• উছলানো সবুজ / মুসা আল হাফিজ

    দিগন্তে মৌ মৌ করতো মানবীয় মহিমাআকাশের সুদার অহংকারে সত্যের শুভ্রশিশুটি আম্মা আম্মা বলেসেমেটিক বিশ্বাসের কোলে ছড়া কাটতো, তার বর্ণিল খুশিরঢেউ পূর্ব-পশ্চিম জুড়ে থৈ থৈ করতো বিহ্বল বাতাসে অনাদীমাটির মমতায় বুকের পললে মুক্তিসেনানীর মতো জেগে উঠছিলো অগাধ সবুজসে সবুজ নারিকেলবাড়ীয়ায় তিতুর হৃদয়,যে সবুজ আসানসোলে দুরন্ত তুফান, রুটির দুকান থেকে বেরিয়েঘূর্ণির মতো নাচিয়ে দেবে মনোমহাদেশ! বন্ধুগণ! আজ…


  • পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল / সাইফ আলি

    পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুলতোর তো দুটো ডানা নেই,গহীন বনে তার বিচরণসে খবর কি জানা নেই? রূপের জালে আটকে যাওয়ারগল্পটা ঠিক পাখির না,গল্প পাখির প্রেম বিষয়ককিংবা মাখামাখির না। এক ডালে তার মন বসে নাশুনছি নদীর কূলেও যায়,অনেক সময় উড়াল দিয়েঘরের কথা ভুলেও যায়। সাবধান তাই পাখির প্রেমেমোটেও যেনো পড়িসনে,ফুটেই মহা ভুল করেছিসআরেকটা ভুল করিসনে। ২৮/০৮/২২


  • তোমরা কেন? / মুসা আল হাফিজ

    তিমির বুকে ডুব দিয়ে রইএই ই ভালোতোমরা কেনো আবার দুঃখেরআগুন জ্বালো তোমরা কেন আমার ঘরেজ্বালছো বাতিসঘন তিমির চাই যে আমিদুহাত পাতি চাই যে আমি লুকিয়ে থাকাআঁধার বুকেদগ্ধ হৃদয় আলোয় দেখেফেলবে লোকে!


  • একদা বৃক্ষতলে / মুসা আল হাফিজ

    কেউ তাকে করেছে আঘাতনতুবা বাতাসে রোদন করে কেন ফিরে আমার কবিতা? আকাশে ছড়িয়েছে কেউ কালের ক্যান্সারনতুবা যক্ষার সাপ তার বুক জুড়েঅগ্নিমেঘের ঢেউয়ে ফণা তোলে? আমি চাই কারো মাঝে থাকবে না জখমকোনো বুকে রোদন থাকবে না। সহাস্য আকাশআর প্রাণজাগা বিপুল কবিতা। বৃক্ষ নদী- নালাবিহঙ্গ নারী পুরুষ সবাইকেসুহৃদ করে যাতনার বল্কলতুলে নিতে চাই। চাই চাই বলে আমিকালের…


  • ফুটবল / মুসা আল হাফিজ

    এক সময় বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফুটবল খেলতাম, অভয়েআহা! সে সময়; বৃষ্টি, মাঠ… সে সব এখন গুজবগুজবে কান্দিবেন না কেউ স্মৃতির ফুটবল; জার্সি ইত্যাদিকে মাঝে মাঝেনিয়ে আসি দিনের বারান্দায়;যতবার তারা আসে, দিনের পোশাকের নিচেরাতের শরীর দেখে, হায়!নির্জনে কথা বলে নিজস্ব ভাষায় গতকাল শুনলাম জার্সি আর ফুটবলের কানাকানি জার্সি ফুটবলকে বললো-‘তুই ডিজিটাল না এনালগ?’ ফুটবল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে…


  • আয়ুর আয়াত / মুসা আল হাফিজ

    পরদেশী দাঁড়াওবিরহী নদীর তরে রাখো মেঘের খামেএই বনতরু সুবাসনতুবা আষাঢ়ী ঝিলে শিংয়ের কাটার ভয়েরোদ্দুর চলতরহিত থেকে যাবে! শিংয়ের সাথে নদীর সংযোগপ্রাণ থেকে প্রাণব্যাঙের সংগীতে বৃষ্টির মিতালী! মেঘের ফেরেশতার তুড়িউন্মাদ করে তুলে সৃষ্টির স্নানাবেগপ্রাণের পরশে মৃত প্রান্তরেওজেগে উঠে জীবনের কোলাহল তোমার লাবণ্যে যে বিদ্যুৎবৃষ্টির আকাশ আমার চোখেকলকল ঢেলেছে তার সাতটি সাগর তবে কার হবে জয়? ও…


  • প্রেমতত্ত্ব / মুসা আল হাফিজ

    একদিন আয়নায় আমি আমার প্রতিবিম্ব দেখছিলামআয়নাটা পথের ধারে লাশের দৃশ্য তোলে ধরলোশকুন, শেয়াল আর ক্ষুধার্ত কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ছে তার বুকে, চোখে, মুখেবাতাসে ছড়াচ্ছে বিকট দুর্গন্ধের যন্ত্রণা আয়নার সামনে আমিযতই সামনে যাই, চেহারা ভাসে না চোখে, কেবলই লাশতবে কি আমার আমি গলিত লাশ হয়ে পড়ে আছে পৃথিবীর পথের ধারে?এই মুখ, এই বুক ছিড়ে খাচ্ছে কুকুর, শেয়াল?প্রাণের…


  • মৃত্যু / মুসা আল হাফিজ

    এক.সূর্য ওঠেআমরা শুনতে পাই মৃত্যুর সংবাদযখন বিহঙ্গ পাখা সাঁটে মহাশূন্য উত্তাল করে দিতে সূর্য ওঠেনড়ে ওঠে জল, আগুন, বাষ্পশুনতে পাই নদীর জলে ঘুমন্ত ক্ষুধার প্রশ্বাসশুনতে পাই আগুনদর্শনে ক্ষুধার্ত শিশুর খাদ্যের সম্ভাবনাশুনতে পাই বাষ্পের ঢেউয়ে মহাজাগতিক নাকাড়াএরই শব্দ তাড়িয়ে নেয় রাত্রির স্নানে মুগ্ধ যৌবনকেসরোবর থেকে যৌবনের সে দৌঁড়ায় কাস্তে হাতে পিছনেপড়ে থাকে মৃত্যুর সংবাদ। মৃতআত্মার নিঃশব্দ…


  • ভালোবাসার রাত / মুসা আল হাফিজ

    এসোরাত্রির ব্যাকরণ ভেঙে ফেলিনিদ্রার অরণ্যকে একটি উত্তাল সমুদ্র বানিয়ে দেই সমুদ্র বেদনার মতো উদ্দামসান্নিধ্যের মতো প্রগাঢ়প্রার্থনার মতো অতলবিশ্বাসের মতো স্বচ্ছআজ রাতে বিস্তরসমুদ্রে করবো অবাধ বিহার রাত্রি একটি পাথরের মতোনিচে যার পদানত মাটিযারাই রাত্রির কাছে আত্মসমর্পণ করে হারমানা সৈনিকের মতোনিজের সত্তাকে তারা মাটি করে দেয় নিজের সত্তাকে যারা কবুতরের কাছে লজ্জিত করে দেয়জীবনের যুদ্ধাস্ত্র তারা পেতে…


  • গন্তব্যঘর / মুসা আল হাফিজ

    মেয়েটি নারাজবিয়ে তার নির্ধারিত অতলপুরেরহর্ষনগর না দহনপাড়া জানে না সে প্রিয় উনুন গভীর অসুখে ফুঁপিয়ে উঠছেতরকারি সমেতঘনিষ্ট স্পর্শের বিরহে নিকট মুরব্বীরা আদরে অশ্রুতে ক্রন্দসী মেয়েটিকেকারো কাধে পাল্কীতে তুলে দিলেন গতির বাতাসে পাল্কী কাঁপছে, মেয়েটি হাতল ধরে‘যাবো না, যাবো না’ নির্বিরাম নিনাদে প্রান্তর উল্টে দেবে যেনোবেহারা হাসছে- তোমাকে যেতেই হবে মেয়ে নতুন নিবাসে মাটির গন্তব্যঘর সময়কে…


  • আজ / মুসা আল হাফিজ

    ডানদিকে সূর্যোদয় আর বামদিকে সূর্যাস্থ নিয়েপাখিটি চঞ্চু ঘষে মেঘের মিনারে বর্ণিল ডানার ঢেউ প্রসন্ন নীলাকাশ থেকেছায়া ফেলে অমলিন বনে-উপবনে ডানার বিক্ষেপে তার দিন-রাত্রির সীমাকান্না-হাসি জন্ম-মৃত্যুর বৃষ্টির পানিতে ভিজেহয়ে যায় হিরন্ময় সাধক আয়াজ চিরন্তন আত্মার পাখিঅবিরাম তোলপাড় করে শূন্যের বিস্তারেঅতলান্ত সময়ের স্রোতে ঢেউ খেলে ছুটে তার মধুময় গান তৃষ্ণার্ত হরিণীর মতো কিছু গান হৃদয়ে তুলেউত্তপ্ত মর্ত্যকে…


  • মা / মুসা আল হাফিজ

    গভীর গভীর মনোহরগভীর গভীর ঐন্দ্রজালিকআমার মামহামানবের শান্তির পতাকার মতো শ্বাশ্বত মৃত্যুহীন, প্রশান্তআলোসমুদ্রে মায়ের চোখঈভের ঐশ্বর্যের প্রতিবিম্ব মা- সনাতন সত্যের দুধে আল্লার মমতামা- পৃথিবীর ভয়ার্ত কোকিলের নিকুঞ্জনিরাপদ মা!মা!মা!ফেরেশতাদের এই আর্তনাদের অহংকার নেইআছে আমারআমারই তলোয়ারযা দিয়ে লড়িসিজারের মতো ছিন্ন করি পরাজয়প্রস্তুতির বুকভ্রান্তির বাক কিংবা ছদ্মবেশী মৃত্যুর ছক মা।বস্তি-বধ্যভূমি উদয়াস্তে হৃদয়ের আওয়াজতারই রহস্য উচ্চারণ করছি, দোলছে আকাশ দেবতা…


  • উদ্ভাস / মুসা আল হাফিজ

    বৃক্ষেরা, তারার মহল্লায় দেখো সংঘর্ষ সুন্দরেরআগামী সুন্দরের সাথে লড়ছেনঅতীত সুন্দর ! মৃত্তিকা থেকে ঝরছে ঘামের শিশির ভূতল মৃত্তিকায়মাঠ হয়ে যাচ্ছে কারুকাজ-ফোটা ফোটা সুন্দরের রক্তে ! সময় ভিজিয়ে দিচ্ছে নীহারিকার কল্যাণাশ্রু সময়-লালশিখা অশ্ব ধুসর কিংবা স্নিগ্ধ দূর্দান্তঝাঁপিয়ে পড়ে চাঁদের মঙ্গলমনোবনে পাখির চঞ্চু বাতাস ভরে তুলছেসংঘর্ষের বৃত্তান্তে সতেজ উষ্ণতা এসে জড়িয়ে ধরছে নির্জন আররুদ্ধশ্বাস হরিণীর সামনে প্রাচীর;জ্যোৎস্নায়…


  • পৃথিবীর আদিঅন্তে / মুসা আল হাফিজ

    খনিশ্রমিকের দুঃখকষ্ট বাঘের শরীরে লিখে নিয়েমাংসাশী জঙ্গলের তুফানী রাতেএকপাল হরিণীকে কবিতার পঙক্তি দিয়েসারারাত পাহারা দিলাম জ্যোৎস্নার নিকুঞ্জে আমার পাঞ্জাবীটা নিস্পাপ শিশুর মতোবেহুলার শব্দে সচকিতসেই শব্দে জড়িয়ে আছে কতো পুষ্পের ভালোবাসাঅরণ্যে ছড়ালো তার হার্দিক ঢল সহসা একঝাঁক পাখি আমার আকাশ জুড়ে উড়াল দিয়ে উঠলোগানে গানে রাতভর তারা আনাল হকের আগুন ছড়ালো আমার ব্যাকুল প্রাণ দুমেরু মাতাল…


  • ক্ষুধার্ত পৃথিবীর / মুসা আল হাফিজ

    এখানে মৃতদের মুখের সারিএখানে তৃণাগ্নি, রুরোদ্যমেঘএখানে ফালাফালা উর্বরতামার্চপাস্ট করে ছুটছে উত্তরাধুনিক পল্টনে প্রাকৃতিক দোয়েলী পিঞ্জরভাঙছে উন্মত্ত ডানায়সিদ্ধরমনীরা উনুন থেকে লাফিয়ে পড়ছে শিল্পের সহবাসেকোথায় খা খা ক্রোধ, আণবিক পুরোহিত? দেখো দেখো সাগর পেরিয়ে আসছে অনাঘ্রাত সভ্যতাঢেউয়ের জৌলুসে প্লাবন ওঠে সবুজ পল্লবে তামাটে চরেরতারপর বিক্ষোভ হবে চন্দ্রপ্ল্যাকার্ড হাতে হাতে এখানে সুসজ্জিত বিক্ষোভ লাঙ্গলের ফালের মতো চকচকেএখানে উত্তাল…


  • শাশ্বতমুগ্ধ / মুসা আল হাফিজ

    মুসা আল হাফিজের কী হয়েছে, কেউই বলতে পারছে নাতসবিহদানা গোণেতার মাকামনা করছেন সুস্থতা! মধ্যবিত্তলাঙ্গল টেনে টেনেক্লান্ত পিতারদীর্ঘশ্বাসেউত্তপ্ত পুত্রস্নেহ! ডাক্তার দাওয়াই দিয়ে চলে গেছেন শহরেইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির মতো আরোগ্যকামনাবর্ষিত হচ্ছে তার নামেআহা! বেচারা নীলিমার ইশকুলেনৈসর্গিক পরীক্ষাটা এবার দিতে পারলো না! আগরপুরী কবিরাজ বলেছেন- তার সাথেএকদল বদজীন খেলা করেহায়রে বদজীন! যতোদোষ, নন্দঘোষ!প্রাগৌতিহাসিক কাল থেকেই তোমরাপ্রতিটি রোগের আড়ালে খেলা…


  • এখানে কালের পাখি / মুসা আল হাফিজ

    রাতের প্লাটফর্মে শোনো পৃথিবীর গোঙানীবুকে তার শতাব্দীর কুঠিল কুকুরহানে ক্রমাগত গোখরোছোবল চোখে মুখে দাউ দাউ শ্মশানরে যন্ত্রণা নিয়েশান্তির বলয় থেকে নির্বাসিত পৃথিবীটিঅসুরীয় তমসার তলে তড়পায় কোথায় স্টেশন তার মানবিক রোদে?কোথায় প্রশান্তি তার সূর্যসুদ্ধিস্নানে?কোথায় মুক্তি তার আলোকিত ভোরে? প্রশ্নগুলো বেজে ওঠে গানের পাখির কণ্ঠেযে পাখি রাতভর জনপদে করে হাহাকার! প্রমত্ব কুকুরগুলো হত্যা আর ধ্বংস নিয়ে ছুটে…


  • প্রিয় মুখ! / মুসা আল হাফিজ

    টাইমলাইন থেকেঘুঁষি এসেপাঁজরে লাগছে! হাড়ের গুহা থেকে বেরিয়েরাতের দিকে হেঁটে চলাএকপরিবার দুঃখ আমি! আমার বিধ্বস্ত মুখকে যখন দেখছি,দেখাকে উড়িয়ে নিয়েদমকা হাওয়াসাদাপোশাকমৃত্যুর ভারেবুড়িয়ে যাওয়া স্ট্যাটাসের মতোধুকতে লাগলো! একপরিবার দুঃখ আমিমাথার ভেতর ভিজিয়ে রাখিবাবার শুকনো মুখ! যা ছিলো শোবার ঘর,এখন সে বিরানভূমির ছায়া! সেখানে একটিনিদ্রাহরণকারী ছবি ছিলো প্রিয়মুখের,যার ডাকনাম সম্ভাবনা। তার হাসির উপর চাপিয়েদেয়া হয়েছে বিশেষ নেমপ্লেট!…


  • অন্ধগলির কবিতা / মুসা আল হাফিজ

    মার্কেটের লাগোয়া গলিপ্রতিবার দোকানে যেতেগলিটায় মাতাল স্বার্থের ডানা ঝাড়াকাকের ধূর্ত অন্ধকার চোখে পড়ে অভিজাত অশ্বেরা, বাঘিনী সুন্দরীরাতাদের কি প্রেম দরকার?প্যান্ট-ব্লাউজের মতোপ্রণয় বদল তাদের লোভের আধুনিক জঙ্গমতাতারা পরকীয়ায় জমেছে গলির অন্ধকারে এই ভ্রষ্ট রাত, এই মত্ত মজমাবেশ্যা টিটকারীতে কাঁপায় প্লাটফর্ম তবু এই লাস্যময়ীচেহারায় পাঁচ জনের লালার দাগ নিয়েওলাবণ্যের কসম খেয়ে কী শুধাতে চায়? দাঁড়ালাম বিবর্ণ ইতস্ততায়-…


  • রাত্রের কবিতা / মুসা আল হাফিজ

    নির্জন রাতগুলো অপার্থিব আলোর উৎসবে কাটিয়ে দিতামআমার ভিতরের আমিকে নিয়ে একদিন সে হারিয়ে গেলো তাকে খুঁজতে নেমে গেলামআত্মার বীভিষিকাময় অন্ধকার গহবরেতৎক্ষণাৎ চারটি সাপ ফুসফুস করে ফণা তুললো একটি সাপ লাল, আগুনের জিহবার মতোএকটি সাপ কালো, দাজ্জালের চোখের মতোআরেকটি সাপ ইবলিসের রোমশ হাতের মতো সটান হয়েবিষাক্ত নিঃশ্বাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে দুজখের যন্ত্রণা দেখলাম নদী ভাঙনের ফাটলের মতো…