-
অল্প / সাইফ আলি
অল্প আমার অল্প হয়েই থেকো অল্পটা খুব টেস্টি হয়, ভরি ভরির চাইতে সে ঠিক বেস্টই হয়। সাত বেলা যার কোরমা পোলাও চলে তার কাছে ঝল-পান্তাটা টলটলে সাত তলাতে বাস করে যেই লোকে মাঝ রাতে ঘুম যায় ছুটে তার কুড়ে ঘরের শোকে। অল্প তুমি বেশির খাতায়? না না… পা রেখো না; মানা।
-
গল্পটা / সাইফ আলি
গল্পটাতে হঠাৎ হঠাৎ মোড় ছিলো একটু বাদেই রাস্তা বাঁকা পূর্ণ এবং হঠাৎ ফাঁকা গল্পে গরু মেঘের উপর চড়ছিলো। গল্পটাতে রস ছিলো না তেতো তবুও শ্রোতা আরাম করেই খেতো, কিন্তু কড়া ঝাল ছিলো সেই কারণেই কানদুটো খুব লাল ছিলো। গল্পটাতে প্রেম ছিলো না তাই বলে খুব লেম ছিলো না প্রেম ছাড়াকি গল্প থাকার জো নেই গল্পটা…
-
যা দেখাও তাই দেখি / সাইফ আলি
যা দেখাও তাই দেখি চোখ আছে তাই যা শোনাও তাই শুনি কানের বালাই নিজ থেকে বিচারিবো এতো জোর কই? মগজ ঘাড়েতে ছিলো! মাথা ভরা (মিডিয়ার) খই। নিজেরে চিনিনে শুধু ছোট ছোট লাগে, মিলেও মেলেনা তাই অভাগার ভাগে। আমরা করেছি ছোট নিজ সন্তান, ভেবে- ‘লাটের ব্যাটার ধড়ে দু’টো কোরে জান!’
-
তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন / সাইফ আলি
তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন শুধু কথা মতো নাচবে তা ধিন, তুমি বলো তার মুক্ত ডানায় সোনার শিকল আহা চরম মানায়। তুমি বলো তার কণ্ঠ মধুর তবে তাল লয় ভুল ভুল ভুল, এই মাপকাঠি মানলে তবেই সব ঠিক আছে সব নির্ভুল। তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন শুধু এই দাগ পেরোতে মানা, সোনার খাঁচাটা ভেঙে বেরোতে…
-
নসিহত / সাইফ আলি
কিছুদূর যেয়ে সোজা তারপর বাক নিও আলগা পিরিত ছেড়ে কিছু রাখঢাক নিও বেপোরোয়া চলনের অভ্যাস বদলিও প্রয়োজনে মাঝে মাঝে নাম ‘নির্বোধ’ নিও অকারণে দু’চারটা থাপ্পর খেলে খাবে তাতে যদি প্রেস্টিজ যায় কিছু যাক যাবে তবু তুমি প্রতিবাদ না না সেটা করবে না মুঠো কোরে কলারটা না না তুমি ধরবে না একটাই জীবনের মূল্য কি বুঝবে…
-
কবিতার ফিটনেস / সাইফ আলি
ফিটনেস দেখে নিস কবিতার কলকাঠি জাগামতো আছে কিনা দুটো চড় ঘুষি খেলে বাঁচে কিনা ঠিকমতো খোঁজ নিস কবি তার কে বা করতে পারবে কিনা জনতার সেবা। হাত-পাও নাড়ে কিনা মাথা আছে ঘাড়ে কিনা টনটনে বুকে পিঠে চর্বি জমেছে কিনা, কোনোদিন কোনোখানে পিরিতে মজেছে কিনা দেখেশুনে নিস! তার আগে বল বেটা, কবিতা চিনিস?
-
মা / সাইফ আলি
চোখের কারিসমা তোমার অল্পেই বুঝে ফেলো সব অনুভুতি প্রখর তোমার সহজেই করো অনুভব! যাকিছু মলিন ছিলো তোমার ছোঁয়ায় ওঠে হেসে তবু তুমি এভাবে আচলে কেনো ঢাকো মুখ? অবশেষে তোমাতেই তৃষ্ণা মিটাই; তুমিই জলধি মাগো তোমাতেই প্রান ফিরে পাই।
-
কৃষক / সাইফ আলি
মন্ত্রমুগ্ধ আমি পাঠ করি তোমার কবিতা ওগো কবি, তোমার কপাল চুয়ে নেমে আসে কবিতার ঘাম তোমার পেশিতে খেলে যাদু মাঠে মাঠে কবিতার বীজ দাও বুনে সবুজের অঙ্কুরে আগামীর স্বপ্ন দেখাও তোমার দু’হাত ভরে সোনার কবিতা হাসে তুমি তাতে গোলা ভরো; আহা! আমরা কবিতা পড়ি, মুখে মুখে আওড়াই তুমি করো চাষ! তোমার কবিতা শুনে, দেখে, খেয়ে,…
-
এই কবিতা / সাইফ আলি
এই কবিতার কণ্ঠ চাপুন কঠোর হাতে এই কবিতার কারখানাতে আগুন জ্বালান এই কবিতা বিষ্ফোরণে আগুন জ্বলে এই কবিতা বসত বাধে বুকের ভীতর অতল তলে। এই কবিতা বক্তৃতা দেয় মঞ্চে উঠে বেফাঁস কথা ফাঁস কোরে দেয় যখন তখন এই কবিতা মন বোঝে না এ সরকারের হর-হামেশা নানান ছুতোয় মগজ কলে আগুন লাগায়! এই কবিতা ঘুমিয়ে থাকা…
-
মৃত্যু / সাইফ আলি
মৃত্যু ঘনিয়ে আসে সন্ধ্যার পাড়াগাঁর মতো ছোট পরিসরে, মৃত্যু ঘনিয়ে আসে চোখের নিমেষে। এমন অনেক নীড় থাকে কোনোদিন ফেরেনা পাখিরা এলোমেলো বাতাসের মোহে খুলে পড়ে কুটোর সেলাই মৃত্যু এমন এক বাতাসের ঢেউ হৃদয় আলগা কোরে খুলে ফেলে সমস্ত ফোঁড় পরিত্যক্ত হয় সখের কাঁথারা…।
-
তুমি ঘন হও / সাইফ আলি
আহা মেঘ! কতোদিন পর তুমি এলে আমাদের বিস্তৃত তৃষ্ণার ভুঁই চৌচির ফেটে নদীর পকেটে নেই মাছের বিস্তার পদ্মার তিস্তার পেটে বালির সংসার; চলছে ড্রেজিং… তুমি ঘন হও, গাঢ় হও কালো হও তবু নামুক বৃষ্টির ফোটা গোটা গোটা যৌবন সুধায় ভিজুক এ চোখ।
-
কলমের ঘোরাফেরা / সাইফ আলি
কলমের ঘোরাফেরা বাড়াচ্ছে পরিসর উত্তর দক্ষিণ পূর্ব বা পশ্চিম ভুলে উপর নিচের যত খবরাখবর টেনে তুলে রাখছে সে এমন খাতায় পাতায় পাতায় যার জীবন মৃত্যু আঁকে ছবি শোনো কবি, কলমের ঘোরাফেরা থামিওনা বুদ্ধির প্যাচে যখন হৃদয় তার গন্ডির অনুভুতি স্যাচে।
-
ডানে সমুদ্র বায়ে বৃষ্টি / সাইফ আলি
বাপাশে একটা ঘন মেরুন দুঃখ জমলে ডানপাশে নীল সমুদ্র বিছাবো মাথার ভীতরে চক্কর কাটা চিলটাকে একবার শান্ত হয়ে বসতে বললাম। বললাম- ভাবিসনে, এই নীল সমুদ্র যেই আকাশের প্রতিবিম্ব সেই আকাশ পুরোটাই তোর। রাডার ফাঁকি দিয়ে চিল তবু সেই নীল জলে আছড়ে পড়ে; মেরুন দুঃখগুলো মেঘ হয়, বৃষ্টি আনে; ডানে সমুদ্র বায়ে বৃষ্টি!!
-
অনুকবিতা ০৩ / সাইফ আলি
হাওয়ায় দুলে দুলে প্রথম পালোকের পতনের পর একে একে সবকটি পালকের শৈল্পীক পতন দৃশ্য এতটাই মজালো তোমাকে!! হে পাখি… পালোকবিহীন তুমি উড়বে কিভাবে!? তোমার পতন তুমি ঠেকাবে কিভাবে??
-
অনুকবিতা ০২ / সাইফ আলি
চেতনার ফেরীওয়ালা চেতনার বীজ করো ফেরী আমি সেই বীজ এনে ভেজে ভেজে খাই ভুলে যাই বপনের কথা…
-
সিরিয়ার শিশুটা / সাইফ আলি
সিরিয়ার শিশুটার চোখ নেই, কাঁদে না মুখ নেই, হাসে না বোধ নেই, নির্বোধ! বোঝেনা এ যুদ্ধের সার কি মরছে মানুষ তাতে কার কি!? সিরিয়ার শিশুরা কি নিষ্পাপ!? সভ্যরা কথা বল, মুখ খোল; মুখ পোড়া জানোয়ার মুখ খোল। যুদ্ধের মাঠ কেনো শিশুদের দোলনা পুড়ছে কি? সিরিয়ার মায়েদের কোল না?? সিরিয়ার শিশুটার ভাষা নেই, চোখে চোখ রাখ,…
-
একান্ত বাক্যেরা-২৪ / সাইফ আলি
ভাবছো তুমি ভাবছে না মন তোমার কথা কেনো এমন ভাবনা তোমার আমার নিয়ে আমার যে আর অন্য কাজে বসছেনা মন তোমার নিয়ে হর-হামেশা ভাবতে গিয়ে।
-
যদি উড়াতেই চাও / সাইফ আলি
তুমি ফিরে যাও শোনো হাওয়া আমার সরল অংকে পাওয়া এই পাতাদের সংসারে আর করোনাকো গরমিল। তুমি ফিরে যাও খুব ধীরে আমার জমে ওঠা স্মৃতিধুলো আর উড়ায়োনা তুমি শোনো যাও, এসোনা এখানে ফিরে। আর যদি উড়াতেই চাও আমার ধুলোবালি পাতা সব আমি কান পেতে যেনো শুনি ফের নতুনের কলরব আমি শুন্যতা মানবো না কোনো মৌনতা মানবো…
-
একান্ত বাক্যেরা-২৩ / সাইফ আলি
হাজার গল্প এক কবিতার উপমায় মেলে যেখানে সেখানে তোমার চোখ আমি উপন্যাসের ডায়রিতে লেখি ছড়া তুমি পড়ো, তুমি কি পড়ো?
-
কি নাম যে তার / সাইফ আলি
কে ছিলো হাতের মুঠোয় অন্য হাতে জাদুর কাঠি চোখে কে কাব্য ছিলো ঠোঁটের আফিম কার ছিলো তা কে ছিলো সরল সুখে এবং সরল বিষণ্নতায়। কে ছিলো হৃদয় গলে হুড়মুড়িয়ে ক্লান্ত সময় পায়রার ঢং নিয়ে কে ঘাঁড় বাঁকিয়ে, কি নাম যে তার!!?