• সংবাদ হয়ে গেছে তৈরি / সাইফ আলি

    সংবাদ হয়ে গেছে তৈরি কাল রাত বারোটায় যখন বাতাস ছিলো বৈরি ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে বললো সাংবাদিক সংবাদ হয়ে গেছে তৈরি… অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে- জানা গেছে বড় এক সন্ত্রাসী হামলার হয়ে গেছে ফাইনাল নকশা। হইচই পড়ে গেলো রাষ্ট্রে- কোথায়-কখন-কবে, কিভাবে অথবা কেনো; জানা নেই… সংবাদ বানাতে তো মানা নেই!! মঞ্চের পেছনের নাটকটা হয়ে গেলে শেষ-…


  • প্রচ্ছদ: উড়াল কৈতর / সাইফ আলি


  • একটুখানি মেঘের পানি / সাইফ আলি

    একটুখানি মেঘের পানি বৃষ্টি হয়ে ঝরুক গাছের পাতা দুলুক, রুদ্ধমনে সঙ্গপনে লুকিয়ে থাকা দুঃখগুলো এবার সবাই ভুলুক। আমি মেঘের পানি মাথায় করে নাচি শহর ছেড়ে একটুখানি গ্রামের কাছাকাছি সবুজসবুজ নুইয়ে পড়া পাতা তাতে লেপ্টে থাকা বিজলি মাখা পানি যেনো ডাকছে কেমন অবাক ভাষায় জলজ সে হাতছানি… যেনো স্বপ্নগুলো দু’চোখ ছেড়ে বুকের কাছাকাছি আমি মেঘের পানি…


  • ঘুম পাড়ানোর কবিতা / সাইফ আলি

    লক্ষী সোনা ঘুমিয়ে পড়ো রাত হয়েছে বেশ স্বপ্নে তবে দেখতে পাবে লাল পরীদের দেশ। তোমার দু’চোখ বুজবে যখন ঝিঝিরা সব ডাকবে তখন চুপি চুপি চাঁদটা এসে লাগিয়ে দেবে চুম ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি পাড়িয়ে দেবে ঘুম। ঘুম এসে এই দু’চোখ পেতে উঠবে যখন গল্পে মেতে তুমিও তখন কল্পে যাবে নীল পরীদের বাগে ভোমরা যেথায় গুন গুনিয়ে…


  • ইচ্ছে মতো / সাইফ আলি

    ইচ্ছে মতো খেলতে পারো এখানে মনের মতো মন আছে ছোট্ট ঝাউয়ের বন আছে ঘাসে ঘাসে ফুলের মেলা যেখানে। খেলতে তোমার ইচ্ছে করে যে খেলা খেলতে পারো লুকোচুরি আকাশ পানে রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে দিয়ে নাটাই ধরে একেলা। গাইতে যদি ইচ্ছে করে গানগুলি, কণ্ঠ ছেড়ে গান ধরো মিষ্টি সুরে তান ধরো পাতার ফাঁকে লুকিয়ে যেমন বুলবুলি। মজার…


  • আগামীর প্রাণ / সাইফ আলি

    হৃদয়ের যত গান মন খুলে গাও, বাগানের ফুল হয়ে সুবাস ছড়াও। পাখিদের মতো দূর আকাশের গায়, ভ্রমরের মতো সুর তোলো বাগিচায় আঁধারের বুকে চাঁদ জোছনা ছড়াও, উদয়ের রবি আলো বিলি করে দাও। তোমাদের আঙিনায় উদয়ের গান, তোমরাই এ জাতির আগামীর প্রাণ।


  • ভোর হলে / সাইফ আলি

    ভোর হলে ছোটো পাখি বলে যায় শিওরে- সকালের ঘুম নাকি আলসের প্রিয় রে। বাগানের ফোঁটা ফুল মধু তার বাসনা, বলে খোকা আখি খুল এখন ঘুমাস না। ঝিরঝিরে বাতাসেরা বলে যায় উঠতে, সকালের সোনা রোদে প্রাণ খুলে ছুটতে। দরজাটা খুলে দেখি ফুলকুঁড়ি ফুটেছে, প্রজাপতি ভ্রমরেরা দলে দলে জুটেছে।


  • তোমার জন্য লিখতে গিয়ে / সাইফ আলি

    তোমার জন্য অনেক কিছুই লিখতে গেলাম কলম সরলো না অনেক অনেক আওয়াজ এসে কণ্ঠটাকেই রোধ করলো তোমার চোখের প্রশ্ন নিয়ে লাইব্রেরিতে কাটিয়ে দিলাম অনেকটা কাল দু’চোখ ভরলো না লক্ষ-কোটি বর্ণমালা চোখের সামনে হারিয়ে গেলো… তোমার জন্য লিখতে গিয়ে নিলদাড়াটায় ঘুন ধরেছে চোখের আলো ঝাপশা হয়ে দৃষ্টিসীমায় ভীড় করেছে ইচ্ছে হলেই কলম সরে বই হয়ে যায়…


  • দেখা / সাইফ আলি

    দেখলে শাদা বক দাঁড়িয়ে চুপচাপ গভীর মনযোগে কি যেনো খুঁজছে ভাবলে হয়তো বা ধ্যানি সে ধ্যানে-জ্ঞানে পৃথিবী বুঝছে। অথচ পুঁটিমাছ স্বার্থ সন্ধানে ধ্যানি সে বকটা, মাছেরা কোনোদিন বোঝেনা ধূর্ত সে বকের ছকটা। হয়তো ভাবো তুমি সুবাস বিলানোই ফুলের লক্ষ্য, অথচ বৃক্ষেরা বংশ বিস্তারে সমান দক্ষ । জন্ম মৃত্যুতে সবটা শেষ হলে তুমিও ফুল হবে, বাহির…


  • মায়ের মতো দেশ / সাইফ আলি

    সবাই বলে এই মাটিতে মা গিয়েছে মিশে, আমি দেখি মায়ের হাসি একটি ধানের শীষে। সবুজ পাতায় মুখ লুকিয়ে টুনটুনিটা ডাকে’ ঘাসের বুকে শিশির জমে নদীর বাঁকে বাঁকে। সেই শিশিরে ভোর না হতেই হীরে মানিক জ্বলে, রূপ যেনো তার মায়ের মতো টুনটুনি তাই বলে। নীল শাড়িটা আকাশ নিলো সবুজ নিলো বন, মাটির সাথে মিশলো আমার বাংলা…


  • ইচ্ছে ঘুড়ি / সাইফ আলি

    ইচ্ছে ঘুড়ি ইচ্ছে ঘুড়ি কোথায় তুমি উড়বে; সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে কোন সুদূরে ঘুরবে? তুমি কি ওই পাখির মতো আকাশ পানে ছুটবে; চাঁদের মতো জোছনা দিয়ে হৃদয়টাকে লুটবে? তুমি কি ওই নাওয়ের মতো নদীর জলে ভাসবে; ভোরের রাঙা সূর্য হয়ে মিটমিটিয়ে হাসবে? ইচ্ছে ঘুড়ি ইচ্ছে ঘুড়ি হৃদয় তীরে ভীড়বে; দেশ বিদেশে ভ্রমন শেষে আপন নীড়ে…


  • মেঘের কাছে খোকার চিঠি / সাইফ আলি

    দাদুর ছাতা গাছের পাতা দুলছে বাতাসে, সাদা সাদা মেঘেরা ফুল তুলছে আকাশে। তার মাঝে এক রঙিন ঘুড়ি উড়ছে আহা! বেশ, নাটাই হতে ছুটছে খোকা দুলছে কালো কেশ। মেঘের কাছে রঙিন ঘুড়ি খোকার চিঠি সে- আমার প্রিয় বাগানটাকে ভেজাও নিমিষে। সবুজ পাতার মাঝে যখন ফুঁটবে রঙিন ফুল, একটা ঘুড়ি তোমায় দিতে হবে না আর ভুল।


  • আজকে যদি / সাইফ আলি

    আজকে যদি মেঘের ভেলা বৃষ্টি হয়ে ঝরে বাগান মাঝে ফুলের মেলা সুবাস বিলি করে। প্রজাপতির রঙিন ডানা দেখায় যদি তার লাল-সবুজ আর নাম না জানা রঙের সমাহার। দোয়েল যদি শিস বাজায় আর কোকিল যদি গায় রংধনুকের রঙের বাহার নীলের সীমানায় ভাসে; তবে আমার হৃদয় আকুল হয়ে চাবে, আনন্দের ঐ বাদল ধারায় সকাল-বিকাল নাবে।


  • আমার পণ / সাইফ আলি

    শিউলি চারার প্রথম ফোঁটা ফুল শুকনো শেষের বীজ একটা হলো খুকুর কানে দুল একটা হলো নতুন চারা নিজ। আমি হবো প্রথম থেকে শেষ ফুটবো, যাবো ঝরে ফুটলে লোকে বলবে আহা! বেশ ঝরলে হবো চারাই রুপান্তরে। আমার মতো তুমিও করো পণ উর্ধ্বে তোলো হাত তোমার থেকে নতুন অগনণ সৃষ্টি হবে সারাটা দিনরাত। ফুলের মত গাঁথেও যদি…


  • বেগুন গাছের টুনটুনি / সাইফ আলি

    বেগুন গাছের পাতার ফাঁকে টুনটুনিটা লুকিয়ে থাকে আমি যদি যাই টুনটুনিটা কোত্থেকে মা অমনি খবর পায়? আমি তো ওর কষ্ট দেবো না এই কথাটা টুনটুনিকে বোঝাও তুমি মা। টুনটুনিটা কোন ভাষাতে কথা বলে বাঁশির মতো শব্দ করে কি কৌশলে কেমন করে পাতার ফাঁকে বাধে ওরা বাসা মাগো, টুনটুনিদের অমন কেনো ভাষা? আমি টুনটুনিকে বলবো ডেকে-…


  • ভালোবাসার প্রথম পাঠ / সাইফ আলি

    ‘খোকন সোনা তুমি কি ঐ চাঁদকে ভালোবাসো ফুলকে ভালোবাসো পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট পাখিটাকে কিংবা রাতের আঁধারে যেই জোনাক জ্বলে থাকে? খোকন সোনা তুমি কি ঐ সাগর ভালোবাসো ঝর্ণা ভালোবাসো একে-বেঁকে বয়ে চলা ছোট্ট নদীটাকে কিংবা সবুজ মাঠের ফসল নদীর বাঁকে বাঁকে?’ ‘ফুলকে আমি ভালোবাসি ভালোবাসি চাঁদকে, পাখি ডাকা সকাল আরো জোনাক জ্বলা রাতকে।…


  • এই যে পাখি / সাইফ আলি

    এই যে পাখি, শুনছো না কি মিষ্টি তোমার গান, কে করেছে সুরেলা ঐ কণ্ঠ তোমার দান? রোজ সকালে পূব আকাশে সূর্য যখন ওঠে, বনে বনে মিষ্টি বাসের ফুলকলিরা ফোটে; তখন তুমি কোত্থেকে ভাই গান শোনাতে আসো, মিষ্টি সুরে গান শোনাতে খুব কি ভালোবাস?


  • মুক্ত ডানা / সাইফ আলি

    একটি পাখি উড়বে বলেদূর আকাশে মেললো ডানা,ছোট্ট বুকে খোদাই করাজীবন পথে হার না মানা। পালকগুলো বাতাস মাঝেএই আলোড়ন তুলতে থাকে-তোমরা যারা দাওনি সাড়াআজকে জাগো আমার ডাকে। স্বপ্নগুলো পালক হবেইচ্ছে হবে মুক্ত ডানা,যখন খুশি আসবে ছুয়েস্বাধীনতার নীল সীমানা। একটি পাখি উড়বে বলেমেলল ডানা দূর আকাশে,দুই চোখে তার স্বাধীনতাররঙিন-আভা সূর্য হাসে।


  • আরেক ফাগুন / সাইফ আলি

    জীবন যখন হাট-বাজারে থমকে গেছে তখন পাখি কি গান শোনাও; ঘুমহারা এই একলা রাতে জাগরণের স্বপ্ন বোনাও!! রাত হয়েছে তবুও যখন ঘুম আসে না দ্রোহের বীষে তখন তুমি খামচে ধরে চোখের পাতা বললে- সবাই ঘুমিয়ে কেনো; বললে – সবাই আত্মহারা। আজকে নতুন ডাক এসেছে। কোথায় কিসে করলো এমন পাগল পারা- বললে হঠাৎ – এ লাশ…


  • সেদিন বড্ড চাঁদরাত ছিলো / সাইফ আলি

    সেদিন বড্ড চাঁদরাত ছিলো ছাদটায়- উড়ছিলো এক লাল টুকটুকে ওড়না পাশের বাড়ির বারান্দাটায় একলা; আমার দৃষ্টি আটকিয়ে গেলো ফাঁদটায়। ওড়নাটা ছিলো আর ছিলো সেই হাতটা কিন্তু হাতের আঙুলে ছিলোনা আংটি তালুর উপরে ভর দিয়ে ছিলো থুতনি থুতনিতে ছিলো কুচকুচে কালো তিলটা আর ছিলো নাক কিন্তু ছিলোনা নাকফুল পুরু দুটো ঠোঁট হঠাৎ হঠাৎ ফুলছিলো চুলগুলো খুব…