-
প্রিয়তমা চোখ দুটো খোলো / সাইফ আলি
প্রিয়তমা চোখ দুটো খোলো, ওই চোখ যুদ্ধ দেখুক তা কি আমিও চেয়েছি কোনোদিন! ওই চোখে শোভা পায় কাজলের রেখা, অভিমানের অশ্রু; কান্নার নয়, কষ্টের নয়; ব্যথা বেদনার নয়, কক্ষনো নয়… গোলাপের দলিত এ পাপড়ির নিচে জেগে আছে ভয়ার্ত চোখ, কেবলি বোমায় যেনো ছিন্ন প্রেমিক তাকে ডেকে গেছে, আয়- কেবলি কামান যেনো দেগে গেছে কেউ তার…
-
কে তুমি / সাইফ আলি
কে তুমি অধর ছুঁয়ে নিংড়ানো তৃষ্ণার জল কে তুমি পেখম তোলো গহীনেরও গহীন ভেতর বৃষ্টি তোমাকে ছোঁবে নাকি তুমি বৃষ্টিকে সে বাহাস দূরে রাখো ঠেলে, তার আগে বলো শুনি, হৃদয় কুঠুরি ঘেটে প্রেম ছাড়া আর কি কি পেলে?? তোমাকে চিনি তো আমি, দেখেছিও হয়তো বা ছুঁয়ে শাদা-কালো পরিচয়, রঙিন অন্ধকারে করো তবু বাস- বাঁধানো ছবির…
-
আমি কি ঘুমাবো / সাইফ আলি
পৃথিবী, তোমার অন্ধকারে কি আছে গোপণ কষ্টেরা আছে? তুমি রোজ কাঁদো? শাদাশিদে স্বপ্নের ভেঙে যাওয়া আছে? পাওয়া আছে; না পাওয়ার ব্যথা? তাহলে তো তুমিও মানুষ; মানুষের মতো… আমার যে ডানপিটে চোখ চারিদিকে খুঁজে ফেরে স্বপ্নালু রোদ ক্লান্তির ঘুম এসে জড়িয়েছে তাকে; আমি কি ঘুমাবো? ঘুমালে কি সফলতা আসে…?
-
কবি সেই কবিতার ক্যানভাস / সাইফ আলি
প্রকাশিত কবিতার ভীড়ে কখন লুকিয়ে ফেলে নিজেকে নিজেই এক অযাচিত গোপন কবিতা, পাঠক পড়েনি তাকে- প্রকাশক করেনি প্রকাশ; ডায়েরির পাতা থেকে কখন কিভাবে ঢুকে গেছে যাপিত জীবনে; কবির ছায়ার মতো এখন সে অভিন্ন কেউ। কবি সেই কবিতার ক্যানভাস হয়ে, ঘর থেকে বের হয় রোজ…
-
রাত তুমি প্রিয়া হও / সাইফ আলি
তারার অলংকারে সাজো তুমি রোজ ভালোবেসে আমি বলি- রাত, দিনের ক্লান্তিগুলো মুছে দিতে দিতে ঘভীর অন্ধকারে নিজেকে হারাও। রাত তুমি প্রিয়া হও, আমি হই একান্ত প্রেমিক তোমার…
-
প্রেসক্রিপশন / সাইফ আলি
রোগী: কাল রাতে চুপিচুপি কষ্টরা এসে ঝাপিয়ে পড়লো এই পোড় খাওয়া শরীরের পর দপ দপ জ্বলে ওঠা মুমূর্ষু মাথা তুমুল যন্ত্রনায় ছটফট করে, কেউ নেই- কোথাও তখন; অথচ সবাই ছিলো, চারপাশে; পাশের বালিশে ছিলো প্রিয়তমা নিবিড় ঘুমিয়ে। চিকিৎসক: আহত শরীরটাকে আর বেশি কষ্ট দিও না মনটাকে রেখে আসো ফরমালিনে ডুবিয়ে যতদিন না এর একটা বিহিত…
-
স্বপ্নশূন্য হাতে / সাইফ আলি
আজ বহুদিন স্বপ্ন দেখি না- স্বপ্ন দেখি না রাতে, স্বপ্নশূন্য হাতে হাতড়াই মানিব্যাগ… আজ বহুদিন আড্ডা জমে না আড্ডা জমে না আর, বিয়ে করি নাই তবু আমাদের ব্যাচেলার সংসার চালে ডালে মিলে খিচুড়ি পাকায় ব্যস্ততা একাকার… আজ বহুদিন আকাশের নিচে একান্তে হাঁটা হয় না, বিকারগ্রস্থ মস্তিষ্কটা পোষমানা এক ময়না- যেদিকে ভাবাই সেদিকেই ভাবে যেভাবে দেখাই…
-
ভাবছোটা কি / সাইফ আলি
ভাবছোটা কি খুব সোজা এক প্রেমিকের দহনজ্বালা বহন করা… পাপড়িঝরা একটা ফুলের বৃন্ত যখন আকাশ দেখে নাটাইছাড়া একটা ঘুড়ি উড়তে থাকে বাধনহারা একটা পাখি শুন্য ঘরে সন্ধ্যা নামায় একলা বসে নিস্ব চাষা বুকের ভেতর একটা করুণ কাব্য পোষে সেই চাষাটার বুকের জমিন আবাদ করা এতই সোজা চোখের পাতায় টলমলিয়ে জমতে থাকা অশ্রু বোঝা- ভাবছোটা কি…
-
চাইনি ফেলানী চাইনি / সাইফ আলি
চাইনি ফেলানী চাইনি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদী হতে চাইনি দুঃস্বপ্নের খোরাক জমাতে চাইনি সংসার হবে, সাবলিল সুখে ভাসবো দু’জন- এইসব নিয়ে ভাবনার কোনো ফুসরত খুঁজে পাইনি… ভূগোল পড়েছি বার বার; কিন্তু মাথায় কিচ্ছু ঢোকেনি; ঢুকবে কি করে কাঁটাতার দেখে সাহস করেনি হয়তো- সীমানায় কিছু চোকিদার দেখে পালিয়ে গিয়েছে নয়তো। চাইনি ফেলানী চাইনি, বিবেকের ’পর বর্ণবাদী এ…
-
কন্যে / সাইফ আলি
কন্যে, তোমার জন্যে লেখছি না আর তোমার জন্যে… তোমার মুখের হাসির জন্যে জোকার সাজতে পারছি না, বানরের হাতে ডুগডুগি হয়ে বাজারে বাজতে পারছি না। কন্যে, নিজেকে পুড়িয়ে হতে পারছি না ধন্যে; আমি নই কোনো গিফট্ বক্স এক প্রেমীকের সৌজন্যে…
-
তুমি বললেই / সাইফ আলি
তুমি বললেই থামতে পারি না নামতে পারি না নিচে, তুমি বললেই মুছতে পারি না বিশ্বাস; তাই, মিথ্যে দেবো না আশ্বাস। তুমি বললেই চাঁদ এনে দেয় এনে দিতে পারে তারা, যারা; আমি নই সেই দলে, আমি তো পাগল এটুকু বুঝি না কিভাবে এসব বলে। তোমার জন্য বিষ খাবো-এই নাটকে করিনি অভিনয়, করবো না কোনোদিন; নিজের জন্য…
-
তোমার আঁধার আমাকে কিছুটা দিও / সাইফ আলি
আজ সারারাত ঘুরপাক খেয়ে আকাশের চোরা রাস্তায় তারার ভর্তা মেলে ধরি যদি কাল সকালের নাস্তায় তুমি কি আমার সঙ্গে বসবে খেতে; নাকি রোজকার আাঁধার চুমুকে আবারো উঠবে মেতে? আজ সারাদিন ব্যস্ততা কাঁধে ঘুরে ঘুরে অলিগলি সন্ধ্যায় এসে দেখলাম ফাঁকা তোমার শহরতলি নিঃসঙ্গতা ঘিরে রাখে খুব তোমার অপ্রিয় চারপাশ; এদিকে আমার সারারাত চলে স্বপ্নের সাথে সহবাস।…
-
যখন চেতনা লোপ পায় / সাইফ আলি
যখন চেতনা লোপ পায় শত চেতনার কষাঘাতে মানুষের কথা ভাবতেই ঘুম ছুটে যায় শেষরাতে তখন তোমার মায়াবী সুরের মুর্ছনা ভেসে আসে মদিনার সেই সুর- প্রভূ গো আমার সরল পথের সন্ধান কত দূর….
-
উল্টানো ছবিটা / সাইফ আলি
উল্টানো ছবিটার তবিয়ত ঠিক নেই ঠিক নেই ফ্রেমটার ধর্মের, ডান-বাম ঠিক নেই ভসকানো চেহারাটা ব্যপারটা খুব নাকি শরমের; চোখ দু’টো তবু ঠিক বাস্তব যেনো সব দেখছে হাতে ধরা কলমটা গোপন হয়তো কিছু লেখছে। উল্টানো ছবিটার তবিয়ত ঠিক নেই জ্বর জ্বর কপালটা পুড়ছে, ভসকানো ফ্রেমটার প্রেমের বাউন্ডারি পার হতে শুড়ঙ্গ খুঁড়ছে…
-
-
সেই কবে যেনো / সাইফ আলি
সেই কবে যেনো চাঁদটাকে গিলে খেয়েছিলো পূর্ণিমা তারপর থেকে অমাবশ্যার জয় হলো চারদিক তারপর থেকে কবিতার কোনো ঠিক নেই দাঁড়ি কমা তারপর থেকে প্রেমের বোতলে কষ্টই শুধু জমা… সেই কবে যেনো মরিচিকা এসে বলেছিলো মরুভূমি তারপর থেকে পলির বদলে কষ্ট বয়েছে নদী- নগরের প্রিয় ফুটপথ ফেঁটে চৌচির হলো ক্রোধে; জানালার সব শিক ধরে ধরে ঝুলে…
-
ছুটছি আমি ছুটছি / সাইফ আলি
ছুটছি আমি ছুটছি এক বৃত্তের চারপাশ রাস্তার পর রাস্তা এক মিথ্যে অভিলাস ছুটছি আমি ছুটছি জানি থামতেই হবে তবু কবরের ঘোর আঁধারে শেষ নামতেই হবে তবু ছুটছি আমি ছুটছি… ছুটছি আমি ছুটছি। কি যে চাচ্ছি কত পাচ্ছি নেই হিসেবের কোনো খাতা শেষমেশ জানি সত্য এক জীবনের হালখাতা… দেনা-পাওনার কিছু অংক তবু ঝুলছে; আহা ঝুলছে…
-
-
হলুদ এবং কুকড়ানো পাতার ফটোগ্রাফ / সাইফ আলি
তুমি ছিলে কবিতার মতো কখনো অক্ষরবৃত্ত কখনো বা মাত্রাবৃত্ত কখনো আবার স্বরবৃত্তের মতোই বেজে উঠতে হঠাৎ… বলেছিলাম, শুকনো পাতার বুকে এলোমেলো রোদ হলে তুমি আমি হবো ঝরঝরে হলুদ সে পাতা; কবিতার খাতা-
-
ভালো নেই কেউ / সাইফ আলি
ভালো নেই কেউ- ভালোথাকা ভালো নেই ভালোলাগা ভালো নেই ভালো লেখা ভালো নেই ভালো আঁকা ভালো নেই ভালো নেই যেই মুখ ভালো রাখে সেও… ভালো নেই সমুদ্র ভালো নেই ঢেউ ভালো নেই ঝর্ণা অথবা নদী, কেউ; ভালো নেই কাশবন অথবা ফুলের টব ভালো নেই আমাদের লোকগাঁথা, উৎসব ভালো নেই সাহিত্য, শিল্পের ঘরদোর ভালো নেই আমাদের…