ইনসাফের প্রতি খোলা চিঠি / মুসা আল হাফিজ

বহুদিন পর চেতনায় উড়াল দিলো
একটি অশ্রান্ত দোয়েল
তার ডানা থেকে ঝরছে বিষাদের ধুলো
কণ্ঠে হাহাকার করছে কালের মর্সিয়া

প্রশান্তির পিপাসা নিয়ে অরণ্যে পা বাড়াই
সেখানে বৃক্ষের বুকচাপড়ানো আর
কান্নার মতো হু হু হাওয়া
গা ছমছম ঝোঁপঝাড়ে ওঁৎ পেতে আছে আঁধারের তক্ষক
সুরের শরবত নেই , অরণ্যে কেবলই ঝিঁঝিঁর ঝঙ্কার

নদীও তো কোথাও আবৃত্তি করছে না চর্যাপদ
একটি ক্ষুধার্ত ভ্রমর জানিয়ে গেলো
বাগানে একটি ফুলও আর ফুটবে না
রাত্রির নিঝুম প্রহরে সিদ্ধান্ত হয়েছে

হ্যাঁ , তোমার অনুপস্থিতির ব্যথায় উত্তপ্ত দীর্ঘশ্বাসে
নিসর্গকে কাঁপিয়ে দিচ্ছি , শুধু আমি নই
আমার সঙ্গে পাখি ফুল বৃক্ষ নদী
শোকের পোশাক পরে বিষণ্ন নিথর!

সামুদ্রিক প্রতীক্ষাকে করপুটে নিয়ে
তরঙ্গিত চক্রমণে মেঘপুঞ্জে হাত রাখি
মেঘমালা গলে হলো শ্রাবণের ঢল
সেই থেকে তোমার জন্য আকাশের কাজল ঝরে বর্ষার মর্সিয়ায়

তোমার জন্য শতাব্দীর খানাখন্দে কবির শোকাশ্রু
ছুটন্ত হরিণীর শোণিতে শরাহত ব্যথানল
বিনিদ্র চাঁদ আর নক্ষত্রের বিলাপে দিগন্তের বুক হলো দুঃখের স্টেশন
তোমার জন্যে চূর্ণ হলো অন্তর্গত কাচের দেয়াল

তোমার অনুপস্থিতিতে বোধহীন খুলে বসেছে বোধের দোকান
সাম্য ও শান্তির দেহ পেঁচিয়ে প্রেমের সুতনু গিলছে অজগর।
তার বিষাক্ত নিশ্বাসের মাঝে দুর্বিনীত মানবশিশু
মহাচেতনার দর্পণ হাতে সুস্থির চুম্বনের মতো দাঁড়িয়ে আছে

তুমি না এলে পৃথিবীটা তার বেদনার পাণ্ডুলিপি।