচে পড়ে পাহাড় চুয়ে। তোমার চোখে…
-
হতভাগা এক জাতির উপাখ্যান / সায়ীদ আবুবকর
কী আর বিদেশজয়ে যাবে হতভাগা এই জাতি, নিজের ঘরেই কি-অদ্ভুত হয়ে আছে পরাজিত! কোন্ কালে ছিলো বজ্রকণ্ঠ, ব্যাঘ্র, সিংহ কিংবা হাতি- আজ পাতিহাঁস-শেয়ালের খাদ্য-রুগ্ণ, অর্ধমৃত। ঘরে ঘরে ফেরাউন পুষে মুসার কাসিদা গায়, মহম্মদ-প্রেমে দিওয়ানা হোসেনের কল্লা কেটে- রাত্রিদিন কি-ফুর্তিতে শুধু নষ্টজলে সাঁতরায়! তবু বুকে সাধ, বীরদর্পে সে বেড়ায় মর্ত্যে হেঁটে। অশ্বের উপর ছিলো যার সর্বক্ষণ…
-
কল্পনা / আবুল হাসান
কল্পনা তোর নাগাল পেলেই আকাশে বেলুন ছুড়ি। ফুঁ দিয়ে সেখানে ইথারে আয়নে বাজাই অলীক চুড়ি। বস্তুত; এই নিষ্ক্রিয় পথে, ছায়ারোদ কারবারে, কল্পনা তোর হাত ধরে শেষে চলে যাই পারাপারে। মিথ্যে যেখানে মুখোশ সবার রক্তের উৎপাতে কল্পনা তোর ভাড়ার মূল্য কমে নাকি উৎখাতে? স্বপ্নকে নিয়ে হাত ধরে ধরে এগিয়ে যেখানে যাই ছায়াপথ নয়, বিলাস চেতনা, সঞ্চয়…
-
কিন্তু কেমন গোপন কোরে / সাইফ আলি
তোমরা তাকে শিখিয়ে দিলে দেয়াল বেয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং হাসি হাসি মুখে জীবন গাড়ি চালিয়ে যাওয়া কিন্তু কেমন গোপন কোরে হাত লুকালে ভালোবাসার তাই কোনোদিন সে বেচারা পথ পেলো না কাছে আসার।
-
ব্যারাম / সাইফ আলি
কিছুই দেখিনা আমি সবকিছু দেখে ফেলে লোকে! আমার যে চোখ আছে ভুলে যাই দেখে দেখে তাদের সে চোখে। কিছুই বুঝিনা আমি সবকিছু বুঝে ফেলে লোকে! আমার যে বোধ আছে ভুলে যাই তাদের সে বোধের আলোকে। আমার কি দরকার বুঝে ফেলে সরকার! আমি বলি- নারে না, এটা নয় ওটা। উনারা বলেন- বাবা দিলাম তো গোটা! মোটা…
-
আত্মার ফোঁকর থেকে / আবুল হাসান
না, না ওকে জাগাবোনা! এই অন্ধকারে যখন সূর্যের তালা বন্ধ করে ফিরেছেন রাগী ঈশ্বর যখন সেগুন ডালে দু’একটা বোবা পাখী চিৎকারে ফাটায় আকাশ ব্যঙ্গ করে তৈলহীন দীপাধার আমার টেবিলে, তখন, কী কোরে জাগাবো তাকে? ঈশ্বর বড় অকরুণ! ও বরং একতোড়া যন্ত্রণা নিয়ে শীতল ঘুমের মোহে শুয়ে থাক! ওর ঐ রং গলা আলাপ সালাপ উচ্ছলিত হাসি…
-
কী করে যে বেঁচে আছি / সায়ীদ আবুবকর
এ নরকে কী করে যে বেঁচে আছি জানি না তা আমরাও। কোনো মশা কিংবা মাছি বসে না কখনও ভুল করে আমাদের ফলমূলে। অথচ আমরা কি-সহজে গোগ্রাসে গাধার মতো গিলে যাই! আমরা বুঝি না, মাছিরা হয়তো বোঝে ডিডিটির মর্মার্থ। পানিতে আর্সেনিক আমাদের, আমাদের বাতাস বিষাক্ত, মাছে ফরমালিন, আর আমরা বৃষ্টির মতো বিষ ঢেলে দেই গাছে গাছে।…
-
স্বাধীনতা / সাইফ আলি
এবার কিছুটা স্বাধীনতা হোক বোঝাপড়া আসো তোমার আমার এবার কিছুটা ঝরে যেতে দাও দায়বদ্ধতা আঙুল ধরার পাখি ও পাখির পালক-পাখার ছুটোছুটি থাক আকাশের বুকে নীড়ে ফিরে যেতে বাধ্য করার কে তুমি মানুষ আমাকে বোঝাও আমাকে বোঝাও রঙধনু থেকে দৃষ্টি কেড়ে যে দেখালে দালান তার ভেতরে কি এসির বাতাসে খুঁজে পেয়েছিলে সাগরের ঘ্রাণ যদি নাই পাও…
-
একটি দেয়াল / আবুল হাসান
জীবনে অনেক দেব বলে আমি দেইনিতো কিছু স্মৃতি, শোক, সঞ্চয় আকাঙ্খায় নামে, অকালে তোমার ব্যথা ঘনকাপে মুখের উপর দেয়াল, তবুও বলি, কেঁদোনা অমন! বিপণ্ন ঝড়ের হাওয়া উৎখাত করে যে আমাকে মগ্ন হৃদয়ে আর ঐশ্বর্যের হাসি শুনবোনা; ধুলোর আচ্ছাদনে ভীরুজাল আবদ্ধ, মলিন সমুদ্র, তোমাকে বলি, ঐ গান আর শোনায়োনা; কবিতা হবেনা আর, হে কবিতা সময় এবার…
-
লেজকাটা শেয়ালের দেশে / সায়ীদ আবুবকর
এত শেয়াল, লেজকাটা, চারদিকে! গায় তারা একই গান তাদের বাপের মতো: ‘ভাইসব, বড় বেমানান ওই লেজ। সুতরাং কেটে ফেলুন না একসাথে লেজগুলো; সুন্দর লাগবে তাতে।’ লেজের নিষ্প্রয়োজনীয়তার উপর তারা বলে যায় কথা অনর্গল। তাদের কথার যথার্থতা উপলব্ধি করে কেউ কেউ। কেউ কেউ এতদূর পর্যন্ত ভাবতেও থাকে, কেটে ফেলবে শেষমেশ তাদের বাহুল্য লেজটাকে। শুধু এক বয়োজ্যেষ্ঠ…
-
অবাক হয়ে ভাবি / সাইফ আলি
অবাক হয়ে ভাবি নিঃশর্ত মুক্তি কোরে দাবি খুনির জন্য বের হলো যেই মিছিল সেই মিছিলে ঝান্ডা হাতে শ্লোগান তোলো তুমি!! আহা! টাকার লোভে বিকিয়ে দিতে ঠেকবে কিসে তবে আমার মাতৃভূমি? ধর্ষকেরা ফুলের মতো চোরে সাধুর বাপ এমনতর সার্টিফিকেট শুনছি তোমার মুখে! গরম চায়ের কাপ আর, বিদগ্ধ সংলাপ চলছে টিভি পর্দাতে আর সেই আসরে ঝুকে নিজকে…
-
স্বপ্নসমাচার / সায়ীদ আবুবকর
আমগুলো সব কাঁঠাল হওয়ার স্বপ্নে বিভোর, মাছগুলো চায় পাখি হয়ে যেতে, উড়বে আকাশে; দুপুর গড়ায়, বিকেল কখন রাত হয়ে আসে, স্বপ্নে স্বপ্নে কেটে যায় রাত, নেমে আসে ভোর। এ কেমন দেশ, ফুলগুলো চায় হয়ে যাবে বোমা, তরবারিগুলো ড্রয়িংরুমের সোনালি শো-কেসে ঘুম দিতে চায় শিল্পের ঘুম; পাথরেরা এসে লাইলির ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলে, জাগো প্রিয়তমা! রয়েল…
-
মৃত্যুপুরী / সায়ীদ আবুবকর
এ কেমন দৃশ্য দ্যাখো, মানুষের মৃত্যুতে উল্লাসে নাচছে মানুষ। মানুষ এখানে আর দেয় না তো ফুল লাশে, দুঃখে ছিটায় না গোলাপজল। বরং উচ্ছল নৃত্যের মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করে তারা সভ্যতার অলিগলি। যারা যত বর্বর তারাই অধিক মানুষ এই জনপদে; এখানে কেবলি বন্য বরাহের আনন্দউৎসব, মানুষের শোকসভা। শকুন অথবা শেয়াল না হলে কিংবা মাছির মতো পচা…
-
বহুতল ভবনের ছাদে / সাইফ আলি
তুমি কোন সাগরের তীরে খালি পায়ে হাঁটছো এখন, আমি আছি শহরের বহুতল ভবনের ছাদে- এখানে যে চাঁদ উঠে বিষণ্ণ করে দিলো রাতের আঁধার সেই চাঁদ ঢেউয়ে ঢেউয়ে বসালো কি জোনাকি-আসর!? তোমার পাদুকা জোড়া বেওয়ারিশ নৌকা সেজেছে শুভ হোক দু’জনার চাঁদরাতে সাগর সফর তুমি আর খুঁজতে যেওনা। এখানে মধ্যরাত পার হয়ে গেছে রাস্তার মাঝখানে সারি সারি…
-
কেউ কেউ থাকবে এমন / সাইফ আলি
কেউ কেউ থাকবে এমন নিশ্বাস ফেলে যাবে ঘাড়ের উপর মৃত্যুর মতো এক ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে অথচ কখন সে যে ঝড় বয়ে যাবে জানবে না গাছের পাতারা! কেউ কেউ থাকবে এমন চিবুকের তিল হয়ে একান্ত রাতে হিংসায় চাঁদ যাবে পুড়ে দৃষ্টির মাকড়সা জালে তবু সেই কুচকুচে কালো তিল ছটফট করবে ভীষণ! কেউ কেউ থাকবে এমন ধরা…
-
শত্রুর আগমনে / সায়ীদ আবুবকর
কাগুজে বাঘই দেখে এসেছি সারা জীবন। শুধু একদিনই জ্যান্ত বাঘ এসেছিল আমাদের গ্রামে। আমাদের ছাতেনতলা গ্রামটি এক কালে বাঘদেরই ভিটেবাড়ি ছিলো। যশোর-খুলনা-বাগেরহাট সুন্দরবন অঞ্চলই ছিলো একসময়। আস্তে আস্তে সরে গেছে সুন্দরবন দক্ষিণে, সাগরের কোলে। জঙ্গল সাবাড় করে বসতি গেড়েছে মানুষ। বাঘেরা গ্রামান্তর হয়ে পালিয়েছে গভীর জঙ্গলে। তবু মাঝেমধ্যে ভুল করে দু-একটি বাঘ ঢুকে পড়তো আমাদের…
-
ঘুসখোর / সাইফ আলি
তোর ঘুষের চর্বি নিলামে উঠলে বিনে পয়সায়ও কিনতাম না, ঘুষখোর বিনে কোনো পরিচয়ে কোনোদিন তোকে চিনতাম না। অফিসার তুই লজ্জা চিনিস? চোর নস বেটা জোচ্চর- উল্টাপাল্টা ভূগোল পড়ায়ে পরিচিতি মিঠে ঘুসখোর।