-
তখন
যখন বিশ্বাস বুকে খাঁচা ছেড়ে পাখি আকাশে মেলবে ডানা একা প্রান্তরে জেগে থাকা কোনো বৃক্ষের মৃত শাখা আবার নতুন পুষ্পে পুষ্পে পূর্ণ করবে তার এই পথ দিয়ে উড়ে যাওয়া সেই পাখিটির সংসার- তখন তুমিও মানুষ পূর্ণ কোরো তোমার পৃথিবীর কাছে হাজারো ঋণের ভার…
-
সংবাদ হয়ে গেছে তৈরি / সাইফ আলি
সংবাদ হয়ে গেছে তৈরি কাল রাত বারোটায় যখন বাতাস ছিলো বৈরি ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে বললো সাংবাদিক সংবাদ হয়ে গেছে তৈরি… অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে- জানা গেছে বড় এক সন্ত্রাসী হামলার হয়ে গেছে ফাইনাল নকশা। হইচই পড়ে গেলো রাষ্ট্রে- কোথায়-কখন-কবে, কিভাবে অথবা কেনো; জানা নেই… সংবাদ বানাতে তো মানা নেই!! মঞ্চের পেছনের নাটকটা হয়ে গেলে শেষ-…
-
বেওয়ারিশ বীজ
আপাতদৃষ্টিতে আমি এক বেওয়ারিশ বীজ আমাকে পুতে ফেলুন মাটির অন্ধকারে কোনো এক শুভ্র সকালে আমি প্রকাশ করবো আমাকে সবুজ পাতায় লেখা থাকবে আমার নাম আমার ইতিহাস… আমার মোড়ক উন্মোচিত হবে মাটির অন্ধকারে আমার পরিচয় উদ্ভাসিত হবে স্নিগ্ধ আলোতে- বৃষ্টিতে ভিজে, দমকা বাতাসে দুলে যদি আমি বেড়ে উঠি; যদি কোনো পশুর নখ কিংবা দাঁতের বিষাক্ত ছোয়ায়…
-
এ কেমন নেশাধরা বৃক্ষছায়ে
এ কেমন নেশাধরা বৃক্ষছায়ে দাড়িয়ে তুমি বললে হে পথিক- ‘আমি কখনো পথ হাটিনি, পথ হেটে হেটে চলে গেছে আমার প্রান্ত ছুয়ে…।’ এ কেমন অন্ধকারে দাড়িয়ে তুমি বললে- ‘আলো আমাকে অন্ধ করেছে, আমি আর আলোতে দেখি না কিছুই…।’ একবার বের হয়ে এসো নেশাধরা বৃক্ষের ছায়া থেকে একবার বের হয়ে এসে দেখো সত্যিকার আলোতে জীবন থেকে মৃত্যু…
-
“পথ ছিলো ভুল”- এ আফসোসে কাঁদবো নাতো?
পথিক তোমার পথের কি ভাই শেষ হবে না, চলবে তুমি সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাতেও? তোমার সাথে আমার কিছু গল্প ছিলো খুব বেশি না, অল্প ছিলো। দাড়াবে ভাই? এই যে পথে হাটছো তুমি তোমার সাথে সঙ্গ দিতে অনেক সময় অনেক জনই পা মিলিয়ে হঠাৎ কোথাও হারিয়ে গেছে, তবুও তুমি হাটছো আজো এই কি নিয়ম? অনেক নদীর পথ ঘুরেছে, শুকিয়ে…
-
তখন সবাই চিনবে ঠিকই সত্যটাকে
এই আসরের সকল খেলাই শেষের পথে সমস্ত রাত পার করে যায় চাঁদটা যেমন ঠিক তেমনি পার করেছে সকল রাউন্ড; এখন যারা শেষের খেলায় নাম লেখেছে তাদের পালা, এবার তারাও ক্ষান্ত দেবে… যাদের ঘরে জয় লেখেনি নাম কখনো সার্টিফিকেট পায়নি যারা এই জীবনে তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে এবার ওরাও দিচ্ছে সাড়া অদৃশ্য এক সত্য ডাকে এবার…
-
অনেক জাহাজ জাহাজ থাকেনা
অনেক জাহাজ জাহাজ থাকেনা দুলে উঠলেই পানি অনেক অনেক ইতিহাস ইতিহাস থেকে মুছে যায় তবু লেখে রাখবার থাকে না কলমে কালি অনেক প্রাসাদ বাতাসে বাতাসে উড়ন্ত ধুলোবালি মাটির শহর, গাড়ির বহর, সখের নহর সব হয়তো কখনো কোনো একদিন হাজার বছর পরে নতুন মানুষ অণুবিক্ষনে ঠেকিয়ে দু’দুটো চোখ ইউরেকা বলে চিৎকার দিয়ে বলবে, ফেলেছি ধরে- প্রাচীন…
-
আত্মসমর্পণ
এখানে আর কোনো রাত দেখিনা সে রাতের চেয়ে অধিক উত্তম- ঘুমহীন সেজদায় নত… আর কোনো বাক্য নেই মধুময় দুর্বিনীত পাহাড়ের মতো- সকল প্রসংশা একমাত্র তোমার… বিশ্বাসের আর কোনো আকাশ দেখিনা সুবিশাল, – পড়ো, তোমার প্রভূর নামে; যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন… সাগর কি জানে…!! কতগুলো ঢেউ রোজ দুলে ওঠে তোমার যিকিরে! গাছেরা জানে কি তার ঝরে…
-
ঠিক ঠিক দেবো উত্তর…
অনেক ঘুরেছি পাতায় পাতায় এবার একটু ডালে দুইপা ঝুলিয়ে বসতে চাই অনেক গুনেছি দিনক্ষণ আর ক্যলেন্ডারের পাতা এবার একটু সরল অংক কষতে চাই… কান্ডে ধরেছে ছত্রাক আর শিকড় খেয়েছে উঁই তবুও তোমরা চাচ্ছ বাহারি ফুল এ ব্যথা কোথায় থুই বৃক্ষ বাঁচে না ফল দেবে নির্ভুল..!! মাছের এদুটো চোখনা তাই পর্দা ফেলতে হয়, ভিষন সাহসী লোকনা…
-
অমৃত সেই ডাল-ভাত… / সাইফ আলি
/ তখন ছিলোনা বার্গার ক্যাফে রেস্তোরা কোনোটাই বিল দেয়া হলে মশলা চিবিয়ে বলতো না কেউ বাই বাই তখন ছিলোনা রঙিন চশমা ব্রেসলেট হয়তো বা ছিলো খালিপেট তবু পরিবেশনায় ছিলেন আমার জান্নাত বহুদিন হলো কপালে জোটেনা অমৃত সেই ডাল-ভাত…
-
জাদু নয় সত্যি
গোল হন গোল হন হাত ধরে গোল হন তারপর ছেড়ে দিন হাতটা মুঠোগুলো খুলে দিন বড়ো বড়ো দম নিন একটানা পর পর সাতটা জাদু নয় জাদু নয় হেলাফেলা খেলা নয় এখন যা দেখবেন সত্যি ভুল কিবা মিছে নেই সামনে বা পিছে নেই ভন্ডামী নেই এক রত্তি… এক দুই তিন চার পাঁচ ছয় সাত উঁচু করে…
-
ঘোড়া না থাকুক গাড়ি তো চালাও…
হাত ছেড়ে দাও চশমাটা দাও সঙ্গে কিছুটা রাস্তা মাড়াও চুপচাপ কেনো জিহ্বা নাড়াও এই ধরো সুর গান বেধে দাও দাও আরো দাও আরো কিছু দাও না পারো হুজুগে গল্প শুনাও, তবু কিছু দাও… খালি হাতে কিছু টাকা কড়ি দাও কিছু দর্শন বড়িও গেলাও ঘোড়া না থাকুক গাড়ি তো চালাও আম নেবে নাও নিবে কি…
-
এখন আর কোনো সুপ্রভাত নয়
এখন আর কোনো অধিকারের গল্প নয় নয় কোনো নতুন স্বাধীনতার মোড়ক উন্মোচন এখন শুধু একতরফা গুলির আওয়াজ প্রসাশনিক কুচ্কাওয়াজ- “চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্বে ওঠার চোরা এ পথ মামা-খালুদের দস্তখত স্বার্থ হাসিলে ঐক্যমত আমরা চোরের দল চল্ চল্ চল্………” এখন আর কোনো সুপ্রভাত নয় চেতনার নিস্তেজ মন্ত্রপাঠেই শুরু হোক আরেকটি দিন…
-
তবেই না তুই ভদ্র হবি
ঐ সমুদ্রে বাতাস তুলেছে ঝড় নদী শোন তুই যাসনে এখন আকাশে ভীষণ কালো মেঘ জমে আছে রংধনু তুই ঐখানে কেনো জেগে? নারকেল বনে ক্লান্তি এনেছে ব্যধি তবু সরাবের পূর্ণ সবুজ পাত্র চকচকে চোখে পথিক দেখেছে তৃষ্ণা ঘুমিয়ে পড়েছে মাত্র। পথিক রে তুই নারকেল বনে যাসনে- বৃষ্টি ফোটার তুমুল নৃত্য বাইরে জানালা লাগিয়ে দে তবেই না…
-
-
এই সমুদ্র দিতেই হবে পাড়ি
নতুন দ্বীপের সন্ধানে আজ যাত্রা হবে শুরু হাওয়ার তোড়ে ফুলবে এ পাল ফের সস্তা সময় বস্তাপঁচা সব ইতিহাস থুয়ে আজকে আবার নতুন করে যাত্রা আমাদের মেঘ বালিকা যাত্রা পথে বিছাক কালো চুল বৃষ্টিরা হোক সন্ধ্যা বেলার ফুল আকাশ শাড়ির আচল থেকে পড়ুক ধুয়ে ধুয়ে বুক চিরে ফের এগিয়ে চলি অসীম সমুদ্দুর। ঝড় উঠে ফের দিক…
-
ইতিহাস ঘাস খায়
ইতিহাস থেকে যায় ইতিহাস বেঁকে যায় ইতিহাস লেখে যায় যারা সে সকল মগজের দ্বারা ইতিহাস মুখে মুখে রটে যায় শব্দের ভান্ডারে কিছু কথা যোগ হয় কিছুটা বিয়োগ হয় কিছু কথা বিজয়ীর ক্ষমতায় পটে যায় কিছু কথা কাগজের নোটে যায়। ইতিহাস ঘাস খায় মাঝে মাঝে বাঁশ খায় নতুন ঠিকানা পায় খুঁজে জনগন চলে চোখ বুঁজে।
-
উপদেষ্টা
মুন্ডুটা কি দূর্বিনীত? কণ্ঠটা কি উচ্চকিত? পায়ের তলায় মাটি আছে? তাহলে আর ভয় কি মশাই জঙ্গী হবেন? যান না হয়ে- ইট পাথরের নাই ভরশা কামান গোলাই আনেন উড়ো গুলির আওয়াজ হেনে তামাক-টামাক টানেন… মিছিল এলে আসতে দিন জনসভায় কাশতে দিন তারপর নাই চলুক গুলি একটা দুটো মাথার খুলি পড়লে কি হয় জানেন ওসব জেনে কি…
-
তবু তুমি কান পেতে শোনো / সাইফ আলি
টুকরো কাচের মতো রোদ গলা পিচের রাস্তায় তুমি আজ ঘুমিয়েছো; রেখে গেছো অসমাপ্ত কাজ কাল আর শুনবো না মিছিলে তোমার আওয়াজ তবু এই কালো পিচে খুঁজে নেবো তোমার ছায়ায় বেড়ে ওঠা শিশুটির হাত ( যতখানি মমতায় আগলেছিলে মিছিল শুদ্ধতম বুকের পাজরে) ওরা যারা বুঝলো না কোন সে আলোর হাত ধরে তুমি চলে গেলে; জানি, তারা…
-
এবার একটা বোমা বানাও না বাবু
এবার একটা বোমা বানাও না বাবু যে বোমার হবে এন্টি বোমার খেল। বাতাস কাঁপাবে না রক্ত ঝরাবে না যেই শিশুু আজ হাটতে শিখেছে তার কচি পায়ে পোড়া বারুদের শিকল পরাবে না… এবার একটা বোমা বানাও না বাবু। হাজার রকম বোমার করলে চাষ লাশের ফসলে গোলাও ভরলে ঢের এ কেমনতর ফসল ফলালে বাবু ঘর পুড়ে গেলো…