• আমার কোথাও যাওয়ার নেই (২০১৭) / সায়ীদ আবুবকর

    কবিতাক্রম ০১. উৎসর্গ কবিতা০২. কবিতার সক্রেটিস০৩. একটা বুনো হাঁস০৪. রাতের ঘটনা০৫. বলিয়া যেন যাই০৬. প্রকৃতি০৭. কোথায় যায় সব০৮. ভাষা ও প্রকৃতি০৯. ইডেনকাব্য১০. সন্ধ্যা১১. পুরোনো বাড়ি১২. রাতের তারাগুলো১৩. ছলাৎ ছল ছল১৪. পুষ্প ছুঁই হাতে১৫. হে সুন্দর১৬. ঘুমাতে ভয় লাগে১৭. জাগিয়া রাত যায়১৮. কিসের আলো লেগে১৯. সর্ষেফুলনামা২০. মৎস্যকন্যাদের কথা২১. বসন্ত২২. তোমার সুঘ্রাণ২৩. ঘুরে ঘুরে খেলা করে২৪. সতত…


  • যমুনায় যাই চলো / সায়ীদ আবুবকর

    যমুনায় যাই চলো-বিপুল বসতি বুকে নিয়ে ধসে পড়বার পরযেখানে জেগেছে চর,যেখানে রুপালি বালি ঝকমক করে জোছনাতে-তুমি আর আমি আজ রাতে। একদিন ঘুম থেকে জেগে উঠে দুরন্ত কৈশোরেকুড়াতাম শিউলি-বকুল; সেইভাবে জোছনা কুড়িয়ে সারা রাতঠেসে ঠেসে দেবো ভরেতোমার আঁচল আর তোমার দুহাত। চলো যমুনাতে যাই, যমুনার পাড়ে-দুই হাতে ছুঁয়ে দেই যমুনার পানি;চলো মেতে উঠি আজ হৃদয়ের অভিসারেআমি…


  • আমরা এসেছি ফিরে / সায়ীদ আবুবকর

    অসীম সবুজেগুঁজেচোখ, ফেলে রেখে নিঃসীম নীলেমন, অফুরন্ত ফুলের মিছিলেবিছিয়ে নাসিকা আর বসন্তবাতাসে পেতে দিয়ে কানশুনবো আমরা শুধু মহাকাল সমুদ্রের গানএকসাথেআজ রাতে। হিরোশিমা নাগাসাকি থেকে আমরা এসেছি ফিরে।আমরা দেখেছি আমাদের মাটির কুটিরেসোনার বিমান হতে কিভাবে ধ্বংসের লাল ডিমফেলে দেয় বিজ্ঞানের অবোধ কাছিম। আমরা জীবন দিয়ে করেছি পরখসভ্যতার পূঞ্জিভূত সব প্রজ্ঞা আর দর্শনের নিকৃষ্ট নরক।আজ তাই প্রকৃতির…


  • হে গানের পাখি / সায়ীদ আবুবকর

    হে গানের পাখি, তুমি যে ঘুমাও পাতার আড়ালে কুসুমের পাশে;পাতারা নির্ঘুম নড়ে পতপত সুগন্ধি বাতাসে;সারা রাত জেগে ঘুমিয়ে পড়েছে দুরের তারারাআকাশের কোলে,-রাত্রি ফিরে এলে জেগে উঠবে তারা;চাঁদ ডুবে গেছে প্রশান্ত সাগরে-রেখে গেছে তার জোছনার রেশ;পুব দিগন্তে যে কাশফুলের মতো উঁকি মারে ভোর- রাত্রি হলো শেষ;এবার হে পাখি, জেগে তুমি ওঠো ফুলের পাপড়ির মতো ধীরে ধীরে,আর…


  • অপুর চিঠি / সায়ীদ আবুবকর

    [আমাকে নিয়ে লেখা উড়িশ্যার কবি ভারতী নায়েকেরA Letter to Appu With Love From Durga Didi কবিতার জবাবে] তুমিও, হে দিদি, শেষতক গন্দমই খেলে।গন্দম খেলে তো ঈশ্বর বেহেস্ত থেকে তাকেছুঁড়ে মারে পৃথিবীর আস্তাকুঁড়ে।শরীরে তখন তার উত্তাল যৌবন এসে যায়।সে-যৌবন আগুন জ্বালায় সারা দেহে।তারপর মানুষ কেমন মাতালের মতো ঘরদোর ফেলেচলে যায় বনবাসে। বনবাসে গিয়ে কত শখ করেগড়ে…


  • এক দিঘি হাঁস / সায়ীদ আবুবকর

    ফুটে থাকা শাপলার মতো এক দিঘি হাঁস করছিল উল্লাস পড়ন্ত বিকেলে। বীণার তারের মতো তারা বলছিল কথা ঠোঁটে ঠোঁটে, আর ঝড়ো বাতাসের মতো দিশেহারা হয়ে করছিল ছুটোছুটি পানির উপর। মারছিল ডুব, কখনও বা, অথৈ পানিতে নুড়ির মতো। বোবা গাছগুলো, দিঘির পাড়ের, দেখছিল সেই খেলা হাঁ-করে, বিকেলবেলা। সুন্দর এ হাঁসগুলো কোনোদিন হিংসা দ্যাখেনি ছুঁয়ে। দ্যাখেনি কখনও…


  • হে হৃদয়হীনা / সায়ীদ আবুবকর

    যতই সাজো না কেন, ধরবে না মরাগাছে বসন্তের রঙ ভরবে না ডালপালা পুষ্পে পুষ্পে, ডালে বসে গাইবে না পিক; যতই ঘষো না কেন, মুছবে না কিছুতেই সর্বাঙ্গের জং, ব্যর্থ হয়ে যাবে সব সোনা-রূপা, লেহেঙ্গা ও রক লিপস্টিক। তোমার শরীরজুড়ে জগতের কামনারা করে কিলবিল, ক্লিওপেট্রা, হেলেন ও মেরিলিন মনরোর নেশা জাগে চোখে; তাই বলে মৃত ডালে…


  • ম্যানটিস প্রিয়তমা / সায়ীদ আবুবকর

    কি জাদুমন্ত্রে করেছিলে মন চুরি, অতঃপর তুমি দিয়েছিলে কাছে ডাক; নিঃশ্বাসে ছিলো কামনার কস্তুরি কাছে যেতে যেতে হয়ে যাই নির্বাক সম্ভোগসুখ কেড়ে নেয় শেষে হুঁশ, বৃষ্টির মতো ঝরছিল তবু কিস; মনে হয়েছিল নিজেকে অরফিয়ুস আর তোমাকে যে সোনালি ইউরিডিস তারপর, হায়, কিছু আর মনে নেই খুঁজে পেলো লোকে নিথর একটি লাশ জগত জানলো দুঃসংবাদ এই:…


  • গাছীর গান / সায়ীদ আবুবকর

    জিড়ন রসের মতো তোমার যৌবন, যুথিমালা; তোমার খেজুরগাছে আজ আমি দিনান্তের গাছী, কাটবো পৌরুষ দিয়ে তোমার দুচোখে যত জ্বালা, তারপর রস দিও, বসতে দেবো না কোনো মাছি ছ-কুড়োর মাঠে আজও ছোলার কি-চমৎকার চাষ, সেই ছোলাগাছ তুলে পুড়াবো উঠানে মাঝরাতে; তারপর তোমার ঘরে হালাকুর চলবে সন্ত্রাস, পৌষের পবন আর স্তব্ধ রাত্রি কেঁপে উঠবে তাতে জিড়ন রসের…


  • সতত এ নদ / সায়ীদ আবুবকর

    শরীর শীতল করে, ভিতর শীতল করে এই ঘোলাপানি, এ পানিতে স্নান করে ভোরের দোয়েল আর আমার হৃদয়; পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ এখনও আগের মতো করে কানাকানি তখন এ নদ দেখে কত মধু মধুদেশে মহাকবি হয়! অন্য কোনোখানে গিয়ে বাঁচবো কি একদিনও এ জমিন থুয়ে? বিদেশবিভুঁই গিয়ে কী করে মানুষ বাঁচে, আমি ভেবে মরি; আমার কেশবপুর জননীর…


  • ঘুরে ঘুরে খেলা করে / সায়ীদ আবুবকর

    কেবলি কোকিল আর কেবলি কুসুম যে-বনে; যে-মাঠে কেবলি শস্যের মেলা; যে-আকাশে কেবলি ষোড়শী চাঁদ আর তার নিজঝুম রূপের ঔজ্জ্বল্য; যে-জলে সাঁতার কাটে কেবলি চিতল মাছ; সেখানে আমার হৃদয়ের হোলি খেলা। আমার হৃদয় জোছনার মতো ঘুরে ঘুরে খেলা করে পৃথিবীর সব সুন্দরে সুন্দরে। ১১.৯.২০১৪ মিলন মোড়, সিরাজগঞ্জ


  • তোমার সুঘ্রাণ / সায়ীদ আবুবকর

    হৃদয় ভরে আছে তোমার সুঘ্রাণে, কী হবে বলো আর ফুল দিয়ে; মিষ্টি মধুমতী বয়েছে দুই প্রাণে, কী হবে হেঁটে আর কূল দিয়ে! কী হবে চৈতালি চকোর পাখি দিয়ে যখন বুকে তুমি জুড়েছো গান; রেখেছো বুঁদ করে সজল আঁখি দিয়ে- কী হবে করে আর অমিয় পান! কিসের বসন্ত, কিসের মধুমাস যখন আছো তুমি বুক জুড়ে; মিথ্যে…


  • বসন্ত / সায়ীদ আবুবকর

    বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, পলাশ আনন্দে ভাসছে বন; কৃষ্ণচূড়াগাছে আগুন লাগা দেখে রাধার মতো নাচে পাখির মন। পাখিরা গান গায়, নদীর ঢেউ নাচে, ফুলেরা উল্লাসে ছড়ায় বাস; নতুন পল্লবে ভরেছে ডালপালা- পড়েছে তার প্রেমে বুনো বাতাস। বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, জোছনা তার ’পরে ছড়ায় রঙ; পড়েছে খসে সব জরা ও জীর্ণতা, শুকনো পাতা আর পুরনো…


  • মৎস্যকন্যাদের কথা / সায়ীদ আবুবকর

    জোছনা ডুবে গেছে সমুদ্রের নিচে, কৃষ্ণ জলরাশি কাঁপছে থরথর- মৎস্যকন্যারা ঘুমায় সী-বীচে; আস্তে ফেলো পা, যাবে যে ভেঙে ঘুম। জোছনা ডুবে গেলে সী-বীচে আসে তারা, এলিয়ে দেয় দেহ মুক্ত হাওয়ায়; যখনি উঁকি মারে আকাশে শুকতারা, পালায় দল বেঁধে জলের হিমঘরে। আস্তে ফেলো পা, একটু আওয়াজেই আঁতকে ওঠে তারা, যেন বা ভীত মৃগ; একটু জোরে বয়…


  • সর্ষেফুলনামা / সায়ীদ আবুবকর

    সর্ষে খেতগুলো হলদে শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে থরথর সর্ষেফুল হয়ে পোহায় রোদ্দুর আমার অন্তর আমার অন্তর পোহায় রোদ্দুর সর্ষেফুলে ফুলে যে-ফুল ঝিরঝিরে বাতাস লেগে ওঠে পুলকে দুলে দুলে মধুপ দল বেঁধে বেড়ায় উড়ে উড়ে, কুড়ায় অমৃত তার পরশ পেয়ে তনু ও অন্তর মিষ্টি, সুবাসিত অমরাবতী বুঝি এসেছে নেমে, ঘ্রাণে ভরেছে দশ দিক- কে গায় গান বনে?…


  • কিসের আলো লেগে / সায়ীদ আবুবকর

    কিসের আলো লেগে উঠলো জেগে কায়া, উঠলো জেগে মন। জগত মনে হলো স্বপ্নশতদল, কুহককাঞ্চন।। দুচোখে লেগে আছে শুধুই সুন্দর, শুধুই অনাবিল। গদ্যকবিতারা ধরেছে বুকে ফের ছন্দ আর মিল।। রাত্রি হলো শেষ, প্রভাত চারদিকে এবং শুভ্রতা। ফুলেরা জেগে উঠে ছড়ায় সৌরভ, পাখিরা সুরকথা।। যে-আলো চোখে মেখে ত্রিকাল দেখেছিল হোমার-সফোক্লিস। সজিনাগাছে আজ সে-আলো পান করে দোয়েল দেয়…


  • জাগিয়া রাত যায় / সায়ীদ আবুবকর

    জাগিয়া রাত যায় দেখিয়া চোখ ভরে রূপালি রাত্রিকে। পরীর পাখনায় উড়িয়া যায় মন উদাস দিকে দিকে।। বসুন্ধরা আজ ইডেন গার্ডেন, ভিজেছে জোছনায়। সে-জোছনার ’পরে হরিণ খেলা করে চপল চার পায়।। হাসনাহেনা আর গন্ধরাজে গেছে ভরিয়া সমীরণ। সুবাস লাগে নাকে, পুলকে গাহে পিক, কাঁপিয়া ওঠে বন।। নদীর জল নাচে, জলের ’পরে নাচে জোছনা আর চাঁদ। দেখিয়া…


  • ঘুমাতে ভয় লাগে / সায়ীদ আবুবকর

    ঘুমাতে ভয় লাগে, কেবলি মনে হয় এ ঘুম ভাঙবে না পাখির ডাক শুনে পাখির ডাক শুনে উঠবে জেগে ফুল, হালের বলদেরা, লক্ষ্মী চাষীবউ; কেবল ভাঙবে না আমারই ঘুম বুঝি, যখন ফুলনদী ফুলেল ফাল্গুনে ছুটবে যেন ঘোড়া ছলাৎ ছলছল এবং মৌমাছি বেড়াবে খুঁজে মউ। যে-চোখ দেখলো না শিশিরভেজা ঘাস, রৌদ্রভেজা জল, সুবাসভেজা ফুল- ব্যর্থ সেই চোখ!…


  • মুজিবনামা / সায়ীদ আবুবকর

    দ্বাদশ সর্গ ছিলো মজে জার্মানীতে সখীদের সাথে দু-তনয়া; হেসেখেলে, গেয়ে আর ঘুরে বসন্তের পাখি যেন, ইউরোপকুঞ্জে। গেছেন হাসিনা তাঁর পুতুল ও জয় দু-সন্তান নিয়ে স্বামী ওয়াজেদ আলী মিয়ার কর্মস্থলে; সাথে তাঁর ছোট ভগ্নি শেখ রেহানাও। হেথা ঘোরে, সেথা ঘোরে, কি-অপূর্ব দেশ, যত দ্যাখে তত জাগে দেখবার সাধ এর নিত্যনবরূপ! ঐশ্বর্যে-বৈচিত্র্যে রেখেছে সাজিয়ে যেন প্রতিটা শহর…


  • মুজিবনামা / সায়ীদ আবুবকর

    একাদশ সর্গ পনেরো আগস্ট শেষ রাতে, নেমে এলো আসমান থেকে ফেরেস্তা আজরাইল সৌম্যমূর্তি ধরে। হাতে ফুল, শুভ্র কেশ; এসে কি-বিনম্র পায়ে করতে লাগলো হাঁটাহাঁটি ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে, ২৭ মিন্টো রোডে আর শেখ ফজলুল হক মনির ধানমন্ডির বাসস্থানে; তিন জায়গায় একসাথে এক রূপে হাঁটতে লাগলো তাঁর অলৌকিক পায়ে। চিন্তামগ্ন হাঁটছে সে একা, ঘুরে ঘুরে; হাতে বাঁধা…