-
বা’ পুরুষ / সাইফ আলি
বা’ পুরুষ বা’ পুরুষ বা’ পুরুষমোটাদাগে তুমি এক কাপুরুষ।হাত পেতে টাকা চাওপাও না কি মাইনে?স্বরটাকে তুলে বলোকালোটা কামাইনে!!ভালোবেসে দিয়ে যায়যদিও তা চাইনে!?জানো না কি কষ্টআমগো এ লাইনে!?পুষবো কেমন করেবউ পোলাপাইনে?কোনোমতে সংসার চলে বায়ে ডাইনে!?বা’ পুরুষ বা’ পুরুষ বা’ পুরুষমোটাদাগে তুমি এক কাপুরুষ। বউরে চালাও তুমিশশুর তোমারে দেয়চাওনা তো একবারোতবু বারে বারে দেয়!?এতো কিছু দেয় তবুদড়ি…
-
বিপত্তি / সাইফ আলি
বিপত্তি ঘটে যায় ঘাড়টাকে বাঁকালেইচোখ তুলে তাকালেইতর্জনি ঝাকালেইতাইসোজাপথে হেঁটে যানকাদাকুদো ঘেটে যানচেটে যানআর কোনো প্রবলেম নাই। বিপত্তি ঘটে যায়বাজে কথা রটে যায়লোকে শুধু চটে যায়জোটে ঘাঁই চান্দির উপরেসূর্যের পানে যেনো সুজাসুজি তাকিয়েছিকাঠফাঁটা রৌদ্রের দুপরে।তাইসোজাপথে হেঁটে যানকাদাকুদো ঘেটে যানচেটে যানতাহলেই প্রবলেম নাই। ১৩.০৯.১৯
-
যাক কুমিরের পেটে / সাইফ আলি
এই ছবিটা কেমন যেনো নড়েনিজের কথা পড়ায় এবং পড়েএই ছবিটা উল্টিয়ে হও বোবা। এই মাথাটা কেমন যেনো ভাবেহয়তো এবার পদক-টদক পাবেএই মাথাটা সাজিয়ে রাখো কেটে। এই যে দু’হাত ভীষণ রকম জেদিএবং দু’চোখ নিখুঁত পাঁজরভেদীসরিয়ে রাখো, যাক কুমিরের পেটে। ১২.০৯.১৯ডাকটিকিট, অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২১
-
ফিরে যায় পাখি একা / সাইফ আলি
ফিরে যায় পাখি একাপর্দা বাতাসে দোলেমিশে যায় তার ডানার শব্দ দূরে;হৃদয়ের কল্লোলেতবু তার গান সে কি এক মিহি সুরেবেজে বেজে ওঠে, বার বার বেজে ওঠে;দেখেছিলে সেকি গভীর নীলের ফোয়ারা ছিলো সে ঠোঁটে! ০৫.০৯.১৯
-
তোমার কিসে বাঁধা / সাইফ আলি
একটা ভীষণ সম্ভাবনার হাওয়ামেঘ উড়িয়ে নিচ্ছে ডানে বামে,তবুও তুমি একলা কাটাও বেলাঘুমিয়ে পড়ো স্বপ্ন দেখার নামে। হলুদ পাতার নৌকা সারি সারিযাচ্ছে ভেসে সাগর অভিমুখেবলতে পারো তোমার কিসে বাঁধাকোন সে মরণ তোমায় দিলো রুখে? ২০.০৮.১৯
-
অনুকবিতা ২৪ / সাইফ আলি
ভুতুড়ে গলির মুখে বোধের শরীরনিজেকে মুড়িয়ে রাখে শামুকের পেটেকথা হয় সাত পাঁচ আবোল তাবোলচতুর বাতাস থাকে লুকোনো পকেটে। ১৭.০৮.১৯
-
কিভাবে কোথায় আমি দাঁড়াবো তখন / সাইফ আলি
এইসব ভাঙাচুরো চেয়ার-টেবিল, বই-খাতা, আলনা কিংবা ড্রেসিং-টেবিল যা আমরা ঘর থেকে বের করে দিলাম-একদিন সেগুলোও সযত্নে গোছাতেন কেউ।আমিও এমন এক ভাঙাচুরো জড় হয়ে থাকবো না তোমাদের ঘরেআমাকেও ঘুনে খাবে, উইপোকা পাঁজরের হাড়েবসাবে কামড়। গিবতের দায় নিয়ে, বেড়ে যাওয়া নাক নিয়েকিভাবে কোথায় আমি দাঁড়াবো তখন? ০২.০৮.১৯
-
মুঠ খোলো / সাইফ আলি
একটা অন্ধকার তোমাকে গিলে ফেলবেএকটা অজগরের মতো অন্ধকার তোমাকে তাড়া করছেতোমার ডান হাতের তালুতে একটা আলোর উৎস আছেমুঠ খোলো, আমার দিকে তাকাও; ভয় নেইতোমার হাতের মুঠোয় একটা আলোর উৎস আছে। তুমি যদি ভয়ে চোখ বন্ধ করে কাঁপতে থাকোতবে তোমার চারপাশে শত সহস্র প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলেও দেখতে পাবে নাঅথচ তোমার মুঠোভরা সূর্যমুঠ খুললেই আলো আর আলো!তুমি…
-
নাহয় তুমিই একটু শান্ত হয়ে দাঁড়াও / সাইফ আলি
হে বৃক্ষ, নাহয় তুমিই একটু শান্ত হয়ে দাঁড়াওএকটু কথা শোনো, মাথা নাড়াওনাহয় তুমিই একটু শান্ত হয়ে দাঁড়াও। এইযে যারা ভাবছে বসে একশ বছর পরেতাদের ঘরে জন্মাবে এক মাছিদেখতে হবে উটের কাছাকাছি!কিংবা যারা কাগজ কেটেকুটেভাবছে এ ডিম ফুটেবের হবে এক মস্ত বড় জ্ঞানীজ্ঞানের ভারে পড়বে মাথা নুয়েঠিক যেভাবে কুমড়ো থাকে মাচার উপর শুয়েভাববে তারা, এই যে…
-
কর্পোরেটের এই জামানায় / সাইফ আলি
সেই তো ভালো হাতের উপর হাত না রেখেকেবল শুধু পায়ের তালে পা মেলানোহৃদয় দিয়ে পুজিবাদের হিসেব মেলে?কোথায় পেলে?নষ্ট কি সব কাব্য করে সময় কাটাওজীবনটাকে ফেলনা ভাবার এ দুঃসাহস কোথায় পেলে?মোটেও তোমরা আগাচ্ছো না চিন্তাধারায়হৃদয় নিয়ে কাব্য প্রথা খুব সেকেলে। কর্পোরেটের এই জামানায় প্রেমের থালাপয়শা পেলে ঝনঝনিয়ে বাজতে থাকে,পৃথিবীটা এগিয়ে গেছে হাজার বছরতোমরা আছো সেই পুরাতন…
-
ভয় / সাইফ আলি
তারপর একদিন জানালার পর্দা দুলে উঠতেই চমকে উঠলে-কে ওখানে?কোনো উত্তর নেই।ওখানে কে?উহু, কোনো উত্তর নেই।একটা অবান্তর ভয় তোমাকে পেয়ে বসলো; অথচ, তুমি ওসব ভুতপ্রেতে মোটেই বিশ্বাস রাখো না!আচ্ছা, মানুষ এমন কেনো বলতে পারো?কই কখনো তো শুনিনি একটা ছাগল যার কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই সেও কারো ছায়া দেখে আৎকে উঠেছে; আথচ মানুষ?কি? একজন মানুষ হিসেবে নিজেরে…
-
অনুকবিতা ২৩ / সাইফ আলি
এমন করে পার হওয়া যায় নদীএমন করে লাশের পিঠে চড়ে;সাবধানে খুব নাড়ীর খবর রাখিসমাঝ নদীতে উঠলে হঠাৎ নড়ে? 08.07.19
-
কঠিন দাবাড়ু আমি / সাইফ আলি
সিধেল চোরের মতো গায়ে মেখে সরিষার তেলদিনে কিবা রাতঘুমে অচেতন নগরির পথচুপিসারে পার হয়ে যাবো। আমাকে প্রশ্ন করে বিব্রত হতে চাও যদিচলে এসো পাশাপাশি হাটিখুব পরিপাটি আর গোছানো কথার জালেতুমি হবে অসহায় মাছের মতোই। কঠিন দাবাড়ু আমি যেনোতেনো চালেআটকে ফেলতে পারো আছো কেউ?যদি থাকো তার হাতে খুশি মনে ধরা দেবো এসোতবু তুমি একবার আদর্শ হয়ে…
-
ভণ্ড রাজার সেপাই / সাইফ আলি
ভয় দেখাবে? দেখাওতোমার নাকি ভয় দেখানোর সখ,কিন্তু তোমার কোমরটা খুব সরুঅনেকটা ঠিক বানর বানর ঢক। দাঁত কেলিয়ে ভেঙচি কেটে ভয়?তা কি আবার হয় 🙂তার চেয়ে ঐ পান খাওয়া দাঁত কামারশালায় বসেগরম করে ঘষেএকটু যদি ধার করাতে পারোভয় পাবো ঠিক, তা না হলে ছাড়ো। আচ্ছা, এসব বুলেট-গুলির ভয়েগা ঢাকা দেয় কারা?আজরাঈলের সঙ্গে বুঝি সওদা করে তারাদু’দিন হায়াৎ…
-
তবুও ভীষণ পাচ্ছে আমার ঘুম / সাইফ আলি
হেমন্তের ঐ শিশিরভেজা ঘাসের উপর কালফোটায় ফোটায় রক্ত অমন লালকার ছিলো গো বলতে পারো কার ছিলো ঐ চোখ?চোখের উপড় উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে ছিলো শোক!! আসন্ন এই শীতের হাওয়া লাগছে যখন গায়ঠিক তখনই চায়ের কাপে উঠলো এ কোন ঝড়!ঝড়ের চোটে যায় না কিছু দেখাকার কপালে কয়টা বুলেট লেখা। তবুও ভীষণ পাচ্ছে আমার ঘুমলেপের নিচেয় কাটুক এ…
-
বললো রাজা হেসে / সাইফ আলি
বললো রাজা হেসে-‘ভিন্নমতের চিহ্ন যেনো না থাকে এই দেশে-’ঝাপিয়ে পড়ে রাজসেনারা ভিন্নমতের খোঁজেতাই দেখে কেউ ঠোস পরে কেউ সাবধানে ঘাড় গোঁজে,কিন্তু কিছু আগ্নেগীরির বেরিয়ে আসা লাভায়ভয় ঢুকে যায় রাজার বুকে, ভীষণ করম ভাবায়।ভাবনা শেষে চেঁচিয়ে বলে- ‘বন্ধ করো মুখ-’বন্ধ হলেই শান্তি রাজার, বন্ধ হলেই সুখ। 08.10.19
-
খাওয়ার দিকেই ঝোঁক / সাইফ আলি
শোনো বাবা তুমি চাও যদি ছেলে টাকার কুমির হোকগিলে তো খাবেই সবকিছু তার খাওয়ার দিকেই ঝোঁক,‘অমকের ছেলে সোনার হরিণ দু’দিনেই কোটিপতি!’তুমি বুঝলেনা কি পথ দেখালে, কতটুকু লাভ-ক্ষতি। বিরাট মেধাবী ছেলেটা তোমার বন্ধু চেনেনা কোনোসাতে পাঁচে নেই তোমার ছেলেই সন্ত্রাসী হবে শোনো,সন্ত্রাসী মানে কুপাকুপি নয় টাকার পিছনে ছুটেযারা খায় আজ দেশ ও জাতির সম্পদ লুটেপুটে। লেখাপড়া…
-
শহীদের খুণ ঠেলে দেয় সম্মুখে / সাইফ আলি
যে কথা বলতে প্রাণ দিলো আবরারসে কথা ফুটুক জনতার মুখে মুখেখুণিরা জানুক মৃত্যু আনে না ভয়শহীদের খুণ ঠেলে দেয় সম্মুখে।। 07.10.19
-
কবি ও কবিতা / সাইফ আলি
আমার সঙ্গে কিছু শব্দের মেলামেশা ছিলোযখন তখন তারা ঢুকে যেতো মনের গভীরেএ বিষয়ে অভিযোগ সবথেকে বেশি ছিলো যারসে আমার প্রিয়তমা চেয়েছিলো পুরো অধিকার। অথচ কবির মন ফেড়ে কবে কোন ডাক্তারপেয়েছে কেবল নারী, গাড়ি, বাড়ি আর সংসার?শব্দের আনাগোনা কবির শ্বাসের মতো,প্রিয়তমা সেও এক রূপ কবিতার। 04.10.19
-
চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় / সাইফ আলি
নারী তুমি কোনোখানে নিরাপদ নওতোমার শরীর বেঁচে রাতের শরাব কেনে পুজিপতি শেয়ালের দলশিল্পীরা চড়া দামে তোমাকে বেঁচেই খায়কবি হয় নন্দিত তোমার শরীর এঁকে নানা উপমায়।নারী তুমি জরায়ুর মালিকানা নিয়েশামুকের মতো কেনো নিজেকে গুটাও?কখনো প্রেমিকা তুমি কখনো বা মা!চতুর বেনের দল তোমাকে বেঁচতে চায় তুমি বোঝো না? 03.10.19