-
গোলামীর চোখে ০১ / সাইফ
গোলামীর জিঞ্জিরে বাঁধা আছে পাতাই আমি কিছুতেই কথা কবো না;ঝড় বয়ে যাক মাথা নিচু করে আছি,দীর্ঘ জীবন আমি এভাবেই বাঁচি। ০৮.০৪.২২
-
আমরা এবং তোমরা / সাইফ আলি
আমরা যারা জন্মছিলাম ঘাসের উপরতাদের দেখে বলতো হীরা লোকেতোমরা যারা জন্ম নিলে তাশের উপরতাদের দিকে সব জুয়াড়ি ঝোকে। আমরা ছিলাম অল্প সময়, একটু পরেই হাওয়া;‘এই পৃথিবী হাতের মুঠোয় থাক’ তোমাদের চাওয়া। ০৪.০৪.২২
-
নিশানাবাজ / সাইফ আলি
তুমিই কি সেই কালের ঘোড়া দাবড়ে ফেরা রাজকুমারীযার দুচোখের লবন জলে ডুবলো হাজার প্রেমের জাহাজ!তোমার হাসি লেপ্টে আছে জোছনা মাখা রাতের দেহেকবির কলম থমকে আছে ধরতে তোমার পায়ের আওয়াজ। হাসছো ক্যানো, ভাবছো আমি আবোল তাবোল কাব্য ঘেঁটেদু’চার লাইন চোরাই আবেগ লুকিয়ে রাখি বুক পকেটে?সত্যি না তা, বলছি যা তা হৃদয় দিয়ে শুনেই দেখোতোমার আমার ফুলগুলো…
-
অনুকবিতা ৩৯ / সাইফ আলি
এখানে এখন ঝড়ের বাতাস, ঝড়;উঁচু বৃক্ষের নোয়ানো মাথার তাজছুঁয়েছে জমিন। আমরা তবু অনড়,খুলে খুলে দেখি বাতাসের কারুকাজ। ২৬.০৩.২২
-
অনুকবিতা ৩৮ / সাইফ আলি
তবুও যখন তুমি আকাশের কাছে যেয়ে নীল হয়ে যাওরঙিন মেঘের তাপে একা একা সন্ধ্যায় নিজেকে পোড়াওআমি এক পথভোলা ছোট্ট রাখাল হয়ে তোমাতে হারাই,বলো তুমি জল হও, মেঘ হও, রোদ হও কার ইশারায়? ১৬.০৩.২২
-
জনপ্রিয় / সাইফ আলি
জনপ্রিয় রোগে যদি ধরে ভাইকেউ তারে আটকাতি পারে না,হিংসায় জ্বলে যায়, যা তা বলে যায়,অহমিকা পোকে খায়; ছাড়ে না। জনপ্রিয় বক্তার ভুলও জনপ্রিয়,দয়া করে সেদিকিউ নজরডা দিও;ভুল হয় মানুষিরই, ক্ষমা চায় বড়;তুমরা শিখায়ে ফের তুমরাই লড়ো!? ১২.০৩.২২
-
বুক খুলে দাও বাতাস লাগুক/ সাইফ আলি
একটা পাখি রোদ মাখে না গায়েঅবশ এবং পাথর ডানার দায়েকেউ বাসে না ভালো। রঙিন ডানায় চোখ জুড়ানো মায়াকিন্তু পাখির ছায়া,কেউ দেখেনি আজো! পাখির ঠোঁকে ঠুকরে খাওয়ার ভয়ধরতে কিছু নোখের পরাজয়! বুক খুলে দাও বাতাস লাগুকবাতাস লাগুক হুহু…৮ই ফাগুন হঠাৎ পাখিডাকলো কুহু কুহু! ০৬.০৩.২২
-
যন্ত্রমানব / সাইফ আলি
যন্ত্রমানব যন্ত্রদানব হৃদয় কি তা বোঝো?বুকের বামে হাত রাখোতো, একটুখানি খোঁজো।মিললে ভালো, না মিললেও চলে;এই শহরে এখন সবাই হৃদয়হীনের দলে। ০৪.০৩.২২
-
করিম চাচা / সাইফ আলি
এক হালি দাঁত চোয়ালেকরিম চাচার গোয়ালেদুইটা গাভী দুইটা বাছুরদুই কেজি দুধ দোয়ালেকিনবে সাধের তোয়ালে। একটা দাঁতে পোক লেগেছেদাঁতটা এবার খোয়ালে?ভাবতে গিয়ে দৃষ্টি কাড়েনদীর পাকা বোয়ালে;হাত উঠে যায় চোয়ালে। দুধের সাথে জল মিশিয়েবেচলে চাচার হিসাবেবোয়াল নাহোক খোলসে-পুটিজল কি তবে মিশাবে? করিম চাচা তওবা কাটেহারাম রুজি! মোটেও না।বছর ঘোরে করিম চাচারবোয়াল পাতে জোটেও না। এক হালি দাঁত…
-
বনের পাখি / সাইফ আলি
বনের পাখি বনেই থাকিচাইনে মনে ঠাঁই,শিকল দিয়ে রাখো তোমারমনের দরজায়। ঝড়-বাদলে ভিজি পুড়িভাঙে সাধের ঘর,তবু আমার আকাশ দুধেচাঁদ তারাদের সর। পরিপাটি দালান-বাটিনাই বা হোলো কিছু,মনের সুখে চলছি ছুটেমেঘের পিছু পিছু। ০১.০৩.২২
-
পাখি এবং খাঁচা / সাইফ আলি
এখান থেকে ছয়টা বাড়ি পরেএকটা শিশু পাথর জমা করে,পাথরগুলোর নাম দিয়েছে গুটিতার সাথে রোজ ইচ্ছে পাথর খুটি। তিন বাড়ি পর ছোটোন বলে কথাতার সে ভাষা সর্বজনীন বটে!কেউ বোঝেনা, না বুঝলে তাও শোনেতার কবিতা সারা পাড়ায় রটে। আর যে খোকা বাদাম বেচে মোড়েবাদাম বেচে, পাথর খোটে, জমায়;তার দু’চোখে পাখি এবং খাঁচাতার প্রতিদিন অন্যরকম বাঁচা। ০১.০৩.২২ নতুন…
-
-
অঝোর ধারায় বৃষ্টি এলো / সাইফ আলি
অঝোর ধারায় বৃষ্টি এলো, বৃষ্টি এলো ভোরেআমি তখন শিশির মাখা পাতাতোমার গালে আলতো আলো দেখছি ঘুমের ঘোরেতুমি তো নও, আমার খেরোখাতা! কচলে দু’চোখ আবার তাকাই, দেখিআমার যতো কাব্য লেখালেখিসব পুরোনো; নতুন কিছু এলো!শব্দগুলো তোমার চুলের মতোঅন্ধকারে ভীষণ এলোমেলোতবুও তার মিষ্টি মধুর ঘ্রাণেক্রমাগত টানতে থাকে, টানে। ২৮.০২.২২
-
আমরা আগুন হাতে এখানেই আছি / সাইফ আলি
সুতোহীন মাকড়ের পেটেমধু খোঁজো আহা প্রিয়তম;মৌচাকে ঢিল ছুড়ে একবার মরেছিলে তাই!আমরা আগুন হাতে এখানেই আছি,যদি চাও বান্ধব হবো। আমাদের সোজা পথ, সরল জীবনস্বার্থের বাড়াবাড়ি নেই;একটাই আকাশের নিচেসাদামাটা ঘর, বৃষ্টিতে ভিজি,জোছনায় পিপাসা মিটাই। হাতের মশাল আর মিছিলের ভয়েতুমি যদি আঁধারেই থাকো,জেনে রাখো মধু নয়, সুতোহীন মাকড়ের পেটেবিষ থাকে বিষ। ২৮.০২.২২
-
ফড়িঙ / সাইফ আলি
১খুলে খুলে পড়া রাতের কাব্য শোনো,চোখে চোখ রেখে চাঁদ উঠে এলে ছাদেপ্রিয়া তুমি বসে নরম সুতোয় বোনোতারা-ফুল যারা খসে পড়ে আহ্লাদে। ২তারা ডোবা ডোবা চোখের দৃষ্টি ছুঁয়েউড়ে গেলো পাখি! আঁধারে মেললো পাখা!!আজ ভেজা ঠোঁটে প্রেমের কাব্য রুয়েজোনাক জ্বললে মুশকিল ধরে রাখাএই ধরফড় ফড়িঙ বুকের বামে;যন্ত্রণা শুধু মিষ্টি সুখের নামে। ২৮.০২.২২
-
ফাগুন রাতের গল্প / সাইফ আলি
শোনো এক ঝলসে যাওয়া ফাগুন রাতের গল্প বলি-সে রাতের মুঠোয় ভরা জোনাক ছিলো, জোছনা ছিলোহঠাৎ এক শান্তিবাদী বিষ্ফোরণের সূত্র ধরেপ্রেমিকার ছিন্ন দেহের সাক্ষ্যি হলো প্রেমিক পুরুষ। ইতিহাস লেখলো যারা তাদের ঘরেও কণ্যা ছিলো,বোমারু বিমানগুলোর মডেল ছিলো শিশুর হাতে;ফাগুনের এ রূপ দেখে সাম্যবাদী কতক কবিকলমের বল ঘুরিয়ে, নাম কুড়ালো; জমলো আসর। লেখলো- প্রিয়ার চোখের কাজল ধোয়া…
-
কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি / সাইফ আলি
১.শুকনো ঠোঁটের চেয়ে দাহ্য কিছু নেই-প্রিয়তমা তুমি বুঝি বৃষ্টির সন্ধানে আছো?মেঘেরা আমার বুকে লুকিয়েছে বহুকাল আগেআকাশের মতো এক শূন্যতা করেছি আবাদসেখানেই মেঘগুলো থাকে। ২.সাগরের নীলছোঁয়া কি গভীর দৃষ্টি তোমার!প্রিয়তমা আমি এক ডুবে যাওয়া জাহাজের পেটেঝড়ের কবলে পড়া নাবিকের প্রার্থনা জানি;কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি। ২৬.০২.২২
-
শিশির / সাইফ আলি
কপালে ঘামের মতো জমে আছে রূপসী তোমারভোরের শিশির, তাতে রোদ হয়ে নেমে এলে প্রেমচোখ বুজে কিছুক্ষণ মেলে দিও গোলাপি উঠোন। দু’চোখে মেঘের যতো আনাগোনা তার চেয়ে ঢেররিমঝিম বুকে আর মুখে থাক জোছনার ছাপ,ঝিঁঝিঁদের মুখে মুখে তুমি আর তোমার আলাপ। রূপসী তোমার প্রেমে বুদ হয়ে জমে যেই সরসেটুকুই মুখে পুরে শান্তিতে বুজে আছি চোখ। ২৩.০২.২২
-
ঘুম / সাইফ আলি
১.ভোর হলো তবু ক্যানো ফুটলে না ফুলবলো বলো তুমি কার প্রেমে মশগুল?তুমি কি অন্ধকারে মেলবে দু’চোখরাত জাগা পাখিরা কি তোমাতে ব্যকুল? ২.কংক্রিটে গড়া এই শহরে আমারদারুণ অস্বস্তিতে ভেঙে যায় ঘুম,চাঁদের পিরিচে নামে তরল আঁধারসে আঁধার পান করে রাতের কুশুম। ২৪.০২.২২
-
উঠে আয় আঙুল ছুঁয়ে / সাইফ আলি
যদি তোর মাটির চোখে ব্যথার মতো বৃষ্টি ঝরেআর তুই কাঁপতে থাকিস একলা বসে তোর শহরেগুটিয়ে পালক-পাখা, স্বপ্ন আঁকা ইচ্ছাগুলো;ভেঙে ফেল জমাট ঘোলা অন্ধকারের কিচ্ছাগুলো। কেনো তুই প্রদীপ জ্বেলে একলা আঁধার বইতে গেলিঢেলে সব প্রেম পেয়ালায়, কষ্ট একা সইতে গেলি?আমি তোর একলা রাতের তারার মতো সঙ্গী হলে;দুজনেই প্রতাপশালী যুদ্ধজয়ী জঙ্গি হলে? উঠে আয় আঙুল ছুঁয়ে, একসাথে…