• অন্ধ-ঘুম / সাইফ আলি

    ১ বলুন দেখি সত্যিকারের অন্ধ কারে কয়, সব দেখেও দেখলো না যে অন্ধ কি সে নয়?? ২ ঘুমিয়ে থেকে ছাদ হারালো এখন সে দায় নিবে কে? হঠাৎ দেখে লুঙ্গিও নাই!! ঘুমিয়ে ছিলো বিবেকে । বি দ্রঃ যারা সত্যটা জেনেও মিথ্যার সঙ্গ দিয়ে চলেছে শুধুমাত্র তাদের জন্য ….


  • মৃত্যু / সাইফ আলি

    হিং টিং ছট ঘাড় মট মট চেটেপুটে খেয়ে নিল ভাবনার জট।   এখন আর দম নেই শনি কিবা সোম নেই সব চুপচাপ, ঠান্ডা-শীতল সব নেই উত্তাপ।।


  • নির্বাচন / সাইফ আলি

    : আমতা আমনা নামতা ছাড়ুন ক্লিয়ার করে কওয়া দরকার, জান যায় যাক তবুও জনাব নির্বাচনটা হওয়া দরকার। : কিন্তু জনাব, নির্বাচনের কান ধরে নাচাচ্ছে খুব বান্দরে। : ও, তাই নাকি ও সব ফাকি ভুল কথা ষড়যন্ত্রের মূল কথা। : কিন্তু যারা লাশ হলো… : ছাড়ুন মশাই, তার চে বলুন গনতন্ত্রের চাষ হলো।


  • যেমন খুশি তেমন সাজো / সাইফ আলি

    যেমন খুশি তেমন সাজো, সাজতে কারো মানা? না না; সাজতে পারো নতুন জামাই সাজতে পারো কানা। সাজতে পারো কলুর বলদ সাজতে পারো শেয়াল, যেমন খুশি তেমন সাজো নামটা রাখো খেয়াল সাজতে পারো কর্তা দেশের কিংবা উকিল বাবু, অথবা খুব বীর পালোয়ান বিশালদেহী শাবু। ইচ্ছে হলে মন্ত্রি হবে আমলা হলেও চলে, ফাইল হাতে পকেট কাটে দেখাও…


  • ভেলকি বাবা / সাইফ আলি

    লাগ ভেলকি লাগ চোক্ষে-মুখে লাগ বেশভুসা য্যান বকের লাহান চরিত্রে ক্যান দাগ!! ডানরে বলেন বাম, বাবাজি বামরে বলেন থাম, সবার আশা পূর্ণ হবে কেবলি দেখলাম। হাসেন-কাশেন-নাচেন বাবা লুঙ্গি উচিয়েই, ঝোপ বুঝে কোপ, মিথ্যে আরোপ তার ধারে কেউ নেই। বাজনা বাজে বাদ্য বাজে বগল বাজে বাবার, চিনছো তো ঠিক? তোমার ঘরেও পাকাচ্ছ তার খাবার! লাগ ভেল্কি…


  • ক্রসফায়ার / সাইফ আলি

    ১ ক্রসফায়ারে মরলো এবার কার ছেলে; খোঁজ পেলে? ২ আজ কোনো আদালত মানি না র‌্যাব আছে আমাদের দোস্ত, মানুষেরা ভাত খায় ডাল খায় র‌্যাব খায় কাঁচা কাঁচা গোস্ত। ৩ টুনা বলে টুন টুন টুনি বলে টুনা পুলিশেরা খুন করে খায় ডিম ভুনা। আগডুম বাগডুম বাংলার র‌্যাবে ধরে-মারে-করে গুম রসায়ন ল্যাবে। আইনের রসায়নে হাত খুবই পাকা,…


  • ভেজা বেড়াল / সাইফ আলি

    সাজলে বিড়াল ডাকলে হালুম, ক্যামনে কি ভাই হাম না মালুম। মুখের পাড়ায় সবজি বেচো সুযোগ পেলেই মাংস ছেঁচো দাঁতে; ক্যামনে কি ভাই খুব নিরামিষ দিনের বেলায় মাংসাসী  হও রাতে। আতেল সাজো আলাভোলা কিছুই তুমি বোঝো না সুযোগ পেলেই লুঙ্গি তোলো কাউকে তখন খোঁজো না সমান সমান ভাগ নিতে; কোথায় পেলে এমন সাহস বিড়াল সেজে হালুম…


  • হাত দিও না জ্বলছে শরীর / সাইফ আলি

    হাত দিও না জ্বলছে শরীর হাত দিও না; ইশ… শরীর এখন শরীর তো নয় শরীর পোড়া ডিশ, ইচ্ছে হলেই ভাজতে পারো পদ্মার ইলিশ!! হাত দিও না জলছে শরীর পুড়ছে গোটা মন, এখন শুধু গরম গরম মশলা প্রয়োজন; ঝাল পড়েছে একটু বেশি সমস্যা নেই তাতে অল্প করে মাখিয়ে নিও গরম গরম ভাতে। ……………………………………………. তবে, শরীর যখন…


  • ঘুম পাড়ানোর কবিতা / সাইফ আলি

    লক্ষী সোনা ঘুমিয়ে পড়ো রাত হয়েছে বেশ স্বপ্নে তবে দেখতে পাবে লাল পরীদের দেশ। তোমার দু’চোখ বুজবে যখন ঝিঝিরা সব ডাকবে তখন চুপি চুপি চাঁদটা এসে লাগিয়ে দেবে চুম ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি পাড়িয়ে দেবে ঘুম। ঘুম এসে এই দু’চোখ পেতে উঠবে যখন গল্পে মেতে তুমিও তখন কল্পে যাবে নীল পরীদের বাগে ভোমরা যেথায় গুন গুনিয়ে…


  • ইচ্ছে মতো / সাইফ আলি

    ইচ্ছে মতো খেলতে পারো এখানে মনের মতো মন আছে ছোট্ট ঝাউয়ের বন আছে ঘাসে ঘাসে ফুলের মেলা যেখানে। খেলতে তোমার ইচ্ছে করে যে খেলা খেলতে পারো লুকোচুরি আকাশ পানে রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে দিয়ে নাটাই ধরে একেলা। গাইতে যদি ইচ্ছে করে গানগুলি, কণ্ঠ ছেড়ে গান ধরো মিষ্টি সুরে তান ধরো পাতার ফাঁকে লুকিয়ে যেমন বুলবুলি। মজার…


  • আমরা শিশু / সাইফ আলি

    আমরা শিশু পাঁপড়ি ফুলের প্রজাপতির ডানা, যা খুশি তা করতে পারি নেই কিছুতে মানা। আমরা হলাম রঙধনুকের সাতটি রঙের মেলা স্বপ্নে কাটে রাতগুলি আর সকাল হলেই খেলা। মন আমাদের আকাশ যেন স্বপ্ন তারায় ভরা ইচ্ছে, মধুর হাসি দিয়ে গড়বো সুখের ধরা। আমরা রাতের চাঁদ হতে চাই ভোরের রাঙা রবি আমরা গায়ক-শিল্পী হব কেউবা লেখক-কবি। আমরা…


  • পিছলে / সাইফ আলি

    খুব পেশাদার ব্যবসা আদার দাদার কথা বলছি শোনো- পোশাকে সে ভদ্র অতি, বাক্যালাপে খুব গোছানো। কথায় কথায় তেল মেরে যায় তেলতেলে তাই পিছলে অতি, এক টাকা সে লাভ করে না ব্যবসাটা তার পুরাই ক্ষতি। মুরগী মরা ডালের বড়া মসলা এবং সবজি ডালে আবোল তাবোল মিশিয়ে দিয়ে বিকোচ্ছে খুব সমান তালে। কিন্তু দাদার মুখের কথায় ভরসা…


  • অতঃপর কবির কবিতা-

    এই যে ভায়া আছেন কেমন শরীর টরির ভালো তো কাব্যপ্রেমী মনটা… দাঁড়ান দাঁড়ান একটুখানি বাজলো বুঝি ফোনটা। হ্যালো…জ্বি ভাই বলছি আমিই বলুন কি হয়েছে কে মরেছে কে ধরেছে কার এসব কথা বলুন তো ভাই কার শোনা দরকার আমায় কেনো ফোন করেছেন জানতে পারি?? কার হয়েছে বাসর ঘরে নজরদারী…!! ওকে ওকে খুব বুঝেছি দু’জন গেছে জেলে…


  • পাখির মতো ওইখানে কি যায় হারানো??

    হাটতে গিয়ে হোচট খেলে বলতে কি মা- পারিস না তুই, ডাকতে যখন শিখছি কেবল আব্বুকে কি বা’ বলিনি? তখন কি আর ওসব শুনে বলতে শিখবো না পথ চলতে… তখন তো ঠিক হাত ধরেছো শক্ত করে অল্প কথায় ঠিক বুঝেছো মনের ভাষা, এখন কেনো মুখের কথাও বুঝবে না আমার মনের রাস্তাটাকে খুঁজবে না? সিলেবাসের আকাশটা খুব…


  • গোঁফটার ঝোপটায় পালিয়েছে পিঁপড়া

    গোঁফটার ঝোপটায় পালিয়েছে পিঁপড়া এই নিয়ে হৈ চৈ চলছে মর মর ধর ধর ধরে তাকে চিপড়া বাহু নেড়ে গলা ছেড়ে বলছে। বলছে যে বলবান তার ছিলো ছোটো কান বলে বেশি শোনে কম লোকটা পিঁপড়ার ভাস্তি দিতে তাকে শাস্তি শামলাতে পারলো না ঝোকটা টুপ করে ঢুকে গেলো কানটায় যায় যায় লোকটার জানটাই গোঁফটার ঝোপটায় পালিয়েছে পিঁপড়া…


  • উল্টোছবি

    উল্টোছবি দেখছো কবি সামনে নিয়ে দর্পণ উল্টোকথায় করবে নাকি নিজেকে সমর্পণ। শুনছো যা সব, দেখছো কি তা? বাজছে কি সব উল্টোফিতা? বাজলে বাজুক ধার ধেরো না পারলে বলো সোজাটা একটু হলেও কাঁধের থেকে নামুক পাপের বোঝাটা- বিবেক যদি মূক হয়ে যায় মুখের কথার দাম কি; কথার কথায় ভিজুক চিড়ে কাব্যকথার কাম কি?


  • ধুর্ত শেয়াল

    ধুর্ত শেয়াল খুড়তো দেয়াল খুঁজতো তাজা লাশ, এমনি করেই সেই শেয়ালের কাটতো বারো মাস। দিন ছিলো না রাত ছিলো না মিছিল ফেরা লাশে, সেই শেয়ালের দৃষ্টি লোলুপ খিলখিলিয়ে হাসে। হঠাৎ সেদিন আমজনতা শেয়ালটাকে ধরে আস্ত মোটা কঞ্চিসহ বাঁশ দিয়েছে ভরে।


  • ডানপিটে

    উনপাজুড়ে হাড় পাজরে কয়খানা তোর একটুও কি ভয় করে না বুকের ভিতর, তিড়িং-বিড়িং ফড়িং যেনো ইচ্ছে হলেই হারিয়ে যাবি বাধার সকল প্রাচীর গলেই। তোর ঘাড়ে কি রাত-বিরাতে ভয় চাপে না; ছুটলে বুলেট ফুটলে বোমা বুক কাঁপে না? “তোমার ছেলে ভয় পেলে মা হও কি খুশি, তোমার কোলে রাখতে মাথা একটু না হয় হলাম দুষি…”


  • ওরা নাকি ভালো আছে / সাইফ আলি

    ওরা নাকি ভালো আছে ভালো আছে বস্তিতে, চাল-ডাল-তেলহীন নিদারুন সস্তিতে। এদিকে সকল গুণী মেতে আছে টুনটুনি দোস্তিতে, ওরা নাকি ভালো আছে বস্তিতে! লাগলে ভোটের হাওয়া নেতাদের আসা-যাওয়া বেড়ে যায়; গুণীজন মুখ খোলে চায়েতে ধুম্র তোলে পয়সার পিঠে ঠোঁট নেড়ে যায়। চায়ের দোকানে তাই দেখে টিভি পর্দায় হঠাৎ কে বলে ওঠে- ‘লাথি মার পাজরের অস্থিতে।’ ওরা…


  • তৈল চিকিৎসা / সাইফ আলি

    বলতে গেলে অল্প কথায় শেষ হবে না বলা তখন তুমি বলবে রেগে- নামাও তোমার গলা; তার থেকে এই না বলাতেই সই কি লাভ বলো বাধিয়ে হৈ চৈ। তবুও তুমি বললে যখন অল্প কিছু বলি বোতলজাত তৈল এবার কার টাকে যে ডলি! সকাল বেলা হাটতে গিয়ে পাশের বাড়ির ছেলে মাথর উপর এক শিশি তেল পুরোই দিলো…