একদা সমুদ্রতীরে / মুসা আল হাফিজ

উত্থাল সমুদ্রে যখন জাহাজ ডুবছে
ঝড়ের ফনা আর
ঢেউয়ের পাহাড়ের মাথায় মৃতুর দেওয়ানা দাঁত-
তখনই-

এক নাস্তিক স্পেনিশ চিৎকার করলো , ডায়ওস ডায়ওস! (Dios,Dios)
এক আস্তিক গ্রিক বলে উঠলো, থিওস, থিওস (Theos! Theos)
এক জাতীয়তাবাদী জার্মান ডাকলো, গট! গট! ( Gott! Gott!)
এক প্রকৃতিপুজারী ফরাসির হৃদয় চিরে বেরিয়ে এলো ডিউ! ডিউ! (Dieu! Dieu!)
জায়োনিস্ট ছিলো। বলছিলো, যেহোভা! যেহোভা! (jehovah! jehovah!)
ক্রুসেডার ছিলো। বলবান সেনা। সে ডাকছিলো ইলোহিম! ইলোহিম ( Elohim! Elohim!)
নারীবাদী ছিলো। আওয়াজ তুলেছিলো, গডেস, গডেস ( Goddess,Goddess)

তারা বেঁচে গিয়েছিলো সে যাত্রা এবং
তীরে ফিরেই বালুচরে দেখলো আমাকে;
প্রাচ্যের দাড়িওয়ালা এক তামাটে মানুষ।
উপকূলে সেজদায় ডুব দিয়ে আছি।
যেভাবে সচ্ছন্দে ডুবে সন্ধ্যা ও শেষরাত।

তারা পরিত্রাণের আনন্দে হল্লা করছিলো
কিন্তু আমি কেন সেজদায় লুঠিয়ে আছি, বুঝতে পারলো না!
পৃথিবীর বিবিধ দর্শন,যুক্তিবিদ্যা,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিকে চোখ রেখে
তারা আমাকে পরাজিত আদিম মানুষ বলে রায় দিলো।

সেজদা থেকে উঠলাম আল্লাহর নাম মুখে নিয়ে।
তারা ভয় পেলো! মুসলিম হানাদার!

এক জার্মান প্রশ্ন করলো, কাকে ডাকছো, ওহে?
বললাম, যাকে তোমরা না বুঝেই ডেকেছিলে সমুদ্রঝড়ে;
বাঁচার আশায়!

আমি ডাকছি তাঁকে
চিনে ও জেনে স্বার্থ ও শর্তহীন প্রেমের নিষ্ঠায়!

আগন্তুকেরা বিপন্ন হয়ে ডাকার অর্থ বুঝলো
কিন্তু
স্বার্থ ও শর্তহীন আমার ডাকের অর্থ না বুঝে
বিদ্রুপের হাসি হেসে যার যার নগরে চলে গেলো!

আমিও হাসলাম, বস্তুমানুষ,যাও বস্তুনগরে।
আমি তো আদি ও নিষ্ঠ হৃদয়নগর!