খুকুমণি জানো / সাইফ আলি

খুকুমণি জানো
চাঁদ কতো দূরে
কতো দূরে তারা
কতদূর থেকে তারা করছে ইশারা?

কতদূরে আসমান
কতদূর গেলে
এই মহাবিশ্বের সীমারেখা মেলে?

খুকুমণি চিন্তার সীমানা কি জানো?
ভাবো দেখি পাখিদের ডানা ঝাপটানো
কিংবা ফুলের ঘ্রাণ, মাছের সাঁতার!
কতোটুকু পরিচয় দিলো স্রষ্টার?

খুকু সেই স্রষ্টার প্রিয় হতে চাও?
তবে তাঁর আলো দিয়ে নিজেকে সাজাও।

30.06.19

নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নও / সাইফ আলি

নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নও
তোমার শরীর বেঁচে রাতের শরাব কেনে পুজিপতি শেয়ালের দল
শিল্পীরা চড়া দামে তোমাকে বেঁচেই খায়
কবি হয় নন্দিত তোমার শরীর এঁকে নানা উপমায়।
নারী তুমি জরায়ুর মালিকানা নিয়ে
শামুকের মতো কেনো নিজেকে গুটাও?
কখনো প্রেমিকা তুমি কখনো বা মা!
চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় তুমি বোঝো না?

০৩.১০.১৯

কবি ও কবিতা / সাইফ আলি

আমার সঙ্গে কিছু শব্দের মেলামেশা ছিলো
যখন তখন তারা ঢুকে যেতো মনের গভীরে
এ বিষয়ে অভিযোগ সবথেকে বেশি ছিলো যার
সে আমার প্রিয়তমা চেয়েছিলো পুরো অধিকার।

অথচ কবির মন ফেড়ে কবে কোন ডাক্তার
পেয়েছে কেবল নারী, গাড়ি, বাড়ি আর সংসার?
শব্দের আনাগোনা কবির শ্বাসের মতো,
প্রিয়তমা সেও এক রূপ কবিতার।

০৪.১০.১৯

দিলখোলা বাঙালি / সাইফ আলি

গ্যাস দিছি পানি দিছি,
খালি হাতে আইছি?
পাই বা না পাই কিছু
পদক তো পাইছি।

এতো রাগ করিস ক্যা
দাদা কিছু দিলো না!
বাঙালিরা কোনোদিন
এরকম ছিলো না।

বাঙালিরা দিলখোলা
ঘর বেঁচে বর চায়,
ঠাকুরের চেহারাটা
দ্যাখ বিনা খরচায়।

06.10.19

যে কথা বলতে / সাইফ আলি

যে কথা বলতে প্রাণ দিলো আবরার
সে কথা ফুটুক জনতার মুখে মুখে
খুণিরা জানুক মৃত্যু আনে না ভয়
শহীদের খুণ ঠেলে দেয় সম্মুখে।।

07.10.19

মেধাবী ছেলেটা / সাইফ আলি

শোনো বাবা তুমি চাও যদি ছেলে টাকার কুমির হোক
গিলে তো খাবেই সবকিছু তার খাওয়ার দিকেই ঝোক,
‘অমকের ছেলে সোনার হরিণ দু’দিনেই কোটিপতি!’
তুমি বুঝলেনা কি পথ দেখালে, কতটুকু লাভ-ক্ষতি।

বিরাট মেধাবী ছেলেটা তোমার বন্ধু চেনেনা কোনো
সাতে পাঁচে নেই তোমার ছেলেই সন্ত্রাসী হবে শোনো,
সন্ত্রাসী মানে কুপাকুপি নয় টাকার পিছনে ছুটে
যারা খায় আজ দেশ ও জাতির সম্পদ লুটেপুটে।

লেখাপড়া জানা ছেলেটা তোমার ধর্ম মানেনা মোটে
বিরাট জ্ঞানী সে মুখে তার শুধু স্বার্থের খই ফোটে,
দেশটা ভালো না মানুুষ ভালো না ভালো বিদেশের মাটি
ছেলেটা তোমার সোনার হরিণ মেধাবী ভিষণ খাঁটি।

তোমার ছেলেটা দল করতো না কিন্তু এখন করে
নিজের স্বার্থে একরোখা বড়, রামদা চাপাতি ধরে;
মনে পড়ে তাকে তুমিই বলেছো প্রতিযোগী চারপাশে
কলমের জোরে দাঁড়াতে পারেনি, পেরেছে তো সন্ত্রাসে।

মানুষ হওয়া ছবক দিলেনা দিয়েছো এমন চোখ
যা দেখছে সব ‘আমার কেনো না?’ আমার বানাতে ঝোক।

08.10.19

বললো রাজা হেসে / সাইফ আলি

বললো রাজা হেসে-
‘ভিন্নমতের চিহ্ন যেনো না থাকে এই দেশে-’
ঝাপিয়ে পড়ে রাজসেনারা ভিন্নমতের খোঁজে
তাই দেখে কেউ ঠোস পরে কেউ সাবধানে ঘাড় গোঁজে,
কিন্তু কিছু আগ্নেগীরির বেরিয়ে আসা লাভায়
ভয় ঢুকে যায় রাজার বুকে, ভীষণ করম ভাবায়।
ভাবনা শেষে চেঁচিয়ে বলে- ‘বন্ধ করো মুখ-’
বন্ধ হলেই শান্তি রাজার, বন্ধ হলেই সুখ।

08.10.19