• ক্ষণজন্মা / সাইফ আলি

    সময়টা তার খুব বেশি না অল্প ছিলো কিন্তু তাতে এক জীবনের গল্প ছিলো…


  • ইনকিলাব / সাইফ আলি

    যখন তুমি ভাবলে কেউ আর নেই বৃক্ষের মতো, আগলে রাখে ছায়া দেয় বুক চেতিয়ে দাঁড়ায় প্রচন্ড রোদে… বাগ দেয়া মোরগেরা শহরের মতো ঘুমিয়ে পড়েছে ভোরে, ভাঙাবে না ঘুম। রক্তে মরিচা ধরেছে ভেবে অসহায় এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে বসে গেলে সমান্তরালে মাটির… মাটি তোমাকে শুনিয়ে দিলো শত সহস্র বছরের ইতিহাস- ইনকিলাব, ক্ষয়, পরাজয়, অতঃপর আবার ইনকিলাব……


  • নায়ক এবার মঞ্চে প্রবেশ করো / সাইফ আলি

    নায়ক এবার মঞ্চে প্রবেশ করো- শোনাও তোমার নতুন ইশতেহাার, নায়ক এবার শপথ বাক্য পড়ো- রোখার সাধ্য কার… পায়রা এখানে মেলছে না ডানা পরাধীন এ আকাশ, নতুন আঁধার ঘিরেছে ক্রমেই; শুনছো কি উল্লাস? নায়ক এবার মঞ্চে প্রবেশ করো- ঘর পোড়া সব তাকিয়ে তোমার দিকে, নায়ক এবার শপথ বাক্য পড়ো- শুনে যাক দাম্ভিকে… চোখের কাগজ বৃষ্টিতে ভেজা …


  • ভালোই হতো রাতের মতো / সাইফ আলি

    ভালোই হতো রাতের মতো হতাম যদি অন্ধ মনের ভিতর থাকতো না আর সাক্ষ্যি হওয়ার দন্দ্ব। সব খেয়ে ফের আমার ভাগের- বলতে কিছু খাইনি। আক্ষেপে তো দিন যেতো না- ‘আমিই শুধু পাইনি।’ কারোর চোখের নীলাভ শোকের থাকতো ভাষা অজানা; জেনেই এখন ভুল করেছি কাটছে না তাই দোটানা। তোমরা যারা আপন তারা ভাতের হাড়ি ভাগ করো সামান্যতে…


  • অবাক লাগে / সাইফ আলি

    আমার মায়ের জায়নামাজের প্রান্ত ধরে দাঁড়িয়ে আছি তাকিয়ে আছি সবুজ শ্যামল মাঠের দিকে; ঘাটের দিকে এখন তো আর নৌকা বোঝায় সুখ আসে না আগের মতো মূক হয়ে যায় ইচ্ছেগুলো, ঘাসের কাছে বিকেল হলেই; কষ্ট আসে ঠোঙায় ভরে বিভৎস এক লাশের শরীর; শরীর টা কার জানতে বড় ইচ্ছে করে, চোখ বুজে যায়; বিকাল বেলার ফুলের মতো…


  • তুফান / ফররুখ আহমদ

    দুর্বার তরঙ্গ এক ব’য়ে গেল তীর-তীব্র বেগে, বলে গেল: আমি আছি যে মুহুর্তে আমি গতিমান; যখনি হারাই গতি সে মুহুর্তে  আমি আর নাই। –    ইকবাল সে তুফান থেমে গেছে, সাইমুমের সে দুর্ধষ পাখা- সাহারার সূর্য-ঝড় লুপ্ত হিম-শর্বরী-অতলে, অন্ধ, মূক আঁধারের অজগর হিংস্র ফণা তলে দূরচারী বেদুইন-খর রশ্মি আজ মেঘে ঢাকা, আজ মরু-বালুকাতে লুপ্ত তার বিজয়ী…


  • লাশ / ফররুখ আহমদ

    (তেরশো পঞ্চাশে) যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোড়, কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়, সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে জমিনের ‘পর; সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর। জানি মানুষের লাশ মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে ধরণীর ‘পর, ক্ষুধিত অসাড় তনু বত্রিশ নাড়ীর তাপে প’ড়ে আছে নিঁসাড় নিথর, পাশ দিয়ে চ’লে…


  • পাঞ্জেরী / ফররুখ আহমদ

    রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে? তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে: অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরি। রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? দীঘল রাতের শ্রান্ত সফর শেষে কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা প’ড়েছি এসে? একী ঘন-সিয়া জিন্দিগানীর বা’ব তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব, অস্ফুট হ’য়ে…


  • পিপাশা এখন / সাইফ আলি

    মানুষের বসতি কোথায়? কোনদিকে গেলে মিলবে বলুন এক গ্লাস ঠান্ডা পানি, পিপাশা মিটাতে চাই; খরায় শুকিয়ে গেছে বুকের চাতাল। আতিথেয়তার প্রয়োজন নেই বেশিক্ষণ থাকবোনা; তবে আমি ক্লান্ত বড় বেশি… একটু ছায়া…যদি… না না ঘরে নয়, বারন্দা… না, থাক; কোনো এক গাছের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেবো। এখনো তো গাছগুলো ছায়া দেয় বাতাসেরা স্বার্থপর হয়ে যায়নি এখনো……


  • দায় / সাইফ আলি

    কলমের কালি শুকিয়ে গিয়েছে? লেখবেনা আর গণমানুষের কাব্য? নাকি তুমি আছো রক্তে মাংশে বিবেকে মরেছো ভাববো?? তোমার কবিতা বলেনা এখন ব্যথা বেদনার কথা বলেনা স্বপ্ন কিংবা বাস্তবতা। তুমি ভিনদেশী এলিয়েন নিয়ে ইদানিং নাকি লেখছো? লেখতেই পারো নিষেধ করিনে হয়তো রঙিন চশমায় শুধু এলিয়েনদেরই দেখছো! শুধু এইটুকু বলে রাখি যদি মানুষ না থাকে কেউ আর, তোমার…


  • আগুনের মেয়ে তুমি / সাইফ আলি

    আগুনের মেয়ে তুমি ছুয়ে দাও চাঁদ তরল জোছনা আসে নেমে এ কেমন বিমূর্ত হৃদয় তোমার সমস্ত রাত যায় থেমে… চোখের দৃষ্টি খোঁজে মাংশের ভাজে মেলেনা কখনো তাই হৃদয়ের খোঁজ আঙ্গুল ছুয়ে দেখে ত্বকের কাগজ হৃদয় বসত বাধে গহীনে সলাজে আগুনের মেয়ে তুমি আমিও যে বাতাসের ছেলে এক হয়ে মিশে যাই এসো এই রাতে বিগলিত চাঁদ…


  • হে আমার প্রিয় কবি / সাইফ আলি

    কবি মতিউর রহমান মল্লিক স্মরণে তোমার সঙ্গে আমার হয়নি দেখা তোমার সঙ্গে কথাও হয়নি কোনো তবু তুমি আজ হৃদয়ের ক্যানভাসে অমর চিত্র, অক্ষয় জলছবি। তুমি অসুস্থ হাসপাতালের  বেডে তখনো তো আমি যাইনি তোমার পাশে একা রাত জেগে স্মরণ করেছি শুধু তোমার কবিতা, হে আমার প্রিয় কবি। শিল্পীর মুখে তোমার কবিতা, গান প্রতিটা শব্দ হৃদয়ে দিয়েছে…


  • অপুর চিঠি / সায়ীদ আবুবকর

    [আমাকে নিয়ে লেখা উড়িশ্যার কবি ভারতী নায়েকের ‘A Letter To Appu With Love From Durga Didi’ এর জবাবে] তুমিও, হে দিদি, শেষতক  গন্দমই খেলে। গন্দম খেলে তো ঈশ্বর বেহেস্ত থেকে তাকে ছুঁড়ে মারে পৃথিবীর আস্তাকুঁড়ে। শরীরে তখন তার  উত্তাল যৌবন এসে যায়। সে-যৌবন আগুন জ্বালায় সারা দেহে। তারপর মানুষ কেমন মাতালের মতো ঘরদোর ফেলে চলে…


  • শাহরিয়ার / ফররুখ আহমদ

    শাহেরজাদীর ঝরোকায় এসে সাইমুম স্নায়ু শ্রান্ত শিথিল, খোঁজে ওয়েসিস মরু-সাহারার চিড় খাওয়া দিল শূন্য নিখিল। এ মৃত ঊষর বালুতে আবার জাগবে আনার দানা; কালো কামনায় লাগাম ধরবে টানি? উচ্ছৃঙ্খল রাতের ভুলের আজ বুঝি শেষ নাই, ভুলের মাটিতে ফুটবে না ফুল জানি। হাজার নাজুক কুমারীর মুখ ভাসায়ে লোহুর স্রোতে ছুটেছিল সিয়া জিন্দিগী নিয়ে যে পশু মৃত্যুপারে,…


  • বিবেক বিক্রি হতে দেখে / সাইফ আলি

    তুমি যা বিক্রি করে দিলে তা আমার কবিতার খাতা তুমি যাকে বোমা-বাজি ভাবো সে আমার সখের কবিতা।


  • মাননীয় প্রফেট / আফসার নিজাম

    মাননীয় প্রফেট, দরুদ সালাম সহস্র সময়কে ধারণ করার জন্য এবঙ বাতাসকে ঘুরিয়ে নির্মল কক্ষপথে পরিচালনার জন্য কিন্তু বিস্মিত হবেন না মাননীয় আপনার অনুসারীরা ধারণ করতে পারেনি বাতাসের আর্দ্রতা- কোমলতায় মেখে নিতে পারেনি জাফরানি লোবান। কারণ- তারা হারিয়ে ফেলেছে নান্দনিক চৈতন্যের ইকরা বিসমি রাব্বি কাল্লাজি খালাক। মাননীয় প্রফেট এবার নেমে আসুন দেখুন আপনার উম্মত বাতলিয়ে দিন-…


  • দরিয়ার শেষ রাত্রি / ফররুখ আহমদ

    রাত্রে ঝড় উঠিয়াছিল; সুবেসাদিকের ম্লান রোশনিতে সমুদ্রের বুক এখন শান্ত। কয়েকজন বিমর্ষ মাল্লা সিন্দবাদকে ঘিরিয়া জাহাজের পাটাতনে আসিয়া দাঁড়াইল। ১ম মাল্লা কাল রাত জেগে আওয়াজ পেয়েছ, কোনো? জিঞ্জির আর দাঁড় উঠেছিল দুলে! ২য় মাল্লা বুঝি সী-মোরগ সাথীহারা তার দরিয়ার শেষ রাতে ঝড় বুকে পুরে বসেছিল মাস্তুলে! ৩য় মাল্লা যেন সুলেমান নবীর শিকলে বন্দী বিশাল জিন…


  • তোমার জন্য একটা কবিতা / সাইফ আলি

    তোমার জন্য আমার শখের মেঠো পথ দেবো ছেড়ে তুমি হেটো সেই পথে, তোমার জন্য এক থোকা ফুল রেখে যাবো এই ঘাসে তুমি বসো তার পাশে। এক মুঠো আলো বতলে বদ্ধ সাথে চিঠি নীল খামে রেখে যাবো এই ঘাসের চাদরে বন্ধু তোমার নামে; একটি বিকাল তোমার জন্য একটি সন্ধ্যা বেলা, পারলে তা নিও বুকের গভীরে না…


  • যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে / সাইফ আলি

    যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে যেটুকু বিষাদ ছিলো রাতের শরীরে সবটুকু তুলিতে মলিন; সারা ক্যানভাস ছিলো ভীষণ রঙিন! দৃষ্টিরা দেখেছিলো শুধু সেই রঙ পারেনি আঁধার ছুতে ঠোঁট; সারাটা রাতের ব্যথা এক নিমেষেই কিনে নিয়ে গেলো কিছু কাগজের নোট!


  • আমার শিক্ষা; আমার মনোভাব / সাইফ আলি

    আজ সকালে যে শিশুটির জন্ম হলো তার কোনো ইচ্ছা নেই। তাকে বলা হলো, তুমি বড়ো হয়ে ডাক্তার হবা, না হলে ইঞ্জিনিয়ার; আর যদি নাই পারো তবে অন্তত একটা সরকারি চাকরি তোমাকে পেতেই হবে। কিন্তু সাবধান- কবিটবি হয়োনা কখনো। তোমাকে দিয়ে ব্যবসা হবে না, কারণ তোমার রক্তে নেই… মানুষকে কিভাবে ঠকাতে হয় সেটা তোমার চৌদ্দগুষ্ঠির কেউ…