আমার বিচার / মুসা আল হাফিজ

আলীয়া আলীর সাথে দেখা হলো রাস্তায়।
আইনজীবী মানুষ, বিবাদ নিরসনে দৌড়াচ্ছেন।

বললাম, কীসের এতো ব্যস্ততা !
তিনি আমাকে একটি মহাবিবাদের মোড়ে নিয়ে গেলেন।

সারা পৃথিবীর সব জাতি ও ভাষা উপচে পড়েছে যেন!

দলে দলে চলমান তুমুল বিবাদ।

একদল খায় আত্মা, একদল খায় দেহ

প্রথম দল থাকতে চায় গুণে, পরের দল মাত্রায়
তারা সব ক্ষেত্রেই ঝগড়া করে।

একজন বলে দান,একজন বলে ট্যাক্স
একদল চায় তাপস, একদল চায় সেনাপতি
একদল চায় প্রার্থনা, একদল চায় চায় উৎপাদন
একদল চায় নন্দন, একদল চায় প্রযুক্তি

একদল বলে মনুষত্য একদল বলে প্রগতি
তারা আধিপত্য চায় বটে!

একদল আধিপত্য করতে চায় নিজেতে
অন্যদল প্রকৃতির উপর!

শিশুর শিক্ষা ঘরে দেখতে মরিয়া একদল
আরেকদল কিন্ডারগার্টেন সাজায়!

একদল ফিরতে চায় পরিবারে, আরেকদল ইচ্ছের স্বাধীনতায়!

কোনো দলই ছাড় দিচ্ছে না কোনো দলকে। চলছে কচ্ছাল।

মন্ত্রীপরিষদ, সেমিনারহল , বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বব্যাংক
জাতিসংঘ, মুদিদোকান, ড্রাইভার সমিতি
বিবিসি, আল জাজিরা, হোওয়াইট হাউস ভেটিকানসিটি
আরবলীগ, অক্সফোর্ড, আল আজহার সকলেই বিতর্কে উচ্চকণ্ঠ।

কার আওয়াজ কে শুনবে হে প্রভু?

কবি, অধ্যাপক,মৌলবী,ভান্তে,পাদ্রী
বাটপার, রাজনীতিক,পুলিশ, অভিনেতা
কৃষক, পুঁজিপতি সাংবাদিক, পতিতা, বুদ্ধিজীবী
জলদস্যু সকলেই ঝগড়ার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাঠ!

আদিঅন্ত ফেণায়িত তর্কের উত্তাপে।

হাতাহাতি, কাটাকাটি, সীমান্তযুদ্ধ, অস্ত্রপ্রতিযোগিতা চলছে তুমুল।

থৈ থৈ যুদ্ধের মাঝখানে আমাকে দাঁড় করিয়ে
আলীয়া আলী হঠাৎ আকাশে উড়ে গেলেন!

আমি এই প্রমত্ত যুদ্ধমাঠ কীভাবে সামলাবো?

আমি দেহের সাথে আত্মার বিয়ে আয়োজন করলাম!
প্রার্থনার সাথে উৎপাদনের ভ্রাতৃত্ব গড়ে দিলাম!
নন্দনের সাথে প্রযুক্তির সংসার সাজালাম!
গুণ ও মাত্রার আত্মীয়তা দেখিয়ে দিলাম…

কিন্তু জটিলতার কথা আর বলো না!

ডান ও বাম
উপাসনা ও গবেষণা
ধ্যান ও যুদ্ধ
যন্ত্র ও মন্দির
মুল্লা ও মদ্যপ
চারদিক থেকে
যার যার বিবরের দিকে
আমার
হাতপাধড়বুকচোখমুখমাথাঅস্তিমগজ ধরে
এলোমেলো
টানতে টানতে
আমাকে খান খান করে দিতে চায়!