-
যদি বুঝতেই চাও / সাইফ আলি
মানুষ ভাতের হাড়ি নয় হৃদয়ের সব কথা বুঝে নেবে একবার টিপে, মানুষ বুঝতে হলে হতে হয় সমান মানুষ… মানুষ এমন কোনো তরকারি নয় যার মশলার ঘ্রাণে বুঝে নেবে জীবনের সমস্ত আয়োজন তার, রাধুনী আমার যদি বুঝতেই চাও বুকের অন্তরালে তালাশি লাগাও…
-
একান্ত বাক্যেরা- ০৩ / সাইফ আলি
সব কথা বলা হয়ে গেলে একটু সুযোগ দিও , মুহূর্তে বলে দেবো তোমার জন্য লেখা সমস্ত কবিতা আমার… সবচিঠি পড়া হয়ে গেলে, অলিখিত চিঠি এক পড়ে নিও নিভৃতে একা…
-
…………. / সাইফ আলি
তোমার জন্যে আমি এমন কবিতা এনে দেবো কোনোদিন কোনো কবি লেখেনি যা আগে চোখে চোখে কবিতার হবে বিনিময়….
-
ধরা যাক, কেউ আর নেই / সাইফ আলি
ধরা যাক, কেউ আর নেই পেছনে ডাকার মতো ইতিহাস লেখা নেই কোনো আষাঢ়ের মেঘে, ছেয়ে গেছে রূপালী রোদ্দুর… সেদিনের কথা, বিকেলের ধানী ক্ষেত মাড়িয়ে দিয়েছে কেউ এসে মই দিয়ে কি দারুণ আবার নতুন বীজ ছড়িয়ে দিয়েছে সারা মাঠে নতুন বৌয়েরা সব বুড়িয়ে গিয়েছে যেনো কাখের কলসিগুলো রেখে কাঁপা কাঁপা পায়ে, লুটায়ে সফেদ শাড়ি, আনমনে পান…
-
হঠাৎ কবে যে / সাইফ আলি
এখানে কোথাও এসেছিলে তুমি মনে কি পড়ে হেলায় ফেলায় ভেলায় ভাসিয়ে সবুজ গাঁয় মাঠের ফসলে, পিঠার হাঁড়িতে, গাছের ছায় এসেছিলে তুমি সবার বাড়িতে কাটাতে দিন। হঠাৎ কবে যে উধাও হয়েছো পাইনি ঠিক এখন শুধুই ফাঁকা মনে হয় চতুর্দিক- এখানে কোথাও এসেছিলে তুমি মনে কি পড়ে এই নদীটার বুক ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছোটা বাতাস তোমাকে এনেছে; তুমি…
-
সংলাপ / সাইফ আলি
দুঃখ এসে একদিন সম্মুখে বসল আমার সমস্ত শরীর জুড়ে ফেলে নিঃশ্বাস বলল- মানুষ, আজ থেকে তোমার আমার নিত্য বসবাস। সে আমার বোধের প্রথম ভোর- এরপর থেকে বিরতিহীন দুঃখের ছায়া আশীর্বাদ হয়ে থাকে মাথার উপর। সুখ-পাখি, এসেছিলো সেও জানালায় বসে তার মিষ্টি মিহি সুরে বলেছিলো- শোনো, আমাকে দেখতে পাবে ভোরের মিষ্টি রোদে, আলোর দুপুরে, বিকালে, গোধূলিবেলা,…
-
পদ্মা নালার নাম / সাইফ আলি
কাঠের নৌকাগুলো হাঁটুজলে বাঁধা শাদা শাদা বালি তীরে কিছু ঘাস-লতা, নলখাগড়ার ঝোঁপ- চর ঘেঁষে বয়ে যায় নালার মতোন প্রমত্তা পদ্মা এখন। এখন আর কেউ ভাবে না ভুলেও পাড় ভেঙে যাবে; ঘর-বাড়ি, গরু-মোষ, ফসল তলাবে- চরের বালুতে আজ মুখ গুঁজে পড়ে আছে পদ্মার ভয় পদ্মা নালার নাম; বেশি কিছু নয়। অথচ সেদিন তুমি দেখিয়েছো কি ভীষণ…
-
আমি মরে গেলে / সাইফ আলি
আমি মরে গেলে কবরটা ঢেকে দিও সবুজ লতায় রেখো না ইটের স্তুপ। মাঝে মাঝে এসে যদি পারো ভালোবেসে প্রার্থনা করো; নীরব মূর্তি হয়ে থেকো না দাঁড়িয়ে- আমার মাটির ঘরে জ্বালিও না কখনোও ছলনার ধূপ আমি মরে গেলে কবরটা ঢেকে দিও সবুজ লতায় ভালোবাসা ফুল হয়ে ফুটবে সেখানে বোটাছেড়া ফুল এনে বলবে না- ভালবাসি প্রিয়; পারলে…
-
বিবর্ণ পতাকার খোঁজে / সাইফ আলি
একটা পতাকা হোক বিবর্ণ, পৃথিবীর বুকে একটাই দেশ হোক মানবজমিন; স্বাধীন মানুষ হোক পরাধীন বিবেকের কাছে… তোমরা তন্ত্রে বড়ো একরোখা পশুর মতোন বিধানসভায় তোলো সাহেবের পেয়ারি বাজেট, চাল-ডাল-তেল-নুন এবং বাতাস সবকিছু সমানে-সমান; অথচ টিনের চালে গান ধরে বর্ষা ক্ষুধার, কাতরায় পথে পথে বিকৃত মানবতা আজো। তোমরা কোকিল বড়ো বসন্ত আগমনী ভাজো… আনবিক চুক্তিতে শান্তির কপোত…
-
সেও ঠিক ঝাপটাতো ডানা / সাইফ আলি
হয়তো সে জেগেছিলো আরো কিছু রাত হয়তো সে গুনেছিলো আরো কিছু দিন এরপর একদিন ধুপছায়া বেলা সাঙ্গ করে জীবনের সব ছেলেখেলা একান্তই একাকিত্বে হয়েছে বিলীন। তুমি আজ এতোদিন পর কোথা থেকে উড়ে এসে পাখি জানতে চাও পুরোনো খবর আরো কিছু অপেক্ষার প্রহর রয়েছে কি বাকি? পাখি তুমি ডানা ঝাপটাও সেও ঠিক ঝাপটাতো ডানা অথচ সে…
-
চকচকে পৃথিবীর লাশ / সাইফ আলি
কখনো কি শুনেছো এমন- দুপুরের প্রচন্ড রোদে পুড়ে গেছে উড়ন্ত চিল অথবা নদীর বুকে এক অযাচিত স্রোতের আঘাত ভেঙেছে মাছের সংসার কখনো কি দেখেছিলে পাখি বনভূমি ছেড়ে দিয়ে মরুভূমি করেছে আপন; অথবা গাছেরা সব ফলহীন ছায়াহীন কৃপণ কাঙাল- অথচ মানুষ দেখো নিজ হাতে পুড়িয়েছে সবুজ বাতাস; ক্যানভাস জুড়ে আঁকা চকচকে পৃথিবীর লাশ।
-
ফেরারী ভুলেছে পথ / সাইফ আলি
ফেরারী ভুলেছে পথ দ্বিধা বিভক্ত পা ফেরারী ফিরবে ঘরে নাকি কখনোও কোনোদিন আর ফিরতে পারবে না। ফেরারীর পায়ে বেড়ি বেড়ি নাকি ছিলো ফুল; ফেরারী ভুলেছে পথ নাকি পথ ছিলো নির্ভুল? পথ ছিলো বড় ফাঁকা ছিলো নিরবতা ভয় জট রাতের আকাশ জোড়া ছিলো তারাদের কটমট। ভাঙা চাঁদ মিলেছিলো সাথী যেনো দৈত্যের বাঁকা শিং; হাতে ছিলো হাতকড়া…
-
তাদের ভূতুড়ে চোখগুলো / সায়ীদ আবুবকর
যেন গোরস্থান থেকে উঠে এসে হাটাহাটি করছে তারা অফিসে অফিসে, রাস্তায় রাস্তায়। তাদের ভূতুড়ে চোখগুলো দেখে রাস্তার কুকুরগুলো থ হয়ে গেছে, বিদ্যুতের তারের উপর বসা রঙচটা কাকগুলো কা-কা ডাক ভুলে দার্শনিক হয়ে গিয়ে কী যেন ভাবছে একমনে। আমি ভয় পেয়ে ছুটে গেলাম গোরস্থানের দিকে। মনে হচ্ছিল কবর থেকে উঠে গিয়ে মৃত মানুষেরা হাঁটাহাঁটি করছে এভাবে…
-
লাট খাওয়া কালের নকল / সাইফ আলি
সুখের আগুনে তার গ্রাস করে দুখের ফসল ভিটে-মাটি ছাড়া হয় অবারিত মুক্তির স্রোতে সে কি এক পাখি ছিলো, ঝাপটাতো স্বপ্নের ডানা? নাকি এক লাল ঘুড়ি; লাট খাওয়া কালের নকল… চাঁদরাতে একদিন মেঘের শরীর ছুঁয়ে নেমে আশা তার কিছু কবিতার মোহে প্রেমিক বললো, দেখো আমাদের পৃথিবীতে আর কেউ নেই যেদিকেই চোখ মেলো পাবে আমাকেই… প্রেমিকা কোথায়…
-
হেমন্ত আজ কোন সুখে যে…/ সাইফ আলি
হেমন্ত আজ কোন সুখে যে কাঁদলো সারাবেলা হয়তো ভেজা গাছের পাতা জানে, হেমন্ত আজ কোন সুখে যে ভিজলো সারাবেলা হয়তো ভেজা কাক বোঝে তার মানে; জল ভরা ঐ মেঘের শরীর বৃষ্টি করে ফেরি হয়তো ওসব খেয়াল-খুশি কালচে আকাশেরই, কিন্তু তোমার কালচে আকাশ পছন্দ নয় মোটে পছন্দ নয় বৃষ্টি ফোটা সবুজ পাতার ঠোঁটে তুমি তো নও…
-
ভালোবাসা বিন্দু শিশির… / সাইফ আলি
চাঁদ হয়ে সূর্যের বিপরীতে দাঁড়াতে হবে না প্রিয়তমা তুমি যদি জোনাকিও হও- আমার অন্ধকার রাত তোমার জন্য রেখে দেবো। আকাশ ঘোলাটে করে বৃষ্টি না আনলেও হবে দু’ফোটা চোখের জলে প্রেমের নৌকা যদি ভাসে সে বেলা শ্রাবন-ঢলে কাকভেজা না ভিজেও আমি দাঁড়কাক হয়ে যাবো নগরীর নিসঙ্গ দেয়ালের ভীড়ে ভালোবাসা প্রাচুর্য বোঝেনা, ভালোবাসা বিন্দু শিশির…
-
পাথর সময় শেষে / সাইফ আলি
স্থানু হয়ে থাকা পাথর সময় শেষে প্রেমিক দাঁড়াবে প্রেমিকার কাছে এসে বাতাসে বাতাসে গুমোট দীর্ঘশ্বাস তখনো বেড়াবে ভেসে। কারণ প্রেমিক প্রেম কি তা জানবে না… শীত চলে যাবে ফাটা পায়ে হেঁটে হেঁটে শেষ হয়ে যাবে প্রেমিকার ভ্যাসলিন কুয়াশার জালে পথ ভুলে ভুল গেটে কেউ টোকা দিয়ে বলবে না ভালোবাসি কারণ প্রেমিকা কোনো ভুল মানবে না……
-
তুমিও তোমার পথ খুঁজে নাও / সাইফ আলি
কথাগুলো কথা স্বপ্নেরা কাড়ে ঘুম রাতগুলো রাত দিনগুলো পলিজমা পলিতে ব্যথার পুরোনো আবাদ মানেনি তো দাড়ি কমা- বেয়াড়া বাতাস ঘন নিঃশ্বাস বিশ্বাসে জমে ক্লেদ, তবুও জীবন কালের কলসে জমা করে রাখা জেদ। তুমি কি মাঠের গল্প পড়োনি হে পাঠক, শস্যের- তুমি কি পড়োনি কাব্য কখনো ক্রমাগত ভাঙনের? তবুও পাখিরা অবসর খুঁজলো না মাছেরা নয়তো অনুকূল…
-
প্রার্থনা / সাইফ আলি
পৃথিবীটা ফিরে যাবে, যেভাবে পাখিরা ফেরে; যেভাবে গোয়ালঘরে ফিরে আসে হালের বলদ- রাতের তারকারাজি নিভে যাবে একসাথে সব যেভাবে সহসা নেভে মাটির প্রদ্বীপ এক ফু’তে পাহাড়েরা তুলো তুলো মেঘের শরীর হয়ে ভাসবে সেদিন… সাগর শুকিয়ে যাবে, মানুষ কিটের মতো দল বেধে দৌড়াবে পাগলের মতো- ইয়া-নাফসি ছাড়া কোনো কবিতার মিলবে না খোঁজ; হে প্রভূ সেদিন তুমি…
-
বার বার আবর্তিত হই / সাইফ আলি
বার বার আবর্তিত হচ্ছি আমরা পৃথিবীর মতো আপন কক্ষপথে মৌসুমী বাতাসের মতো অনবরত শৈশবের দিকে, সময়ের গতিপথে যদিও তা উল্টোস্রোত বটে- প্রতিদিন সূর্যের মতো অথবা পূর্ণ সেই চাঁদ আধ খাওয়া প্রেমের শরীর পুনঃরায় সেরে ওঠে, বিলায় জোসনা সারা রাত; চক্রে সামিল হই আমরাও প্রতিদিন প্রতি নিঃশ্বাসে… আবর্তিত জলের শরীর, কখনো সে মেঘ হয়, কখনো নদীর…