• নিশানাবাজ / সাইফ আলি

    তুমিই কি সেই কালের ঘোড়া দাবড়ে ফেরা রাজকুমারীযার দুচোখের লবন জলে ডুবলো হাজার প্রেমের জাহাজ!তোমার হাসি লেপ্টে আছে জোছনা মাখা রাতের দেহেকবির কলম থমকে আছে ধরতে তোমার পায়ের আওয়াজ। হাসছো ক্যানো, ভাবছো আমি আবোল তাবোল কাব্য ঘেঁটেদু’চার লাইন চোরাই আবেগ লুকিয়ে রাখি বুক পকেটে?সত্যি না তা, বলছি যা তা হৃদয় দিয়ে শুনেই দেখোতোমার আমার ফুলগুলো…


  • কঠিন-কোমল / সাইফ আলি

    খসখসে কড়াপরা হাত দেখে ভেবোনা এই আঙুল কখনো গোলাপ ছোঁয়নি; উষ্কখুষ্ক চুল আর ঘর্মাক্ত শরীর কোনো উজবুকের নিশানা নয় ভেবোনা এই বিব্রত চোখ কখনো স্বপ্ন দেখতে শেখেনি কুচকে পড়া আস্তিন আর রঙ জ্বলে যাওয়া ত্বকের অন্দরে যার বসবাস তার চেহারাটা তোমার মতই মোলায়েম, দাগ বসে, তাকে বড্ড সাবধানে ছুঁতে হয়; যেনো চোট না পৌঁছোয়। ঝিনুক…


  • তুমি তার কবিতার মতো / সাইফ আলি

    তুমি তার কবিতার মতো কি নিখুঁত সুন্দরে গড়া! কি নিখুঁত কালো দুটো চোখে প্রকৃতিই টেনেছে কাজল!! চিলের ডানার মতো উড়ন্ত চুলে বাতাসেরা বিলি কাটে বসে, পলিজমা শরীরের ভাঁজে ঝরে পড়ে রোদ্রের ফোটা! তুমি তার কবিতার মতো ইন্দ্রিয়ে করেছো প্রবেশ অনুমতি ছাড়া, তবু হায়! রোখার সাধ্য আছে কার!?


  • দৃষ্টিভ্রম / সাইফ আলি

    অমানবিক কোমল তসবির তোমার ভেসে থাকে মেঘের মুলুকে কালোকেশি ঝড় আসে, বৃষ্টি হয় ঝরে পড়ে শফেদ বরফ… আর, সেই শীলাবৃষ্টিতে ভিজে একাকার কাকের মতো আমি অবাক বিষ্ময়ে বারবার করি আবিষ্কার- এলোকেশী মেঘদলে তোমার প্রতিকৃতি ঝাপশা-ঘোলা-অস্পষ্ট অথচ কি বাস্তব কি নিপূণ সুক্ষতায় ধরা দেয় আমার দু’চোখে – নিজেকে বোঝাই- এ তোমার দৃষ্টিভ্রম এ তোমার ভ্রান্ত কল্পনা…


  • অঝর বৃষ্টি হবে / সাইফ আলি

    চোখ তুলে তাকাতেই গোধুলির তুলো তুলো মেঘ আকাশ গড়িয়ে নামে টলটলে বৃষ্টির ফোটা সূর্য রঙিন এক রংধনু একে দেয় দূরে অভিমানী তাকিয়েছো কার চোখে বলো কি ভীষন নিষ্ঠুর; অতল আবেগ… আমি তো কাঙাল নদী চর জাগা চোখে তাকিয়েই থাকি- অঝর বৃষ্টি হবে; বাধভাঙা তোমার জোয়ার আমাকে ভাসিয়ে নিতে কতক্ষণ বাকি? অঝর বৃষ্টি হবে বুকের ভিতর…



  • ঘাটের ছেলের আনাড়ি কবিতা / সাইফ আলি

    প্রথমে স্মরণ করো ঘোলাজল নদীটার কথা পাথরের ঘাট, কূল বসে কেউ পা ডুবিয়ে জলে ভিষন বাচাল সকাল সন্ধ্যা শুধু কথা বলে- তুমি কি এখনো আগের মতোই; প্রিয় নিরবতা? কিশোরি তোমার কোমল পা দু’টি জলে দিতে ভয় আজো কি তেমন? আজো কি সন্ধ্যা লাগতে লাগতে ঘরে যেতে হয়? ঘুম থেকে রোজ জাগতে জাগতে বারোটা বাজাতে, এখনো…


  • ধুমকেতু

    আমার বুকের গভীরটাতে কষ্টগুলো লুকিয়ে আছে যেই সীমানায় সেখানটাতে সুখপাখিটা রাখতে গিয়ে চমকে উঠি, পূর্ণ দুখে কানায় কানায়। কবে তুমি হঠাৎ রাতে আসলে ছুটে ধুমকেতু আমার বাতাস তোমার ধোঁয়ায় পূর্ণ হলো; চূর্ণ হলে আমার বুকে কোন হেতু? এখন আমার রাতের আকাশ পূর্ণ পোঁড়া বাড়ির মতো বাঁদুরে আর চামচিকায়, মাঝে মাঝে রাতের বেলা লালপরী আর নীলপরী…


  • আজো সেই শ্রাবণের দিন আসে

    আজো সেই শ্রাবণের দিন আসে রিমঝিম বৃষ্টিরা আসে না, আজো সে আঁধার কালো রাত আসে মধুর স্বপ্ন চোখে ভাসে না। এখন চাঁদের আর প্রদ্বীপের তফাৎটা খুব চোখে পড়ে না, এখনো রাতের কালো ফিকে হয় শুধু যেনো জোসনারা ঝরে না। আজো সে বসন্তের দিন আসে গাছে গাছে ফুল শুধু হাসে না, যার আসা যাওয়া ছিল নিত্য…


  • সারাদিন দেখলাম তুমি

    সারাদিন দেখলাম তুমি সবুজ ঘাসের মতো মেঘের পালক দেখে কাটালে সময়… মেঘেরা বৃষ্টি নিয়ে এলো বাতাসের ঘোড়া দাবড়িয়ে, পাখির ছানার মতো বৃক্ষের আবডালে নিলে আশ্রয়; সারাদিন দেখলাম তুমি দু’হাতে বৃষ্টি মেখে কাটালে সময়… এদিকে একটা মেঘ কি শীতল জল নিয়ে বুকে তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গেল নিদারুন বৃষ্টি অসুখে।


  • উষ্ণতা দাও

    এ চোখ শীতল বড়ো; উষ্ণতা দাও অতল গভীরে এসো চিবুক ঠেকাও হরিণী ঋণের বোঝা বাড়িও না আর এ লতায় ঠোঁট রাখো; চুম্বন দাও। এ প্রান্তে এসো এই বিরহী নদীর সমতলে কি গভির কম্পন ছুয়ে দেখো কি নিবিড় স্রোত তার বুকের অতলে। আরো এসো পার হও নদী ন্ধদয় লতার স্বাদ পেতে চাও যদি চপল হরিণী তুমি…


  • নিপূন সিঁধেল তুমি

    নিপূন সিঁধেল তুমি সিঁধ কাটো অলক্ষ্যে সবার নাক ডেকে ঘুমায় বিশুদ্ধ ঘুম অন্ধ চোকিদার। শাবল-কোদাল চলে অবিরাম বুকের ভিতর তুমি যদি একবার চোখ রাখো চোখে, সব কিছু তুলে দিই তোমার দু’হাতে চোখের পলকে। কি এমন নিদারুন সিঁধ কাটো তুমি বুকের ভিতর চোখ বলে- তুমি ছিলে, ঠোঁট বলে- সাক্ষ্যি আমি প্রিয়তমা; সুখের ভিতর।


  • সেদিন বড্ড চাঁদরাত ছিলো / সাইফ আলি

    সেদিন বড্ড চাঁদরাত ছিলো ছাদটায়- উড়ছিলো এক লাল টুকটুকে ওড়না পাশের বাড়ির বারান্দাটায় একলা; আমার দৃষ্টি আটকিয়ে গেলো ফাঁদটায়। ওড়নাটা ছিলো আর ছিলো সেই হাতটা কিন্তু হাতের আঙুলে ছিলোনা আংটি তালুর উপরে ভর দিয়ে ছিলো থুতনি থুতনিতে ছিলো কুচকুচে কালো তিলটা আর ছিলো নাক কিন্তু ছিলোনা নাকফুল পুরু দুটো ঠোঁট হঠাৎ হঠাৎ ফুলছিলো চুলগুলো খুব…


  • গ্লাসটা উপুড় করে দাও

    গ্লাসটা উপুড় করে দাও রঙিন সরাব থেকে বেঁচে থাক কম্পিত কপোতির ঠোঁট শীতল সরাব বলে কে তোমাকে দেখিয়েছে নীলাভ তরল পাজরের দগদগে ক্ষত ঝরা রস। কার কথা চুপচাপ মেনে নিলে সহজ সরল কার হাতে তুলে দিলে জীবনের গোপন ব্যলট; একবার কথা বলো কথা বলো কম্পিত ঠোঁট… কে তোমার চোখ কান চিবুকের তিলে ফেলে প্রশ্বাস কে…


  • পোড়া ঠোঁটে কিছু ঠোসা পড়ে থাকে কথা

    ভুর ভুর কিছু ফিল্টার পোড়া ধোঁয়া কালো ফুসফুসে জমায় কিছুটা ক্লেদ, পোড়া ঠোঁটে কিছু ঠোসা পড়ে থাকে কথা বলতে পারে না তবুও বলার জেদ। রাস্তা শুধুই সস্তা প্রেমের মাঠ আধুনিক প্রেম ক্যাফে রেস্তোরা ঘিরে, তাইতো বালক ব্যর্থ প্রেমের বোঝা কাঁধে চেপে ফের সাঝঘরে আসে ফিরে। এরপর থাকে বছর গোনার পালা লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার ভান,…


  • ব্যর্থ হৃৎপিন্ডের গোলাপ

    প্রেমিকার হাতজোড়া বাহারি সেলাই মুখে শুষ্ক হাসি বেকার প্রেমিক তোলে সিগারেটে ধোঁয়া… প্রেমিকার শূন্য দৃষ্টি প্রেমিকের মানিব্যগ, প্রেমিকার শূন্য হাত প্রেমিকের দীর্ঘশ্বাস। অতঃপর- প্রেমিকার নাকফুল প্রেমিকের নষ্ট ফুসফুস; ব্যর্থ হৃৎপিন্ডের গোলাপ।


  • হায় শাহজাদী ! / সাইফ আলি

    ওরা নেয় অতল সভ্যতার ঘ্রাণ আমি থাকি অরন্য সম্ভাবনায় আর তুমি- তুমি হলে মরুভূমি; মরুত্ববাদী হায় শাহজাদী ! ওরা বাধে কংক্রিটে ঘর আমি খুঁজি মেঠো পথ সবুজ সফর আর তুমি- তুমি বলো সবকিছু দিয়েছি কবর…


  • ফোটা ফোটা জল… এতোটা অতল…!

    ফোটা ফোটা জল এতোটা অতল… নতজানু আখি থরথর পাখি হারিয়েছে যেনো ওড়ার স্বপ্ন হারিয়েছে যেনো সব কোলাহল ফোটা ফোটা জল এতোটা অতল… কিছু ভাঙা মেঘ বুকে ধরে কিছু সাগরের পানি চোরা জানালার পর্দা এড়িয়ে ছুঁয়ে দিলো যেনো ভেজা ফুলদানী। ছুঁয়ে দিলো ফুল কিছু কিছু ভুল ছুঁয়ে দিলো পাতা কবিতার খাতা ছুঁয়ে দিয়ে গেলো কিছু ভাঙা…


  • বর্ষা ভিষন সন্ধ্যায়

    এই বর্ষা ভিষন সন্ধ্যারাতের সঙ্গী হয়ে থাকতে আর আঁকতে কিছু জোনাকির সাথে জেগে থাকা একা বাঁশঝাড় জাগে তোলপাড় জাগে তোলপাড় এই বক্ষে। চোখে বিস্তৃত কোনো খোলা মাঠ নেই নেই আকাশের নীলাচল কিছু নৃত্যপাগল বৃষ্টির ফোটা চোখের পাড়ায় ছলছল। কিছু বিজলী বাতির ঝলমল এই আলোছায়া ঘেরা সন্ধ্যায় এই বর্ষা ভিষন সন্ধ্যায় মোছে ব্যর্থতা-ব্যাথা পুরাতন যত হাহাকার-…


  • কৃষ্ণগহ্বর

    রহস্যময় তারকা তুমি চোখের আড়ালে থেকে অনুভবে দাও ধরা নিজের আলোকে নিজের বুকেই টেনে আড়াল করো নিজেকে অথচ তোমাকে না দেখেই কি এক দূর্বার আকর্ষণে সবাই ছুটে চলে তোমার দিকেই- হে মহাকাশের রহস্য- আমি বুঝতে পারিনা কিছুতেই নিজের আলোকে নিজেই শোষণ করে কেনো এতো আনন্দ তোমার অসংখ্য চোখের অন্ধত্বকে উপভোগ করে কেনো এতো তৃপ্তি তোমার……