-
জোনাকি / সাইফ আলি
তুমি কি আজব বাতি জ্বলে ওঠো নিভে যাও অন্ধকার ঝাওবন, বাঁশঝাড়, পুকুরের ঘাটে নিরিবিলি নিজেকে সাজাও তুমি কি আজব বাতি মধ্যরাতে মশারির জালে আলনায় খাটে দেয়ালের গায় বুনে দাও কবিতার বীজ; গাঁয়ের চাষার মতো আমি সেই বীজ পুতে রাখি ডাইরির ভাঁজে হৃদয়ের খাঁজে… প্রিয়তমা কবিতা আমার মাথা রাখে বুকের পাঁজরে নির্দিধায় নিরবে সলাজে। তুমি কি আজব…
-
সমুদ্র তীরের প্রার্থনা / সাইফ আলি
সমুদ্রের তীরে বসে আছি ঢেউগুলো ক্রমাগত সেজদায় নত সন্ধ্যার সূর্যটা টকটকে লাল আর কিছুক্ষণ এরপর হারিয়ে যাওয়া জাহাজের মতো দৃষ্টির ওপারে রাঙাবে পৃথিবী… এক ঝাক সমুদ্রচর পাখি উড়ে এলো বেলা শেষে খুঁজে নেবে রাত্রী অবসর… বাতাসে দুলছে চুল দুলছে জীবন সমুদ্রের এবং সন্ধ্যার তীরে বসে আর কতক্ষণ? ডুবে যাওয়া সূর্যের মতো ফিরে আসা পাখিদের মতো…
-
পালক সুখে উড়লো পাখি / সাইফ আলি
পালক সুখে উড়লো পাখি আকাশ দিলো ধরা এবার কি আর পেছন ফেরার বালাই আছে কোনো? দাড়াও পাখি শোনো- বাতাস বড়ো ঝড় তুলেছে মেঘ জমেছে কালো আভাস তো নয় ভালো এই অসময় শেষ হয়ে যাক জাগুক নতুন আলো একটুখানি দাড়াও পাখি শোনো- ওড়ার সময় হয়নি তো এখনো। পালক সুখে তবুও পাখি বিছিয়ে দিলো ডানা ব্যর্থ সকল…
-
তবু তুমি কান পেতে শোনো / সাইফ আলি
টুকরো কাচের মতো রোদ গলা পিচের রাস্তায় তুমি আজ ঘুমিয়েছো; রেখে গেছো অসমাপ্ত কাজ কাল আর শুনবো না মিছিলে তোমার আওয়াজ তবু এই কালো পিচে খুঁজে নেবো তোমার ছায়ায় বেড়ে ওঠা শিশুটির হাত ( যতখানি মমতায় আগলেছিলে মিছিল শুদ্ধতম বুকের পাজরে) ওরা যারা বুঝলো না কোন সে আলোর হাত ধরে তুমি চলে গেলে; জানি, তারা…
-
বাঁক পেরুলেই / সাইফ আলি
বাঁক পেরুলেই অবাক হতি ইস্ কি আলো বায়ুর গতি!! বাঁক পেরুলেই অবাক হতি। একটা পাখির মুক্ত পাখায় রং বেরঙের পালক ছিলো সূর্য হঠাৎ ঝিলমিলিয়ে মুক্ত দানা ছড়িয়ে দিলো একটা নতুন পাতার গায়ে ভোরের বাতাস হাত ছোয়ালো সবুজ ধোয়া বন তখনো একটু আঁধার একটু আলো। ভাবছিস্ তুই এসব দেখে কি হবে লাভ কিই বা ক্ষতি; বাঁক…
-
রঙিন কাকের দরবারে শাদা-কালো পৃথিবী / সাইফ আলি
রঙিন কাকের দরবারে শাদা-কালো পৃথিবী ফুল ভুল – পাতা মিছে, তারও নিচে উঁইদের ঢিবি ঢিবিতে কি মাটি পরিপাটি নাকি অগোছালো ব্যথা সদ্য হারানো ডানায় গিয়েছে ঢেকে ডাস্টবিনে কাক ভালো অছে সব থেকে। ল্যাম্পপোস্টের আলোটা গিয়েছে নিভে তবুও মাতাল সোনালী আলোয় হাঁটে; সকাল-সন্ধ্যা নীলক্ষেত মোড়ে ককটেল রাগে ফাটে। গলাবাজ মহারাজ সোফায় রাগে-দুখে ফোপায় সংলাপ প্রস্তুত করে;…
-
ভালো থেকো তুমি / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) এই নির্জনে ফুটে আছো তুমি সুন্দরী বুনো ফুল যদি পারতাম তোমাকে নিতাম দু’হাত ভরে কিন্তু তুমি যে সংসারী বড়ো পাহাড়ের মেয়ে না পেলাম আজ এই হাঁটা পথে আপন করে মনে বেধো প্রিয়া ঘর, লেনাদেনা নেই তবু রাখো এই খন্ডিত অন্তর। ভালো থেকো তুমি কঠিন কোমল রাজে ভালো থেকো এই পাহাড়-মেঘের ভাঁজে…
-
এক জোড়া চোখ উৎসুক / সাইফ আলি
বৃষ্টি গড়িয়ে নামে কাগজের নৌকার গায় মাঝি মাল্লার নেই দেখা তবু একা একা নৌকা চলেছে ঠিক ভর করে মেঘের শরীরে। এক জোড়া চোখ দূর থেকে দেখে সেই খেলা কাগজের নৌকাটা শেষমেশ হয়ে যায় ভেলা ভেলা ভাসে খালে-বিলে নালায় নদীতে কাঁচা হাত ধরে রাখে দাঁড় বেলা শেষে ভেলা হয় সাম্পান কোনো কাঁচা হাত পাকা হয়ে বাইছে…
-
স্রষ্টা সমীপে / সাইফ আলি
জীবন যখন উঠবে মেতে ঘূর্ণী হাওয়ায় হঠাৎ আলো অন্ধকারে আসা যাওয়ায় তখন তারে খুঁজো মনের গভীর কোণে। কোন অভাগা কোথায় বসে ডাকছে তাকে সব কথা সেই শোনে। কেউ যদি না হাতটা বাড়ায় কঠিন দিনে সঙ্গে দাঁড়ায় মনে মনে তাকেই তুমি খুঁজো সে ঠিক দেবে সাড়া সবাই সবার স্বার্থ বোঝে তোমার কথা বুঝবে না সে ছাড়া।
-
উদ্যানে বহুদিন পর / সাইফ আলি
ইটপাড়া রাস্তাটা ধোয়ার অন্ধকারে ঢাকা পাশে কিছু পাতাঝরা গাছ সারি সারি পথচারি হেটে যায় বরাবর হয়তো কখনো কেউ রেখেছিলো এইসব এলোমেলো দৃশ্যের খবরাখবর। উদ্যানে বহুদিন পর আমি আজ শীতের সকালে হলুদ পাতার ফাঁটা খসখসে গালে খুঁজে ফিরি তাকে। যদি পাই বুকের মোড়কে মুড়ে আবার নতুন কিছু কবিতা বানাই।